ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

শামীমা নিজাম মুক্তা

জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকান্ড কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়

২৫ মে ২০২০ যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে পুলিশি নির্যাতনে মারা যান ৪৬ বছরের জর্জ ফ্লয়েড। যিনি হিউস্টনে একটি বারে বাউন্সার হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু করোনা সংকটে বারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছিলেন ফ্লয়েড।

ঘটনার সূত্রপাত একটি খাবারের দোকান থেকে। দোকানের কর্মচারীরা ৯১১ এ কল করে অভিযোগ করেন, এক ক্রেতা সিগারেট কেনার পর জাল নোট দিয়েছে। পুলিশ এসে ওই অভিযোগে ৪৬ বছর বয়সি জর্জ ফ্লয়েডকে গ্রেপ্তার করে। একটি ভিডিওতে দেখা যায় গ্রেফতারের সময় ফ্লয়েডকে হাতকড়া পরানো শহরের রাস্তায় শুয়ে থাকা অবস্থায়, সাদা পোশাকে মিনিয়াপোলিস পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিন ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের মতো ফ্লাইডের ঘাড়ের ডান দিকে হাঁটু রেখেছিলেন। ফ্লয়েড কমপক্ষে ১৬ বার আর্ত-চিৎকার করে বলেছে, ‘আমি নিশ্বাস নিতে পারছিনা’। এক পর্যায়ে ‘মা’ ডাকতে ডাকতে নিস্তেজ হয়ে যান ফ্লয়েড। যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অনেক দেশে এখন বিক্ষোভ চলছে, অনেকের অনেক মত। এখানে কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান-আমেরিকানরা কেন বারবার এমন হত্যাকা-ের শিকার হচ্ছেন তার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্যামেল সিন্যাঙ্গুয়ে (SamelSinzangwe) ফ্লোরিডায় বসবাসকারী

কৃষ্ণাঙ্গ গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী। ২০১৪ সালের ০৯ আগস্ট মাইকেল ব্রাউন নামে ১৮ বছর বয়সের একজন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক যুক্তরাষ্ট্রের মিশৌরি’র ফারগুসন শহরে একজন পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্রাউনের বন্ধু জনসনের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, পুলিশ গুলি করার আগে ব্রাউন দুই হাত উপরে তুলে ‘Don’tShoot’ কথাটি কয়েকবার বলেছেন। ড্যারেন উইলসন নামের ২৮ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ব্রাউনের শরীরে ১২ টি বুলেটবিদ্ধ করে ক্ষ্যান্ত হন। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ (চার্জ) আনা হয়নি।

স্যামেল সিন্যাঙ্গুয়ে (SamelSinzangwe) বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করলেন, কতজন মানুষ (বিশেষত কৃষ্ণাঙ্গ) পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন তার কোন পরিসংখ্যান কোথাও নেই। তিনি তখন তার গবেষণা শুরু করলেন এবং তার প্রজেক্টটির নাম দিলেন ‘MappingPoliceViolence’। তার ওয়েবসাইটে তিনি যুক্তরাষ্ট্রজড়ে পুলিশের হাতে নিহত ব্যক্তিদের তথ্যাবলি একটা ম্যাপের মধ্যে স্থাপন করলেন। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গ নিপীডনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় যা বর্ণবাদী বলে আখ্যায়িত করলে অত্যুক্তি করা হয় না।

১৯৪৯ সালে নিউইয়র্কের পিকস্কিলে ‘কৃষ্ণাঙ্গ’ গায়ক পল রবসনের কনসার্টও এখানে প্রাসঙ্গিক। ওই বছর পিকস্কিলে বেশকিছু কনসার্টের গায়ক ছিলেন রবসন। তিনি ছিলেন একাধারে বাম রাজনীতিবিদ, গণসংগীত শিল্পী ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী। সেই কনসার্টে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে সাদারা ভয়ঙ্করভাবে আক্রমণ করে। সেই ঘটনা দাঙ্গা অব্দি গড়ায়। মার্কিন সাহিত্যিক হাওয়ার্ড ফার্স্ট সেসব ঘটনাবলী নিয়ে লিখেছিলেন তার বিখ্যাত বই পিকস্কিল।

স্যামেলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সমাজব্যবস্থায় কৃষ্ণাঙ্গদের কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়, তার একটা বহিঃপ্রকাশ এসব সংখ্যা ও পরিসংখ্যান। তিনি দাবী করেন, কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনের মূল্য এখনো শতবর্ষ আগের দাসপ্রথার সময়ের মতোই। তিনি বিশ্বাস করেন, আমেরিকা একটি বর্ণবাদী সমাজ এবং এখানকার পুলিশি ব্যবস্থাও একই বর্ণবাদী চরিত্রের, যদিও এর ধরণ ও রূপ হয়তো পরিবর্তিত হয়েছে।

অন্তর্নিহিত বর্ণবাদী পক্ষপাতিত্ব

লরি ফ্রিডেল (LorieFridell) সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের একজন অধ্যাপক। ৯০ দশকের শেষদিকে তিনি ‘পুলিশ এক্সিকিউটিভ রিসার্চ ফোরামে’ ডিরেক্টর-রিসার্চ হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি নিজেকে একজন সাদা মধ্যবিত্ত পেশাজীবী হিসেবে উল্লেখ করে আমেরিকার সমাজে বিশেষ-সুবিধাপ্রাপ্ত (Priviledged) মানুষ মনে করেন। তার দীর্ঘ কাজের প্রাজ্ঞতা এবং পুলিশের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তিনি সম্প্রতি দাবী করেন, আমেরিকায় কালো’রা অন্তর্নিহিত বর্ণবাদী পক্ষপাতিত্বের (ImplicitBias) শিকার। এর ব্যখ্যা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশে বর্ণবাদী পক্ষপাতিত্ব কেবল কিছু অফিসার বা কিছু ডিপার্টমেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন যে, সাধারণত আমেরিকায় পুলিশরা ভালো মানসিকতার মানুষ। এই দুইটি চিত্র পাশাপাশি রেখে তিনি এমন বর্ণবাদী আচরণের ব্যখায় তার অন্তর্নিহিত পক্ষপাতিত্ব (বা ImplicitBias) তত্ত্বের অবতারণা করেন। তিনি সাধারণ জনগণের মধ্যে আফ্রিকান আমেরিকানদের অপরাধের সাথে যুক্ত করার একটা অবচেতন পক্ষপাতিত্ব বা প্রবণতার কথা বলেন।

ImplicitBias তত্ত্ব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে লরি ফ্রডেল একটা বিশেষ পরীক্ষা করেন। এই পরীক্ষার নাম দেন তিনি ‘শুট- ডোন্ট শুট’। এই পরীক্ষায় একজন ব্যক্তিকে (দৈবচয়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত) একটি কম্পিউটার মনিটরের সামনে বসতে দেয়া হয়। মনিটরে বিভিন্ন দৃশ্য অল্প সময়ের জন্য দেখা যায়। যেমন অস্ত্র হাতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ, অস্ত্র হাতে একজন শ্বেতাঙ্গ; আবার নিরপেক্ষ বস্তু যেমন মোবাইল, মানিব্যাগ, দেশলাই, টুপি ইত্যাদি নিরপেক্ষ বস্তু হাতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ বা একজন শ্বেতাঙ্গ।

মনিটরের সামনে বসা ব্যক্তির সামনে দুইটি বাটন থাকে। একটিতে লেখাÑ শুট, অন্যটিতে- ডোন্ট শুট। পরীক্ষার শুরুতে তাকে বলা হয়- মনিটরে যদি তিনি কোন বিপদজনক ব্যক্তি বা হুমকি দেখতে পান তবে তিনি শুট বাটন চাপ দিবেন, অন্যথা ডোন্ট শুট বাটন ব্যবহার করবেন।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেলো, নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষেত্রে মনিটরের সামনে উপবিষ্ট ব্যক্তি নিরস্ত্র শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় অনেক দ্রুত শুট বাটন চাপ দিচ্ছেন। আবার নিরপেক্ষ বস্তু হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষেত্রে শুট বাটন প্রেস করার প্রবণতা অনেক বেশী। এই ফলাফল লরি ফ্রডেলের ‘ImplicitBias’ তত্ত্বের ভিত্তি।

এই পক্ষপাতিত্ব এতোটাই নিগুড় ও গভীরে প্রোথিত যে, পুলিশ অফিসাররা প্রায়ই নিজের অজান্তে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি অমানবিক আচরণ করে থাকে। ফিলাডেলফিয়া পুলিশকে নিয়ে এক গবেষণার উদাহরণ দিয়ে তিনি দাবী করেন যে, ‘নির্দিষ্ট ঘটনা/পরিস্থিতিতে নাগরিক যদি কৃষ্ণাঙ্গ হয় তবে পুলিশ অফিসারের ঝুঁকি বা হুমকি উপলব্ধির ব্যর্থতার (ThreatPerceptionFailure) সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে’। এই গবেষণার ফলাফলে তিনি প্রকাশ করেন যে, ফিলাডেলফিয়াতে শতকরা ৮০ ভাগ ThreatPerceptionFailure’ আফ্রিকান আমেরিকানদের ক্ষেত্রে ঘটেছে। এই ভুল যে শুধু শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসাররা করেন- তা নয়; অনেক কৃষ্ণাঙ্গ পুলিশ অফিসারও এমন ভুল করেছেন। অর্থাৎ সামাজিক মনস্তত্ত্বের অনেক গভীরে প্রোথিত এই পক্ষপাতিত্ব বা ধারনায়ণ।

পুলিশের অবচেতন পক্ষপাতিত্ব কিভাবে শুরু হয়

সাউথ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেত স্টাটন (SethW.Stoughton) বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পূর্বে ৫ বছর পুলিশে চাকুরি করেছেন। তার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান নাগরিকের প্রতি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের ব্যখ্যায় সমগ্র পুলিশ বাহিনীতে বিদ্যমান ‘যোদ্ধা পুলিশ’ বা ‘WorriorCop’ ধারনায়নের বিশেষ প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, চাকুরিরত পুলিশ কর্মকর্তাগণের মনোভাব এই যে, তারা প্রতিনয়ত অপরাধজনক বিবিধ উপাদানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। এমন মনোভাব কেবল প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত নয়, বরং চাকুরির বিজ্ঞাপন থেকে অবচেতনভাবে পুলিশ সদ্যসদ্যের মনে এরূপ ‘যোদ্ধা’ ধারনায়ন প্রোথিত হয়।

নিয়োগের পর ট্রেনিং একাডেমীতে এমন ধারনায়ন আরও গভীরে প্রোথিত হয়। স্টাটন তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন এভাব- “পুলিশ একাডেমি প্রশিক্ষণার্থীদের ভয় পেতে শেখায়। তাদেরকে প্রথমেই বোঝানো হয়, পুলিশ একটি বিপদজনক পেশা। তাদেরকে ধরে নিতে শেখায় যে, চাকুরিকালে তার চারপাশে যা কিছু দেখবে- ভিন্নরূপ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত একে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে ধরে নিতে হবে। একাডেমি পুলিশকে ভাবতে শেখায়, প্রত্যেকটি ঘটনায় সম্ভাব্য মৃত্যু-ঝুঁকির মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

আমেরিকার পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত চর্চার উল্লেখ করে তিনি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন যে, সেনাবাহিনী যখন কোন মিশন পরিকল্পনা করে, তখন তারা ধরে নেয়, যুদ্ধে তারা কিছু সৈন্য হারাতে যাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাগণকে চাকুরির শুরু থেকে শেখানো হয়, ‘কোন কর্মকর্তার নশ্বরতা (Fatalitz) কোন ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়’। এভাবে ‘যোদ্ধা পুলিশ’ মনোভাব আর ‘অন্তর্নিহিত বর্ণবাদী ধারনায়নের’ কারণেই সারা যুক্তরাষ্ট্র আজ পুলিশি দর্শনে, পুলিশি কর্মপন্থায় পরিবর্তনের জোর দাবী উথলে উঠেছে।

বারাক ওবামার সংস্কার-চেষ্টা এবং জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকান্ড

২০১৪ সালে মাইকেল ব্রাউন নামের কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের হত্যাকান্ডের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চার্লস রামজির নেতৃত্বে ‘২১ শতকের পুলিশিং’ বিষয়ে একটি টাস্ক-ফোর্স গঠন করেন যার উদ্দেশ্য ছিলো, ‘কিভাবে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়’। চার্লস রামজি তার প্রতিবেদনে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বাস্তবভিত্তিক নয় উল্লেখ করে একে ‘কার্য-পদ্ধতির ব্যর্থতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি তৎকালীন পুলিশি ব্যবস্থা অনেক বেশী তথ্য-ভিত্তিক (DataDriven) বর্ণনা করে সুপারিশ করেন যে, ভবিষ্যতে আমেরিকার পুলিশকে ‘জনগণের সাথে সম্পর্কের’ (Relationship) উপর জোর দেয়া উচিত। তিনি পুলিশ দর্শন হিসেবে ‘জনগণের আস্থা অর্জন’কে’ (ReducingCrimebzBuildingTrust) সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার জেরে আলোচনায় আসা মিনিয়াপোলিসের স্থানীয় কাউন্সিল সদস্যরা সেখানকার পুলিশ বিভাগই ভেঙ্গে দেয়ার কথা বলেছেন, যাকে চলমান আন্দোলনের বড় অর্জন মনে করা হচ্ছে। মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা পুলিশ বিভাগ ভেঙ্গে দেওয়ার পক্ষে। স্থানীয় কাউন্সিলের তেরজন সদস্যের মধ্যে নয়জনই শহরে ‘জননিরাপত্তার একটি নতুন মডেলে’র কথা বলছেন। মেয়র জ্যাকব ফ্রে আগে এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন।

অন্যদিকে চার্লস রামজিও নতুন মডেলের বদলে পুলিশে সংস্কারের উপর জোর দিয়েছেন। তার মতে বিদ্যমান সামাজিক সমস্যাগুলো বিবেচনায় না এনে পুলিশকে বিচ্ছিন্নভাবে বিশ্লেষণ করা ঠিক হবে না। শিক্ষা, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, গৃহায়নের মতো বিষয়গুলো অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে দেখতে হবে। ফিলাডেলফিয়ায় সবচেয়ে বেশী দরিদ্র মানুষের বসবাসের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবী করেন, অপরাধসমূহের জন্ম মূলতঃ দারিদ্র্য ও বঞ্চনা থেকে। অপরাধ সংগঠনের হার সব জায়গায় সমান নয়, এবং কোন বর্ণ-গোষ্ঠী-শ্রেণীকে এজন্য দায়ী করে চলমান সমস্যার সমাধান হবেনা বলে তিনি মনে করেন। তিনি তার নিজের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ফিলাডেলফিয়ার কমিশনার থাকা অবস্থায় শহরগুলোকে কয়েকটা জোনে ভাগ করেছিলেন। প্রতিটি এলাকা সুনির্দিষ্ট টিমের দায়িত্বাধীন ছিলো। তিনি তাদেরকে কমিউনিটি মিটিং করা বাধ্যতামূলক করেন। তার মতে পুলিশ স্থানীয় জনগণকে চিনতে হবে, তাদের সাথে আলাপ করতে হবে, তাদের সমস্যাসমূহ শুনতে হবে। পুলিশ একাডেমি থেকে সদ্য বের হওয়া কর্মকর্তাদের তিনি সরাসরি গাড়িতে বসে দায়িত্ব পালন করতে না দিয়ে প্রথমে তাদের ‘ফুট-পেট্রোল’ করার মাধ্যমে দায়িত্বাধীন এলাকা ও এর মানুষজনের সাথে পরিচিত হতে বাধ্য করতেন। এর ফলে নবীন কর্মকর্তাগণ অনুধাবন করতে পারতেন, যে মানুষদের তারা অপরাধপ্রবণ মনে করে তারাও ভালো মানুষ এবং তারাও একটি সমাজ বাস্তবতার অংশ।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যে আলোচনা-সমালোচনা এবং পুলিশে পরিবর্তনের কথা আমরা প্রতিদিন শুনতে পাচ্ছি, তা সম্ভবতঃ একটি আসন্ন দার্শনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। এই পরিবর্তনের হাওয়া হয়তো সারা বিশ্বের পুলিশকে/পুলিশ নেতৃত্বকে ছুঁয়ে যাবে। কিন্তু যেভাবে পরিবর্তন বা সংস্কারের কথা আমরা শুনছি বা অনুমান করছি, তা মূলত জনগণ-কেন্দ্রিক বা জন-বান্ধব পুলিশিং এর কথাই বলছে। পরিবর্তনের এই হাওয়ায় আমাদের (বাংলাদেশের) পাল পূর্বাহ্ণেই উত্থিত হয়েছে। সেই দিন তো খুব বেশী আগের নয়, যেদিন বাংলাদেশ পুলিশ স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ঘোষণা করেছিলো-

মুজিব-বর্ষের অঙ্গীকার

পুলিশ হবে জনতার॥

লেখক : প্রাবন্ধিক।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *