ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মুফতী মোঃ আবদুল্লাহ্

মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক বন্ধনের বাইরে একাকী বসবাস করে কোনো মানুষ পরিপূর্ণ সুস্থ থাকতে পারে না; তার মানবিক গুণাবলীর যথাযথ বহিঃপ্রকাশ ঘটে না। এমতাবস্থায় তেমন কোনো ব্যক্তি হয়তো নিজে সামাজিক বহুবিধ কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হন অথবা সমাজকে বঞ্চিত করে থাকেন।

অবশ্য এটি অনস্বীকার্য যে, উক্ত সমাজটি যখন উগ্রবাদমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ হবে তখনই উক্তরূপ প্রত্যাশা ও কল্যাণ ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। যে কারণে সত্য, সঠিক ও সর্বশেষ ঐশী ধর্ম ইসলামে একদিকে সমাজবদ্ধ ও দলবদ্ধভাবে সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং অন্যদিকে সমাজকে সুস্থ, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, সহযোগিতাপূর্ণ, অস্থিরতামুক্ত, উগ্রবাদমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।

ইসলামের আবির্ভাব মানব  সভ্যতার জন্য এক অনন্য রহমত-আশীর্বাদ। মানব জীবনের অসুন্দর দিকগুলো দূর করে মানুষকে একটি সুন্দর জীবনে অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই ইসলামের রসম-রেওয়াজ ও বিধি-বিধানগুলো নিবেদিত। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সামাজিক ব্যাধি হচ্ছে এই উগ্রবাদ বা সন্ত্রাস। এটি ব্যক্তি পর্যায়ে, সমাজ পর্যায়ে এবং রাষ্ট্র পর্যায়ে মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত অস্থির ও পর্যুদস্ত  করে দিচ্ছে।

সন্ত্রাস বা উগ্রবাদ কি?

আলোচ্য সামাজিক ব্যাধি ‘সন্ত্রাস’ বা ‘উগ্রবাদ’ বলতে বোঝানো হয়: অতিশয় শংকা বা ভয়, ভীতি প্রদর্শন, উগ্র পন্থায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আপন লক্ষ্য অর্জনের জন্যে উগ্র পন্থায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা, -এমন সবকিছুই সন্ত্রাস। রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর, দোকান-পাট ভাঙচুর, ছুরি বা পিস্তল দেখিয়ে টাকা-পয়সা লুন্ঠন কিংবা প্রচ- ভীতি সৃষ্টি করে মানুষকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা সবকিছুই সন্ত্রাসের মধ্যে পড়ে। সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিভীষিকা সৃষ্টি যা মূলতই আইন বিরুদ্ধ। সন্ত্রাস একটি দেশের নিজস্ব ভৌগোলিক পরিম-লের মধ্যে আইন শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটিয়ে দিয়ে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে, গোটা জাতিকে অন্তত কিছুকালের জন্য হলেও পঙ্গু করে দেয়।

সন্ত্রাসের যে পরিচিতিটুকু আমরা পেলাম তা থেকে একটি কথা পরিষ্কার যে, একটি জাতিকে যদি সামাজিক স্বস্তির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে হয় তবে এই সামাজিক ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। বাংলাদেশের মতো অর্থনৈতিক দিক থেকে অনগ্রসর একটি দেশকে তো অবশ্যই এমন সামাজিক অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হবে।

সন্ত্রাসের ব্যাপারে বিশেষ করে কোন্ দেশ কি ধারণা পোষণ করছে? আর এ বিষয়টিকে কিভাবেই বা নিজ উদ্দেশ্যে কাজে লাগাচ্ছে -সে বিচারে না গিয়েও, অন্ততপক্ষে এটুকু বলা যায় যে, সন্ত্রাস আমাদের নিজ ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আমাদের  সমাজকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। আমাদের সামাজিক অগ্রযাত্রাকে থমকে দিচ্ছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিণতিতে প্রতিদিনই অনেক মৃত্যুর খবর আমাদের জাতীয় দৈনিকগুলোতে ছাপা হচ্ছে। ইসলামের প্রামাণ্য গ্রন্থগুলোতে বলা হয়েছে: “সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কার্যকলাপের পরিধি ব্যাপক। যেমন- হত্যা, ষড়যন্ত্র, সম্পত্তি আত্মসাৎ, নিপীড়ন, নির্যাতন ইত্যাদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত”। যে সমাজে এসব কার্যকলাপ অবাধে চলতে থাকে সেখানে শান্তির আশা করা যায় না। মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্র এসব গর্হিত কাজের প্রশ্রয় দিতে পারে না।

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মানুষের প্রাণ, সম্মান, সম্পদ ও পরিবার-পরিজন আল্লাহর নিয়ামত। অতি পবিত্র, সম্মানিত। সুতরাং মানুষের জান-মাল ও ইজ্জতের ওপর যে কোনো ধরনের হামলা বা সীমালঙ্ঘনের নামই সন্ত্রাস। এই সন্ত্রাস দমনের জন্যেই ইসলাম নিম্নে আলোচিত পবিত্র কোরআনের বাণী ও হাদীসগুলোর প্রেক্ষিতে কঠোরতম দ-বিধি আরোপ করেছে। আর পরকালে তাদের জন্য নির্ধারিত রেখেছে মর্মন্তুদ আযাব।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন

(১)        “তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না”। 

(২)       “তোমরা নিজেদের মধ্যে পরস্পর বিবাদ করবে না; করলে তোমরা সাহস হারাবে (কাপুরুষ হয়ে যাবে) এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে”।

(৩)       “তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মধ্যে মতান্তর সৃষ্টি করেছে”।

(৪)       প্রিয় নবী (স) ইরশাদ করেন, “জামাতবদ্ধ বা সমাজবদ্ধদের ওপর মহান আল্লাহর সাহায্য থাকে”।                                  

(৫)       “যে দল ত্যাগ করল বা সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে গেল সে দোজখে নিক্ষিপ্ত হবে”।            

উক্ত সব আয়াত ও হাদিসে ঐক্যবদ্ধ, সমাজবদ্ধ বা দলবদ্ধ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, উৎসাহ ও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অপরদিকে-

১।        প্রিয় নবী (স) ইরশাদ করেন, “মুসলমান ওই ব্যক্তি যার মুখ ও হাত (এর সন্ত্রাস/অনিষ্ট) থেকে অপরাপর মুসলমানরা নিরাপদে থাকে”। 

২।        আরেকটি হাদিসে মহানবী (স) বলেন, “এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তার (ভাইয়ের) ওপর জুলুম করবে না, তাকে অপদস্থ করবে না এবং হেয় করবে না। …একজন মানুষের মন্দ/সন্ত্রাসী হবার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার ভাইকে হেয় করে। প্রত্যেক মুসলমানের ওপর অপর প্রত্যেক মুসলমানের জান-মাল ও ইজ্জত আব্রু হারাম-নিষিদ্ধ”।

৩।       হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সঃ) ইরশাদ করছেন : “তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের প্রতি অস্ত্র উঁচিয়ে ইঙ্গিত না করে”। 

৪।        মুসলিম শরীফের একটি বর্ণনায় উদ্ধৃত হয়েছে- আবুল কাছেম (স.) ইরশাদ করেছেনঃ “যে ব্যক্তি লৌহ নির্মিত কোনো কিছু দ্বারা তার ভাইয়ের প্রতি ইশারা করে অর্থাৎ ভীতি প্রদর্শন করে, ফেরেশতাগণ তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত অভিসম্পাত দিতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা সংবরণ না করে।”

৫।       হযরত মুগীরা ইব্ন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ মহান আল্লাহ্র অন্যতম নিষিদ্ধ ও অপছন্দনীয় কর্ম হচ্ছে সম্পদ বিনষ্ট করা”।  

৬।       একইভাবে প্রিয় নবী (সঃ) আরও ইরশাদ করেছেন : “কোনো মুসলমানের পক্ষে অপর মুসলমানের জান-মাল ও ইয্যত-সম্মানে হস্তক্ষেপ হারাম করা হয়েছে”। 

 ৭।       প্রিয় নবী (সঃ) আরও ইরশাদ করেন : “কোনো মুসলমান যদি তার জান-মাল ইয্যত সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মারা যায় তাহলে সে শহিদের মর্যাদা পাবে”।  

উক্ত সব হাদিস এবং অনুরূপ আরও অসংখ্য হাদিসে, পবিত্র কোরআনের বাণীতে, মুসলমানদেরকে সমাজের মুসলিম ও অমুসলিম, প্রতিবেশীদের, নারী-শিশুদের, দুর্বল-অসহায়দের এমনকি সৃষ্টি জীবজন্তু-প্রাণীদেরও ক্ষতি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রিয়পাঠক! আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশে দেশে ইসলামী জিহাদ ও বর্তমানকার উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসীদের ইসলামের নামে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিচালিত বিভিন্নমুখী আক্রমণ যাতে অযোদ্ধা, নিরপরাধ ব্যক্তি, সাধারণ জনগণ, এমনকি নারী-শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে- তা আদৌ ইসলাম বা ইসলামী জিহাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তার কারণ-

প্রথমত  : মৌলিক বিবেচনা মতে, কোনো মুসলমানের বিরুদ্ধে মুসলমানের পরিচালিত আক্রমণ জিহাদ হতে পরে না।

দ্বিতীয়ত : কোনো অমুসলিম ব্যক্তি বা শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করতে হলে সেক্ষেত্রে ইসলামী জিহাদের শর্ত হচ্ছে, তা পরিচালিত হতে হবে বৈধ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে, Ñ“যা রাষ্ট্র বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে, কোরআন-সুন্নাহর আলোকে নিশ্চিত হয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে, জারিকৃত নির্দেশের মাধ্যমে হয়ে থাকবে। তা-ই হবে ইসলামী জিহাদ।” কোনো ব্যক্তি বা দল বিশেষের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যত মহৎই হোক না কেন, জিহাদের নামে জঙ্গি তৎপরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সুযোগ ইসলামী শরীয়ত কখনও দেয় না।

জিহাদ কী ব্যক্তিগত/দলগত ইবাদত

প্রিয় পাঠক ! ইসলামী পারিভাষিক জিহাদ কোনো ব্যক্তিবিশেষের বা দল-বিশেষের ব্যক্তিগত বা কয়েকজনের দলীয় বা একটা সামাজিক ইবাদত নয়। এটি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় যৌথ ইবাদত যা রাষ্ট্র কর্তৃক আদিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তি বা সমাজ পালন করতে বাধ্য নয়; পালন করতে পারেও না। আর কেউ তেমনটি করতে গেলে তা জিহাদও হবে না, ইবাদত ও হবে না; বরং তা হবে ফিতনা বা সন্ত্রাস। যেমন কিনা-

জিহাদের নামে সন্ত্রাসের শুরু ও তার অপব্যাখ্যা

ইহুদিবাদের চক্রান্তের শিকার খারেজী সম্প্রদায় হিজরী প্রথম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে জিহাদের নামে, আল্লাহর বিধান ও কোরআন প্রতিষ্ঠার নামে মুসলিম শাসক-খলিফাদের বিরুদ্ধে, সাধারণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করেছিল। অথচ তখন প্রিয়নবীর অনেক সাহাবি বেঁচে ছিলেন। তাঁরা খারেজীদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং খারেজীদের ধ্যান-ধারণা মতে আল-কোরআনে উল্লিখিত ফিতনা-সন্ত্রাস দূরীকরণার্থে তাদের পরিচালিত জিহাদই যে প্রকৃত অর্থে জিহাদ নয়, বরং সন্ত্রাসী কর্মকা- তা বোঝাবার প্রয়াস চালিয়েছিলেন তৎকালীন সাহাবিগণ। যার অনেক প্রমাণ সহীহ্ বুখারী ও সহীহ মুসলিম ইত্যাদি গ্রন্থ এবং সাহাবাদের জীবনী-ইতিহাসে রয়েছে।

উদাহরণত, তাবেয়ী নাফে (র) বলেন, খারেজী নেতা ইবনুল আরযাক হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) নিকট এসে বলল: হে আবূ আবদুর রহমান (ইবন উমরের উপনাম)! কি কারণে আপনি এক বছর হজ্জ করেন আরেক বছর উমরা পালন করেন এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ পরিত্যাগ করেন? অথচ আপনি জানেন, আল্লাহ জিহাদের জন্যে কী পরিমাণ উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়েছেন? তখন তিনি জবাব দিলেন : “ভাতিজা ! ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাঁচটি বিষয়ের ওপর :

১) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা, ২) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, ৩) মাহে রমজানের রোজা পালন করা, ৪) সম্পদ থাকলে বছরে একবার জাকাত দান; এবং ৫) জীবনে মাত্র একবার বাইতুল্লাহ্র হজ্জ পালন।”

লোকটি বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! আল্লাহ তাঁর কিতাবে কী উল্লেখ করেছেন তা কি আপনি শুনছেন না? “— এবং তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাবৎ ফিতনা দূরীভূত না হয় এবং আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত না হয়”।  তখন ইবনে উমর রা. বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স) এর যুগে তা করেছিলাম। ইসলাম দুর্বল ও মুসলমানের সংখ্যা কম ছিল, ফলে মুসলিম ব্যক্তি তার ধর্ম পালনে ফিতনার সম্মুখীন হতেন। কাফিররা তাকে হত্যা করত বা তার ওপর অত্যাচার করত। যখন ইসলাম বিস্তৃত হয়ে গেল এবং বিজয়ী হয়ে গেল তখন তো আর ফিতনা থাকলো না।”

অর্থাৎ খারেজী নেতার উদ্দেশ্য ছিল, তার ব্যক্তিগতভাবে কোরআন বোঝা ও ব্যাখ্যা মতে বিশিষ্ট সাহাবি কেন জিহাদ এড়িয়ে চলেছেন তার জবাব নেওয়া এবং তাদের পরিচালিত জিহাদের সমর্থন আদায় করা। কিন্তু বিজ্ঞ সাহাবি তাঁর জবাবে বুঝিয়ে দিলেন:

(১) মুসলমানে মুসলমানে জিহাদ ঠিক নয়।

(২) জিহাদের উদ্দেশ্যে যে- ফিতনা দূর করা অর্থাৎ ইসলামের মৌলিক পঞ্চস্তম্ভ পালনে বাধা দূর করা তা ইতিপূর্বে প্রিয়নবীর জীবদ্দশায় আমরা করেছি। সেই ফিতনা এখন আর নেই। কেননা, এখন আমরা স্বাধীনভাবে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো পালন করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি না।

(৩) উক্ত পঞ্চস্তম্ভের বাইরে ধর্মীয় বিষয়গুলো তথা জিহাদ, দাওয়াত, সৎকাজে আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ, পুরো দীন প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি ইবাদতের গুরুত্বও অনস্বীকার্য। তবে এসব ‘আরকানে খামছার’ (পঞ্চস্তম্ভ) মতো সকলের ওপর ফরজে আইন বা অত্যাবশ্যকীয় ফরজ নয়। এগুলোতে শর্ত আছে, সুবিধা-অসুবিধায় ছাড় আছে, স্থান-কাল-পাত্রের বিবেচনায় ব্যাখ্যা আছে।

(৪) নিজের বুদ্ধি-বিবেক দ্বারা কোরআন বোঝা এবং সেই আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কোরআনের অপব্যাখ্যার শামিল। কোরআন বুঝতে হবে প্রিয়নবী স. এর সুন্নাতের মাপকাঠিতে এবং সাহাবাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী। কেননা, কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল এবং বাস্তবে রূপায়িত হয়েছিল সাহাবিদের চোখের সামনে।

(৫) কেবল আবেগের নাম ইসলাম নয় বরং কোরআন-সুন্নাহর মাপকাঠিতে নিয়ন্ত্রিত আবেগেরই মূল্যায়ন আছে ইসলাম ধর্মে।

প্রিয় পাঠক! তাই আসুন, যারা কুরআন-সুন্নাহর অপব্যাখ্যার মাধ্যমে, আবেগ তাড়িত হয়ে, সহজ সরল কিছু সংখ্যক যুব সমাজকে কিংবা সমাজের একটা অংশকে বিভ্রান্ত করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে বা জিহাদের নামে উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসের প্রসার ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ ও শ্বাশ্বত সত্য ধর্ম ইসলামকে কলুষিত করছে তাদেরকে সম্ভাব্য সমূহ প্রক্রিয়ায় বুঝিয়ে-শুনিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হই; অথবা দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে, অবহিত করে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় সহযোগিতার মাধ্যমে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে তৎপর হই।

এটাই আজকে আমাদের সকলের সামাজিক প্রত্যাশা ও কামনা। মহান আল্লাহ আমাদেরকে বুঝে-শুনে ধর্ম পালন করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

  লেখক : গ্র্যন্ড মুফতী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *