ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

৭ মার্চ ১৯৭১, রেসকোর্স ময়দান, ঢাকা

ভায়েরা আমার,

আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়। বাংলার মানুষ তারা আজ তার অধিকার চায়।

কী অন্যায় করেছিলাম? (আপনারা) নির্বাচনের পর বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে, আওয়ামী লীগকে (আপনারা) ভোট দেন। আমরা ভোট পাই। আমাদের দেশের শাসনতন্ত্র তৈরি করব। আমাদের ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরি  করব এবং এ দেশকে আমরা গড়ে তুলব। এ দেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, ২৩ বছরের ইতিহাস বাংলায় অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস।

২৩ বছরের ইতিহাস মুষূর্ষ নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস। বাংলার ইতিহাস, এ দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।

১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ‘ল’ জারি করে ১০ বছর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ৬ দফার আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯-এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পরে যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন, আমরা মেনে নিলাম।

তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো- আপনারা জানেন। দোষ কি আমাদের? (আজকে তিনি) আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আপনারা জানেন, আলাপ-আলোচনা করেছি। আমি শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে তাকে অনুরোধ করলাম ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে, তিনি মেনে নিলেন (মেনে নিলেন)। (তিনি) তারপরে আমরা বললাম, ঠিক আছে- আমরা অ্যাসেমব্লিতে বসব, আমরা আলোচনা করব। আমি বললাম- বক্তৃতার মধ্যে, অ্যাসেমব্লির মধ্যে আলোচনা করব, এমনকি আমি এ পর্যন্ত বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও, একজন যদিও সে হয়, তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব।

তারপরে জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন যে, আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরো আলোচনা হবে। তারপরে পশ্চিম পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর নেতা নিয়াজী খানের সঙ্গে আলাপ হলো, মুফতি বালুচ সাহেবের সঙ্গে আলাপ হলো। তারপরে অন্যান্য

নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করলাম- আসুন বসি। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে ছয় দফা-এগার দফার মাধ্যমে শাসনতন্ত্র করতে, এটা পরিবর্তন, পরিবর্ধন করার ক্ষমতা আমার নাই। আপনারা আসুন, বসুন আমরা (আমরা) আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করি।

তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসে তাহলে (আমাদের) আমাদের ওপরে তিনি দোষ দিলেন, এখানে আসলে কসাইখানা হবে অ্যাসেমব্লি। তিনি বললেন, যে যাবে তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হবে। যদি কেউ অ্যাসেমব্লিতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত দোকান জোর করে বন্ধ করা হবে। তারপরও যদি কেউ আসে তাকে ছন্নছাড়া (ছন্নছাড়া) করা হবে। আমি বললাম, অ্যাসেমব্লি চলবে। তারপরে হঠাৎ ১ তারিখে অ্যাসেমব্লি বন্ধ করে দেওয়া হলো।

ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসেবে অ্যাসেমব্লি ডেকেছিলেন। আমি বললাম যে, আমি যাব। ভুট্টো সাহেব বললেন, তিনি যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসলেন। তারপর হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো। দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হলো আমাকে- যে আমার অনমনীয় মনোভাবের জন্য তিনি তা করতে পারলেন না। তারপরে বন্ধ করে দেওয়ার পরে এ দেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল।

আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন। আমি বললাম আপনারা কলকারখানা সবকিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ সাড়া দিল, আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। তারা শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবার জন্য স্থির প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো। কী পেলাম আমরা? আমাদের (যাদের) অস্ত্র নাই (আমাদের হাতে), জামার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি, বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য। আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরিব-দুঃখী নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে- তার বুকের ওপর হচ্ছে গুলি। আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু, আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু- আমরা বাঙালিরা যখনই ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেছি, যখনই এ দেশের মালিক হবার চেষ্টা করেছি, তখনই তারা আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তারা আমাদের ভাই, আমি বলেছি তাদের কাছে এ কথা, যে আপনারা কেন আপনার ভাইয়ের বুকে গুলি মারবেন? আপনাদের রাখা হয়েছে যদি বহিঃশত্রু আক্রমণ করে, তা থেকে দেশটাকে রক্ষা করার জন্য।

তারপরে উনি বললেন (যে আমার নামে বলেছেন), আমি নাকি (বলে) স্বীকার করেছি যে, ১০ই তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স হবে। আমি উনাকে এ কথা বলে দেবার চাই- আমি তাকে তা বলি নাই। টেলিফানে আমার সঙ্গে তার কথা হয়, তাকে আমি বলেছিলাম, জেনারেল ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান, ঢাকায় আসেন, কীভাবে আমার গরিবের ওপরে, আমার বাংলার মানুষের বুকের ওপরে গুলি করা হয়েছে, কী করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে, কী করে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন। তারপরে আপনি ঠিক করুনÑ আমি এই কথা বলেছিলাম।

তিনি বললেন, (আমি নাকি তাকে) তিনি নাকি খবর পেয়েছিলেন (নাকি) যে আমি আরটিসিতে বসব। আমি তো অনেক আগে বলেছি যে কিসের আরটিসি, কার আরটিসি, কার সঙ্গে বসব? যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে, তাদের সঙ্গে বসব? আপনি আসুন, দেখুন, জাতীয় পরিষদের জন্য আমার লোকেরা রক্ত দিয়েছে। (সত্য কথা… তারপরে আজকে আজকে আমার যখন… অ্যাসেমব্লি… অ্যাসেমব্লি দেবেন…. তিনি ২৫ তারিখে অ্যাসেমব্লি… এরপরে আপনারা জানেন, আমি কলাম, আমি কলাম…পল্টন ময়দানে… আমি বললাম, সবকিছু বন্ধ…আমি বললাম, সবকিছু বন্ধ, সরকারি অফিস বন্ধ… আমি বললাম,… আমার কথা তারা মানল, তখন আমাকে বলল, এই আপনারা আমাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আপনারা আমি বললাম, কোনো সরকারি অফিস চলবে না। কোনো কিছু চলবে না। তবে কিছু কিছু জনগণের কষ্ট হবে, আমি ডিসকাস করলাম যে, এই জিনিস চলবে, ঠিক সেইভাবে চলল।)

আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে বা আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে ৫ ঘন্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন এবং যে বক্তৃতা করে অ্যাসেমব্লি করেছেন, সমস্ত দোষ তিনি আমার ওপর দিয়েছেন, বাংলার মানুষের ওপর দিয়েছেন। আমরা গুলি খাই, দোষ আমাদের। (উনি… দিলেন…রাষ্ট্র কার…? গোলমাল হলো উনার পশ্চিম পাকিস্তানে, গুলি করে মারা হলো আমার বাংলার মানুষকে।

আমি পরিষ্কার মিটিংয়ে বলেছি, এবারের সংগ্রাম আমার মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

ভায়েরা আমার,

২৫ তারিখে এসেমব্লি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে এসে বলে দিয়েছি যে, ঐ শহিদের রক্তের ওপর দিয়ে পাড়া দিয়ে আরটিসিতে মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। অ্যাসেমব্লি কল করেছেন, অ্যাসেমব্লি কল করেছেন, আমার দাবি মানতে হবে প্রথম। সামরিক আইন, ‘মার্শাল ল’ উইথড্র করতে হবে। সমস্ত সামরিকবাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত দিতে হবে। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার তদন্ত করতে হবে। আর, জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তাস্তর করতে হবে। তারপরে বিবেচনা করে দেখব, আমরা অ্যাসেমব্লিতে বসতে পারব কি পারব না। এর পূর্বে, এর পূর্বে অ্যাসেমব্লিতে বসা, (আমরা) অ্যাসেমব্লিতে বসতে আমরা পারি না। জনগণ সে অধিকার আমাকে দেয় নাই।

ভায়েরা আমার,

(তোমরা) আমার ওপর বিশ্বাস আছে? (… জনতার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া….) আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব- আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমরা এ দেশের মানুষের অধিকার চাই। আপনারা জানেন, আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দেবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশের কোর্ট-কাচারি, আদালত-ফৌজদারি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরিবের- গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে, সেইজন্য সমস্ত অন্যান্য যে যে জিনিসগুলো আছে, সেগুলোর হরতাল- কাল থেকে চলবে না। রিকশা, ঘোড়ার গাড়ি চলবে, রেল চলবে, সব চলবে, লঞ্চ চলবে- শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিমকোর্ট, হাইকোর্ট, (তারপর আর কী?) সেমি-গভর্নমেন্ট দপ্তরগুলো, ওয়াপদা- কোনোকিছু চলবে না। ২৮ তারিখে কর্মচারীরা যেয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। এরপরে যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকের ওপর হত্যা করা হয়- তোমাদের (ওপর) কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু- আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি- তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারব, আমরা পানিতে মারব। তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাক, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের ওপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না, ভালো হবে না। ৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।

আর যে সমস্ত লোক শহিদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে, আমাদের আওয়ামী লীগ অফিসে রিলিফ কমিটি করা হয়েছে, যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করব। যারা পারেন আমার রিলিফ কমিটিকে সামান্য টাকাপয়সা পৌছিয়ে দেবেন। আর এই ৭ দিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইরা যোগদান করেছেন, অন্য যারা এজন্য যোগদান করতে পারেন নাই, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছায়ে দেবেন, মনে রাখবেন। আর সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। কাউকে যেন সেক্রেটারিয়েটে, হাইকোর্টে বা জজকোর্টে দেখা না হয়। দ্বিতীয় কথা, যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে, খাজনা ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো- কেউ দেবে না।

আপনারা আমার ওপর ছেড়ে দেন, আন্দোলন কী করে করতে হয়। শোনেন, মনে রাখবেন, একটা অনুরোধ আপনাদের কাছে, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, পাইক ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে। এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি-ননবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের ওপরে, আমাদের যেন বদনাম না হয়Ñ মনে রাখবেন।

দ্বিতীয় কথা হলো এই- যদি আবার কোনো রকমের কোনো আঘাত আসে, আমি যদি হুকুম দেবার না পারি, আমার সহকর্মীরা যদি হুকুম দেবার না পারে, মনে রাখবেন- একটা কথা অনুরোধ করছি, (এটা অত্যন্ত শক্ত কথা এই যে, কিন্তু) সামরিকবাহিনীর লোকেরা কোনো জায়গা থেকে অনর্থক ঘোরাফেরার চেষ্টা করবেন না। তাহলে দুর্ঘটনা হলে আমি দায়ী হব না।

প্রোগ্রামটা বলছি আমি, শোনেন। রেডিও, টেলিভিশন, নিউজ পেপার- মনে রাখবেন রেডিও, টেলিভিশনের কর্মচারীরা যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনে, তাহলে কোনো বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোনো বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। (রেডিওতে যদি আমাদের নিউজ না দেওয়া হয় কোনো বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না। টেলিভিশনে যদি আমাদের নিউজ না দেওয়া হয় কোনো বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না।) দুই ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকবে, যাতে মানুষ তাদের মাইনাপত্র নেবার পারে, কিন্তু পূর্ব বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন, টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ব বাংলায় চলবে এবং বিদেশের সঙ্গে নিজউ পাস হলে আপনারা চালাবেন। কিন্তু যদি এই দেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝেশুনে কাজ করবেন, আমার কিছু বলার থাকবে না। দরকার হয় চাকা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ভায়েরা আমার,

(আমার কাছে) এখন শুনলাম আমার এই বক্তৃতা রিলে করা বন্ধ করে দিয়েছে, (এই-) আপনারা আমার এইগুলি চালায়ে দেন, কারো হুকুম মানতে পারবেন না। আমি অনুরোধ করছি, আপনারা আমাদের ভাই। আপনারা দেশকে একেবারে জাহান্নামে ধ্বংস করে দিয়েন না, জীবনে আর কোনোদিন আপনাদের মুখ দেখাদেখি হবে না। যদি আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ফয়সালা করতে পারি, তাহলে অন্ততপক্ষে ভাই ভাই হিসেবে বাস করার সম্ভাবনা আছে। সেইজন্য আপনাদের অনুরোধ করছি, আমার এই দেশে আপনারা মিলিটারি শাসন চালাবার চেষ্টা আর করবেন না।

দ্বিতীয় কথা- প্রত্যক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়, প্রত্যেক ইউনিয়নে, প্রত্যেক সাবডিভিশনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

                     জয় বাংলা।

সূত্রঃ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন সম্পাদিত, চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর প্রকাশিত, ঢাকা, ২০২০, পৃ. ১৫-১৯.

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *