ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

আয়েশা সিদ্দিকা পিপিএম

প্রশ্নঃ ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ খারিজ করে দেন কেন?

উত্তরঃ CrPC section ২০৩ মোতাবেক ম্যাজিস্ট্রেট বাদী কর্তৃক শপথ পূর্বক বিবৃতি এবং ২০২ ধারা অনুসারে পরিচালিত ইনকোয়ারি বা তদন্তের ফলাফল বিবেচনার পর যদি মনে করেন, কার্যক্রম গ্রহণের মত পর্যাপ্ত কারণ নাই, তবে তিনি মামলাটি খারিজ করে দিতে পারবেন। ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উপস্থাপিত অভিযোগটি তিনি গ্রহণ করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন।

তিনটি ক্ষেত্রে আসামিকে তলব না করেই ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি ডিসমিস করে দিতে পারেন।

১. ফরিদির নালিশ বিশ্বাসযোগ্য মনে না হলে।

২. ফরিদির জবানবন্দি বিশ্বাসযোগ্য মনে না হলে।

৩. ইনকোয়ারী রিপোর্ট যদি বাদীর বিপক্ষে যায়।

বিঃদ্রঃ পুলিশ চার্জশিটকৃত মামলায় উক্ত ধারা প্রযোজ্য নয়। নালিশ ডিশমিশ হলেও আসামি ২৫০ ধারায় ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারবেন না। তবে, ফরিদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় মামলা করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ পুলিশ অফিসার কি তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন?

উত্তরঃ পুলিশ অফিসার নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন–

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তদন্তকারী অফিসার লুন্ঠিত দ্রব্যাদি বা চোরাইমাল উদ্ধার অথবা আটক মানুষ উদ্ধার অথবা কারও গ্রেফতারের জন্য নিজে অক্ষম হলে সে ক্ষেত্রে লিখিতভাবে অধঃস্তন অন্যকোন অফিসারের মাধ্যমে কাঃবিঃ আইনের ১৬৫(৩) উপধারা এবং পি আর বি ২৮০(গ) বিধি অনুযায়ী তল্লাশি করতে পারেন। এই লিখিত আদেশটি তল্লাশি পরোয়ানা হিসেবে গণ্য হবে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তদন্তকারী অফিসার লুন্ঠিত দ্রব্যাদি বা চোরাইমাল উদ্ধার অথবা কাউকে গ্রেফতারের জন্য কাঃ বিঃআইনের ১৬৬ ধারানুযায়ী অন্য থানায় অফিসারের নিকট লিখিতভাবে আদেশ প্রেরণ করতে হবে।

পুলিশ অধিক্ষেত্রের মধ্যে যদি জুয়াখেলা হচ্ছে বা জুয়াখেলার সরঞ্জাম আছে এমন নির্ভরযোগ্য সংবাদপ্রাপ্তির পর পুলিশ সুপার জুয়া আইনের ৫ ধারা মোতাবেক জুয়াখেলার সরঞ্জাম আটকের জন্য তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।

কোনো অপরাধমূলক কাগজপত্র বা জিনিসপত্র কোথাও লুকানো আছে এমন সংবাদ জানতে পারলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ সুপার উক্ত স্থানে তল্লাশির জন্য সরকারি অফিশিয়াল গোপনীয়তা আইনের ১১(২) উপধারা মতে তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।

প্রশ্নঃ মুচলেকা কি (what is bond)?

উত্তরঃ কেউ অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে, এটা আইনের বিধান। তবে কোনো অপরাধ সংঘটনের পূর্বেই যদি কোনো ব্যক্তিকে তা থেকে বিরত রাখা যায় তা অবশ্যই মঙ্গলজনক। সেজন্যই অপরাধ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাস্বরূপ আইনে মুচলেকার বিধান রাখা হয়েছে। মুচলেকা বা বন্ডের অর্থ হচ্ছে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে এইমর্মে অঙ্গীকার আদায় করা, যেন সে ভবিষ্যতে আর ঐ ধরণের অন্যায় করবে না এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যদি প্রমাণিত হয় সে ঐ ধরণের অপরাধ করেছে, তাহলে সে আইনে নির্ধারিত দন্ড ভোগ করবে। ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা-১০৬, ১০৭, ১০৮ ও ১০৯ ধারাতে বন্ড প্রদানের কারন ও বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে।

প্রশ্নঃ আত্মরক্ষার জন্য আমি সর্বোচ্চ কি ধরনের আক্রমণ করতে পারি, বা আত্মরক্ষার জন্য murder কি কোনো অপরাধ?

উত্তরঃ দন্ডবিধির ১০০ ধারায় বলা হয়েছে, দেহের ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার ৯৯ ধারার বিধি নিষেধ সাপেক্ষে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে আক্রমণকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটানো যাবে বা অন্য কোনো আঘাত দেয়া যাবে, যদি আক্রমণ এরূপ প্রকৃতির হয় তাহলে,

১। যেখানে মৃত্যুর আশংকা থাকে,

২। যেখানে গুরুতর আঘাতের আশংকা থাকে,

৩। যেখানে ধর্ষিত হবার আশংকা থাকে,

৪। যেখানে অপ্রাকৃতিক লালসা চরিতার্থ করার আশংকা থাকে,

৫। যেখানে অপহরণের আশংকা থাকে,

৬। যেখানে বেআইনিভাবে আটক হবার আশংকা থাকে। ইত্যাদি

তবে আঘাতকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে উপরোক্ত কারণেই সে আঘাত করতে বা মৃত্যু ঘটাতে বাধ্য হয়েছে।

প্রশ্নঃ নজীর কাকে বলে? (What is Precedent)?

উত্তরঃ সকল আদালত দেশের বিধিবদ্ধ আইন দ্বারা বিচারকার্য পরিচালনা করবেন এটাই নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় বিচারকার্য পরিচালনা করতে গিয়ে আদালত এমন সমস্যার সম্মুখীন হন যে, মামলার বিচার্য বিষয় আইনের এমন বিধানসমূহকে স্পর্শ করে যার দ্বারা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। এই ক্ষেত্রে আদালত, ইতিপূর্বে অনুরূপ সমস্যা সমাধানে দেশ বা বিদেশের উচ্চ আদালতের গৃহীত সিদ্ধান্তকে অনুসরণের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করেন। একটি মামলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আদালতকে অনেক বিষয় বিবেচনায় আনতে হয় এবং এই সিদ্ধান্তগুলি পরবর্তী সময়ে দৃষ্টান্ত হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

নজীর বলতে পূর্ববর্তী মামলায় উচ্চ আদালত কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তকে বুঝায় যা পরবর্তী সময়ে অনুরূপ মামলার বিচারকার্যে অনুসরণ করা হয়। উচ্চ আদালত বলতে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগকে বুঝায়। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অন্য আদালতের অনুসরণের যুক্তি হল যে একি রকম মামলায় যেন ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত না আসে। আর এই কারণে নজীর অনুসরণ করা আদালতসমূহের উপর সংবিধান দ্বারা বাধ্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের গৃহীত সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের উপর এবং হাইকোর্ট কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধাস্ত সকল আদালতের উপর বাধ্যকর।

নজীর অনুসরণের ফলে যেমন একি রকম মামলায় বিভিন্ন রকম সিদ্ধান্ত আসেনা তেমনি বিধিবদ্ধ আইনের পাশাপাশি বাধ্যকর একটি রীতি হিসাবে নজীর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রশ্নঃ রাজনৈতিক আশ্রয় (Political Asylum) কাকে বলে?

উত্তরঃ রাজনৈতিক আশ্রয় আন্তর্জাতিক আইনের একটি স্বীকৃত অধিকার। কোনো ব্যক্তি যদি তার নিজ রাষ্ট্র থেকে রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ধর্মীয় কর্মকান্ডের জন্য বিতাড়িত হয় তাহলে ঐ ব্যক্তি মানবিক কারণে অন্য রাষ্ট্রে প্রবেশ ও বসবাসের জন্য অনুমতি লাভ করতে পারে। সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা ১৯৪৮ এর অনুচ্ছেদ ১৪(ক) তে বর্ণিত হয়েছে যে, নিজ রাষ্ট্রে রাজনৈতিক বা আদর্শগত কারণে নিপীড়ন বা গ্রেফতার এড়ানোর জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করার অধিকার রয়েছে।

কোনো ব্যক্তি আশ্রয় প্রার্থনা করলেই তাকে আশ্রয় প্রদান করতে হবে অথবা কোনো ব্যক্তি অধিকার হিসাবে এই আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারবে সে সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আইনে কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। এই প্রকারের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন হিসাবে স্বীকৃত। আবার কোনো কোনো রাষ্ট্র যেমন জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি তাদের সংবিধানে রাজনৈতিক আশ্রয়কে অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। কোনো ব্যক্তিকে আশ্রয় প্রদান করা রাষ্ট্রের বিবেচনার উপর নির্ভর করে এবং আশ্রয় প্রদান করলে ব্যক্তির নিরাপত্তার প্রতি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকে সচেতন হতে হয়। আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিকে শুধুমাত্র থাকার অনুমতি দেয়াই যথেষ্ট নয় বরং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তির আবাসন ও ভরণপোষণে সহায়তা প্রদান করাও সেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রকারভেদঃ আশ্রয় দুই প্রকারের হতে পারে যথা-

১) ভূখন্ডগত আশ্রয় (Territorial Asylum)

২) অতি-রাষ্ট্রিক আশ্রয় (Diplomatic or Extra- territorial Asylum). 

(সংগৃহীত-চলবে)

প্রতিবেদক : পুলিশ সুপার, গোপালগঞ্জ

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *