ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ডিটেকটিভ রিপোর্ট

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিহত হন। তারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা যেন আমাদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকেন এ কথা বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যগণ আন্তরিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার মতো চরম আত্মত্যাগ প্রদর্শন করে দায়িত্ব পালনের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। সেজন্য পুলিশ বাহিনীসহ সারাদেশ আজ গর্বিত। তিনি বলেন, শুধু দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, করোনাকালেও পুলিশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছি আমরা। উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়ত যদি নিরাপত্তা বিধান করা না যেত। পুলিশ বাহিনীর ওপর অর্পিত দায়িত্ব তারা যথাযথভাবে পালন করছে বলেই দেশ নিরাপদ রয়েছে।

সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ এখন যে কোন সংকট মোকাবেলায় সক্ষম। মানবিক পুলিশ হিসেবেও পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে। মানুষ যখন কোন সমস্যায় পড়ে তখনই পুলিশের শরণাপন্ন হয়। তাই আমরা বলি, পুলিশ হবে মানবিক, পুলিশ হবে জনতার। করোনা মহামারীকালে পুলিশ যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে, তা সত্যিই বিরল। তিনি বলেন, এ দেশের জনগণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সহানুভূতি নিয়ে কাজ করার এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আইজিপি বলেন, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করেছেন। নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, জীবনের কোন বিনিময় মূল্য হতে পারে না। আপনারা আপনজন হারিয়েছেন, আপনাদের ক্ষতি অপূরণীয়। পুলিশ একটি পরিবার। আপনাদের খোঁজ-খবর রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সীমিত সামর্থের মধ্য দিয়ে আমরা এ দায়িত্ব পালন করছি।

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) দেশমাতৃকার জন্য, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় গণমানুষের জন্য জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দায়িত্বরত অবস্থায় প্রতি বছর আমরা আমাদের অনেক সহকর্মীকে হারাই। আমরা আমাদের কোন সহকর্মীকে হারাতে চাই না। কিন্তু দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও পেশাগত তাগিদে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করতে হয়। এ আত্মত্যাগ অত্যন্ত দুঃসহ। করোনাকালেও আমরা আমাদের বিভিন্ন পদমর্যাদার ৮৬ জন সদস্যকে হারিয়েছি।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান, আইন-শৃঙ্খলা ও জনগণের জানমাল রক্ষার মত ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে ২০২০ সালে দায়িত্বরত অবস্থায় ২০৮ জন পুলিশ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। অনুষ্ঠানে তাদের পরিবারবর্গকে স্বীকৃতি স্মারক প্রদান করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব এবং আইজিপি মঞ্চ থেকে দর্শক সারিতে এসে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্বজনদেরকে

স্বীকৃতি স্মারক ও উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। এসময় তাদের পরিবারবর্গ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তখন এক শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ক্রেস্ট, সনদপত্র, নগদ অর্থ এবং উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারীপুলিশ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং তাদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর ১ মার্চ দায়িত্বরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ পালন করা হচ্ছে।

ডিটেকটিভ রিপোর্ট

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *