ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোঃ আবদুস ছালাম

স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্ণধার এ্যাডিশনাল আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশে বিশেষ পুলিশ সুপার (ছাত্র-শ্রম) মোঃ আবদুস ছালাম এর তত্ত্বাবধানে ২০২১ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে ছাত্র-শ্রম শাখায় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা, আগ্নেয়াস্ত্র ডিজিটালাইজেশনকরণে Fire Arms Management System (FAMS) সফ্টওয়্যার নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ সংযোজন করা হয়। এতে জাতীয় নিরাপত্তাস্তর উন্নীত হয়েছে।

Fire Arms Management System (FAMS) একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা সফ্টওয়্যার। এটি মূলত National Security data base software। FAMS দেশের লাইসেন্সধারী সকল বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং এর ব্যবহারকারী, সকল বৈধ ডিলার ও বিক্রেতাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ক্রয়-বিক্রয় পরিসংখ্যান এবং শুটিং ক্লাবগুলোতে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও ব্যবহারকারীদের তথ্য নিয়ে তৈরি করা ডিজিটাল ডাটাবেজ। এতে করে স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ঢাকার সেন্ট্রাল সার্ভার তথা ডাটাবেজের সাথে সারাদেশের সকল পুলিশ স্টেশন, ডিএসবি, সিএসবিসহ আগ্নেয়াস্ত্রের ডিলার ও শুটিং ক্লাবের সরাসরি Connectivity স্থাপিত হয়েছে। ফলে বর্তমান ইস্যুকৃত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের ডাটাবেজ সংরক্ষণসহ নতুন লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন, হস্তান্তর, বাতিল, জমাদান, উত্তোলন ও হারানো সংক্রান্ত তথ্য এক ক্লিকেই জানা যাচ্ছে। একইভাবে উক্ত সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে অস্ত্র ও গোলাবারুদ আমদানী ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার, অবৈধ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার ও ফৌজদারী মামলার পরিসংখ্যান এবং লাইসেন্সধারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরিদর্শনের হালনাগাদ তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে। এছাড়া সমগ্র বাংলাদেশের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মোট সংখ্যাসহ প্রতিটি ইউনিটের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের সংখ্যা, লাইসেন্সধারী ব্যক্তির পেশা ও পরিচয়সহ সঠিক হিসাব ম্যাপ এর মাধ্যমে রিয়েল টাইমে দেখা যায় এবং অস্ত্রের বৈধ মালিকানা সহজেই নির্ণয় করা যাবে। জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারী নির্দেশনায় বৈধ অস্ত্র জমাদানের ক্ষেত্রে কোন এলাকায় কতটি অস্ত্র জমা হল তার পরিসংখ্যান সহজেই জানা যাবে। সফ্টওয়্যারটিতে ৪টি মডিউল রয়েছে যেমন আগ্নেয়াস্ত্র ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ইস্যু ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, আগ্নেয়াস্ত্র ডিলার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, শুটিং ক্লাব ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। প্রতিটি মডিউল বিভিন্ন ধরণের কার্যকলাপ এবং তথ্য উপস্থাপন/হাইলাইট করে। এটি জাতীয়ভাবে মালিকানাধীন মোট অস্ত্রও দেখায়। এর ফলে বিদ্যমান লাইসেন্সধারীদের দ্বারা আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং অন্যান্য কার্যকলাপ পুলিশ দ্বারা পর্যায়ক্রমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। নিরীক্ষণের কাজের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত অনুসন্ধান, ব্যবহৃত বুলেটের সংখ্যা, কোথায় এবং কেন এটি ব্যবহার করা হয়েছে, কবে কখন অস্ত্র শেষবার ব্যবহার করা হয়েছে এবং আগ্নেয়াস্ত্র হারিয়ে গেলে/চুরি হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া ইত্যাদি। সফ্টওয়্যারের মাত্র কয়েকটি ক্লিকে এটি জাতীয়, বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ে ব্যবহারকারীর সংখ্যা খুব সহজেই ট্র্যাক করতে পারে।

এই সফ্টওয়্যার অটোমেশন সিস্টেমটি দেশে অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধ করার পাশাপাশি ডিলার দ্বারা অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়েও তদারকি করা সহজ হবে। আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি ম্যানুয়ালি করা হয় যার জন্য অনেক আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি বৈধভাবে আমদানি করার পর অবৈধভাবে কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এই সিস্টেম আগ্নেয়াস্ত্রের মোট আইনি আমদানি এবং বিক্রয়ের ট্র্যাক রাখতে পারে। এটি একজন আইনী অস্ত্র ব্যবসায়ীর দ্বারা আমদানি করা বা বিক্রি করা প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বুলেটের রেকর্ড রাখবে।

সফটওয়্যারটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং অবৈধভাবে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য রাখতে পারে। এটি রিয়েল টাইমে যেকোনো বন্দুক বহনকারীর অবস্থা ট্র্যাক করতে পারে, প্রতিটি অস্ত্রের অবস্থার সঠিক রিপোর্টিং, কোন নিবন্ধিত অস্ত্র ব্যবহারকারীর কাছে কোন অস্ত্র আছে তা ট্র্যাক করার ক্ষমতা, অস্ত্র চেক ইন/চেক আউট করতে পারে। সফ্টওয়্যারটিকে শ্যুটিং ক্লাবে নিবন্ধিত শ্যুটারদের দ্বারা ব্যবহৃত সমস্ত মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য, যে কোনও শুটিং ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী শ্যুটারদের তথ্যও থাকবে।

Fire Arms Management System (FAMS) সফ্টওয়্যারটি যথাযথভাবে Installation ও কার্যকরকরণে ইতোমধ্যে ৬৪টি জেলা পুলিশ ও ৮টি মেট্রোপলিটন, এসবি, সিএসবিসহ ৭২টি পুলিশ ইউনিট হতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে কনস্টেবল এবং সিভিল স্টাফ পদমর্যাদার মোট ১৭১ জন পুলিশ অফিসার এবং আগ্নেয়াস্ত্রের ক্রয়-বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন ও শুটিং ক্লাবের ৪ জনসহ মোট ৬২ জনকে “User and Training of traners (ToT)” প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও পৃথকভাবে ডিএমপি’র সকল থানার ১০৪ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ৭২টি ইউনিটের সাথে স্পেশাল ব্রাঞ্চের সংযোগ স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪০ হাজার বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ এসবি’র সেন্ট্রাল ডাটাবেজে এন্ট্রি করা হয়েছে এবং অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্তে ৫৯টি অস্ত্র বিক্রেতা ও ডিলারের ১০ বছরের অস্ত্র-গোলাবারুদ আমদানী, ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য এন্ট্রি দিয়ে ডিজিটালাইজেশনকরণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

লেখক : বিশেষ পুলিশ সুপার (ছাত্র-শ্রম)

স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *