ই-পেপার

আফতাব চৌধুরী  

সোনারগাঁ ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত এক ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ। এই অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে কত ঐতিহাসিক ঘটনা আর স্মৃতি-বিস্মৃতির উপাখ্যান। দীর্ঘ তিন দশকেরও অধিককাল ধরে সোনারগাঁ ছিল বাংলার মুসলিম শাসকদের রাজধানী। মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন নদ-নদী বিধৌত এই অঞ্চল যুগ যুগ ধরেই ছিল দুর্জেয় এবং দুর্লংঘেয়। প্রকৃতিগত কারণেই বহিঃশক্তির আক্রমণ থেকে সোনারগাঁও ছিল নিরাপদ এবং সুরক্ষিত। তাই স্বাধীন সুলতানগণ বাংলার রাজধানী হিসাবে সোনারগাঁকে বেছে নিয়েছিলেন। মুঘল সেনাপতিগণ বার বার সোনারগাঁ আক্রমণ করতে এসে পরাজিত এবং পর্যুদস্ত হয়েছিলেন। ষোল শতকের শেষার্ধে বাংলার বার ভূইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁর আমলে সোনারগাঁ গৌরব এবং সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে। ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ে এখন আর রাজপাট বা রাজত্ব কিছুই নেই। শুধু কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নপ্রায় কিছু পুরোনো অট্টালিকা, জরাজীর্ণ প্রাসাদ, মসজিদ, মিনার, সমাধি সৌধ ইত্যাদি অথচ এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ঘিরেই সুদূর অতীতে ঘটেছিল নানা জমজমাট ঘটনা, রচিত হয়েছিল বাংলার স্বাধীন শাসকদের শৌর্য-বীর্য আর প্রাচুর্যের উপাখ্যান। এক সময়কার ঐশ্বর্যমণ্ডিত আজকের জীর্ণ-পরিত্যক্ত পানাম নগরীই তার অন্যতম স্মৃতি স্মারক। সোনারগাঁয়ে আকাশে-বাতাসে, জরাজীর্ণ প্রতিটি অট্টালিকার ইটের পরতে পরতে আজও যেন ধ্বনিত হয় বাংলার গৌরবময় ইতিহাসের চাপা দীর্ঘশ্বাস।

সুবর্ণগ্রাম বা সোনারগাঁ নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ থেকে আট মাইল উত্তর-পূর্বে পুরাতন মেঘনা-ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গমস্থলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আজকের সোনারগাঁ বা সুবর্ণ গ্রাম। সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া এক সময় আন্তর্জাতিক নদীবন্দর হিসেবে পরিগণিত ছিল। এই কারণে মুসলিম শাসকদের আমলে সোনারগাঁ অত্যধিক বাণিজ্যিক গুরুত্ব লাভ করে। সে সময় এখানে সমুদ্রগামী জাহাজও ভিড় জমাতো। বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা, ফাহিয়েন এবং হিউয়েন স্যন বঙ্গদেশ সফরে এসে এই মোগড়াপাড়া ঘাটেই অবতরণ করেছিলেন। রাণী প্রথম এলিজাবেথের দূত রালফ ফিস পনের শতকের শেষ দিকে সোনারগাঁয়ে আসেন। তিনি সোনারগাঁয়ের মসলিন বস্ত্রকে জগতের সর্বাপেক্ষা মিহি বলে অভিহিত করেন। পাল বংশ এবং সেন বংশের হিন্দু নৃপতিগণসহ সোনারগাঁ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মুসলিম শাসক এবং সুলতান কর্তৃক শাসিত হয়। তবে সোনারগাঁয়ের সমৃদ্ধি এবং সুখ্যাতির শেষ নায়ক ছিলেন ঈশা খাঁ। তাই সোনারগাঁয়ের সঙ্গে ঈশা খাঁ নামটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

বাংলার বারো ভূইয়াদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ছিলেন ঈশা খাঁ। তার পিতা রাজপুত বংশোদ্ভূত কালিদাস গজদানী ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে সোলায়মান নামধারণ পূর্বক সোনারগাঁয়ের জমিদারি লাভ করেন। তার মৃত্যুর পর লোকশিল্প জাদুঘর সুযোগ্য পুত্র ঈশা খাঁ উত্তরাধিকার সূত্রে সোনারগাঁয়ের শাসনভার হাতে নেন। বর্তমানে ঢাকা, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ এবং পাবনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল তার শাসনাধীনে ছিল। খিজিরপুর এগারসিন্ধু এবং ময়মনসিংয়ের জঙ্গলবাড়ীতে তিনি দুর্গ স্থাপন করেন। পূর্ব বাংলার ভাটি অঞ্চলের বিখ্যাত জমিদার ঈশা খাঁ দীর্ঘকাল ধরে মোগলদের আক্রমণ প্রতিহত করে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাঠানো বহু সুদক্ষ সেনাপতি তাঁকে দমন করতে ব্যর্থ হন। স্বয়ং রাজা মানসিংহ তার সঙ্গে যুদ্ধে পর্যুদস্ত হন। মানসিংহের পুত্র দুর্জনসিংহ বিক্রমপুরের অনতিদূরে সংঘটিত এক যুদ্ধে ঈশা খাঁর হাতে পরাজিত ও বন্দি হয়ে পরে মৃত্যুবরণ করেন।  শেষ জীবনে ঈশা খাঁ মোগল সম্রাট আকবরের কর্তৃত্ব স্বীকার করে নেন। ১৫৯৯ খ্রিঃ ঈশা খাঁর মৃত্যু ঘটলে তার পুত্র মুসা খাঁ পিতার আসনে সমাসীন হন। তিনিও মোগলদের অনেক আক্রমণ বীরত্বের সঙ্গে প্রতিহত করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১৬১০ খিস্ট্রাব্দের জুলাই মাসে সুবেদার ইসলাম খাঁ-এর হাতে তার পরাজয় ঘটে। ইসলাম খাঁয়ের সময় ঢাকার গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে  থাকলে ধীরে ধীরে ঐতিহাসিক নগরী সোনারগাঁয়ের পতন ঘটে। ইসলাম খাঁ পতনোন্মুখ  সোনারগাঁয়ের বদলে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন।

অত্যন্ত মিহি সুতোর তৈরি মসলিন বস্ত্রের জন্য এক সময় সারা বিশ্বের নজর ছিল সোনারগাঁয়ের দিকে। এখান থেকে বিভিন্ন পণ্যাদি সে সময় বিশ্বের নানা দেশে রফতানি হতো। পানাম নগরের অতি কাছে খাসনগর দিঘি আজও যেন হারিয়ে যাওয়া মসলিনের অনুশোচনায় বিদগ্ধ। এই দিঘির চারপাশে কারিগররা টানা দিত দীর্ঘ মসলিন সুতা। এই সুতা কখনো কখনো ১৭৫ হাত পর্যন্ত লম্বা হতো। বহিরাগত বণিক, লেখক এবং পরিব্রাজকগণ মসলিন সম্পর্কে অনেক প্রসংশনীয় মন্তব্য করেছেন। সে আমলে বাংলার সুবেদারগণ মোগল বাদশাহদের কাছে উপঢৌকন হিসেবে মসলিন বস্ত্র পাঠাতেন। সম্রাজ্ঞী নূরজাহান মসলিনের একজন মুগ্ধ অনুরাগী ছিলেন। পানাম নগর ছিল মসলিন শিল্পের প্রসিদ্ধ বাজার। এখান থেকে এশিয়া, ইউরোপ এমনকি সুদূর আফ্রিকাতেও মসলিন রফতানি হতো। অতীতের গৌরবোজ্জ্বল দিনগুলো হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী মসলিনও। যেখানে মসলিন শিল্প আন্তর্জাতিক বাজার পেয়েছিল; সে শিল্পের অপমৃত্যু-সত্যি ভাবলে অবাক লাগে। ইংরেজ আমলের শেষ দিকেই মসলিন শিল্প নিঃশেষ হয়ে যায়। জনশ্রুতি আছে মসলিন শিল্পের ক্রমবিকাশে ঈর্ষান্বিত হয়ে ইংরেজ সরকার তাদের পতনের আগে মসলিন কারিগরদের আঙুলের অগ্রভাগ কেটে দিয়েছিল। যাতে তারা আর মসলিন বুনতে না পারে। তাই ইংরেজ রাজত্বের অবসানের সঙ্গে সঙ্গেই মসলিনের অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যায়।

পানাম ছিল সোনারগাঁয়ের অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী নগরী। বাংলার ঐতিহ্য মসলিন শিল্পকে ঘিরে এই নগরী গড়ে উঠেছিল। ঐতিহ্যবাহী পানাম নগরের কারুকার্যম-িত ইমারতগুলোর অধিকাংশ অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। কালের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে যে কয়েকটি ইমারত এখনো অবশিষ্ট আছে, সেগুলো থেকে ক্রমেই খসে পড়ছে ইট, চুন, সুরকি ও পলেস্তরা। প্রায়ই ধসে পড়ছে কোনো না কোনো প্রাসাদ, মুখ থুবড়ে পড়ছে ভবনের ছাদ। চুরি হয়ে যাচ্ছে প্রাচীন স্থাপত্যের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। পুরাকীর্তি গুঁড়িয়ে ফেলে গড়ে উঠছে বসতি। পাচার হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান পাথর, সমাধিস্থলের দুর্লভ স্মৃতিফলক। কিছু কিছু পরিত্যক্ত ভবন ইতিমধ্যেই বেদখল হয়ে গেছে। অতীত ঐতিহ্য এবং কারুকাজ নষ্ট করে দখলদাররা পুনঃসংস্কার করে দিব্যি বসবাস করছে এইসব ঐতিহাসিক স্থাপনায়। অথচ এসব দেখার জন্য যেন কেউ নেই। শত শত বছরের পুরোনো পানাম নগর এ অঞ্চলের সমৃদ্ধির শেষ নিদর্শন। ঐতিহ্যমণ্ডিত এবং ঐতিহাসিক এই স্থাপনাগুলো অনতিবিলম্বে সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সেই সঙ্গে এই পুরাকীর্তিগুলো তার পুরোনো আদলেই সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন। নয়তো যে কয়েকটি স্থাপনা এখনো অবশিষ্ট আছে এক সময় তার শেষ চিহ্নটুকুও কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাবে এক ঐতিহ্যবাহী সমৃদ্ধ নগরের ইতিহাস। পানাম ছাড়াও এ জনপদে আরও অনেক প্রাচীন স্থাপনা ছিল, তার বেশির ভাগই কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নবীগঞ্জ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী কদমরসুল দরগাহ। প্রায় পাঁচশ বছরের পুরোনো এ দরগাহে রসুলপাক (স.)-এর কদম মোবারক সংবলিত একটি কালো পাথর রাখা আছে। রসুল (স.)-এর এই পবিত্র কদম সংগ্রহকারী সাধক হাজী নূর মোহাম্মদ ও তার স্ত্রীর সমাধিও এখানে আছে। কথিত আছে সাধক হাজী নূর মোহাম্মদ রসূলের পদচিহ্ন সংবলিত এ পাথরটি আরবের এক বণিকের কাছ থেকে প্রচুর স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে লাভ করেন। পরে তিনি এখানে এসে সস্ত্রীক গভীর জঙ্গলে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে বাংলার তৎকালীন জমিদার ঈশা খাঁ এখানে ৬০ ফুট উচ্চ মাটির টিলা তৈরি করে তার ওপর নির্মিত একটি সুন্দর ঘরে কদম মোবারক স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীকালে ঈশা খাঁর পৌত্র মনোয়ার খাঁ এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মির্জা নাথান নামক জনৈক ঐতিহাসিক তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন যে, সম্রাট শাহজাহান জাহাঙ্গীরনগরে (ঢাকা) আসার পথে কদমরসুল পরিদর্শন করেছিলেন। সম্ভবত রসুল (স.)-এর পাক পদচিহ্ন এখানে স্থাপনের পর থেকে জায়গাটির নামকরণ করা হয় কদমরসূল। ১৭৭৭ খৃঃ ঢাকার জমিদার গোলাম নবী কর্তৃক টিলার ওপরে একতলা ইমারত নির্মিত হয়। পশ্চিমমুখী করে এখানে একটি বিরাট তোরণও তৈরি করা হয়েছিল। শীতলক্ষ্যার অপর পারের বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জ থেকেও এ তোরণ চোখে পড়ে।

