ই-পেপার

মোহাঃ আবদুল আলীম মাহমুদ বিপিএম

করোনা শব্দটি করোনা হলো কেন? এরকম প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রথমে যে বৈশিষ্ট্যটির উপর চোখ পড়ে সেটা হলো এই ভাইরাসের বাহ্যিক আকার   আকৃতি। অবশ্যই এটা খালি চোখে দেখা যায় না; যেমন যায় না অন্য যে কোন ভাইরাস। আমরা আসলে এর ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপিক দৃশ্যের কথা বলছি। গ্রিক শব্দ corona অর্থ হলো crown, বাংলায় যেটাকে আমরা মুকুট বলতে পারি। মুকুটের কথা মাথায় আসলেই আমাদের মনে উঁকি দিয়ে যায় মানব সভ্যতার শৌর্য-বীর্য আর অপরিমেয় ক্ষমতা। কিন্তু এক্ষেত্রে করোনা উল্টো। এই crown সদৃশ corona মানবসভ্যতার এক অসহায়ত্বের নাম। এ নামটি ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে দৃশ্যমান করোনা ভাইরাসের ভিরিয়নের (ভাইরাসের সংক্রামক অংশ) বৈশিষ্ট্যমূলক উপস্থিতিকে নির্দেশ করে। ভিরিয়নের বিশাল কন্দাকৃতি পৃষ্ঠ অভিক্ষেপযুক্ত প্রান্ত রয়েছে যা মুকুটের কথাই মনে করিয়ে দেয়। এর অঙ্গসংস্থান, ভাইরাল স্পাইক পেপলোমিয়ার দ্বারা তৈরি হয়েছে যেগুলো মূলত ভাইরাসের পৃষ্ঠে অবস্থিত প্রোটিন। এরূপ মুকুটাকৃতির কারণে ভাইরাসটির এরকম নামকরণ হয়েছে। ইন্টারেস্টিং না?

করোনা কী

করোনা ভাইরাস মুকুটের মত না হয়ে যদি জাহাজের মতোও হতো, আমাদের তথা সাধারণ মানুষের কিছু যায় আসতো না। যে জন্য এ ভাইরাস নিয়ে মানবসভ্যতা চিন্তিত তার প্রধান কারণ হলো করোনা ভাইরাস মানুষের শরীরে নিউমোনিয়া বা শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্টজনিত এক প্রকার রোগের সৃষ্টি করে। করোনা ভাইরাস মূলত একটি নির্দিষ্ট ভাইরাসের নাম নয়, এটি ভাইরাসের একটি পরিবার, একটি পরিবারে যেমন অনেক সদস্য থাকে তেমনি করোনা ভাইরাস পরিবারে অনেকগুলো ভাইরাস থাকে, সাধারণভাবে সবগুলোকেই করোনা বলা হলেও প্রতিটি ভাইরাসের একটি সুনির্দিষ্ট নাম আছে। যেমন এই পরিবারের একটি নতুন ভাইরাস হলো SARS-CoV-2, এ জন্য এ ভাইরাসটিকে নভেল করোনা ভাইরাস ও বলা হয়। এ ভাইরাসটি মানুষের শরীরে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগের সংক্রমন ঘটায় যা সাধারণ ঠান্ডা কাশি থেকে শুরু করে অনেক গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এর আগেও আমরা সার্স ও মার্স রোগের নাম শুনেছি, যে গুলো এই গোত্রের-ই অন্য ভাইরাসের দ্বারা সৃষ্ট রোগ ছিল। সৌভাগ্যজনকভাবে সেগুলো আমাদের দেশকে আক্রান্ত করতে না পারলেও এবার যে রোগটি সারা বিশ্বের মত আমাদের দেশকেও আক্রান্ত করেছে সেটির নামকরণ করা হয়েছে কোভিড-১৯। ইংরেজিতে বললে covid-19, যার পূর্ণরূপ হলো Corona Virus Diseases-2019। SARS-CoV-2 ভাইরাসটি একটি Enveloped, Positive sense, Single Strand RNA ভাইরাস। শেষের এই কথাগুলো আমি নিজেও খুব একটা যে বুঝি তা না, তবে যারা ভাইরাস সম্পর্কে একটু বিশদ জ্ঞান রাখেন তারা অবশ্যই ভালো বুঝেন।

কোভিড-১৯ কী

করোনা ভাইরাস পরিবারের সদস্য SARS-CoV-2 ভাইরাসের সংক্রমনে মানবদেহে সৃষ্ট একটি মারাত্মক রোগের নাম হলো কোভিড-১৯, এই করোনা ভাইরাসটি মানব শরীরে ঢোকার পর সংক্রমনের লক্ষণ দেখা দিতে সাধারণত প্রায় ২-১৪ দিন সময় লাগে। এই সময়টাই ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড। এই রোগের মূল লক্ষণগুলোর মধ্যে (১) বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণ জ্বর, শারীরিক দুর্বলতা ও শুকনো কাশি; (২) এছাড়া সর্দি কাশি, নাক বন্ধ, গলা ব্যথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা হতে পারে; (৩) শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে; (৪) ডায়রিয়া হতে পারে; উল্লেখযোগ্য। তবে অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তির কোন লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করছেন। কোভিড-১৯ একটি সংক্রামক রোগ, এর সংক্রামণের কারণ হিসেবে (১) আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে যা ফুসফুস থেকে নির্গত হয়; (২) সংক্রমিত বস্তুর সংস্পর্শে আসলে; (৩) আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের সংস্পর্শে আসলে; (৪) সংক্রমিত হাতে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করলে; ইত্যাদি অন্যতম।

উৎপত্তি

ভাইরাসটির উৎপত্তি নিয়ে অনেক গল্পে বাজার সয়লাব। এসবের মধ্যে সব থেকে প্রচলিত ও জনপ্রিয় যে গল্পটি অধিকাংশ মানুষ খেয়েছে সেটি হলো চীনের উহানের হুয়ানান সামুদ্রিক খাবারের মার্কেটটি নিয়ে। প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিটি সনাক্ত হয় ২০১৯ এর ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে। চায়না কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে এসব লক্ষণ নিয়ে পাওয়া প্রথম রোগীটি কোভিড-১৯ রোগেই আক্রান্ত। অর্থাৎ বিষয়টি হচ্ছে চায়না কর্তৃপক্ষ যতভাবে পারা যায় অনুসন্ধান করে দেখেছে যে তাদের উহান শহরে অসুস্থতার লক্ষণ নিয়ে যে রোগীটি ডিসেম্বর মাসে পাওয়া যায় সেটি আসলে নভেল করোনা ভাইরাসের দ্বারা সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত। যেহেতু এটা পয়লা কেস ছিল তাই এই নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি সবদিক থেকেই জরুরী ছিল। পরবর্তীতে কাছাকাছি সময়ে আরো কিছু আক্রান্ত ব্যক্তি সনাক্ত হয়। একটি নতুন রোগের সম্পর্কে গবেষণা করতে গিয়ে দেখা যায় যে যারা আক্রান্ত তাদের অধিকাংশই কোন না কোন ভাবে উহানের একটি খাবারের বাজারের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, হতে পারে গ্রাহক হিসেবে বা ব্যবসায়ী হিসেবে। তবে অধিকাংশ বলতে সবাই নয়, মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী কোভিড-১৯ আক্রান্ত প্রথম ৪১ জনের মধ্যে ২৭ জনের ক্ষেত্রেই উহানের সেই খাবার মার্কেটের সংযোগ পাওয়া যায়। তবে মজার বিষয় হলো প্রথম যে ব্যাক্তিটি সনাক্ত হয় তার ক্ষেত্রে এরকম কোন তথ্য পাওয়া যায় না। উহান মার্কেট সংক্রান্ত যে গল্প বাজারে প্রচলিত সেটাই যে শেষ গল্প এরকম নিশ্চয়তা দেয়া এখোনো সম্ভব হয়নি।

উহান কী

সাধারণ মানুষ উহান আর চীন এই নিয়েই বা এতটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট থাকলেও এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানের বিশদ পরিচয় জানতে আমার নিজের ই জানার আগ্রহ তৈরি হয়। চীনের প্রায় ২৫টির মত প্রদেশের একটি হলো হুবেই প্রদেশ। এই হুবেই প্রদেশের সব থেকে বড় শহরটি হলো উহান। এই শহরটি বেশ জনবহুল একটি শহর এবং প্রায় ১১মিলিয়ন মানুষের বসবাস এই শহরে। অর্থাৎ উহান হলো চীনের হুবেই প্রদেশের একটি জনবহুল শহর।

বিশ্ব পরিস্থিতি

বিশ্ব পরিস্থিতি জানার জন্য এখন আর আলাদা করে সংবাদ পড়তে বা দেখতে হয় না। বাতাসে কান পাতলেই শোনা যায় বাতাস ভারী হয়ে আছে বিশ্ববাসীর ভয় আর আতংকে। তবে সংবাদ পড়লে, দেখলে বা একটু খোঁজ খবর রাখলে হয়তো এতটা ভয়ের কিছু ছিল না, কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সুস্থতার হার অনেক বেশি। জুনের ৮ তারিখ পর্যন্ত যদি হিসেব করে দেখা যায় তাহলে মোট আক্রান্ত প্রায় সাড়ে ৭১ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৩৪ লক্ষ্ মানুষই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যাও প্রায় চার লক্ষ। তাই কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে কোন মহামারী-ই কখোনো মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে

থামাতে পারেনি, সৃষ্টিকর্তার করুণায় হয়তো আর কিছুদিনের মধ্যেই আমরা পরাজিত করবো কোভিড-১৯। আর একটা বিষয় হলো বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯ কে মহামারী ঘোষণা করেছে ১১ মার্চ ২০২০। কতটি দেশ আক্রান্ত এই প্রশ্নের উত্তর এক এক মাধ্যমে এক এক রকম দেখা যাওয়ার মূল কারণ হলো দেশগুলোর শ্রেণীবিভাগ। বিভিন্ন সূচকে দেশের সংখ্যা বিভিন্ন রকম হওয়াই এর মূল কারণ। এখানে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অনেক সূচকেই অনেক দেশ একেক জায়গায় এক এক রকম স্টাটাস ভোগ করে, তাই বিভিন্ন মাধ্যমে এ সংখ্যার হেরফের দেখা যায়। তবে একটু খোঁজ খবর রাখলেই দেখা যায় পৃথিবী গ্রহের মোটামুটি সব প্রান্তেই করোনা বিস্তার লাভ করেছে। জীবন জীবিকা সংক্রান্ত প্রতিটি খাত করোনার প্রভাবে আক্রান্ত। এমন কি একটি মুহূর্তেও স্থির থাকছে না করোনা পরিসংখ্যান। ঠিক যেই মুহূর্তে আমরা একটা পরিসংখ্যান এর কথা বলবো, তার পরের মুহূর্তেই আমাদেরকে মিথ্যা প্রমাণিত করে বেড়ে যাচ্ছে করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু এমন কি সুস্থ হওয়ার সংখ্যা। ঠিক যেই মুহূর্তে নিজেকে জ্ঞানী প্রমাণিত করার জন্য এই লেখাটা লিখছি তখন ওয়ার্ল্ডোমিটারে বিশ্বব্যপী আক্রান্তের সংখ্যা ৭৩ লক্ষের অধিক, এবং মৃত্যু ৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। ভয়াবহতার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। মৃত্যুর হার শুরুর দিকে যেখানে ২-৩ শতাংশ ছিল সেটা ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, খুব শীঘ্রই এই সংখ্যা কমবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন না। আক্রান্তের সংখ্যায় প্রথম তিনটি দেশ আমেরিকা, ব্রাজিল ও রাশিয়া। মৃত্যুর সংখ্যায় আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও ব্রাজিল।

রোগটি বা ভাইরাসটি কতটি ভয়ংকর এটা বোঝার জন্য কয়েকটি ফ্যাক্টর বোঝা কঠিন হলেও একটু ধারণা থাকলে আমরা সহজেই আমাদের সচেতনতা ও আশেপাশের মানুষগুলোর সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারি। কেননা যেখানে জ্ঞান-বিজ্ঞান, চিকিৎসা, চিকিৎসক সবাই দিশেহারা সেখানে আমাদের যার যার জায়গা থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে নিশ্চিতভাবেই অবদান রাখবে। বলা হচ্ছে কয়েকটি সূচক এই মহামারীর তীব্রতা বুঝতে সাহায্য করবে, একটি হলো এর ট্রান্সমিশন রেট অপরটি হলো কেস ফ্যাটালিটি রেট। সহজ কথায় ট্রান্সমিশন রেট হলো একজন আক্রান্ত ব্যক্তি আনুমানিক কতজন সুস্থ মানুষকে আক্রান্ত করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আপনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা যদি আপনি সহ চারজন হয়ে থাকে আর ট্রান্সমিশন রেট যদি ৩ হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে দ্বারা আপনার পরিবারের বাকি তিনজনের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা নিশ্চিতভাবেই প্রবল। করোনার ক্ষেত্রে এই নাম্বারটি বিভিন্ন গবেষণায় বিশ্বব্যপী প্রায় ৪ জন পর্যন্ত এসেছে এবং কোন গবেষণাতেই তা ২ জনের কম নয়। বলা হয় যে একটি রোগের বিস্তার আস্তে আস্তে কমে আসে যদি তার ট্রান্সমিশন রেট ১ এর নিচে হয়। অর্থাৎ খুব শীঘ্রই করোনা বিদায় নেবে এটা বলা কঠিন।

আর একটি সংখ্যা হলো কেস ফ্যাটালিটি রেট, যেটাকে সহজ বাংলায় বললে আক্রান্তের মধ্যে মৃত্যু হারকে বুঝায়। কোভিড-১৯ নিয়ে তো একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে ভবিষ্যৎ বাণী করার মত জ্ঞান আমার থাকার কথা না তাই এ বিষয়ে https://www.livescience.com/covid-19-pandemic-vs-swine-flu.html প্রকাশিত নিচের বক্তব্যটি আমলে নেয়া যেতে পারে।

“The 2009 H1N1 (সোয়াইন ফ্লু) pandemic should have been a warning sign,” said Steffanie Strathdee, the Associate Dean of Global Health Sciences at the Universitz of California San Diego’s Department of Medicine. “It didn’t end up being a pandemic that killed millions of people as we feared it would, but it should have been a wake-up call. Bz all serious estimates, COVID-19 is going to be a major killer.”

করোনা বাংলাদেশ পরিস্থিতি

উন্নত বিশ্বগুলোর মত আমাদের স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ততটা শক্তিশালী না। থাকার কথাও না, এটি একটি ব্যয়বহুল ব্যবস্থা, উন্নয়নের সকল সূচকের মান ঊর্ধে তুলে ধরতে পুরো দেশ, জাতি, সরকার যখন দিন রাত পরিশ্রম করছে ঠিক এরকম সময়ে আঘাত হানলো করোনা। তাই আজ থেকে ২০ বছর পরে হলেও আমরা এতটা অসহায় হয়তো হতাম না। আন্তরিকতার কোন অভাব কোন মহলেই নেই, সবাই রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে করোনার বিরুদ্ধে। আজকে পর্যন্ত আক্রান্ত, সুস্থতা ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে যদি দেখি তাহলে বাংলাদেশে সুস্থতার হার ২১.২৪ শতাংশ। এবং মৃত্যুর হার ১.৩৫ শতাংশ। মৃত্যুর হার কম হলেও প্রতিদিন বেশ কিছু লোকের মৃত্যু হচ্ছে করোনার উপসর্গ নিয়ে যারা রিপোর্টিং এর বাইরে থেকে যাচ্ছে, প্রকৃত সংখ্যা হয়তো আরেকটু বেশিই হবে, কিন্তু স্থাপিত ৬১টি ল্যাবে প্রতিদিন আমাদের টেস্টের সংখ্যা এক্ষেত্রে সংখ্যা না বলে সামর্থ বলা যেতে পারে, ততটা বেশি না যতটা উন্নত দেশগুলোতে। প্রতি মিলিয়ন জনসংখ্যায় টেস্টের সংখ্যা আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় যেখানে যথাক্রমে ৬৬৯২২, ৮৩৫৭১, ১৯১২০ সেখানে আমাদের দেশে ২৫৪৬, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ৩৬৭০। ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চের (আইইডিসিআর) অন্যতম উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন কিছুদিন আগে গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছিলেন কোভিড-১৯ ভিকটিম সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে প্রকৃত অবস্থা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বেশি। আমরা হয়তো উন্নয়নের অনেক সূচকে বিশ্বের অনেক দেশের থেকে এগিয়ে তারপরও যত তাড়াতাড়ি বাস্তবতা মেনে নিয়ে আমরা সচেতন হবো ততই আমাদের মঙ্গল, তাই নিজের স্বার্থে, মাতৃভূমির স্বার্থে আমাদের বাস্তবতার নিরীখে আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন। যেখানে বাতাস বিষাক্ত সেখানে দম যত কম নেয়া যায় ততই ভালো, অর্থাৎ ঘরে থাকুন নিরাপদ থাকুন এর বিকল্প নেই।

করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো এখন আর কারো অজানা নয়, সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো কর্তৃক জারীকৃত প্রতিটি নির্দেশনা, গণমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত বিশেষজ্ঞদের মতামত মেনে না চলার মত বোকামি করার মত সময় আমরা পার করে এসেছি, এখন ব্যপারটা এমন যে এখন আর সচেতন হবার মত সময়ও নেই। এখন সময় করোনা থেকে দ্বিগুণ গতিতে পালিয়ে বেড়ানোর। অবশ্যই একা নয়, নিয়ম মেনে সবাইকে সাথে নিয়ে। নিশ্চয়ই মাতৃভূমির বুকে অবাধ বিচরণের স্বাধীনতা এবারো আমরা ছিনিয়ে আনবো যেমন এনেছিলাম ১৯৭১ এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তবে এবার আমাদের অস্ত্র আমাদের সচেতনতা, মনোবল আর অদম্য প্রাণশক্তি আর নেতৃত্বে দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

লেখক : পুলিশ কমিশনার

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x