ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ডিটেকটিভ রিপোর্ট

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান, আইন-শৃঙ্খলা ও জনগণের জানমাল রক্ষার মত ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে পুলিশ সদস্যরা। দেশের যে কোন প্রয়োজন ও সংকটে নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না তারা। প্রতিবছর দায়িত্ব পালনকালে অনেক পুলিশ সদস্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ এবং স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

২০১৯ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করার জন্য পালিত হলো ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২০’। দেশের প্রতিটি পুলিশ ইউনিটে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। দিবসের মূল কর্মসূচি কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সকল রেঞ্জ ও জেলা পর্যায়ে দিবসটি পালিত হয়। দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গকে স্বীকৃতি স্মারক প্রদান ইত্যাদি।

দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ০১ মার্চ ২০২০ খ্রি. রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে নির্মিত অস্থায়ী পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন ও বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) এবং নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একটি চৌকস পুলিশ দল সশস্ত্র সালাম প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।

পরে ২০১৯ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গকে স্বীকৃতি স্মারক প্রদান করা হয়। আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে পিএসসি কনভেনশন হলে আয়োজিত স্বীকৃতি স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন ও অপারেশনস্) ড. মোঃ মইনুর রহমান চৌধুরী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এসবি প্রধান মীর শহীদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) বিশ্বাস আফজাল হোসেন বক্তব্য রাখেন।

মোস্তাফা কামাল উদ্দিন বলেন, পুলিশের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাদেরকে প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হয়। বিভিন্ন ধরণের সামাজিক অপরাধ দমনের সাথে সাথে জঙ্গিবাদ, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা অত্যন্ত উঁচুমানের পেশাদারিত্ব দেখাতে সমর্থ হয়েছেন।

নিহত পুলিশ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মোস্তাফা কামাল উদ্দিন বলেন, সরকার নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানে অত্যন্ত আন্তরিক।

আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, দেশের যে কোন ক্রান্তিকালে পুলিশ সদস্যরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক পুলিশ সদস্য সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকালে জীবন দিয়েছেন। দেশের জন্য তাদের মহান আত্মত্যাগ বাংলাদেশ পুলিশ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আইজিপি বলেন, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ উদ্যোগে পুলিশ সদস্যদের অবসর গ্রহণের পর ২ জন সদস্যকে আজীবন রেশন সুবিধা দেয়া হয়েছে।

পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুলিশের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

পুলিশ প্রধান বলেন, পুলিশ একটি পরিবার। দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের খোঁজখবর নেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আপনাদের প্রয়োজনে সহযোগিতা প্রদানে আমরা সচেষ্ট থাকবো।

পরে সিনিয়র সচিব এবং আইজিপি মঞ্চ থেকে দর্শক সারিতে এসে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্বজনদেরকে স্বীকৃতি স্মারক ও উপহার প্রদান করেন। তাদের পরিবারবর্গ এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তখন এক শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ক্রেস্ট, সনদপত্র, নগদ অর্থ এবং উপহার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং তাদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৯ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের গ্রেফতারসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান ও জনগণের জানমাল রক্ষাকালে কর্তব্যরত অবস্থায় ১৭৯ জন পুলিশ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিগণ, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ প্রতি বছর ১ মার্চ পালন করা হচ্ছে।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *