ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

সালাম হাসেমী

জমির কৃষাণ। রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছে, ‘আগামীকাল কামলা বিক্রি হতে যাবে ফরিপুর শহরের বাইপাস সড়কে।

সে জন্য তাকে আজানের আগে ঘুম হতে উঠতে হবে। পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাকা সড়ক ধরতে হবে। সেখান থেকে ভ্যানে করে ঝিনাইদহ বাস স্টেশন। বাস স্টেশন হতে বাসে চড়ে ফরিদপুর রাজবাড়ি রাস্তার মোড়ে নেমে কয়েক পা হেঁটে বাইপাস সড়কের পাশে কৃষাণ হাটা। সেখান হতে বিক্রি হয়ে যাবো গৃহস্থের বাড়ি। এবার সে কৃষাণ বিক্রি করবে বিশ রোজা পর্যন্ত। অনেক দিন কৃষাণ বিক্রি করে সে অনেক টাকা রোজগার করে আনবে।  সেই টাকা দিয়ে বউয়ের জন্য ঈদের লাল শাড়ী ও ব্লাউজ এবং ছেলে মেয়ের জন্য কিনবে ঈদের নতুন পোষাক। এবার ঈদে গোস্ত পোলাও খাবে। একথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে। আজানের কয়েক মিনিট আগেই ঘুম থেকে উঠল জমির কৃষাণ। তার উঠার শব্দ পেয়ে তার স্ত্রী ময়না বেগমও ঘুম হতে তাড়াতাড়ি করে উঠল। জমির কৃষাণ পায়খানা প্রসাব সমাপ্ত করল। তার পরে ওজু করে ঘরে আসল। তার স্ত্রী ময়না বেগম তাকে খাবার দিল। জমির কৃষাণ খাচ্ছে আর তার স্ত্রী আবদার করে বলছে ‘এবার ঈদে কিন্তু আমাকে একটা লাল শাড়ী দিবে।’ “দিবো দিবো” বলল জমির কৃষাণ। খাওয়া শেষ হলে ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমান্ত সন্তান দুটির কপালে চুমু দিয়ে বউয়ের হাত ধরে বলল, “দোয়া করো এবার যেনো আল্লাহ আমার  আয় রোজগারটা ভালো দেয়। একথা বলে রওয়ানা দিল। তার স্ত্রী ময়না বেগম অন্ধকারেই তার গমন পথের দিকে চেয়ে রইল। এক সময় জমির কৃষাণ ভোরের অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। জমির কৃষাণ হাঁটতে হাঁটতে পাকা রাস্তার মোড়ে পৌছিলে সকাল হয়ে সূর্যোদয় হয়ে চার দিকে সকালের আলো ছড়িয়ে গেল। ভান গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইল। অল্প কিছুক্ষণ পরে ফটিক চাঁন ভ্যান নিয়ে এলো। জমির কৃষাণ ভ্যানের সামনে তার পা ঝুলিয়ে বসল। ভ্যান ওয়ালা পরিচিত হওয়ায় তাকে জিঞ্জেস করল,

: জমির ভাই এবার কৃষাণ বিক্রি করে বাড়ি ফিরবা কবে?

: আর মাত্র দেড় মাস পরে ঈদ। কাজেই বিশ রোজার পরেই  আসবো।

: এত দেরি করে কেন ?

: ঈদের খরচের টাকা পয়সা এক চোটে রোজগার কইরা বাড়ি ফিরবো। দোয়া কইরো ফটিক ভাই।

: ভালো মত কৃষাণ বিক্রি করে রোজগার করে বাড়িতে এসে বউ সন্তান নিয়ে আনন্দের সাথে ঈদ করো।

