ই-পেপার

নিউজ স্ক্রল

ডা. কাজী সোমাইয়া মাহ্ নুর

বর্তমান বিশ্বে প্রধান আলোচ্য বিষয় করোনা ভাইরাস, যেটি ধারণ করেছে মহামারি ও ভয়াবহ রূপ। গঠনগতভাবে করোনা ভাইরাস একটি বিশাল (RNA) ভাইরাসের পরিবার। ‘করোনা’ শব্দটার আক্ষরিক অর্থ হলো মুকুট। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের তলায় এই পরিবারের ভাইরাসকে অনেকটা রাজার মাথার মুকুট মতো দেখায়। সেই থেকে এই নামকরণ। অন্য সব ভাইরাসের মতো এরাও জীবনধারণ ও বংশবৃদ্ধির জন্য কোনো না কোনো কোষের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে। করোনা ভাইরাস ১৯৩০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কার হয়। প্রথমদিকে মুরগির মধ্যে সংক্রামক ভাইরাস হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায়। মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি। ‘মনুষ্য করোনা ভাইরাস ২২৯ ই’ এবং মনুষ্য করোনা ভাইরাস ওসি ৪৩ নামে নামকরণ করা হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাব ঘটে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর। চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রমণ দেখা দেয়। (WHO) অনুমান করেছে নতুন এ প্রজাতিটি সাপ অথবা বাদুড় থেকে এসেছে। যদিও অনেক গবেষক এ মতের বিরোধিতা করেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রথমত শনাক্ত হয় ৮ই মার্চ ২০২০ সালে (COVID-19)। প্রথম পর্যায়ে উপসর্গ সাধারণ সর্দি-জ্বর, অবসাদ, শ্বাসকষ্ট, কফ, মাংসপেশিতে ব্যথা। প্রধান লক্ষণ শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা। মূলত এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে। সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ¦রের মাধ্যমে শুরু হয় উপসর্গ। পরে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। যখন থুতু ফেলা হয় বাইরে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা সেটির মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়। ‘থুতু’-এর মাধ্যমে করোনা ভাইরাস মুখ গহ্বরের মাধ্যমে/ভেতরে সংক্রমিত হয়। অত্যাধুনিক সমাজ ব্যবস্থার সাথে প্রচলিত আছে টুথপেস্ট, মাউথওয়াস, মেসওয়াক। প্রতিদিন নিয়মিত দুবার টুথ ব্রাশ করতে হবে। লবণ গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করতে হবে। গরম পানির ভাঁপ শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণের মাধ্যমে নাকের ভিতরে জমে থাকা ময়লা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ভিতরে গমনকৃত ভাইরাসের প্রবেশ থেকে মুক্তির উপায় আছে। সেক্ষেত্রে ওযু করার সময় তিনবার পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেও ময়লা দূরীভূত হয়।

আত্মশুদ্ধিতে করোনা

করোনা প্রবেশের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হলো নাক ও মুখ। আমাদের বৃদ্ধি করতে হবে আত্মসচেতনা তাহলেই রক্ষা পাবো মহামারি COVID-19 করোনা থেকে। আমাদের শরীরকে রোদের আলোর তাপ-এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। তখন বৃদ্ধি পাবে আত্ম প্রতিরোধ স্বাস্থ্য ক্ষমতা। আমাদের শরীরের ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি-এর অপূর্ণতা পূরণে সহায়ক হবে।

করোনা মোকাবিলায় ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষকে মানসিক, মানবিক ও আত্মিক প্রশান্তি দিয়ে থাকে। জাতি ধর্ম, বর্ণ, কর্ম ভেদে ধার্মিক অগ্রগতি আমাদের শিক্ষা দেয় সবার জন্য সবার কামনা।

সুতরাং করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে আত্মসচেতনার মাধ্যমে কোয়ারান্টিনের মাধ্যমে, নিজেকে সুরক্ষিত করতে হবে। সুতরাং অবশ্যই মুখগহ্বর ও দাঁতের রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিষেধক নিতে হবে। ব্যবহার করতে হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ধূমপান, মদ্যপান বন্ধ করে শরীরে অন্য অসুখের হানা আটকানো জরুরী। শরীর যতই রোগমুক্ত থাকবে, ততই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে; সেটা নির্ভরশীল মানুষের অন্তরের ধর্মীয় পবিত্রতার উপর। আসুন সবাই সবার নিজ ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের প্রতি, মানবিক হয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে, মহামারি মোকাবিলা করে আগামীর বিশ্ব গড়ি।

লেখক : দন্ত বিশেষজ্ঞ (বিএসএমএমইউ)

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x