ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

জহিরুল হক শামীম

ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে খাবার, অসুস্থ মানুষের কাছে ওষুধ, টাকা দিয়েও অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে ঘরে ধুঁকতে থাকা অসুস্থদের হাসপাতালে পৌঁছানো। রাস্তায় রাস্তায় ভাসমান মানুষের হাতে খাবারের প্যাকেটসহ নিজেদের বরাদ্দ রেশন নিরন্ন মানুষের মুখে তুলে দেওয়া, করোনায় মৃতদের ফেলে যখন স্বজন-পরিজনরা পালাচ্ছে সেই সময় পরম মমতায় পুলিশ জানাজা পড়াসহ দাফন-কাফনের কাজও করছে।

কী না করছেন পুলিশ সদস্যরা! করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে মানুষ যখন একে অন্যের বিপদেও কাছে যাচ্ছে না, চিকিৎসকদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটছে, সেই সময় এমন মানবিক তৎপরতা পুলিশ বাহিনীকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। নানা সময় সমালোচনার মুখে পড়া এই বাহিনী এখন ভাসছে প্রশংসায়। পরিণত হয়েছে মানুষের সত্যিকার বন্ধুতে।

কোভিড-১৯ নিয়ে আতঙ্কিত মানুষ। সব ভয় আতংক অতিক্রম করে এই দূর্যোগে সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। বলা যায় করোনা ভাইরাসের আক্রমণে বিপর্যস্ত জনপদে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে হাজির হয়েছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। যে কোনো সমস্যায় এখন সবার আগে কাছে পাওয়া যাচ্ছে পুলিশকেই।

করোনা মোকাবিলায় পুলিশের কাজের তালিকা অনেক লম্বা। যেমন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটানো, শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তা করা, সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা, চিকিৎসা না পেয়ে থানায় হাজির হওয়া মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, ঘরে থাকা মানুষের কাছে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পৌঁছে দেওয়া, কোয়ারেন্টিন থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, লকডাউন এলাকায় মানুষের যাওয়া-আসা নিয়ন্ত্রণ করা, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীদের বাড়িতে বাজার পৌঁছে দেয়া। গাড়ি করে গর্ভবতী নারী, রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হাসপাতালে বা কর্মস্থলে পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ।

সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণি যারা অর্থকষ্টে থাকলেও লোকলজ্জার ভয়ে সহযোগিতা চাইতে পারেন না এ শ্রেণির মানুষের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করেও গোপনে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন পুলিশের সদস্যরা। দেশের এ সংকটে পুলিশের নেয়া বহুমাত্রিক উদ্যোগ এই বাহিনীকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে সাধারণ মানুষের কাছে। নানা আলোচনা ছাপিয়ে ইতোমধ্যে দেশের গণমাধ্যমে ইতিবাচক স্বীকৃতিও পেয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস পরম আপনজনকে দূরে সরিয়ে দিলেও দূরে সরে যায়নি পুলিশ।

বছর কয়েক ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে নেতিবাচক খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) এর নির্দেশনায় করোনাক্রান্তদের পাশে থেকে পুলিশের নিরলস দায়িত্ব পালন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব হ্রাস ও আস্থার সম্পর্ক সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। জনমনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা বদলে ইতিবাচক ধারণা তৈরী হয়েছে বলেই পুলিশের ওপর ভরসা করছে মানুষ। বলা যায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে পুলিশ হয়ে উঠেছে জনতার পুলিশ।

১৯৭১-এর ২৫ মার্চ এর ভয়াল রাতে পুলিশ যেমন অকূতোভয়ে বুক পেতে দিয়েছিল। রাজারবাগে গড়ে তুলেছিল প্রথম দুর্বার প্রতিরোধ। ঠিক তেমনি, মানবিক চেতনা নিয়ে করোনা দূর্যোগকালে, স্বজনদের কথা না ভেবে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সকল স্তরের কর্মকর্তাই সামিল হয়েছেন করোনা যুদ্ধে। সারাদেশে পুলিশ সদস্যদের মহা কর্মযজ্ঞের কিছু খন্ডচিত্র এ প্রতিবেদনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

ঝুঁকি নিয়েই মাঠে সক্রিয় পুলিশ

রমনা থানায় ঢুকতেই মুখে মাস্ক আর হাতে গ্লাভস পরা কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদ থামিয়ে দিয়ে বললেন, ওখানে সাবান-পানি আছে, আগে হাত ধুয়ে আসুন। দরজার মুখে ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানিতে ভেজা বস্তা রাখা। সেখানে পা মুছে ভেতরে যেতে হবে। অভ্যর্থনাকক্ষে দুজন উপপরিদর্শক বসা, দুজনই পিপিই পরা। শুধু রমনা থানায় নয়, সারা দেশে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা বলছেন, এত নিরাপত্তার পরও ব্যক্তিগত পরিচর্যা, অবসর, বিশ্রাম এবং ঘুমের সময় তাঁদের থাকতে হচ্ছে ঝুঁকিতে। তা ছাড়া মাঠে এসে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার) প্রতিটি থানার পুলিশ সদস্যদের ভাগ ভাগ করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে একসঙ্গে অনেকের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি না হয়। এ ছাড়া প্রতিটি থানায় প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অহেতুক কাউকে থানায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ঢাকা মহানগর পুলিশে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজারবাগে পুলিশ সদস্যদের জন্য তাঁবু করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা আলাদা থাকতে পারেন।

ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) চ্যানেল ২৪ তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুলিশ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন- বৈশ্বিক পর্যায়ে করোনা সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর থেকে ঢাকা রেঞ্জে ভাইরোলোজি বিশেষজ্ঞদের এনে পুলিশ সদস্যদেরকে প্রশিক্ষিত করেছেন। বিদেশ থেকে যারা এসেছে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং পুলিশ সদস্যদেরকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছেন। অন্যান্য সংস্থা এবং যাদের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার দায়িত্ব ছিল তারা পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্বেই পুলিশ নিজস্ব ব্যবস্থায় নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশের আগাম প্রস্তুতি এবং পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিমধ্যে জননন্দিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার মাহাবুবর রহমান বিপিএম, পিপিএম বলেন, সব পুলিশ সদস্যকে মাস্ক, গ্লাভস ও পিপিই দেওয়া হয়েছে। তল্লাশি চালানোর সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। প্যাট্রল ডিউটিতে যাওয়ার সময় দূরত্ব বজায় রেখে গাড়িতে বসে থাকছেন পুলিশ সদস্যরা। ব্যারাকগুলোতে যাতে গাদাগাদি করে থাকতে না হয়, সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ঢাকাসহ সারা দেশের পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশ হাসপাতালের প্রধান (ডিআইজি) হাসান উল হায়দার বলেন, পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য সব ধরণের সুবিধা রাখা হয়েছে এই হাসপাতালে। করোনা চিকিৎসার জন্য আলাদা একটি ওয়ার্ড করা হয়েছে।

পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক সোহেল রানা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে, এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সে নির্দেশনা মোতাবেক আন্তর্জাতিক মানদ- মেনে একটি কার্যতালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেটা সব পুলিশ সদস্যকে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা মোকাবিলায় ব্যক্তি সুরক্ষার সব ধরণের উপকরণও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এত কিছুর পরও তল্লাশিচৌকিতে লোকজনের কাছে গিয়ে তল্লাশি চালাতে হচ্ছে। অনেক সময় লোকজনও না বুঝে পুলিশের খুব কাছে চলে আসছে। তা ছাড়া পুলিশ ভ্যানে একসঙ্গে সাত-আটজনকে পাশাপাশি বসে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

কুষ্টিয়া জেলার প্রতিটি থানায় ছোট ছোট করে জরুরি দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা দলে দলে ভাগ হয়ে ১০ দিন করে দায়িত্ব পালন করছেন। একদল ১০ দিন কাজ করার পর বিশ্রামে যাচ্ছেন। তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে প্রয়োজনমতো সুরক্ষাসামগ্রীও জোগাড় করে নিয়েছেন। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘আমরা নিজেদের রেইনকোট পিপিই হিসেবে ব্যবহার করছি। বাকি যা লাগে সবই জোগাড় করে নিয়েছি। এতে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল চাঙা হয়েছে।’

ঘরবন্দি ৬০০০ জনকে

প্রতিদিন খাবার দিচ্ছে ডিএমপি

করোনা সংক্রমণের কারণে রাজধানীতে ঘরবন্দি প্রায় ছয় হাজার নিম্ন আয়ের মানুষকে প্রতিদিন একবেলা করে খাবার দিচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এই খাবারের জন্য কাউকে কোথাও লাইন দিতে হয় না। পুলিশের গাড়িই বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিয়ে আসে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, খাবারে থাকে জনপ্রতি একটি করে ডিম ও কিছু খিচুড়ি। আবার কোনো কোনো দিন সহজে রান্না ও বিতরণ করা যায় এমন খাবারও দেওয়া হয়। এসব খাবার রান্না করা হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ ও পিওএম-এর (দাঙ্গা দমন বিভাগ) হেঁসেলে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে খাবার প্রস্তুত করে পুলিশের গাড়িতে করে থানায় থানায় পৌছে দেওয়া হয়। কোন থানায় কত খাবার যাবে তার তালিকা আগে থেকে তৈরি করা থাকে। সেই অনুযায়ী খাবার চলে যায় থানায় থানায়। এরপর থানা পুলিশ বিভিন্ন বস্তি ও বসত বাড়িতে গিয়ে সেই খাবার পৌঁছে দিয়ে আসে। দুপুরের মধ্যে সব খাবার বিতরণ শেষ হয়ে যায়। ঘরে বসে খাবার পাওয়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ আর রাস্তায় আসছে না। বরং নিজের বাড়িতে তারা খাবারের জন্য অপেক্ষা করছেন। এতে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত হচ্ছে।

এত মানুষের খাবারের টাকা কোত্থেকে আসে জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন পুলিশকে সহায়তা করছে। তারা নিজেরা খাবার বিতরণ করতে গিয়ে জটিলতায় পড়ছেন। আবার পরিস্থিতিও সামাল দিতেও পারছেন না, তার চেয়ে পুলিশকে দিয়ে দিচ্ছেন। তাতে কোনো ধরণের জটিলতা ছাড়াই মানুষের কাছে খাবার পৌছে যাচ্ছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও খুশি মনে এ কাজ করছেন। অনেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজের উদ্যোগে খাবারের পাশাপাশি সহায়তাও দিচ্ছেন।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানালেন, প্রতিদিন ২০০ প্যাকেট রান্না করা খাবারের পাশাপাশি ৩০২টি অভাবি পরিবারে হাতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয় রমনা থানা পুলিশ। তিনি বলেন, এই সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে বড় কাজ মনে হয় আর কিছুই নেই। তিনি দরিদ্র মানুষের সহায়তায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের সেবা করার এই সুযোগ হয়তো আর পাবেন না। এখনই সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।

অসহায় ৭২ পরিবারের

দায়িত্ব নিল আরপিএমপি

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হওয়া ৭২টি অসহায় পরিবারকে প্রতিদিন খাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। এসব পরিবারের মধ্যে দুস্থ, প্রতিবন্ধী ও নিম্ন আয়ের দোকানদার রয়েছেন।

৩১ মার্চ বিকেলে প্যারাগন গ্রুপের খাদ্য সহায়তায় নগরীর মাহিগঞ্জ সাতমাথা মোড়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। রংপুর মহানগর পুলিশের ছয়টি থানার আওতায় ১২টি করে মোট ৭২ পরিবারকে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। খাদ্য সহায়তা প্রসঙ্গে আরপিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ বিপিএম বলেন, প্রত্যেকটি থানাভুক্ত এলাকা থেকে ৫ জন দুস্থ, প্রতিবন্ধী ও ৭ জন নিম্ন আয়ের দোকানদারের প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে। যাদের পরিবার দোকানের আয়ের ওপর নির্ভরশীল, এমন সাত নিম্ন আয়ের দোকানিসহ আরো পাঁচজন অসহায় দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের কাছে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির মাধ্যমে প্রতিদিন খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

করোনার সংক্রমণ রোধে সকল শ্রেণিপেশার মানুষজনকে ঘরে থাকতে অনুরোধ জানিয়ে আরপিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা প্রতিদিন বিশ্ব পরিস্থিতির খবর পাচ্ছি। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু কোনটাই থেমে নেই। প্রাণঘাতী এ মহামারি থেকে দেশের জনগণকে নিরাপদ রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এখন সবার উচিত হবে সঙ্গরোধে থাকা। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা।

ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ

সারাদেশে ঝুঁকি নিয়েই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বিএমপি সদস্যরা। জনগণের সামাজিক দূরত্ব ও ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে বরিশাল নগরীর সর্বত্র নিয়মিত টহল দিচ্ছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থাও করছেন তারা। পাশাপাশি করোনা শনাক্তব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া, কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তা, রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটানোসহ করোনা প্রতিরোধে যে মহাযজ্ঞ তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তারা। এসব কাজ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন জেনেও সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যদের (বিএমপি) সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম (বার)-এর উদ্যোগে পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষার জন্য পুলিশ সদস্যদের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লোভস, মাস্কসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ রাখতে পুলিশ লাইনস্-এ জীবাণুনাশক স্প্রে কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান জানান, জনগণের সেবায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের দুই হাজার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। তারা সরাসরি মাঠে থেকে করোনার বিস্তার রোধে কাজ করছেন। সারা দেশে অনেক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হলেও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যদের মনোবল অটুট রয়েছে বলে জানান তিনি।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানিয়ে

বিতরণ করছে পুলিশ

করোনা বিস্তার ঠেকাতে নিজ উদ্যোগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানিয়ে নিজেদের সদস্য ও সম্মানিত নাগরিকদের মধ্যে বিতরণ করেছে পুলিশ। হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণের পাশাপাশি কিভাবে বাসায় বসেই স্বল্প খরচে বানানো যায়, ক্ষেত্রমতে তাও দেখিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। এ ফর্মুলা মেনে বাসায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানিয়ে হাত ধুয়ে জীবানুমুক্ত করা যায়, যা করোনা বিস্তাররোধে কার্যকরী উপায়। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সন্মানিত নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখার জন্য অন্তপ্রাণ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও সদস্যরা এভাবেই কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

বাকলিয়ায় নিজ বাড়িতে পুলিশ দেখে

আবেগে কাঁদলেন মুক্তিযোদ্ধা

বয়স ৮০ ছুঁই ছুই মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসাইনের। বাড়িতে খাদ্যসামগ্রীসহ হঠাৎ পুলিশ সদস্যদের দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। আবেগে কেঁদেছেন চুপচাপ। মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসাইন বসবাস করেন বাকলিয়া থানাধীন ইলিয়াস ব্রাদার্সের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায়। তিনি মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বাকলিয়া থানা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন।

৫ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসাইনের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (চকবাজার জোন) মুহাম্মদ রাইসুল ইসলাম। মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসাইন বলেন, নিজের বাড়িতে হঠাৎ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দেখে অবাক হয়েছি। খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছে সেটি বড় নয়, এসে খোঁজ খবর নিয়েছে সেটাই অনেক কিছু। আমি অসুস্থ মানুষ। আমার কিছু লাগবে কী না জানতে চেয়েছেন উনি। আমি বলেছি- বাবা, এভাবে মানুষের সেবা করে যান।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে কাজ করছেন তা খবরে দেখে খুব গর্ব হয় আমার। আজ মনে হচ্ছে আমরা যে কারণে মুক্তিযুদ্ধ করেছি তা সফল। পুলিশের এসব সদস্যরা আমাদের যোগ্য উত্তরসুরী। তাদের জন্য মন থেকে দোয়া করি।

বলিরহাট এলাকায় বসবাস করা মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দীন বলেন, পুলিশ আমার বাড়িতে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট নিয়ে হাজির হয়েছে। চুপচাপ দিয়ে চলে যেতে চেয়েছে, আমি তাদের ডেকে কথা বলেছি। জানতে পেরেছি শুধু আমাকে একা নয়, এ এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতেও গোপনে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে এসেছেন তারা। পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে অসহায় অবস্থায় থাকা দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষকে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করে আসছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা। ফোনে পুলিশকে জানালে মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের জন্যও গোপনে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানের নির্দেশে গোপনে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতেও খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেরাই মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে গিয়ে এসব খাদ্য সামগ্রী দিয়ে আসছেন। তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সিএমপির সহকারী কমিশনার (চকবাজার জোন) মুহাম্মদ রাইসুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্যসন্তান এবং আমি নিজেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এই বৈশ্বিক ক্রান্তিকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা তা জানার জন্য এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিএমপি কমিশনার স্যার আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় খবর নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বাসা-বাড়িতে যাচ্ছি আমরা।

তিনি বলেন, গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি গিয়ে উনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি এবং যাদের প্রয়োজন তাদেরকে খাদ্য সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছি সম্পূর্ণ গোপনে। সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বিপিএম, পিপিএম বলেন, নগরে বসবাস করা অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার চেষ্টা করছি, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি আমরা। অসচ্ছল ৩৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন তাদের সাধ্যমত সহযোগিতা করছি। বিভিন্ন জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন নিজেরা গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজখবর নেন।

কমলাপুর রেলওয়ে

স্টেশন কুলিদের পাশে পুলিশ

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কুলিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে ঢাকা জেলা রেলওয়ে পুলিশ। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ৮ নং প্লাটফর্মে নির্দিষ্ট ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ১১০ জন কুলির মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ সময় ৯০ জন অসহায়, দুঃস্থদের মাঝেও ত্রাণ বিতরণ করে রেলওয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ।

২০ এপ্রিল ২০২০ দুপুর বারটায় ঢাকা জেলা রেলওয়ের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বিপিএম, পিপিএম (বার) এর উপস্থিতিতে এসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ সময় রেলওয়ে জেলা ঢাকার সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ওমর ফারুক ও ঢাকা রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ রকিব উল হোসেনসহ অন্যান্য পদমর্যাদার কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারহীন বাবা-মায়েদের

পাশে রংপুরের পুলিশ সুপার

পরিবারের অনাদর ও অবহেলার শিকার বাবা-মা এবং পরিচয়হীন শিশুদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বিপিএম (বার), পিপিএম। করোনা দুর্যোগের মধ্যে তিনি ৭২ জন প্রবীণ ও শিশুকে স্যানিটাইজারসহ উপহারসামগ্রী দিয়েছেন।

‘করোনায় ভালো নেই পরিবারহীন বাবা-মায়েরা’ শিরোনামে সম্প্রতি একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি রংপুরের এসপি বিপ্লব কুমার সরকার বিপিএম (বার), পিপিএম-এর নজরে আসে। মিরপুরের পাইকপাড়ার চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে (বৃদ্ধ বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী শিশু আশ্রয়কেন্দ্র) পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার তার একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে সেনিটাইজারসহ বিভিন্ন পণ্য পৌঁছে দেন।

দুটি বাড়িতে মিলটন সমাদ্দার নামে এক যুবক ১৬টি কক্ষে ৬৬ জন প্রবীণ ও ছয়টি শিশুকে আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু করোনার কারণে আর্থিকভাবে বিপদে পড়েছেন মিলটন। আগে অনেকের সহায়তা পেলেও বর্তমানে সেটা পুরোপুরি বন্ধ। ফলে বিপাকে বৃদ্ধাশ্রমের অসহায় মানুষগুলো। জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে যারা থাকছেন তাদের বেশির ভাগ পরিবারের মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার। কাউকে রাস্তায় ফেলে রাখার পরে সেখানে ঠাঁই হয়েছে। আবার কাউকে পরিচয় গোপন করে পরিবারের সদস্যরা রেখে গেছেন। কাউকে আবার মানবিক কারণে বস্তির কুঁড়ে ঘর এখানে এনে রাখা হয়েছে। বয়সের ভারে সবাই বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত কঠিন রোগে আক্রান্ত।

মিলটন সমাদ্দার বলেন, সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছিলেন, আমাদের কী দরকার! আমরা জানিয়েছিলাম, সেনিটাইজার জাতীয় পণ্য দরকার। বেশকিছু পণ্য তিনি পৌঁছে দিয়েছেন।’

এসপি বিপ্লব কুমার সরকার বিপিএম (বার), পিপিএম বলেন, ‘কর্মসূত্রে আমি দীর্ঘদিন ঢাকায় ছিলাম। সেখানকার মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।’

পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার এর আগেও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। করোনার কারণে রাজধানীতে অ্যাপসভিত্তিক শেয়ার রাইড বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে অভুক্ত ছিলেন আলোচিত নারী ‘পাঠাও শাহনাজ আক্তার।’ বিষয়টি পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকারকে ফোনে জানান শাহনাজ। এরপর এক মাসের খাবার পৌঁছে দেন পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব। এছাড়া কলাবাগানের এফএনএফ স্কুলের পথশিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তাছাড়া নিজের কর্মস্থল রংপুরের অসহায় মানুষকে প্রতিনিয়ত খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

কুড়িগ্রামে নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়ি বাড়ি

যাচ্ছেন পুলিশ সুপার

নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মানবিক কাজের অংশ হিসেবে চিলমারী ও উলিপুর থানার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২শ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দিনভর এ দুই উপজেলার জেলে, পত্রিকার হকার, দিনমজুর, অটো রিকশা ও রিকশাচালকসহ বিভিন্ন ছিন্নমূল মানুষকে ভ্রাম্যমাণ এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান।

অসহায়দের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন

সিলেটের পুলিশ সুপার

করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি হয়ে পড়া অসহায় মানুষের জন্য বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। জেলার কানাইঘাট থানা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন কানাইঘাট খেয়াঘাটস্থ বেদে সম্প্রদায় ও রায়গড় গ্রামের দরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

এর আগে কানাইঘাট দারুল উলুম মাদরাসা প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। সিলেটের মানুষ যাতে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পায় সেজন্য আমরা জনসাধারণকে সচেতন করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আপনাদের লকডাউন মেনে চলতে হবে। অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া দয়া করে কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। আপনাদের সহযোগিতায় সিলেট জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে।

তিনি বলেন, এই দুর্যোগ মুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও জেলার অধিনস্থ সকল থানা পুলিশ গৃহবন্দি, গরিব অসহায় দিনমজুর মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে। আপনারা সমাজের দানশীল যারা আছেন, জেলা ও থানা পুলিশের কাছে আপনাদের অনুদানের খাদ্যসামগ্রী দিতে পারেন। সেটা আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরিদ্র অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দেব।

আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের

বাড়িতে পুলিশ সুপার

সিলেটের এসপি ফরিদ উদ্দিনের আহবানে সাড়া দিয়ে বর্ণির আত্মসমর্পণ করা সেই ডাকাতদের পরিবারের কথা ভুলেননি সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ। তিনি কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ গুচ্ছগ্রাম, টুকেরবাজারসহ কয়েকটি গ্রামের ৩০০ মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণ শেষে সন্ধ্যার একটু আগে কোম্পানীগঞ্জ থেকে সিলেট ফিরছিলেন। পথেই বর্ণি এলাকা। বর্ণিতে আসার পর তার মনে পড়ে আত্মসমর্পণকারী ১০ ডাকাতের কথা। এ সময় তিনি ওই ডাকাতদের পরিবারের খবর নিতে নিজেই ছুটে যান বাড়ি-বাড়ি। বর্নি সহ কয়েকটি গ্রামের ডাকাত পরিবারের খবর নেন। এ সময় ওই পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন খাদ্য সামগ্রী। আর কোম্পানীঞ্জ থানার ওসি সজল কানুকে নির্দেশ দেন- জেলে থাকা ডাকাতদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে। প্রয়োজন হলে আরো খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়ারও নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন এ সময় এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। আগামীতে বর্ণী এলাকায় ডাকাতির মত কোন অপরাধ যেন সংগঠিত না হয় সেজন্য এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি। এবং ডাকাতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান তিনি।

বেকার অসহায় কুলিদের

পাশে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার

কাজ আছে, আয় আছে। কাজ নাই তাই আয়ও নেই। পেশায় কুলি এমন শ্রমজীবীদের যখন খেয়ে না খেয়ে সময় যাচ্ছিল, তখন এদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান। তিনি দুই শতাধিক কুলিদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, করোনা সংকটের পর থেকেই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রমজীবী গোষ্ঠিগুলোর তালিকা তৈরি হচ্ছে। এরপর প্রতিদিনই এসব শ্রমজীবী অসহায়দের মাঝে তালিকা করে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে কুলি শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সহায়তার ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ ও সেকেন্ড অফিসার আনোয়ার হোসেন অসহায়, অসুস্থ, কাজহীন কুলিদের তালিকা করে তাদের কাছে স্লিপ বিতরণ করেন। তালিকাভুক্ত দুই শতাধিক অসহায়, অসুস্থ কুলি শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামান। খাদ্য বিতরণ কালে পুলিশ সুপার কুলিদের ঘরে থাকার কথা বলেন। তিনি বলেন কেউ না খেয়ে থাকবে না। সরকার আন্তরিক এবং সরকার অসহায়দের পাশে আছে।

নির্জন হাওরে কোয়ারেন্টাইন

পুলিশের হস্তক্ষেপে বাড়ি ফিরল ১৭ পরিবার

নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলায় নির্জন হাওরে অবস্থান করা ঢাকা ফেরত ১৭টি পরিবার পুলিশের সহায়তায় বাড়ি ফিরেছে। নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী খবর পেয়েই এলাকায় পুলিশ পাঠিয়ে তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে পোঁছে দেন। এসময় তিনি জানান, তাদেরকে খাদ্য সহায়তাসহ সকল নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত ছিলো তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রায় ১২ দিন পূর্বে তারা গ্রামে আসেন। গ্রামের প্রভাবশালীরা বাড়িতে উঠতে না দিয়ে উপজেলার নগর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের কসমা হাওরে খুপরি করে থাকতে দেয় তাদের। এদের মধ্যে অনেকেই গার্মেন্টস কর্মী, ঢালাইয়ের কাজসহ বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করতো। কয়েক ধাপে তারা এলাকায় আসলে ওই হাওরে তাদেরকে থাকতে বাধ্য করা হয়। খবর পেয়ে ইউএনও খাদ্য সহায়তা পাঠান। পুলিশের সহায়তায় তারা বাড়ি যেতে পেরে আনন্দিত।

হাওরে থাকতে বাধ্য হওয়া রিতা রানী জানান, তারা দুই বোন ঢাকায় কাজ করেন। এলাকায় ফেরার পর তাদের হাওরে থাকতে হয়েছে। রাতে পালা করে ঘুমাতে হয়েছে তাদের। একজন ঘুমালে আরেকজন পাহারা দিত।

জামালপুরে কর্মহীন

অসহায়দের পাশে পুলিশ

জামালপুরে করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন দরিদ্র ও দুস্থ ৪ হাজার ২০০ পরিবারকে খাদ্যসহায়তাসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা করেছে জামালপুর জেলা পুলিশ। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন ও বিভিন্ন হাটবাজারের সামাজিক দূরত্ব বজায় কার্যকর করতে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারের মানুষদের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা পুলিশ। প্রথম পর্যায়ে আমরা কর্মহীন দরিদ্র চার হাজার ২০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দিচ্ছি। সামাজিক দূরত্ব বাজায় রাখার স্বার্থে জনসমাগম না করে দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ সদস্যরা খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক সহায়তা চলবে।

তিনি আরো বলেন, এছাড়াও জেলার সাতটি থানা ও বিভিন্ন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ডস্যানিটাইজার, সাবান ও রান্নাকরা খাবার বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। টেলিফোনে কেউ খাদ্য সহায়তার জন্য আমাদের জানালে তাদেরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণের শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা প্রতিটি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত থাকছে।

৩৫টি ভ্রাম্যমাণ টহল পুলিশ দল তিন পালায় জামালপুর জেলা শহরসহ সারা জেলায় এমনকি গ্রামেও রাত-দিন টহল দিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছে। এছাড়াও সাদা পোশাকে মোটরসাইকেলে করে পুলিশের টহল দলও মানুষকে ঘরে থাকার জন্য সতর্ক করে আসছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারি বিধি-নিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে ঘরে থাকার আহবান জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের

ডিজিটাল পুলিশি সেবা

করোনাভাইরাসের ছুটিতে একটি পরিবার খাদ্য সংকটে ভুগছেন। ত্রাণের জন্য লাইন দিয়ে রাস্তায় দাঁড়াবেন সেটিও চক্ষুলজ্জায় পারছেন না বাড়ির কর্তা। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পুলিশ সুপার, কুড়িগ্রাম পেজে তার এই সমস্যা লিখে পাঠান।

পুলিশ সুপারের দ্রুত পদক্ষেপে এই ব্যক্তির মতই যারা খাদ্য সংকটে ভুগছেন, আশেপাশের খাদ্য অভাবে ভোগা মানুষজনের তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ সুপার কুড়িগ্রাম মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম-এর কাছে ফেসবুক এবং তার নাম্বারে। তার নির্দেশে ত্রাণ বিতরণ করে পুলিশ স্থাপন করছে অনন্য নজির।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং বিদেশ ফেরত কুড়িগ্রামে অবস্থানরত বা কুড়িগ্রামে এসে আত্মগোপন করেছেন এমন ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ সুপারের ফেসবুক পেজ এবং ফোন নাম্বারের মাধ্যমে। এই ক্ষেত্রে পরিচয় গোপন রেখেও জনগণ তথ্য প্রদান করতে পেরে এবং এই সমস্যা একযোগে মোকাবেলা করে কুড়িগ্রামকে নিরাপদ করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ।

শুধু তথ্য গ্রহণই নয়; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যাবহার করে কুড়িগ্রামবাসীকে সচেতন করতে দেশের স্বনামধন্য সেলিব্রেটিদের মাধ্যমে ভিডিও বার্তা প্রেরণ করে সচেতন করার উদ্যোগও নিয়েছে পুলিশ সুপার কুড়িগ্রাম পেজ। এতে জনগণের মধ্যে আইন ও চলমান করোনাভাইরাস মোকাবেলা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য থাকছে। কোন কোন ক্ষেত্রে এই সকল পোস্ট এবং ভিডিওর ভিউ ছাড়াচ্ছে প্রায় বিশ লাখ পর্যন্ত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে জনগণকে সেবা দেবার এই আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে জনগণকে পরিচিত করে এবং সেবা প্রদান করে আস্থার জায়গা সৃষ্টিকারী পুলিশ সুপার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে অডিয়েন্স হিসেবে টার্গেট করে এই পেজটি পরিচালিত হয়, যা দ্বারা মূলত মাদক ও বিভিন্ন অপরাধ বা অনিয়ম সংক্রান্তে তথ্য সংগ্রহ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। পাশাপাশি এই করোনা দুর্যোগের সময় সচেতনতা সৃষ্টিতে পেজটিকে নিত্যনতুনভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বরগুনায় এক পুলিশ

কর্মকর্তার ব্যতিক্রমী মাইকিং

পুলিশের গাড়ি দেখে সড়ক থেকে দৌঁড়ে পালানো, আবার গাড়ি চলে গেলে সড়কে উঠেই দাঁত বের করে খিলখিলিয়ে হাসা এখন নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তারপরও চেষ্টা থেমে নেই পুলিশের। সর্বোচ্চটুকু উজার করে সড়কে সড়কে টহল, নজরদারী বৃদ্ধি, লোক সমাগম প্রতিহত করা আর সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। এসব প্রচারণার মধ্যে থেকেই ভিন্ন কিছু বার্তার মাধ্যমে বাস্তবতা তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছে বরগুনার পুলিশ।

বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান হোসেন মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে এমন কিছু বার্তা দিচ্ছে যার মাধ্যমে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝতে সহজ হচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মানুষ।

সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং ঘরে থাকার উদ্দেশ্যে করা মাইকিংয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীতে অত্যন্ত মহামারি আকার ধারণ করেছে। আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে খেয়াল করেছি, আমরা যখনই প্রচারণা এবং পুলিশি তৎপরতা শুরু করি আপনাদের ঘরে ফেরানোর জন্য, তখনই আপনারা পুলিশের গাড়ি দেখে রাস্তা ছেড়ে পালাচ্ছেন, বাজারের অলি-গলিতে পালাচ্ছেন, দোকান বন্ধ করে দোকানের ভেতরে পালাচ্ছেন।

মাইকিংয়ে তিনি আরও বলেন, পুলিশের গাড়ি চলে যাওয়া মাত্রই সুন্দর করে হাসি দিয়ে বিজয়ের বেশে আবার রাস্তার উপর চলে আসছেন। আপনাদের এ দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে, পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে অনেক ভালো কিছু করে ফেলেছেন। কিন্তু জেনে রাখবেন, পুলিশকে ফাঁকি নয়, মূলত আপনি নিজেকে ফাঁকি দিচ্ছেন। আর এর মাধ্যমেই আপনি করোনা নামক এই মহামারি যমদূতের খুব কাছে চলে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান হোসেন বলেন, বরগুনার সব মানুষকে ঘরে রাখতে আমরা দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারপরও কিছু মানুষের অসচেতনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকা- আমাদের চিন্তিত করে তুলেছে।

চা শ্রমিকের পাশে পুলিশ

চুনারুঘাট উপজেলার রেমা চা বাগানের শতাধিক চা শ্রমিকের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ বিপিএম পিপিএম। জেলার সবচেয়ে দূরবর্তী সীমান্ত এলাকা রেমা চা বাগানে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশবাসী যখন ঘরবন্দী, খেটে খাওয়া মানুষ যখন ঘরে বসে ধুঁকছেন, ঠিক তখন তাদের পাশে দাড়িয়েছেন হবিগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ উল্লাহ বিপিএম পিপিএম ।

তিনি ঘরবন্দী মানুষের খাদ্য সামগ্রী সরবরাহে বিত্ত্ববানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

নাটোরের গুরুদাসপুরে

চা দোকানিকে সাহায্য

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি নাটোরের গুরুদাসপুর থানা পুলিশ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এলাকার মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে থানার গেটে বেসিনে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশি টহল, জীবাণুনাশক স্প্রে, মাইকিং ও সাহায্য প্রদান করছে।