কথা বলতে বলতে  ভ্যান গাড়ি ঝিনাইদহ বাস স্টেশনে এসে থামল। জমির কৃষাণ বাস স্টেশনে নেমে ফরিদপুর যাওয়ার জন্য বাসে উঠল। কিন্তু বসার  জন্য কোন সিট পেল না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আসছে। বাস ফরিদপুরে রাজবাড়ি রাস্তার মোড়ে এসে থামলে জমির কৃষাণ বাস হতে নামল। সেখান হতে হাঁটতে হাঁটতে বাইপাস সড়কের পথ ধরে কৃষাণ হাটায় এসে পৌছিল। সারাদিন বসে রইল। সে কৃষাণ বিক্রি হল না। দুপুরে একটি পাউরুটি খেয়েছিল। এখন রাত ৮টা। প্রচুর ক্ষুধা পেয়েছে। তার পকেটে মাত্র বিশ টাকা আছে। তা দিয়ে ভাত খাওয়া হবে না। হোটেলে গিয়ে খাবার  বসে। হোটেল ওয়ালার সাথে আলাপ করে জানতে পারল একপ্লেট খিচুড়ী ও আলু ভরতার দাম বিশ টাকা। তখন সে খিচড়ীর অডার দিল। এক প্লেট খিচুড়ী খেলো কিন্তু পেটের ক্ষুধা নিবারণ হল না। হোটেলের খিচুড়ীর গামলার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হাত ধোত করে ক্যাশে বিল পরিশোধ করল। বাইপাস সড়ক ফাঁকা জায়গা। রাত ৮ঘটিকার পরে রাস্তায় কোন লোক জন গাড়ি ঘোড়া কিছুই নাই। একে বারে জন শূন্য। কৃষাণ হাটায় কয়েকজন কৃষাণ বাদে আর কোন লোক নেই। ঝিনাইদহের অপর একজন দেশী কৃষাণ পেয়ে তার সাথে বসে সুখ দুঃখের কথা বলল। কথা বলতে বলতে রাত ১০টা বেজে গেল। গল্প রেখে দোকান ঘরের বারান্দায় তার সাথে আনা চাদরটি বিছিয়ে ছোট্ট মশারীটি টানিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। সকালে ঘুম থেকে উঠে ওজু করে ফজরের নামাজ পড়ল। পকেটে কোন পয়সা কড়ি নেই। সতরাং হোটেলে নাস্তা করার জন্য যাওয়ার প্রশ্ন উঠে না। মনে মনে ভাবল যে গৃহস্থের  নিকট আজ কৃষাণ বিক্রি হরে তার বাড়িতে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে সেই বাড়িতে কাজ করবে। এমন ভাবে ভাবতে ভাবতে বেলা ১০টা বাজল। কৃষাণ হাটার সামনে বাইপাস মহাসড়ক। এই সড়ক উত্তর বঙ্গ হতে এসে বরিশাল হয়ে পটুয়াখালি চলে গিয়েছে। কিন্তু এ রাস্তা দিয়ে কোন গাড়ি ও লোকজন চলাচল করছে না। মাঝে মাঝে পুলিশের গাড়ি দেখা যাচ্ছে। কোন গৃহস্থ  আজ কৃষাণ হাটায় কৃষাণ নিতে আসছে না। এভাবে দেখতে দেখতে দুপুর পাড় হয়ে গেল। জমির কৃষাণ লোকজনের কাছে আলাপ করে জানতে পারল যে, বাংলাদেশের মানুষ নভেল করোনা ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগ হল ছোঁয়াছে। একজন হতে আরেক জনে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির নিঃশ্বাসের ধরা ছোঁয়ার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। এ রোগ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য লোকজনকে যার যার বাড়ি ঘরে থাকতে হবে। লোকজন বাড়ি হতে বেরিয়ে রাস্তা ঘাটে হাটে বাজারে চলাচল করতে পারবে না। এক জন মানুষ হতে আরেক জন মানুষের দূরত্ব হবে এক মিটার। প্রত্যকটি ব্যক্তি তার হাঁচি কাশির সময় নাকে মুখে রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করবে, মুখে মাস্ক ব্যবহার করবে। হাতে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করবে। এ জন্য সরকার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। সকল কাজ কর্ম ব্যবসা বাণিজ্য, রাস্তা ঘাট, গাড়ি ঘোড়া, অটোবাইক, রিক্সসা চলা চল ও দোকান পাট বন্ধ থাকবে। সারা দেশের লোকজন তাদের নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করবে। রাস্তায়, হাটে-বাজারে, শহরের গুরত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, আর্মি টহল দিচ্ছে। সরকারী বেসরকারী টেলিভিশন, রেডিওতে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার, মৃত্যুবরণ করার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। ঘন্টায় ঘন্টায় নভেল করোনা ভাইরাস থেকে যাতে কেহ আক্রান্ত না হয় সেই সম্পর্কে শর্তক বাণী ঘোষণা করা হচ্ছে। নভেল করোনা ভাইরাস রোগ এত ভয়ংকর রোগ যে, একজনের এ রোগে আক্রান্ত হলে তার সংস্পর্শে কেহ আসলেই সে আক্রান্ত হবেই। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের দেশে ও বিদেশে কোন কোন চিকিৎসক, নার্স মারাও গিয়েছে। যে কারণে আক্রান্ত এ রোগে ব্যক্তিকে কোনো কোনো চিকিৎসক চিকিৎসা করকে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেছে। এ রোগ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আমাদের দেশে প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় বেড়ে যাচ্ছে। এ রোগ কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে সরকার সারা দেশের লগ ডাউন তুলে নিতে পারছে না। ছুটি দিন দিন  ক্রমে ক্রমে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কৃষাণ হাটায় যত স্থানীয় লোকজন ছিলো সকলেই যার যার বাড়ি চলে গেছে। তারা এখন আর দোকান পাট খুলে না। বাইপাস সড়কের কৃষাণ হাট মূল শহর হতে অনেক দূরে। এখনে দিনে রাতে লোক জনের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। মহাসড়ক দিয়ে কোন গাড়িও যাতায়াত তরে না। জমির কৃষাণও আরো কয়েকজন কৃষাণ এই কৃষাণ হাটায় অনাহারে পড়ে আছে। জমির কৃষাণ  আজ চার দিন যাবৎ অনাহারে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় যখন টিকতে না পারে তখন হাটের পাশের কলাগাছ কেটে উক্ত গাছ ফেঁড়ে উহার ভিতরের কচি ডগা কামড়িয়ে খেয়ে টিউবওয়েল চেপে পেট ভরে পানি পান করে দোকানের ছোট্ট বারান্দায় কাত হয়ে শুয়ে থাকে। বাড়ির কথা মনে পড়ে। বউ ও ছেলেমেয়েদের কথা মনে পড়ে। বাড়িতে মোবাইল করার মত ব্যালেন্স ও চার্জ তার মোবাইলে নেই। জমির কৃষাণ মনে মনে ভাবতে থাকে হয় তো দুই এক দিন পরে দেশের অবস্থা ভালো হয়ে গেলে আবার রাস্তায় গাড়ি চলাচল করবে। তখন সে গাড়ি করে বাড়ি ফিরে যাবে। ক্ষুধার যন্ত্রণা, বাড়িতে বউ, ছেলেমেয়েদের  নিয়ে চিন্তা, দেশের এই অবস্থা এ সব কথা নিয়ে ভাবতে ভাবতে তার রাত কেটে যায়। ভোর হলে ক্ষুধার জ্বালায় কলা গাছ খুঁজতে যায় কিন্তু কলাগাছ খেতে খেতে শেষ হয়ে যাওয়াতে আর পাওয়া গেল না। কলাগাছ শেষ হবেই না কেন? ক্ষুধার জ্বালয় ওই কলাগাছ তো জমির কৃষাণ একলা খায় নাই। তার মত হতভাগা ওই কৃষাণ হাটায় আরো কয়েক জন রয়েছে। জমির কৃষাণ কলাগাছ না পেয়ে তার কাঁচি দিয়ে ছোট্ট ছোট্ট খেজুর গাছ মাটি সমান করে কেটে উহার মাথার ভিতরের কচি পাতা খেয়ে টিউবওয়েল হতে পেট ভর্তি করে পানি পান করে দোকানের বাঁশের মাচারের বেঞ্চের ওপর বসে। বেঞ্চের ওপর বসে বৈশাখী রোদে পোড়া যানবাহনহীন শূন্য রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এই অবস্থায় যদি ঝিনাইদহের কোনো গাড়ি এ রাস্তায় আসে তবে হাত উঁচু করে  সিগনাল দিয়ে গাড়ি থামিয়ে গাড়িতে উঠে বাড়ি চলে যাবে। কোন গাড়ি আসে না। এভাবে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থেকে দিন চলে গিয়ে রাত আসে। রাতে শুয়ে শুয়ে সে বাড়ির কথা ভাবতে ভাবতে কল্পলোকে দেখতে পায় সে বাড়ি গিয়েছে। বাড়িতে গিয়ে সে তার স্ত্রী ময়না বেগমের নিকট খাবার চায় কিন্তু তার স্ত্রী ম্লান মুখে বলল যে, ঘরে চাল ডাল কিছুই নেই। সে খাবার পাবে কোথায়? ছেলে মেয়েরা অনাহারে আছে। হঠাৎ করে শিয়ালের ডাক শুনে তার  কল্পলোকে ছেদ পড়ে। তার সন্মিত ফিরে এলে সে তাকিয়ে দেখল তার মাথার কাছে শিয়াল কি যেন নাক দিয়ে শুঁকছে। মাথার কাছে শিয়াল দেখে সে তাড়াতাড়ি উঠে বসে শিয়ালকে বলল, “করোনার কারণে সারা দেশ অচল হয়ে গেছে । আমার কর্ম নেই। কর্ম না থাকায় আয় রোজগার নেই। কর্মহীন বেকার জীবনে খাদ্যের অভাবে আমার  শরীর  না খেতে খেতে শুকিয়ে গেছে। এ শরীরে হাড় ছাড়া আর কিছুই নেই। শিয়াল পারো যদি করোনাকে খেয়ে দেশ  সচল করে আবার দীন দুখির কর্মের ব্যবস্থা করে দু’মুঠো লবন ভাতের ব্যবস্থা করো। জমির কৃষাণের কথা শুনে শিয়াল দূরে  চলে গেল। জমির কৃষাণের ক্ষুধার যন্ত্রণায় ঘুম আসছে না। উঠে বসল। নানা রকম চিন্তা ভাবনা করতে করতে ভোর হল। আজ আর কলাগাছ এবং ছোট্ট ছোট্ট খেজুর গাছ খুঁজে পেল না। নলকূপের নিকট গিয়ে নলকূপ চেপে পানি পান করল। অত্যাধিক ক্ষুধা পেটে পানি পান করতে ভালো লাগে না। তবু পানি পান করে দোকানের বাঁশের মাচালে বসে ভাবতে লাগল। কবে দেশের এই অবস্থা দূর হবে। জমির কৃষানের সাথে যে সকল কৃষাণ ছিলো তারা দুদিন আগে মূল শহরে চলে গেছে। জমির কৃষাণ মূল শহরে যাওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু  ক্ষুধার যন্ত্রণায় তার শবীর এত দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, সে হাঁটতে পারছে না। হাঁটতে না পারায় সে বাইপাস সড়কের কৃষাণ হাটায় পড়ে আছে। আজ তার শরীর দুপুরের পরের আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন সে হাঁটা চলা ও কোন প্রকার নাড়া চাড়া করতে পারে না। অচল হয়ে দোকানের বারান্দায় ক্ষুধার যন্ত্রনায় সে বেহুশ হয়ে শুয়ে আছে। কখন যে রাত হয়েছে সে তা টের পায়নি। বেহুশ অবস্থায় দু’বার” পানি পানি করে তার  শরীর নিস্তেজ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। তার দেহের প্রাণ পাখি করোনা ভাইরাসের জগৎ ছেড়ে করোনা ভাইরাসের মালিকের নিকট চলে গেল। জমির কৃষাণ প্রাণ পাখিহীন অবস্থায় ওই দোকানের বারান্দায় পড়ে রইল। অনেকেই শুনলো যে, বাইপাস সড়কের কৃষাণ হাটার পাশে এক দোকানের  বারান্দায় এক জন কৃষাণ মরে পড়ে আছে। কিন্তু কেউ তার কাছে গিয়ে দেখল না। কি কারণে কেন সে মারা গেল তার কোনো খোঁজ খবর নিলো না। এলাকার লোকজন তাদের মন গড়া  গুজব ছড়িয়ে দিলো যে লোকটি নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তার ধারে কাছে গেলে কিংবা ঐ মৃত দেহ স্পর্শ করলে সে করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে।

লোকমুখে খবর পেয়ে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়।

লেখক : এ্যাডভোকেট, জজকোর্ট, ফরিদপুর।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *