ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

আয়েশা সিদ্দিকা পিপিএম

প্রশ্ন: ধর্ষণের অনুসন্ধান ও বিচারে হাইকোর্টের ১৮ দফা নির্দেশনা সমূহ কি?

ধর্ষণের অনুসন্ধান ও বিচারে হাইকোর্টের ১৮ দফা নির্দেশনা

২০১৫ সালের ২১ মে রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইক্রোবাসের মধ্যে এক গারো তরুণী গণধর্ষণের শিকার হন। পরে এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে বিভিন্ন থানায় ঘুরে ঘুরে পুলিশের অসহযোগিতার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় তার অভিভাবকদের। মেয়েটির বড় বোনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, তাদের বাসা উত্তরায় হওয়ায় তারা প্রথমে মামলা করার জন্য তুরাগ থানায় যান। কিন্তু অন্য এলাকার ঘটনা বলে পুলিশ রাত ৪টার দিকে তাদের ফিরিয়ে দেয়। এরপর ভোর ৫টার দিকে তারা যান গুলশান থানায়। সেখানেও একই উত্তর মেলে। শেষে সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারা থানায় গেলে বলা হয়, ওসি নেই, অপেক্ষা করতে হবে। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওসি আসেন এবং তাদের কথা শুনে সাড়ে ১২টার দিকে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় আরও একদিন পর। পরে এ ঘটনায় পৃথক পাঁচটি মানবাধিকার সংগঠন বাদী হয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট করে। ওই রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৫ মে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এরপর ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও বিচার নিশ্চিতে ১৮ দফা নির্দেশনা সংবলিত রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এতে ধর্ষণ ও যৌননিপীড়নমূলক সব ঘটনায় বাধ্যতামূলকভাবে অভিযোগ প্রাপ্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রিপোর্ট সংগ্রহ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থার যে কোনো ব্যর্থতাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে। ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের ও তদন্তের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশনা মেনে চলতে রায়ে বলা হয়েছে। এ ছাড়া হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা তৈরি করতে আইন মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতেও বলা হয়েছে রায়ে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে ১৮ দফা এই নির্দেশনা দেন। রাজধানীতে এক গারো তরুণীকে গণধর্ষণের মামলায় ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কোর্ট এই রায় দেন।

১৮ দফা নির্দেশনা

১. ধর্ষণ, যৌননিপীড়ন বা এ সংক্রান্ত ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ লিখিতভাবে রেকর্ড করবেন। এক্ষেত্রে ওই থানার আওতার মধ্যে ঘটনা সংঘটিত হোক বা না হোক, সেটা মুখ্য নয়।

২. অবিলম্বে এমন একটি সার্ভার তৈরি করতে হবে, যাতে এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে করা যায়।

৩. সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনো পুলিশ অফিসার যদি অভিযোগ গ্রহণে বিলম্ব করে, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট বিধান থাকতে হবে।

৪. প্রত্যেক থানায় কনস্টবলের নিচে নয়, এমন একজন নারী পুলিশ রাখতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর ডিউটি অফিসার একজন নারী কর্মকর্তার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মাধ্যমে ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য, শুভাকাঙ্খী, সমাজকর্মী বা আইনজীবীর উপস্থিতিতে অভিযোগ রেকর্ড করবেন।

৫. সবক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সমস্ত তথ্য সংরক্ষণে গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।

৬. প্রত্যেক থানায় ভুক্তভোগীদের জন্য সহযোগিতাপূর্ণ নারী সমাজকর্মীদের একটি তালিকা তৈরি রাখতে হবে।

৭. ভুক্তভোগীর আইনজীবী, সংশ্নিষ্ট বন্ধু, সমাজকর্মী অথবা নিরাপত্তা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তার অভিযোগ রেকর্ড করতে হবে।

৮. অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দেওয়া অধিকার সম্পর্কে ভুক্তভোগীকে সচেতন করতে হবে এবং সে চাইলে যে কোনো তথ্য প্রদান করতে হবে।

৯. অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ডিউটি অফিসারকে ‘ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার’-এ অবহিত করতে হবে।

১০. ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার কোনো নারী বা মেয়ে করণীয় সম্পর্কে বুঝতে অক্ষম হলে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে।

১১. লিখিত তথ্য গ্রহণের পর কোনো প্রকার বিলম্ব না করে তদন্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগীকে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করবেন।

১২. ভুক্তভোগীর দ্রুত সেরে উঠতে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকতে হবে।

১৩. ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নমূলক সব ঘটনায় বাধ্যতামূলকভাবে অভিযোগ প্রাপ্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হবে।

১৪. অপরাধ ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিএনএসহ অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে তা ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবে পাঠাতে হবে।

১৫. যে কোনো রিপোর্ট সংগ্রহ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তদন্ত সংস্থার যে কোনো ব্যর্থতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।

১৬. যত দ্রুত সম্ভব মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করবেন।

১৭. নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ‘১০৯২১’ নম্বরে ফোন করে যেন প্রতিকার পেতে পারে, সে বিষয়টি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং ওয়েব সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।

১৮. ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পরামর্শ দানের জন্য প্রত্যেক মহানগরে একটি করে সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

প্রশ্ন: হাই কোর্টের নতুন রুল (৫৪ ধারা এবং ১৬৭ ধারার নতুন নির্দেশ) কি?

অনেক বৎসর থেকেই ৫৪ ধারার অপ-ব্যবহার এর বিভিন্ন ঘটনা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় হাইকোর্টের এক যুগান্তকারী রায় এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলায় রক্ষা বাহিনীকে আরো জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আশা হয়েছে। ৫৪ ধারা ও ১৬৭ ধারা নিয়ে হাই কোর্টের দেওয়া নির্দেশনা বহাল এবং তা মানায় সরকারের বাধ্যবাধকতা থাকছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এখন থেকে যে কোন পুলিশি গ্রেফতারের আগে পুলিশের কাছ থেকে পরিচয়পত্র এবং ওয়ারেন্ট দেখার অধিকার রাখেন নাগরিকরা।

যে কোন বেআইনি কর্মকান্ডে হাতে নাতে ধরা পড়া ব্যতিত সম্পূর্ণ সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ চাইলেই কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না।

হাইকোর্টের নির্দেশনা

ক. আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না।

খ. কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে।

গ. গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কারণ জানাতে হবে।

ঘ. বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য স্থান থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নিকট আত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে।

ঙ. গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তার পছন্দ অনুযায়ী আইনজীবী ও আত্মীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে।

চ. গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে কারাগারের ভেতরে কাচের তৈরি বিশেষ কক্ষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। ওই কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকট আত্মীয় থাকতে পারবেন।

ছ. জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে।

ট. পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড গঠন করবে। বোর্ড যদি বলে ওই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নেবেন এবং তাকে দন্ডবিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী কোনো পুলিশ সদস্য যদি কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করে, কিংবা ১৬৭ ধারায় রিমান্ডে নেয়, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্ন: নিরাপত্তা হেফাজত কী ও কেন জরুরি?

ন্যায়বিচার পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। কিন্তু অনেক সময় অপরাধের বিচার চেয়ে মামলা দায়েরের পর মামলার বাদী নিরাপত্তা হীনতা, ভীতি ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করেন। কারণ আসামি পক্ষ বেশির ভাগ সময় সামাজিকভাবে অনেক প্রতাপশালী হয়ে থাকে। এ কারণে আসামিকে প্রাণনাশ এবং গুম হওয়ার আশঙ্কায় রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে থাকতে হয়। যাকে আইনের দৃষ্টিতে নিরাপত্তা হেফাজত বলা হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ২০১৩ সালের শিশু আইনে ‘সেফ কাস্টডি’ বা নিরাপত্তা হেফাজতের বিধান উল্লেখ রয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

নিরাপত্তা হেফাজত

নিরাপত্তা হেফাজত কোনো কারাগারে নয়, বরং সরকার-প্রত্যায়িত কোনো বিশেষ স্থান কিংবা কোনো বেসরকারি সংস্থা এমনকি কোনো ব্যক্তির হেফাজতও হতে পারে। তবে এটি নির্ধারণ করেন আদালত।

যদি কোনো নারী ও শিশু ফৌজদারি মামলায় যুক্ত থাকে; তখন তারা সামাজিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। যেমন ধর্ষণের শিকার একজন নারী কিংবা নির্যাতনের শিকার একটি শিশু যখন ধর্ষক কিংবা নির্যাতকের বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা করে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত সেই নারী কিংবা শিশুটিকে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে থাকতে হয়।

নিরাপত্তা হেফাজত আইন

বাংলাদেশ নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ এবং ২০০৩ সালে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী; ট্রাইব্যুনাল নারী বা শিশুকে কারাগারের বাইরে সরকারি হেফাজতে অন্যত্র বা সরকার অনুমোদিত কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার আদেশ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ওই নারী বা শিশুর মতামত বিবেচনা করতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করেন, কোনো নারী বা শিশুকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা প্রয়োজন; তাহলে ট্রাইব্যুনাল উক্ত নারী বা শিশুকে কারাগারের বাইরে ও সরকার কর্তৃক এই উদ্দেশে নির্ধারিত স্থানে সরকারি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে বা ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় যথাযথ অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিতে পারেন।

২০০৩ সালের আগ পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির ইচ্ছার কোনো মূল্য দেওয়া হতো না। পরে ২০০৩ সালে আইনটির ২০ ধারায় নতুন উপধারা (৮) যুক্ত করে সংশোধন করা হয়। এ ধারায় বলা হয়- কোনো নারী বা শিশুকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল উক্ত নারী বা শিশুর কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষার্থে তার মতামত গ্রহণ ও বিবেচনা করবেন। সুতরাং, এই সংশোধনী আনার পর থেকে নিরাপত্তা হেফাজতে প্রদানের ব্যাপারে আদালত অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির ইচ্ছার মূল্যায়ন করবেন। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির যদি সরকার কর্তৃক প্রত্যায়িত কোনো স্থানে থাকতে রাজি না হয়, তাহলে তার ইচ্ছা অনুসারেই তাকে কোনো এনজিও কিংবা কোনো আত্মীয়র কাছেও সোপর্দ করা যেতে পারে।

শিশুদের জন্য নিরাপত্তা হেফাজত আইন

১৯৭৪ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইনকে সংশোধন করে ২০১৩ সালে শিশু আইন তৈরি করা হয়। এ আইনের অষ্টম অধ্যায়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কিংবা প্রত্যায়িত প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে এবং এসব স্থানে শিশু পরিচর্যায় নূন্যতম মানদন্ড কী হবে তা বলা আছে।

নয় বছরের কম বয়সী শিশুদের এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে নয়, বরং বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তার মা-বাবার সঙ্গে তার পুনঃ একত্রীকরণের দিকটি গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন বয়সী শিশুর আবাসনের ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানে পৃথক পৃথক ব্যবস্থা রাখতে হবে। শিশুর জিম্মাদারির দায়িত্ব যাকেই দেওয়া হোক না কেন তার ওপর আদালতের নিয়ন্ত্রণই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

করণীয়

অপরাধীরা নিজেদের অপরাধের বিচার বিঘিœত করতে মামলার বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে থাকে। এ অবস্থায় বিচার শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত মামলার বাদীকে নিজের পরিচিত ব্যক্তি অথবা রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা ভালো। অন্যথায়, বিচার বিঘিœত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

(সংগৃহীত চলবে)

প্রতিবেদক : এআইজি ক্রাইম (ইষ্ট),

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *