ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

সমন কী

আপনার নামে কেউ যদি মামলা করে কিংবা আপনি যদি কোনো মামলার সাক্ষী হন, তাহলে কোর্ট থেকে আপনার নামে যে পত্র আসবে, সেটি হলো সমন।

সমন দুই প্রকারঃ

আসামির প্রতি সমন।

সাক্ষীর প্রতি সমন।

আসামির প্রতি সমন

ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮ ধারা অনুযায়ী সমন লিখিত ফরমে দেওয়া হয়। ফরমের ওপরে আসামির প্রতি সমন বা সাক্ষী হলে সাক্ষীর প্রতি সমন লেখা থাকে। সমনের দুই কপি থাকে। স্থানীয় থানা-পুলিশের মাধ্যমে সমন জারি করা হয়। যাকে সমন দেওয়া হয়, তাকে এক কপি দেওয়া হয়। অন্য কপিতে যার ওপর সমন জারি হলো, তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

সমন যথাসম্ভব ব্যক্তিগতভাবে জারি করতে হয়। তা সম্ভব না হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০ ধারায় বলা হয়েছে, যার ওপর সমন জারি করা হয়, তাকে পাওয়া না গেলে তার পরিবারের বয়স্ক কোনো পুরুষের কাছে সমন বুঝিয়ে দিয়ে আসতে হবে। আসামির প্রতি সমন হলে আসামি আদালতে ব্যক্তিগতভাবে বা উকিল মারফত আদালতে হাজির হতে হবে।

সাক্ষীর প্রতি সমন

কোনো সাক্ষী সমন পেলে তাকে অবশ্যই আদালতে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা বর্ণনা করে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।

সমন পেয়ে আদালতে কীভাবে হাজির হতে হবে, তা অনেক সাক্ষীই জানে না। সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। সাক্ষী আদালতের কাছে বা আইনের চোখে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। সাক্ষীর প্রতি সমন জারি হলে সাক্ষীকে সমনটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টরের সঙ্গে দেখা করতে হয়। কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর তার সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

সাক্ষী হতে যখন আপনি বাধ্য (দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে)

১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির ৩১ ধারা অনুসারে দেওয়ানি মামলার সাক্ষীদের প্রতি সমন জারি করা হয়। সাক্ষ্য প্রদান কিংবা কোনো দলিল-প্রমাণ আদালতের সামনে উত্থাপনের জন্য আদালত যে-কাউকে তলব করতে পারেন। আদালতের সমন পাওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে অবশ্যই আদালতে হাজির হতে হয়।

কোনো সাক্ষী যদি এই নির্দেশ অমান্য করে, সে ক্ষেত্রে আদালতের সামনে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য আদালত প্রয়োজনবোধে সাক্ষীর প্রতি গ্রেপ্তারের পরোয়ানা জারি করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, আদালত এমনকি তার সম্পত্তি ক্রোক এবং বিক্রি, অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা, জামানত দাখিল কিংবা দেওয়ানি কারাগারে অন্তরীণ রেখেও সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেন।

সাক্ষী হতে যখন আপনি বাধ্য (ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে)

কা. বি. ৯৪ ধারা অনুযায়ী থানার অফিসার ইনচার্জ বা তদন্তকারী পুলিশ অফিসার যদি জানতে পারেন কোনো ব্যক্তির কাছে মামলাসংক্রান্ত কোন দলিলাদি, বস্তু ও দ্রব্যাদি দখলে আছে তাহলে পুলিশ অফিসারের কাছে হাজির করার জন্য সমন ইস্যু করতে পারেন। কা. বি. ১০৩ ধারায় বলা হয়েছে, পুলিশ অফিসার কর্তৃক কোনো স্থানে তল্লাশি পরিচালনা কার্যে সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার জন্য আশপাশের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ওপর সমন ইস্যু করতে পারেন।

কা. বি. ১৬০ ধারামতে, কোনো অপরাধের ঘটনার সঙ্গে পরিচিত বা অপরাধের বিষয়ে জানেন-এমন ব্যক্তির মৌখিক জবানবন্দি নেওয়ার জন্য তদন্তকারী পুলিশ অফিসার ওই ব্যক্তির নিকট সমন ইস্যু করতে পারেন। কা. বি. ১৭৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো অপমৃত্যু মামলার সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করার সময় সেই স্থানের আশপাশে দু-তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী হওয়ার জন্য পুলিশ অফিসার সমন দিতে পারেন। এর বাইরেও বিদ্যমান অনেক আইনানুসারে মামলার তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউকে সাক্ষী হিসেবে তলব করতে পারেন। এ ছাড়া বিচারকাজ চলাকালে আদালত সময়ে সময়ে সাক্ষীদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৪, ১৪৫-সহ বহু ধারায় আদালতের এই ক্ষমতা স্বীকৃত। তবে আদালতের সামনে উপস্থিত হওয়া থেকে কোনো সাক্ষী বিরত থাকতে চাইলে সে ক্ষেত্রে পুলিশ তাকে আদালতের সামনে জোরপূর্বক হাজির করতে পারবে।

সমন পেলে যা করবেন

আপনি সমন পাওয়া মাত্র এটি ভালোভাবে পড়ুন। নিশ্চিত হন সেটি সাক্ষী হিসেবে সমন পেয়েছেন, নাকি আসামি হিসেবে পেয়েছেন। যদি সাক্ষী হিসেবে সমন পান, সে ক্ষেত্রে সমনে উল্লিখিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী আদালতে হাজির হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে চাইলে আপনি কোর্ট পুলিশের সহায়তা নিতে পারেন। অন্যদিকে, আসামি হিসেবে সমন পেলেই ভয় পাবেন না। আপনার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করা মাত্রই আপনি অপরাধী হয়ে যান না। আসামি হিসেবে সমন পেলেও আপনার উচিত হবে যথাসময়ে আদালতে হাজির হয়ে আপনার বক্তব্য উপস্থাপন করা। যদি একাকী আদালতে যেতে সংশয়ে ভোগেন, সে ক্ষেত্রে চাইলে আপনি কোর্ট পুলিশ বা আইনজীবীর সহায়তা নিতে পারেন। তবে সাক্ষী বা আসামি যা-ই হোন না কেন, মনে রাখবেন, সমনের ক্ষেত্রে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত দিনে আপনি আদালতে উপস্থিত থাকতে বাধ্য। এ কারণে কখনো যদি এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, আপনার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হওয়া সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ তা আদালতকে অবহিত করতে হবে। তবে এসব ক্ষেত্রে আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করাই উত্তম।

-ডিটেকটিভ ডেস্ক

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *