ই-পেপার

ডা. মেহেদী হাসান

আজ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ কারণে আামাদের দেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দিনে দিনে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে দেশে। দেশের এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন ডাক্তার, প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ নানান সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এরিমধ্যে আপনার কি কোভিড-১৯ পজেটিভ হওয়ার পর চিকিৎসায় নেগেটিভে আসছে? তাহলে সুস্থ থাকতে বিশেষ পরামর্শ থাকবে আপনার জন্য

অনুশীলনের অন্তর্ভুক্ত

যেমন- শ্বাস প্রশ্বাস ব্যায়াম করা। উন্মুক্তভাবে নিঃশ্বাস বুক ফুলিয়ে লম্ব টান দিয়ে গ্রহণ করে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ছেড়ে দেওয়া। এভাবে ৮ থেকে ১০ বার। দিনে ৪ থেকে ৫ বার করতে হবে।

নিয়মমিত হাঁটা

দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার পর পেশী ক্ষতি হ্রাস করতে। নিয়মমিত হাঁটা “আমরা রোগীদের হাঁটতে উৎসাহিত করি, এমনকি বাড়িতে

থাকলেও। যেমন হাঁটা সামগ্রিক অবস্থার উন্নতি করতে পারে। প্রথম সপ্তাহে ৫ মিনিট করে প্রতিদিন পাঁচ বার। দ্বিতীয় সপ্তাহে ১০ মিনিট করে দিনে তিনবার। এবং তৃতীয় সপ্তাহে ১৫ মিনিট, দিনে দু’বার হাঁটতে হবে।

সোজা হয়ে বসে

সারাদিন যতটা সম্ভব সোজা হয়ে বসে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সাইকোলজিক্যাল সমস্যার সমাধান

কোভিড-১৯ রোগ যে শুধু রোগীর শারীরিক সমস্যার করে তা নয়, এটা রোগিকে ব্যাপক মানসিক ও সামাজিক ভাবে বিপদগ্রস্ত করে ফেলে। ফলে রোগী সুস্থ হওয়ার পরেও দেখা যায় লোক লজ্জার ভয়ে কখনো কখনো মানুষে কটু কথার ভয়ে, রোগীর মনে একটা ভয় কাজ করে। তখন সে আইসোলেশনের মতো একা থাকতে চায়। এবং নিজেকে একা করে ফেলে। এতে রোগীর সাইকোলজিক্যাল সমস্যা দিন দিন বাড়তে পারে। ফলে রোগীর আত্মিয় স্বজনদের উচিত রোগীকে সাহস জোগানো এবং রোগীকে দূরে নয় বরং একত্রে পরিবারের সাথে পূর্বের মতো থাকতে সাহায্য করা। এবং এ সময় রোগী হতাশাগ্রস্ত না হয়ে ইলেকট্রিক মিডিয়া বলতে ফেসবুক, imo, messenger, whatsApp, YouTube ব্যবহার করে নিজের মনকে আনন্দের ভিতর রাখা। কেননা কোভিড-১৯ কোন ক্যান্সার বা HIV মতো কোন মারাত্মক রোগ নয়। মনে রাখতে হবে কোভিড-১৯ সামাজিক দূরাত্ব ও চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ভালো হয়। এতে ভয়ের কিছু নেই।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে

এ সময় “ভিটামিন সি” বেশি করে খেতে হবে (কমলা, মাল্টা, লেবু) এবং সাথে কালোজিরা, মধু খেতে হবে। প্রতিদিন সকালে গরম পানির ভাপ নিতে হবে ১০ মিনিট করে প্রতিদিন ৫-৬ বার। হালকা কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে গরগর করতে হবে দিনে ৪-৫ বার। পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে (৬-৭ ঘন্টার বেশি)। বেশি বেশি করে শাকসবজি, বাদাম এবং এন্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত চর্বিযুক্ত খাবার যেমনঃ অলিভ অয়েল, ওমেগা-৩, ফ্যাটি এসিড, কড লিভার ওয়েল খেতে হবে। বেশি করে Fermented foods অথবা probiotic supplements সেবন করতে হবে। পরিমাণ মতো শর্করাযুক্ত খাবার খেতে হবে। সহনীয় ব্যায়ামের মাধ্যমে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্ট্রেস লেভেল ম্যানেজ করতে হবে। ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, জিংক, আদা, রসুন সেবন করতে হবে। নিয়মমিত নামাজ কালাম এবং রোগী তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করলে মন মানসিকতা পরিষ্কার থাকে। ফলে টেনশন ফ্রি থাকলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নিউজিল্যান্ড, ভূটান করোনা নির্মূল করেছে। সরকারের সাথে মিলে সেদেশের মানুষ কাজ করেছে। আমরাও পারব। সেজন্যে সবাই সচেতন থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মানুন। ঘরে থাকুন। ভালো থাকুন।

লেখক : চিকিৎসক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x