শিল্পী জয়নুল আবেদিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতায় সোনারগাঁয়ের পানাম নগরী এলাকায় একটি লোকশিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের শিল্পকলা হচ্ছে লোক ও কারুশিল্প, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিরাট অবদান। অথচ আমাদের গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য প্রায় বিলুপ্তির পথে ছিল। এক কালের পল্লীগীতি, জারি-সারি, ভাটিয়ালী গান, মুর্শিদী গান, পুঁথিপাঠের আসর, মরমী গানের সুর, আউল-বাউলের পদচারণায় মুখর গ্রাম বাংলা, মেলা উৎসবে দক্ষ কারিগরের হাতে গড়া, মাটিরপাত্র, চিত্রিত হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, খেলনা, পাতার বাঁশি, বাঁশের বাঁশি, পল্লীবালার হাতে বোনা নকশী কাঁথা, শীতল জমে ওঠা লোকজ উৎসব।

পাটি, হাতপাখা, নানা ধরনের সূচিকর্মসহ নানা লোকজ উপাদান যেন হারিয়ে যাচ্ছিল। শিল্পাচার্যের স্বপ্ন ছিল এগুলো ধরে রেখে আমাদের আবহমান ঐতিহ্যের মর্যাদা দিতে হবে। তার প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টাতেই ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্পের ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা হয়। বাংলাদেশের লোক ও কারুশিল্পের ঐতিহ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন, বিপণন ও পুনরুজ্জীবনই হলো এই ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য। ১৯৭৬ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে পানাম নগরের একটি সরকারি রিকুইজিশন করা পুরোনো ভবন সংস্কার করে ওই ভবনেই লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের কাজ শুরু হয়।

এদিকে গত ৪৮ বছরে ১৫০ বিঘা জমির ওপর লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বিশাল কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়। বর্তমানে এখানে দুটি কারুশিল্প জাদুঘর রয়েছে। (১) লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর (সর্দার বাড়ী)। (২) শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। সর্দার বাড়ীতে স্থাপিত জাদুঘর ভবনে মোট ১০টি গ্যালারি রয়েছে এবং ১৯৯৬ সালের অক্টোবর মাসে স্থাপিত শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের মোট দুটি গ্যালারি রয়েছে। দ্বিতলবিশিষ্ট এই আধুনিক ভবনটিতে জাদুঘর ছাড়াও রয়েছে ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ভবন। জাদুঘরে মোট সংগৃহীত নিদর্শন দ্রব্যের সংখ্যা চার হাজার ১২টি, গ্যালারিতে প্রদর্শিত নিদর্শন ৯১২টি। স্টোরে সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে তিন হাজার ১০০টি।

লোক ও কারুশিল্পের ওপর গবেষণার প্রয়োজনে এখানে একটি আধুনিক লাইব্রেরি ও ডকুমেন্টেশন সেন্টারও গড়ে তোলা হয়েছে। স্থাপত্য নকশা অনুযায়ী এখানে রয়েছে একটি কৃত্রিম আঁকা-বাঁকা জলাশয়, যা গ্রাম বাংলার খালের বৈশিষ্ট্যের নিরিখে তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া এখানে গ্রামীণ বৈশিষ্ট্য সংবলিত নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও সৃষ্টি করা হয়েছে। নানা তরুলতা, পুষ্পপল্লব শোভিত এবং গাছগাছালি বেষ্টিত এই ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের সর্বত্রই গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিকল্পিত স্বাক্ষর চোখে পড়ে। বর্তমানে এই ফাউন্ডেশনে ৬০ থেকে ৭০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন। বিশাল আয়তনের এই কমপ্লেক্সের শাশ্বত লোকজ পরিবেশে ১৯৮০ সাল থেকে প্রতি বছর লোকমেলার আয়োজন হয়ে আসছে। ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই মেলাকে প্রতি বছরই নানারূপে নতুন আঙ্গিকে শৈল্পিক সাজসজ্জায় উপস্থাপন করা হয়। মেলা চলাকালীন দিনগুলোতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ফাউন্ডেশন লোকমঞ্চে মাইজভা-ারী গান, শাহ আব্দুল করিম, হাছন রাজার গান, কবিগান, লালনগীতি, গীতিনাট্যসহ নানা লোকজ সংগীত ও লোকজ নৃত্য পরিবেশন করা হয়। তাছাড়া দিনের বেলা অনুষ্ঠিত হয় নানা গ্রামীণ খেলাধুলা এবং কারু ও লোকশিল্প প্রদর্শনী এবং বিপণন। গ্রামীণ সংস্কৃতি বিকাশে এবং লোকজ ঐতিহ্য রক্ষায় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন তাদের বিভিন্ন প্রকল্প এবং কর্মসূচির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x