চলাচলে বিধি-নিষেধ স্বত্ত্বেও পেটের দায়ে শহরের চাঁচকৈড় পুরানপাড়া গ্রামের এক চা দোকানি চা বিক্রি করছিলেন। হঠাৎ থানা পুলিশ সাহায্য নিয়ে তাদের সামনে উপস্থিত হয়। এ সময় গুরুদাসপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শহীদুল ইসলাম চা দোকানির অবস্থা দেখে মর্মাহত হয়ে ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। সম্প্রতি তার এই স্ট্যাটাসে এলাকার বিভিন্ন মানুষ ও সংগঠন সাহায্য নিয়ে দরিদ্র্য মানুষের বাড়িতে যাচ্ছেন।

এসআই মো. শহীদুল ইসলাম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘পুলিশের চাকুরি করার সুবাদে অসহায় মানুষের কষ্টগুলো দেখার সুযোগ হয়। অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে চাঁচকৈড় পুরান পাড়া গ্রামে একটা চা দোকানদারকে পুলিশের পক্ষ থেকে সাহায্য দিতে গিয়ে যা দেখলাম, তা বলার ভাষা নেই। দোকানে গিয়ে দেখলাম- দোকানদার চা বিক্রি করছেন। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম নিষেধ করার পরও কেন চা বিক্রি করছেন? সে বলল, ‘‘স্যার আমার এক বছরের বাচ্চা আছে, তাকে কী খাওয়াবো? বাসায় কোনো টাকা নাই। খাবো কী?’’ কথাটা শোনার পর অনেক কষ্ট পেলাম। তার সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চাটিও সামনে আসলো। থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সাহায্য দিলাম। সাহায্য পাবার পর চা দোকানদারের চোখে পানি। আবারও মর্মাহত হলাম।’

তিনি আরও লিখেন, ‘নিজের পকেটে খুব বেশি টাকা ছিল না। যা ছিল তা দিলাম। বাধ্য হয়ে এক বিত্তবানকে বললাম সাহায্য করতে। সেও তাকে কিছু টাকা সাহায্য করলো। চা দোকানদার আর তার স্ত্রীর হাসি মুখটা দেখলাম। ভালো লাগলো খুব। দোকানদার কথা দিলো যতদিন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ চলবে ততদিন সে চা বিক্রি করবে না।’

করোনায় তালাক: ঘর হারানো রেখাকে

আশ্রয় দিলো পুলিশ

তিন সন্তানের জননী রেখা বেগম। স্বামী মিলন মিয়া। দিন মজুর। মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের মধ্যবর্তী ভৈরব বাজার এলাকায় তাদের বসবাস। অভাব অনটন থাকলেও সংসার ভালোই চলছিল।

সম্প্রতি করোনাভাইরাসের কারণে বেকার হয়ে পড়েছেন মিলন মিয়া। জমানো টাকাও নেই যে তাই দিয়ে চলবেন। ধার দেনা করে কোনোমতে এ কয়দিন চলেছেন। এখন কেউ ধারও দিচ্ছে না। ঘরে তাই চুলা জ্বলছে না। টানাপোড়েনের সংসারে উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দারিদ্র চেপে বসেছে। এক দুকথায় স্ত্রী রেখা বেগমের সাথে ঝগড়া শুরু।

তিনটি ছোট বাচ্চা। চরম এই সঙ্কটের মধ্যে তাদের মুখে খাবার জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মা হয়ে সন্তানের কান্না সহ্য করতে পারেন না রেখা বেগম। স্বামীর সাথে এ নিয়ে মনোমালিন্য হয় রেখার। এক পর্যায়ে মেজাজ রাখতে পারেন না মিলন মিয়া। স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে বসেন মিলন। শুধু তাই নয়, তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। দেশের এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে চরম বিপদে পড়ে যান রেখা বেগম। কী করবেন ভেবে পান না। অসহায় অবস্থায় তিন সন্তান নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়তে হয় তাকে।

অবশেষে বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়ি কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেন রেখা। ১৫ এপ্রিল সকালের ঘটনা। চারিদিকে লকডাউন চলায় রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই। সাথে যথেষ্ট টাকাও নেই। তাই বাধ্য হয়ে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে হাঁটা শুরু করেন রেখা। প্রায় ৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বিকেলে পৌঁছান হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের নতুন ব্রিজ এলাকায়। তিন সন্তানসহ অসহায় এক নারীকে রাস্তায় বসে থাকতে দেখেন স্থানীয় সাংবাদিক মোতাব্বির হোসেন কাজল। তিনি এগিয়ে গিয়ে খোঁজ খবর নেন তাদের। খাবার ও পানি সংগ্রহ করে দেন। পরে বিষয়টি চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হককে জানান।

খবর পেয়ে ওসি শেখ নাজমুল হক তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে সন্তানসহ রেখাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। কুমিল্লায় রেখার ভাই মুজিবুর রহমানের কাছে খবরও পাঠান। খবর পেয়ে অসহায় বোনকে উদ্ধার করতে ছোটেন মুজিবুর রহমান। চুনারুঘাট থানায় পৌঁছলে তার কাছে বোন রেখা ও তার তিন সন্তানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ঝালকাঠিতে গামছা’র

কারিগরদের পাশে পুলিশ

দেশে চলছে সাধারণ ছুটি। এতে বন্ধ হয়ে গেছে ঝালকাঠির বিখ্যাত গামছা তৈরি করা ক্ষুদ্র তাঁতগুলো। ফলে এই শিল্পের সাথে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষগুলো আর্থিক অনটনে পড়েছেন। ঘরে খাবার নাই। তাঁত বন্ধ থাকায় হাতে টাকাও নাই। কারও কাছেই চাইতেও পারছিলেন না। হঠাৎ করে সমস্যায় পড়া এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ।

ঝালকাঠি জেলা পুলিশের উদ্যোগে তাঁতী পল্লির ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাদেরকে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে পুলিশ তাদেরকে অনুরোধ জানায়। এমন সংকটময় কালে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাঁত শিল্প সংশ্লিষ্ট এসব ব্যক্তিরা বাংলাদেশ পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

নীলফামারীতে কর্মহীন

হকারদের পাশে পুলিশ

দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে চলমান সরকারি ছুটিতে লোকজন ঘরে থাকায় কার্যত পত্রিকা বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হকারগণ। দুর্যোগের এমন দিনে অসহায় এসব পত্রিকার হকারদের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ।

নিলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডেকে পত্রিকার হকারদের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও পত্রিকার হকারদের করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করে পুলিশ। এমন সংকটময় কালে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য হকারগণ বাংলাদেশ পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

পটুয়াখালীতে মুখ ফুটে বলতে না

পারা মানুষের পাশে পুলিশ

পেশায় তাঁরা কাঠমিস্ত্রী। নিয়মিত কাঠের কাজ করে যা আয় করেন, তাতেই চলে যায় সংসার। কাঠমিস্ত্রীদের কাজের সাথে যুক্ত আরেক পেশার মানুষ আছে। ভ্যানচালক। তাঁরা মূলত কাঠ আনা নেওয়া আর আসবাবপত্র মানুষের বাসায় বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে থাকেন।

দেশে চলছে করোনা ভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি। কাঠমিস্ত্রীদের কাজ কার্যত বন্ধ। এতে তাঁরা যেমন আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন, তেমনি সমস্যায় পড়েছেন তাদের কাজের সাথে যুক্ত ভ্যানচালকেরাও। কিন্তু অনাকাক্সিক্ষত এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের আর্থিক সমস্যার কথা কাউকে মুখ ফুটে বলতে পারছিলেন না তারা।

অসহায় এসব কাঠমিস্ত্রী ও ভ্যানচালকদের পাশে দাঁড়িয়েছে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ। পটুয়াখালী পৌরসভা নিউমার্কেটের পাশে গড়ে ওঠা কাঠ ও ফার্নিচার মার্কেটের কাঠমিস্ত্রী ও ভ্যানচালকদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা সামগ্রী প্রদান করেছে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ। পুরাতন আদালত মাঠে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে শতাধিক পরিবারের মধ্যে নিজেদের অর্থায়নে জেলা পুলিশ সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেছে। মানবিক এ সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, আলু, ডাল, পেঁয়াজ, লবণ ও ভোজ্য তেল। দুর্দিনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এসব কাঠমিস্ত্রী ও ভ্যানচালকগণ পুলিশের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এ ছাড়াও করোনা মোকাবেলায় তাঁরা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবেন এবং যথাসম্ভব ঘরে থাকবেন বলেও জানান।

নওগাঁয় সুপথে ফেরানোর

পাশাপাশি দুঃসময়ে পুলিশ

মাদকের গ্রাস থেকে সমাজকে রক্ষা করতে এবং মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুপথে ফেরাতে বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় নওগাঁ জেলা পুলিশের উদ্যোগে ৫৮ জন মাদক ব্যবসায়ী সম্প্রতি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। একইসঙ্গে মাদকের অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসার অঙ্গীকার করেন তারা।

আত্মসমর্পণ করা এসব মাদক ব্যবসায়ীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপায়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই সকল ব্যক্তি যাতে পুনরায় পথভ্রষ্ট না হন, এজন্য নিয়মিত তাদের খোঁজ-খবর রাখে পুলিশ। সৎভাবে জীবন যাপন করতে এসব ব্যক্তি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ধরণের পেশায় যুক্ত রয়েছেন।

কিন্তু অতি সম্প্রতি আত্মসমর্পণ করা ওইসব ব্যক্তিদের খবর নিতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, করোনা ভাইরাসের কারণে চলমান সাধারণ ছুটিতে তাদের পেশা সংশ্লিষ্ট কাজ-কর্ম বন্ধ। এজন্য আর্থিকভাবে সমস্যার আছেন। এমন দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসে পুলিশ।

জেলা পুলিশের উদ্যোগে আলোর পথে ফেরা এসব মানুষের প্রত্যকের বাড়িতে খাদ্য সহায়তা সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। করোনাকালে এমন সহায়তা পেয়ে তারা পুলিশের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একইসাথে সর্বদা মাদক থেকে দূরে থাকার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

দুস্থ ও অসহায় মানুষের

পাশে পিটিসি টাঙ্গাইল

দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়া দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ ট্রেনিং কলেজ টাঙ্গাইল। পিটিসি, টাঙ্গাইলের উদ্যোগে দুই দফায় পার্শ্ববর্তী ভাতকুড়া ও ছাওয়ালী এলাকায় দুস্থ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত ৪৫০টি পরিবারের মধ্যে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে ছিলো চাল, ডাল, তেল, আলু, পিয়াজ, চিড়া, চিনি, ছোলা, খেজুর ও সাবান। এ ছাড়াও এসব পরিবারকে করোনা প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক করে পুলিশ।

এমন দুর্যোগের দিনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশ পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও

কৃতজ্ঞতা জানান। এ ছাড়াও পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এসব পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং চলাচলে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাবেন বলে জানান।

ঝিনাইদহে করোনায় কর্মহীন

ও পঙ্গুত্বের শিকার পরিবহন

শ্রমিকদের পাশে পুলিশ

দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে কর্মহীন হয়ে আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়া পরিবহন শ্রমিক ও সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্বের শিকার হওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের উদ্যোগে স্থানীয় হামদহ ট্রাক টার্মিনাল সড়কে করোনায় কর্মহীন পরিবহন শ্রমিক ও দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্বের শিকার হওয়া মানুষের মধ্যে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় পুলিশ করোনাভাইরাস সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করে। এ ছাড়াও চলমান করোনাযুদ্ধে প্রয়োজন ছাড়া ঘরে থাকতেও তাদেরকে উদ্ধুদ্ধ করে পুলিশ। এমন দুর্যোগের দিনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশ পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এ ছাড়াও পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবেন না এবং চলাচলে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাবেন বলে তারা জানান।

ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত

সেবায়েতদের পাশে পুলিশ

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের উদ্যোগে স্থানীয় পৌরসভা মাঠে ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় পুলিশ তাদেরকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করে। এ ছাড়াও সাধারণ মানুষকে চলমান করোনাযুদ্ধে ঘরে রাখতে উদ্ধুদ্ধ করার জন্য ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিত-সেবায়েতদের প্রতি আহ্বান জানায় পুলিশ। এমন দুর্যোগের দিনে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশ পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এ ছাড়াও পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা মানুষকে ঘরে থাকতে উদ্ধুদ্ধ করবেন বলেও জানান।

যৌনপল্লিতে থাকা

অসহায় মানুষের পাশে

দাঁড়িয়েছে পুলিশ

যশোর জেলা পুলিশের উদ্যোগে শহরতলীর যৌনপল্লির ১২০ টি পরিবারের মধ্যে ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এমন দুর্যোগের দিনে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যৌনপল্লির মানুষেরা বাংলাদেশ পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ঝালকাঠিতে কর্মহীন

রিকশাচালকদের

পাশে পুলিশ

দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে চলমান সরকারি ছুটিতে লোকজন ঘরে থাকায় অনেকটাই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন রিকশাচালকেরা।

ঝালকাঠি জেলা পুলিশের উদ্যোগে শহরের থানা পেট্রোল পাম্প মোড়ে রিকশাচালকের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও হ্যান্ড-স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও রিকশাচালকদের করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করে পুলিশ। এমন সংকটময় কালে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য রিকশাচালকেরা বাংলাদেশ পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

পটুয়াখালীতে ভাসমান বেদেদের

পাশে বাংলাদেশ পুলিশ

দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে বেদে সম্প্রদায়ের ভাসমান মানুষগুলো। তারা এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে বাসা করে কয়েকদিন থাকেন। এরপর আবার অন্যত্র চলে যান। কিন্তু চলমান লকডাউনের প্রভাবে তারা এক জায়গায় আটকে পড়েছেন। ফলে ভাটা পড়েছে আয়-রোজগারে। এমন সংকটময় কালে অসহায় এ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলার লোহালিয়া নদীর তীরে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বেদে পল্লীতে সহায়তা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এ সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, লবণ, ভোজ্য তেল, বিভিন্ন ধরণের মসলা এবং সাবান। অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে পুলিশের এমন সহায়তা পেয়ে বেদে সম্প্রদায়ের ভাসমান এ মানুষগুলো আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। এমন দুর্যোগের দিনে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশ পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

চাটমোহরে কর্মহীন

পরিবারের পাশে পুলিশ

পাবনার চাটমোহর উপজেলার সেই অসহায় কর্মহীন পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ২৮ এপ্রিল ‘চাটমোহরে কর্মহীন পরিবারে নীরব কান্না’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর নজরে পড়ে ঢাকার এডিসি, ডিবি, ডিএমপি মো. আহসান খানের। তিনি প্রতিবেদকের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে মথুরাপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের ওই পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বিকাশ যোগে টাকা পাঠিয়ে পরিবারটিকে খাদ্যসামগ্রী কিনে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান। পুলিশ কর্মকর্তার পাঠানো টাকা দিয়ে খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন কালের কণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ রঞ্জু।

পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। প্রতিক্রিয়ায় ফারুক সরদার বলেন, পরিবারে ৮ সদস্যের মুখে খাবার দিতে আমাকেই রোজগার করতে হয়। গত এক মাস ধরে কোনো কাজ করতে যেতে না পেরে একদম অসহায় জীবন পার করতেছিলাম আমরা। ঘরে কোনো খাবারই ছিল না। আজকের এই দুঃসময়ে যারা আমাদের পাশে দাঁড়ায়ে সাহায্য সহযোগীতা করল আল্লাহ যেন তাদের মঙ্গল করেন।

রাজশাহীতে সন্ধ্যা হলেই রাস্তায়

নামছে মানবিক পুলিশ

ভয়াবহ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাঠে রয়েছে রাজশাহী নগর পুলিশ। ইচ্ছেমতো যাওয়া-আসা নিয়ন্ত্রণে নগরীর প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়েছে। নগরবাসীকে ঘরে রাখতে পাড়া-মহল্লা ঘুরে ঘুরে করছে সচেতন। সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন তাদের দেখভাল করছে পুলিশ। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন, তাদের সাজা দিচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সংকটের যারা সুযোগ নিচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন। বিচারেও সহায়তা দিচ্ছে পুলিশ।

এতকিছুর পরও এবার এক অন্য পুলিশকে দেখছে রাজশাহী নগরবাসী। সন্ধ্যা নামলেই রাস্তায় নামছে সেই পুলিশ। মানবিক এই পুলিশ অভুক্ত ঘরবন্দি মানুষের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে খাবার। অন্যের সহায়তা এমনকি নিজেদের রেশন থেকে আসছে এর জোগান। করোনাকালে অসহায় মানুষগুলোর মলিন মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আনন্দিত পুলিশও। সহায়তা পেয়ে পুলিশের জন্য প্রাণভরে দোয়াও করছেন অসহায় মানুষগুলো। নগর পুলিশ বলছে, করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিরাতেই সহায়তার ঝুলি নিয়ে রাস্তায় নামছে থানা পুলিশের সদস্যরা। ঘুরে ঘুরে অসহায়-অভুক্ত মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে খাবার। নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা, রাজপাড়া ও চন্দ্রিমা থানায় দেড়শতাধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে নগর পুলিশ। বাকি থানাগুলোতেও সহায়তা পেয়েছে অন্তত একশ পরিবার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, নগর পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা এই মানবিক সহায়তায় অংশ নিয়েছেন। যে যার অবস্থান থেকে সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। জোন এবং থানা পুলিশও সাধ্যমতো এ সহায়তায় অংশ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আরএমপির ত্রাণ তহবিলে বিত্ত্ববান লোকজন সহায়তা দিচ্ছেন। পুলিশ কর্মকর্তারাও রেশনসহ বিভিন্ন ধরণের সহায়তা দিচ্ছেন। রাত-দিন যখনই খবর আসছে, তখনই ত্রাণ পৌঁছে যাচ্ছে ঘরবন্দি অভুক্ত মানুষের ঘরে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ মানবিক অভিযান চালিয়ে যাবে নগর পুলিশ।

করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানান গোলাম রুহুল কুদ্দুস। একই সঙ্গে দেশের এই সংকটকালে সবাইকে পুলিশকে সহায়তারও আহ্বান জানান।

রাজশাহীতে সবজি বিক্রেতাদের

মহল্লায় পাঠাচ্ছে পুলিশ

ভিড় কমছে বাজারে

রাজশাহীতে জনসমাগম ঠেকাতে বাজারকে বিকেন্দ্রীকরণ শুরু হয়েছে। রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশ এই উদ্যোগ নিয়েছে। রাজশাহী নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট বোয়ালিয়া থানারই এলাকা। সাহেববাজারে ভিড় কমাতে এখন থেকে সবজি বিক্রেতাদের পাড়া-মহল্লায় পাঠাচ্ছে পুলিশ। এর ফলে কাঁচাবাজারে ভিড় কমছে।

১৫ এপ্রিল থেকে পাড়া-মহল্লায় সবজি বিক্রেতাদের পাঠাতে শুরু করে পুলিশ। এই থানার অধীনে থাকা ১৭টি ওয়ার্ডের ৯০টি পাড়া-মহল্লায় সবজির ভ্যান পাঠানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশ জানায়, পাড়া-মহল্লায় সবজির ভ্যান পাঠানোর কারণে বাজারে ভিড় কমছে। পাশাপাশি বিক্রেতারাও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবজি বিক্রি করতে পারছেন। এতে করোনাভাইরাসে ঝুঁকি কমছে।

নগরীর টিকাপাড়া এলাকার গৃহিণী তানিসা খাতুন জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সবজি কিনতে বাজারে যেতেই তিনি ভয় পেতেন। তারপরও যেতে হতো। তিনি সামাজিক দূরত্ব মেনে কেনাকাটা করলেও অনেকেই তার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে পণ্য কেনা শুরু করতেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মহল্লায় সবজির ভ্যান পাঠানোর নিশ্চয়তা দেয়ার পর তিনি স্বস্তি পান। এখন তিনি বাড়ির সামনেই ভ্যান থেকে সবজি কেনেন।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন জানান, বাজার ছেড়ে ভ্যানে করে সবজি নিয়ে পাড়া-মহল্লায় যাওয়ার জন্য প্রথম দিন ১০ জন বিক্রেতাকে ঠিক করা হয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩১৫ জনকে ঠিক করা হয়েছে। তাদের এলাকাও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ভ্যানগুলো চিহ্নিতও করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ভ্যান নির্ধারিত এলাকায় যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ীরা সকাল ৭টার আগে সাহেববাজার সংলগ্ন মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজার থেকে পাইকারিতে সবজি কিনছেন। তারপর তারা পাড়া-মহল্লায় চলে যাচ্ছেন। বিকাল ৫টা পর্যন্ত তারা সবজি বিক্রি করতে পারছেন। বাসিন্দারা বাজারে না গিয়ে বাড়ির সামনেই যেন ভ্যান থেকে সবজি কেনেন তার জন্য প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভালো সাড়াও মিলছে।

ওসি বলেন, সাহেববাজারের কাঁচাবাজার একটি সংকীর্ণ রাস্তার ওপর। ইতোমধ্যে সে রাস্তায় একমুখি বাজার চালু করা হয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে দোকানপাট খোলা থাকে। কিন্তু এখানে ভিড় কমানো যাচ্ছিল না। এ কারণে বাজার বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে মানুষের ভিড় কমছে। পাড়া-মহল্লায় এখন শুধু সবজি পাঠানো হলেও ধীরে ধীরে অন্য প্রয়োজনী পণ্য পাঠানোর চিন্তা করছেন বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

মৌলভীবাজার ত্রাণ না পাওয়াদের

খুঁজে ত্রাণ দিচ্ছে পুলিশ

মৌলভীবাজারে হতদরিদ্র-কর্মহীন পরিবার যারা এখনো ত্রাণ পাননি, গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যে তাদের খুঁজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ দিচ্ছে জেলা পুলিশ। করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ এর নির্দেশে এমন ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকার ব্যাপারে সচেতন করছেন পুলিশ সদস্যরা।

করোনা প্রতিরোধে মৌলভীবাজার জেলা লকডাউন ঘোষণার পনেরো দিন পেরিয়ে গেছে। মৌলভীবাজারে অন্য জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা ঘর থেকে বের হতে না পেরে কষ্টে দিনযাপন করছেন। তবে, তাদের খবর নিয়ে সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তারপরও কিছু মানুষ ত্রাণের তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন। পুলিশ সুপার ফারুক আহমদের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যে তাদের খুঁজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ দিচ্ছে জেলা পুলিশ।

মৌলভীবাজার প্রত্যন্ত এলাকায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে প্রতি দিন রাতে ৪০ থেকে ৫০টি কর্মহীন-অতি দরিদ্র পরিবারের বাড়িতে ত্রাণের প্যাকেট পৌঁছে দিচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মডেল থানার ওসি ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। অপ্রত্যাশিতভাবে পুলিশের ত্রাণ পেয়ে মুখে হাসি আর দোয়া ও বুকভরা ভালোবাসা জানাচ্ছেন অর্ধাহারে অনাহারে থাকা পরিবার।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ভয় নয় সবাই মিলে করোনাকে করবো জয়’ এ শ্লোগান নিয়ে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ এর নেতৃত্বে করোনা প্রতিরোধে কাজ করছে জেলা পুলিশ। আর বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম একটি কাজ যারা এখনো ত্রাণ পাননি গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যে তালিকা করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগনকে মানসিকভাবে সাহস যোগানোসহ সারাদেশের মতো মৌলভীবাজারে ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন জেলা পুলিশের সদস্যরা।

নিজেদের রেশন ৪৫০

পরিবারকে দিল

ঈশ্বরদী থানা পুলিশ

দেশব্যাপী করোনা মহামারি মোকাবেলায় ঈশ্বরদীতে ঘরবন্দি কর্মহীন সাড়ে ৪০০ পরিবারের মাঝে নিজেদের মাসিক রেশনের সমস্ত খাদ্য সামগ্রী তুলে দিলেন ঈশ্বরদীর থানা পুলিশ।

ঈশ্বরদী থানার ১৪০ জন পুলিশ সদস্যের মাসিক রেশনের খাদ্য সামগ্রী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘরবন্দি কর্মহীন অসহায়, দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিরতণ করা হয়। খাদ্য সহায়তা পেয়ে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশি বিবিসি বাজারের নাইটগার্ড আবু বক্কার জানান, ঈশ্বরদী থানা পুলিশের এই উদ্যোগ ব্যতিক্রমী। তারা তালিকা তৈরি করে প্রকৃত অস্বচ্ছল মানুষকে সহায়তা করেছেন। বাড়ি বাড়ি এসে তারা সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। এই দুর্যোগের সময়ে এমন মহানুভবতা কারা বা দেখায়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, নিজের জায়গা থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। সহায়তা প্রদানে যতটুকু সম্ভব হচ্ছে প্রদান করা হচ্ছে। আগামীতেও যেকোনো পরিস্থিতিতে এই প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান ওসি।

পঞ্চগড়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে

ধরল না কেউ

ছুটে গেল পুলিশ

পঞ্চগড় জেলা শহরের মিঠাপুকুর এলাকায় পড়েছিলেন অসুস্থ এক ব্যক্তি। দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য অনেকে দেখলেও করোনা সংক্রমিত ভেবে ভয়ে কেউ তার কাছে যায়নি। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে হয়ে উঠে। এর মধ্যে খবর পেয়ে ছুটে যায় পুলিশ। তাকে মাটি থেকে তুলে সেবা শুশ্রুষা করেন তারা। কিছুক্ষণ পর কিছুটা সুস্থ হলে তার পরিচয় জেনে পরিবারের হাতে তাকে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তির নাম মনসুর আলী (৪৫)। বাড়ি আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পানবাড়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকার ঢাটুয়া মাহমুদের ছেলে। মির্জাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তোজ্জাকারুল ইসলামের বড় ভাই।

তিনি বাড়ি থেকে দাঁতের চিকিৎসার করার জন্য পঞ্চগড়ে আসেন। বিকেলে জেলা শহরের মিঠাপুকুর এলাকার একটি মাঠে তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। কিন্তু ভয়ে কেউ তার কাছে যায়নি। এদিকে ওই অপরিচিত লোককে ঘিরে ওই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ওই অসুস্থ ব্যক্তিকে তাড়াতে লাঠি নিয়ে উদ্যত হয় স্থানীয়রা। এ সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ।

পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক নূর আলম সিদ্দিকী ও কনস্টেবল মোজাম্মেল এর ওই ব্যক্তিকে মাটি থেকে তুলে সেবা শুশ্রুষা করেন। কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি কিছুটা সুস্থ হলে তার কাছ থেকে পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে তার ছোট ভাই ইউপি সদস্য তোজ্জাকারুল হাতে তাকে তুলে দেওয়া হয়। করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশের এমন ভূমিকাতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ওই ব্যক্তির পরিবার। সেই সঙ্গে স্থানীয়রাও পুলিশের এই সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বগুড়ায় সন্তান সম্ভবা

নারীর পাশে পুলিশ

করোনা প্রার্দুভাবে মানুষের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়া, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ দাফনের মত কাজগুলো করে আসছেন পুলিশের সদস্যরা। এবার জনমানবহীন রাতের রাস্তায় যখন কোন যানবাহন চলছে না তখন সন্তান সম্ভবা এক নারীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হলো পুলিশের গাড়িতে। ১৮ এপ্রিল রাতে বগুড়া শহরে সুলতানগঞ্জ পাড়ার এক সন্তান সম্ভবা নারীকে বগুড়া সদর থানা পুলিশের গাড়িতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের সুলতাগঞ্জ পাড়ার ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রী আল আমিন তার বাড়ির কাছে হাকির মোড় এলাকায় রিক্সা-ভ্যানের খোঁজ করছিলেন। এমন সময় পুলিশের একটি টহল গাড়ি সেখানে থামে। রাতের ডিউটিতে থাকা বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা গাড়ি থেকে নেমে এত রাতে রাস্তায় ঘোরা ফেরার কারণ জানতে চান।

এ সময় আল আমিন জানায় তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠেছে। হাসপাতালে নিতে হবে, কিন্তু রাস্তায় কোন যানবাহন এমনকি ভ্যান-রিক্সাও পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে এস আই সোহেল রানা বিষয়টি জানান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামানকে। তিনি নির্দেশনা দেন সন্তান সম্ভবনা ওই নারী তার স্বামীসহ বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে দিতে। এরপর সন্তান সম্ভবা ওই নারী, তার স্বামী ও তাদের আরো দুই আত্মীয়কে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে। সুলতানগঞ্জ পাড়া থেকে ৮ কিলো মিটার দুরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ভর্তি করানো পর্যন্ত নিশ্চিত করেন এস আই সোহেল রানা।

বগুড়া সদর থানার এস আই সোহেল রানা বলেন, হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পর আমাকে ধরে আলামিন হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে বলে, স্যার! আমি তো পুলিশ দেখে ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম। অবশেষে পুলিশেই স্বস্তি পেলাম। তিনি বলেন আলামিন আমাকে জড়িয়ে ধরে যে পরিমান দোয়া করেছে আমি করোনার ভয়, রোগের ভয় সবকিছু ভুলে গেছি।

ক্ষুধার্ত শিশুর মুখে খাবার তুলে দিলেন

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার

কার্যত লকডাউনে সারা দেশ। ঘরবন্দী মানুষ। বাইরে বেরোনো নিষেধ। পথে কেউ নেই। এমন নির্জন রাতে কল আসে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সজল কুমার কানুর মুঠোফোনে। জানতে পারেন তার থানাধীন কেচুটিলা গ্রামের একটি পরিবারের তিনটি শিশু না খেয়ে আছে। অসহায় মা শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারেননি।

কেচুটিলা একেবারেই দুর্গম এলাকা। যোগাযোগের খুব একটা সুব্যবস্থা নেই। সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা লাগোয়া। রাত তখন ১০টা পেরিয়ে গেছে। সীমিত পরিসরে যে কয়েকটি মুদিখানা খোলা থাকে, তাও বন্ধ। কিন্তু শিশুরা সারারাত না খেয়ে থাকবে, এটাও চাননি সজল কুমার। উপবাসে থাকা শিশুদের কথা শুনতেই নিজের সন্তানের মুখ ভেসে ওঠে মনে। তিনিও যে তিনকন্যার জনক। কিন্তু উপায়?

ঘরে যা আছে তাই নিয়ে তুলে দিতে চান অনাহারী শিশুদের মুখে। নিজের বাসা আর থানা মেসে রান্না করা ভাত, ডাল, সবজি আর টেংরা মাছ দুই টিফিন ক্যারিয়ারে ভরে নিয়ে রওনা হলেন প্রত্যন্ত এলাকা কেচুটিলার দিকে। বাহন মটরসাইকেল। সঙ্গে তারই সহকর্মী এসআই রাজীব, এএসআই সিরাজ ও মাহফুজ। দুর্গম পথ পারি দিয়ে যখন কেচুটিলায় আছমা বেগমের দুয়ারের সামনে তারা দাঁড়ালেন, তখন ঘড়ির কাটা বারোটা ছুঁই ছুঁই। মাটির ঘর। টিনের দরজা। কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে জানতে চাওয়া হলো পরিচয়। পরিচয় দিতেই দরজা খুলে গেলো। বেরিয়ে এলেন মা আছমা বেগম। অনাহারী শিশুরা তখন ক্ষুধার কষ্টে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছে। খাবার হাতে পুলিশ সদস্যদের দেখে চোখের পানি ছেড়ে দিলেন আছমা বেগম। ডেকে ঘরে নিলে। তারপর জানালেন, দিনে এক প্রতিবেশির থেকে দুই কৌটা চাল এনে আর আলু সিদ্ধ করে খেতে দিয়েছিলেন তিন সন্তানকে। রাতে কিছু নেই। তাই না খেয়েই থাকতে হচ্ছে।

খাবার পেয়ে মা সন্তানদের ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। তারাও বিশ্বাস করতে পারেনি, এই রাতে তাদের খাবারের কোনো ব্যবস্থা হবে। খাবার দেখে তাদের চোখও ছলছল করে ওঠে। হয়তো তারা ভেবেছিল আর সব দিনের মতো অনাহারেই রাত কাটবে।

পুলিশ কর্মকর্তা সজল কুমার কানু বলেন, ‘বাচ্চাদের কথা শুনে আমার মায়া হয়। আমিও যে তিন মেয়ের বাবা! আমার সন্তানদের মুখ ভেসে উঠেছিল মনে। রাতে তো দোকানপাট কিছুই খোলা ছিল না। আমার ঘরে আর থানা মেসে যা ছিল তাই নিয়ে গিয়েছিলাম। ফেরার সময় পরের দিনের জন্য ৫০০ টাকা হাতে দিয়েছি। ওই শিশুদের মুখে আমি যে আনন্দ দেখেছি, তা আমার চাকরি জীবনের বড় পাওয়া।’

তিনি বলেন, ‘কেচুটিলা দুর্গম এলাকা হওয়ায় ত্রাণও ঠিকভাবে পৌঁছাতে পারছে না। লোকজন খুব অসহায় অবস্থায় আছেন। তার মধে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে দরিদ্রই বেশি। যারা ত্রাণ দিচ্ছেন তাদের অনুরোধ করবো তারা যেন কেচুটিলার মানুষের পাশেও গিয়ে দাঁড়ান। তাদের ঘরেও খাবার পৌঁছে দেন।’

লালমনিরহাটে হাসপাতালে

রোগীর খাবার পৌঁছাতে

এগিয়ে এলো পুলিশ

প্রসূতি স্ত্রীর জন্য হাসপাতালে খাবার পৌঁছতে ৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে থানায় পৌঁছেন মমিনুর রহমান নামে এক যুবক। এরপর বাকি ১৫ কিলোমিটার পথের জন্য তাকে গাড়ি সহায়তা করেছে পুলিশ। ৮ এপ্রিল ২০২০ সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় পৌঁছেন ওই যুবক। তিনি উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

মমিনুর রহমান জানান, ৭ এপ্রিল প্রসব বেদনায় ছটফট করা স্ত্রী সুলতানা বেগমকে লালমনিরহাট শহরের যমুনা ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে সিজার (অস্ত্রোপচার) করে ছেলে সন্তান প্রসব করেন সুলতানা। সেই থেকে মা-ছেলে ক্লিনিকের বেডে রয়েছেন। করোনার প্রভাবে হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় বাড়ি থেকে প্রসূতির খাবার পৌঁছতেন মমিনুর রহমান। যানবাহন হিসেবে গণপরিবহন অটোরিকশা ব্যবহার করতেন তিনি।

সব ধরণের যানবাহন বন্ধ করে প্রশাসন। ফলে ক্লিনিকের বিস্কুট কলায় কেটেছে প্রসূতির দুপুরের খাবার। বাড়ির রান্না করা খাবার পৌঁছতে না পারলে রাতেও অভুক্ত থাকবেন প্রসূতি স্ত্রী। তাই রাতের খাবার বক্সে ভরিয়ে বাড়ি থেকে বিকেলে পায়ে হেঁটে রওনা করেন মমিনুর। যেতে হবে ২০ কিলোমিটার পথ। ৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে হাঁপাতে হাঁপাতে আদিতমারী থানায় পৌঁছেন তিনি। প্রসূতি স্ত্রীর কাছে পৌঁছতে তাকে আরো ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। তাই থানায় প্রবেশ করে পুলিশের কাছে যানবাহন সহায়তা চান মমিনুর রহমান। দাখিল করেন উপযুক্ত প্রমাণ।

বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামের নির্দেশে উপ-পরিদর্শক (এসআই) রঞ্জু আহমেদ লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কে অর্ধঘণ্টা অপেক্ষা করে লালমনিরহাটগামী একটি কৃষিপণ্যবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে রোগীর খাবারসহ মমিনুরকে ট্রাকে চালকের পাশের আসনে বসিয়ে দেন।

পুলিশের এমন মানবিক আচরণে আনন্দে কেঁদে ফেলেন মমিনুর রহমান। তিনি বলেন, অনেক শুনেছি, আজ দেখলাম। এমন সেবা মৃত্যুর আগেও মনে থাকবে। আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে জেলায় গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। ওই ব্যক্তি ৫কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে থানায় এসে রোগীর খাবার পৌঁছনোর মত যানবাহন সহায়তা চান। থানায় গাড়ি সংকট থাকায় লালমনিরহাটগামী একটি ট্রাকে তাকে পাঠানো হয়েছে।

পতেঙ্গাঁয় অসুস্থ শিশুর

পাশে পুলিশ

পতেঙ্গা থানাধীন কাটগড় ব্রিক ফিল্ড রোড এলাকার বাসিন্দা দোলনা বিশ্বাস। তার পাঁচ বছর বয়সী বাচ্চার লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়েছে। নিয়মিত বাচ্চাকে টেস্ট করাতে হয়। ৮ এপ্রিল সকালে বাচ্চাকে টেস্ট করানোর সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন গৃহবধূ দোলনা বিশ্বাস। পতেঙ্গা থেকে পাঁচলাইশ থানাধীন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিতে হবে বাচ্চাকে। নিরুপায় দোলনা বিশ্বাস সহায়তা চাইলেন পতেঙ্গা থানার। পতেঙ্গা থানা পুলিশ কাটগড় এলাকা থেকে দোলনা বিশ্বাস ও তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তান শ্রীকান্ত শীলকে নিয়ে পৌঁছে দেয়। শুধু পৌঁছে দিয়েছে তা নয়, টেস্ট শেষে আবার বাড়িও পৌঁছে দিয়েছে তাদের।

গৃহবধূ দোলনা বিশ্বাস বলেন, বাচ্চাকে টেস্ট করানোর জন্য নিতে হবে। কোনো গাড়ি চলছে না তাই খুব টেনশনে ছিলাম। পরে পতেঙ্গা থানার ওসি সাহেবেকে বিষয়টি জানিয়ে সহায়তা চাইলে উনি থানার পুলিশসহ গাড়ি পাঠিয়েছিলেন। পুলিশ আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেছে, আবার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে।

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া বলেন, কাটগড় এলাকার এক নারী ফোন করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে গাড়ির সহায়তা চেয়েছিলেন। আমরা তাকে নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পোঁছে দিয়েছি। আবার সেখানে কাজ শেষে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি।

ফোন পেয়ে প্রসূতিকে

হাসপাতালে নিয়ে

গেল পুলিশ

রাত সাড়ে ৩ টা। এমনিতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে যান চলাচল বন্ধ, তার ওপর গভীর রাত। চট্টগ্রামের আশরাফ আলী রোডে বসবাসকারী এক  স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হওয়ায় স্বামী শিপন সেন তখন সাহায্যের আশায় এদিক ওদিক ফোন করছিলেন। এম্বুলেন্সের জন্য কয়েক দফা ফোন করে বিফল হয়ে তিনি ফোন করেন কোতয়ালী থানায়।থানা থেকেও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়ে শেষে পুলিশের টহল দল গাড়ি নিয়ে হাজির হয় বাসার সামনে। প্রসব যন্ত্রণায় কাতর প্রান্তি সেনকে নিয়ে যাওয়া হয় কাছের হাসপাতালে। সেখানে তিনি জন্ম দেন এক ফুটফুটে মেয়ে শিশুর।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন জানান, মা এবং শিশু দুজনই এখন আন্দরকিল্লা জেমিসন রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে মাতৃসদন হাসপাতালে রয়েছেন। ওসি মহসিন বলেন, ‘কোথাও সাহায্য না পেয়ে শিপন থানায় ফোন করেছিলেন। এখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সের বন্দোবস্ত না হওয়ায় টহল গাড়ি নিয়েই রওনা হন এএসআই আজিজুল ইসলাম এবং তার সঙ্গে ডিউটিরত সুকুমার। পরিবারের লোকজনসহ প্রসূতিকে তারাই হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে ডাক্তার-নার্স ডেকে আনা থেকে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা সবকিছুতেই ওরা সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, এরকম মহৎ কাজের অংশীদার হতে পেরে পুলিশ হিসেবে আমরা গর্বিত। এই ঘটনায় পরিবারটিও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

বরিশালের উজিরপুরে

সংখ্যালঘুর দেয়া জমিতে

দাফন করল পুলিশ

বরিশালের উজিরপুরে রাস্তার পাশে সারা রাত ধরে মরে পড়ে থাকা অজ্ঞাত এক পাগলের (!) লাশ প্রায় ১৬ ঘণ্টা পরে উদ্ধার করে দাফন করা হয়েছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আতঙ্কে ওই লাশ কেউ উদ্ধার করে দাফনের উদ্যোগ না নেওয়ায় বিষয়টি জেনে ওসি জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে দাফন কাফনের ব্যবস্থা করে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ওসি, চিকিৎসক ৫ পুলিশ সদস্য ও করোনাকালে লাশ দাফনের দায়িত্বে এগিয়ে আসা পৌর কাউন্সিলর বাবুল সিকদারসহ চারজন স্বেচ্ছাসেবীর উপস্থিতিতে ২৬ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয়। এদিকে এক সংখ্যালঘু ব্যক্তির দান করা জমিতে ওই পাগলের দাফন করা হয়।

জানা গেছে, ৪-৫ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তি উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের পীরেরপাড় নামক এলাকায় ঘোরাফেরা করত। আকস্মিক ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে মারা যায় সে। রাতভর রাস্তার পাশে পড়েছিল ওই পাগলের মরদেহ। করোনা আতঙ্কে কেউ এগিয়ে আসেনি লাশটি উদ্ধারের জন্য। পরে খবর পেয়ে উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে একটি টিম মৃতদেহটি উদ্ধার করে দাফন করেন।

এসময় ওসি জিয়াউল আহসান দাফনের কাপড়সহ যাবতীয় সামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি দাফনে অংশ নেওয়াদের ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রনতি বিশ্বাস জানান, তিনি উজিরপুর থানা পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির লাশটি উদ্ধার করে দাফনের ব্যবস্থা করেছেন।

ওসি জিয়াউল আহসান জানান ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এ ব্রত নিয়ে লাশটি দাফন করা হয়েছে। এছাড়া সে করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা সেটা নিশ্চিত না হলেও তাকে নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে জানাজা এবং দাফন করার পাশাপাশি তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ভবঘুরে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তি যেখানে মারা গেছেন সেখানে কোনো মুসলিম পরিবার নেই। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওই এলাকায় দাফনের জন্য জায়গা না থাকায় স্থানীয় সুশান্ত হালদার নামের এক মানবদরদী অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি তার বাড়ির পাশে নিজের জমিতে লাশ দাফনের অনুমতি দিলে সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

ঝিনাইদহে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে

করোনা সন্দেহে মৃত

ব্যক্তির দাফন করলো পুলিশ

মানুষটার বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর। গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে। কিন্তু সেখানে তিনি থাকতেন না। ফরিদপুরের মধুখালীতে থাকতেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে ১১ এপ্রিল ২০২০ খ্রিঃ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। করোনা পরীক্ষা জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়। হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্রামের ঠিকানায় অ্যাম্বুলেন্স করে লাশ নিয়ে রওয়ানা হন মৃতের ভাই। ফরিদপুর সদর থানার ওসি ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে। খবর পেয়ে প্রস্তুতি নেয় পুলিশ।

পথিমধ্যে মৃত ব্যক্তির ভাই ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে ফোনে জানান, তার ভাইকে খাজুরা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে চান। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি সদর থানা এলাকায় পৌঁছায়। তখন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল, ঝিনাইদহ এবং সদর থানার ওসি মিলে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে খাজুরা গ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হন। এদিকে, খবর পেয়ে সেখানে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বিকেল ৫ টা ৪০ এর দিকে লাশ নিয়ে খাজুরা গ্রামে পৌঁছায় পুলিশ।

গ্রামে করোনা সন্দেহে মৃত ব্যক্তির লাশ আনার খবরে খাজুরা গ্রামের লোকজন যেন উধাও। সেখানে পৌঁছে লাশ গাড়ি থেকে নামানোর লোক নেই। খাটিয়া নেই। প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার দূরে একটি মসজিদ থেকে খাটিয়া আর দুজন লোক আনে পুলিশ। এরপর পুলিশ মৃত ব্যক্তির ভাইয়ের সাথে মিলে লাশটি খাটিয়াতে নামায়। কাঁধে করে কবরস্থানের অদূরে একটি মাঠে নিয়ে যায়। জানাজা পড়ানোর জন্য উপযুক্ত কাউকে না পেয়ে ইউএনও জানাজা পড়ান। এরপর মৃতের ভাই ও অন্যান্য লোকদের সহায়তার লাশটি কবরস্থানে বহন করে নিয়ে যায় পুলিশ।

বাঁশ ঝাড়ের নিচে কবরস্থান। কবর খুঁড়তে খুঁতেই সন্ধ্যা নেমে আসে। মোবাইল ফোনের টর্চের আলোতে চলে করর খোঁড়ার কাজ। কিন্তু কবর খোঁড়া যখন শেষের দিকে তখন শুরু হয় প্রচ- ঝড়-বৃষ্টি। আর সেই ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মৃত ব্যক্তির দাফন কাজ সম্পন্ন করে পুলিশ।

নীলফামারীতে সর্দি-জ্বরে মৃত্যু

পুলিশ ছাড়া কেউ এলো না দাফনে

নীলফামারীর ডোমারে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। কেতকীবাড়ি ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বিকেলে পরিবারের লোকজন ছাড়া অন্য কেউ এগিয়ে না আসায় পুলিশের সহায়তায় দাফন কার্য সম্পন্ন হয় তার। মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কেতকিবাড়ি ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামে অবস্থিত নিহত ওই ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, তিনি জ্বর, সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কী-না তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ওই বাড়িতে কেউ প্রবেশ কিংবা বৃদ্ধের স্ত্রী, তিন ছেলে ও পুত্রবধু কেউ বের হতে পারবেন না।

ডোমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, করোনা ভাইরাসের আতংকে নিহত ব্যক্তির দাফন কার্যে এগিয়ে আসেন নি কেউই। পুলিশের সহায়তায় পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে জানাযা এবং দাফন সম্পন্ন হয়।

পাংশায় করোনা উপসর্গে

মারা যাওয়া ব্যক্তিকে

কবর দিল পুলিশ

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সেনগ্রামে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রুহুল শেখের দাফন সম্পন্ন করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১১টার দিকে সেনগ্রাম কবরস্থানে তাকে কবর দেওয়া হয়।  রুহুল শেখ একই গ্রামের হবিবর শেখের ছেলে। সোমবার ২টার দিকে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় সেনগ্রাম লকডাউন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, রুহুল কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন- এমন ভয়ে তার লাশ কেউ ধরতে চাইছিল না। পরে পাংশা থানা পুলিশ উদ্যোগী হয়ে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করে। জানাজা পড়ান সেনগ্রাম জামে মসজিদের ইমাম। জানাজায় পাংশার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) লাবীব আব্দুল্লাহ, পাংশা থানার ওসি আহসানউল্লাহসহ ছয় পুলিশ সদস্য, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাকিল এবং মৃতের পরিবারের চার সদস্য উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে পুলিশ সদস্যরাই তাকে কবর দেন।

পাংশা থানার ওসি মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ জানান, করোনাভাইরাসের ভয়ে কেউ যখন এগিয়ে আসেনি তখন পুলিশ উদ্যোগী হয়ে তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করে। ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলাম জানান, করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ায় তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সেনগ্রাম লকডাউন করা হয়েছে।

রাজধানীর জুড়াইনে

লাশ উদ্ধার করল পুলিশ

আতঙ্কে কাছে যায়নি কেউ

নভেল করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের এই সময়ে রাজধানীর জুরাইনে রাস্তায় পড়ে থাকা এক ব্যক্তির মৃতদেহ মধ্য রাতে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নাসির উদ্দিন (৬৬) নামের ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লাশ অনেকটা সময় রাস্তায় পড়ে থাকলেও ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে কেউ কাছে যায়নি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ রোববার মধ্যরাতে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশের ধারণা, নাসির উদ্দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শ্যামপুর থানার ওসি মফিজুল আলম বলেন, “জুরাইন মুন্সিবাড়ির ঢালে একটি মৃতদেহ পড়ে আছে এমন খবর পাওয়া পর পুলিশ রাত দেড়টার দিকে সেখানে যায়।

করোনায় মৃতদের দাফনে

জমি দিলেন পুলিশের

এক সিনিয়র এএসপি

দেশে করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকে দিনে দিনে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু। সংক্রমণের গুজবে কোথাও করোনা বা উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেলে দাফনে বাধা দেয়া হচ্ছে। কোথাও আবার স্বজনরাও জানাজায় হাজির হচ্ছেন না। মারা যাওয়া ব্যক্তিকে বহন করতে খাটিয়া দেয়া হচ্ছে না এমন খবরও আসছে গণমাধ্যমে।

এমন অবস্থার মধ্যে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিকে দাফন করতে বাধা পেলে নিজের জমিতে দাফন করতে দিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশের সিআইডিতে সিনিয়র এএসপি হিসেবে কর্মরত মো. এনায়েত করিম রাসেল নিজের এলাকা মানিকগঞ্জে এই জমি দিয়েছেন। জমিটি পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের জন্য এক বছর আগে কিনেছিলেন।

ইতিমধ্যে বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ পুলিশের উর্ধর্তন কর্মকর্তাদেরও জানিয়েছেন তিনি। এক বছর আগে কেনা দশ শতাংশ জমিতে শুধু মানিকগঞ্জ বা আশপাশের এলাকাই নয়, দেশের কোথাও কেউ করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ায় দাফনে বাধা পেলে তাকে এখানে সমাহিত করা যাবে। আরও ২২ শতাংশ জমি কেনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজন দেখা দিলে সেখানেও মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।

নিজের ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মানিকগঞ্জে বাসা কিন্তু বসবাস অন্য জায়গায় অথবা বাংলাদেশের যে কেউ আল্লাহ না করুক করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে বিনাসংকোচে নিয়ে আসুন। গংগাধরপট্টি চকে উত্তর-পূর্ব কোণে (নওখন্ডা) আমাদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা যাবে। আশেপাশে কোনো জনবসতিও নেই। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এখানে কবর দেয়া সবার জন্য উন্মুক্ত।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক অথবা মেয়রের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের মোবাইল নম্বর (০১৭৩০৩৩৬২২৩), ও তিন বন্ধু ডিএফএম লোটাস (০১৭৭৭৩০৫০১৬), ও শুভ (০১৭১২২৯২৯২২), মোস্তফা (০১৭১২৫৫৭০৮৬) যে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলেছেন এনায়েত রাসেল।

করোনায় মৃতদের

দাফনে জমি দিলেন

পুলিশ সদস্য জাহিদুল

করোনায় আক্রান্ত হয়ে কিংবা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের দাফন কার্য সম্পাদনের জন্য ১৭ শতাংশ জমি দান করেছেন এক পুলিশ সদস্য ও তার স্বজনরা।

তবে শুধু করোনায় নয়, ওই পুলিশ সদস্য’র উপজেলার নদী ভাঙন কবলিত এলাকার নিঃস্ব মানুষসহ বেওয়ারিশ মানুষদের মরদেহও দাফন করা যাবে এই জমিতে বলে জানিয়েছেন বরিশালের বানারীপাড়া থানায় কর্মরত সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম জাহিদ।

তিনি জানান, তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি ইউনিয়নের দেউলি গ্রামে। যেখানে তার বাবা মরহুম ইসমাইল সিকদারের নামে একটি কল্যাণ ফাউন্ডেশন রয়েছে। সেই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের অন্য সদস্য’রা ১৭ শতাংশ জমি দান করেছেন কবরস্থানের জন্য। যার মধ্যে জাহিদুল ইসলাম নিজে ও তার অনুপ্রেরণায় চাচা আ. হাই, ইউসুফ সিকদার, মাওলানা আ. ছালাম এবং চাচা মরহুম ডা. ইসহাক সিকদারের পরিবারের সদস্যরা একমত হয়ে কবরস্থানের জন্য এ জমি দান করেন।

তিনি জানান, প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মধ্যে যদি কোনো মানুষ মারা যায় তাদের দাফনের জন্য জমি না থাকলে তাদের এই কবরস্থানে দাফন দেওয়া যাবে। এছাড়াও করোনা ভাইরাস মহামারি ব্যতীত নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের মরদেহ এবং বেওয়ারিশ মরেদহও এই কবরস্থানে দাফন দেওয়া যাবে। এএসআই জাহিদুল ইসলাম এর আগে বানারীপাড়ায় করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধে লকডাউন ও হোম কোয়ারেন্টিনে থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্রদের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং শিশুসহ কর্মহীনদের জন্য ধর্মীয় গ্রন্থ ও খেলার সামগ্রী বিতরণ করেন।

ধান কাটতে শ্রমিক

পাঠাচ্ছে পুলিশ

করোনার কারণে চলমান সরকারি ছুটিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধান কাটার শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। সঠিক সময়ে ধান কাটতে না পারলে বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এতে দেখা দিতে পারে খাদ্য ঘাটতি। এসব বিষয় বিবেচনা করে দেশের কৃষকদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে ধান কাটার শ্রমিকদের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। তবে, শ্রমিক পাঠানোর আগে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করছে পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলার দুই হাজার ৪৯৭ জন ধান কাটা শ্রমিককে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। তবে, এসব শ্রমিক পাঠানোর আগে চিকিৎসকদের সহায়তায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জেলা পুলিশ। কেবলমাত্র স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শ্রমিকদেরকেই পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশের উদ্যোগে এসব শ্রমিকদের করোনার প্রতিরোধের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।

হাওরে ধান কাটতে

দেড় হাজার মজুর পাঠাচ্ছে সিএমপি

হাওর এলাকায় ধান পেকে গেছে। কিন্তু ধান কাটার পর্যাপ্ত শ্রমিক নেই। ধান কাটতে দেরি হলে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে সর্বনাশ হতে পারে কৃষকের। এমতপরিস্থিতিতে হাওরের ধান কাটার জন্য দেড় হাজার মজুর পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। সামাজিক দূরত্বও বজায় রেখে ১৯ এপ্রিল প্রথম দিন পাঁচটি বাসে ১০০ মজুর হাওর অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ জানিয়েছে। ১৮ এপ্রিল বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারে ধান কাটার মজুরদের জড়ো করে পুলিশ। সেখানে নগর পুলিশের উপকমিশনার এস এম মেহেদী হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মজুরদের বিদায় জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েক দিন আগে ধান কাটার মজুরদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এস এম মেহেদী হাসান বলেন, হাওর অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবিকার কারণে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় থাকেন। তাঁদের অনেকে এখন ধান কাটার জন্য সেখানে যেতে চান। এই রকম দেড় হাজার জনের তালিকা করা হয়েছে। তাঁরা পর্যায়ক্রমে সেখানে যাবেন। মেহেদী হাসান আরও জানান, এস আলম কোম্পানি বাস দিয়েছে। বাসগুলোতে জীবাণুনাশক ছিটানো হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য ৪০ আসনের বাসে ২০ জন করে যাত্রী যাচ্ছেন। তাঁরা কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানায় রিপোর্ট করবেন। এরপর স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকবেন। ধান কেটে সেখানে চলে আসবেন। কেউ বাড়িতে যেতে পারবেন না।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, মজুরদের অধিকাংশের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। তাঁরা বছরের অন্য সময় জীবন-জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রামে আসেন। ধান কাটার মৌসুমে তাঁরা আবার হাওর অঞ্চলে চলে যান। এবার করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ায় তারা আটকে পড়েন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর তাঁদের সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে

কৃষি শ্রমিক পাঠাল পুলিশ

কুমিল্লা জেলা পুলিশের উদ্যোগে ৪৩ জন

কৃষি শ্রমিককে ধান কাটার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। ২৩ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে নগরীর শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড থেকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ওই কৃষি শ্রমিকদের একটি বাসে তুলে দেন।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, এসব শ্রমিকদের প্রত্যেককে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এদিন সকালে জেলা পুলিশ সুপার ওই কৃষি শ্রমিকদেরকে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেছেন। পরে কৃষি শ্রমিকরা তাদের কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে বাসযোগে রওনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে।

জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, মাঠে এখন ধান পেকে আছে। মাঠ থেকে ধান সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তাই করোনা সংক্রমণের এই সময়ে কৃষি শ্রমিক সংকট দূর করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্রভূমিতে ধান কাটার জন্য কৃষি শ্রমিক পাঠিয়েছি। পর্যায়ক্রমে আরো কৃষি শ্রমিক পাঠানো হবে। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে যেন খাদ্য সমস্যা না দেখা দেয় সেই লক্ষ্যে এই উদ্যোগ বলে জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ শাখাওয়াৎ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আজিম-উল-আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *