ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ডা. ফাহমিদা সুলতানা

দেশে চলছে কোভিড টিকা নেওয়ার উৎসব। নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বত্র টিকা প্রদান করা হচ্ছে এবং দলে দলে লোক টিকা গ্রহণ করতে ভিড় জমাচ্ছে টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে। টিকা গ্রহণের ছবি বা সেলফি দিয়ে ভরে উঠছে ফেসবুকের টাইমলাইন। এতকিছুর পরেও টিকা নিয়ে কিছু মানুষের দ্বিধা-দ্বন্ধ বা উৎকন্ঠা রয়েই গেছে।

আসুন জেনে নিই, টিকা সংক্রান্ত কিছু তথ্য-

আমাদের দেশে যে টিকাটি দেওয়া হচ্ছে সেটি অক্সফোর্ড/এস্ট্রাজেনেকা কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন (অতউ১২২২)। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্ট্র্যাটেজিক এডভাইজারি গ্রুপ অব এক্সপার্টস অন ইমিউনাইজেশন (ঝঅএঊ) কর্তৃক অনুমোদিত। টিকাটি তৈরি করেছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট।

বর্তমানে কাদের দেওয়া হচ্ছে টিকা?

প্রথম দফায় টিকার চালান সীমিত থাকার কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে সকল সম্মুখসারির যোদ্ধাদের যেমন, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী, সাংবাদিক, ব্যাংককর্মী ইত্যাদি। এছাড়া শিক্ষক এবং স্কুলকর্মী, মুক্তিযাদ্ধাসহ চল্লিশোর্ধ্ব সকল নাগরিককে টিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অসুস্থতা থাকলে কি নিতে পারবে টিকা?

যেকোনো কো-মরবিডিটি থাকলে টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। যেমন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থুলতা, হার্টের সমস্যা, ফুসফুসের সমস্যা ইত্যাদি। শুধু শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো তীব্র সমস্যা অর্থাৎ হাসপাতালে ভর্তি বা ভর্তির উপযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া সবাই নিতে পারবে এই টিকা।

দুগ্ধদানকারী বা ল্যাকটেটিং মা কি নিতে পারবে টিকা?

উপরে উল্লিখিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ল্যাকটেটিং মায়েরা (যেমন-স্বাস্থ্যকর্মী, যাদের কো-মরবিডিটি আছে ইত্যাদি) নিতে পারবে এই টিকা। এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে টিকা দেওয়ার পরে দুগ্ধদান বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।

গর্ভবতী মায়েরা কি নিতে পারবে টিকা?

গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে যথেষ্ট গবেষণালব্ধ তথ্য না থাকায় সুবিধা-অসুবিধার অনুপাত দেখে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে টিকা।

কারা টিকা নিতে পারবেনা?

১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স এবং যাদের টিকার কোনো একটি উপাদানে এলার্জি আছে তারা টিকা গ্রহণ করতে পারবে না।

কোথায় এবং কিভাবে দেওয়া হচ্ছে টিকা?

সুরক্ষা নামক ওয়েবসাইটে নিজের এনআইডি নাম্বার এবং জন্মতারিখ দিয়ে টিকার জন্য নিবন্ধন করে অপেক্ষা করবেন। ফোনে জানিয়ে দেওয়া হবে আপনার টিকা গ্রহণের তারিখ। আপনার নিকটস্থ আপনার সিলেকশন করা টিকাকেন্দ্রে গিয়ে নির্দিষ্ট দিনে দিয়ে আসবেন টিকা। দেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র টিকাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।  ০.৫ মিলির টিকা দেওয়া হচ্ছে বাম বাহুর মাংসপেশিতে। এটি পুশ করার সময় কোনো ব্যথা অনুভব করবেন না। একটি ভায়াল থেকে মোট দশ জনের টিকা প্রদান করা যায়। সুতরাং, দশ জন একত্রিত হওয়া পর্যন্ত আপনাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হতে পারে।

মোবাইলে মেসেজ আসতে দেরি হলে কি করবেন?

নিবন্ধনের পর মোবাইলে মেসেজ আসতে দেরি হলে আপনার নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে গিয়ে যেকোনো দিন টিকা দিয়ে নিতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে আপনার টিকাদান সংক্রান্ত তথ্য সার্ভারে ঠিকমতো উঠছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা টিকার সনদ পেতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

টিকার দ্বিতীয় ডোজ কখন নিতে হবে?

প্রথম ডোজের ৮ সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহের মধ্যে এটি নেওয়া যেতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন আছে।

টিকার কার্যকারিতা কত?

এ পর্যন্ত জানা তথ্যমতে উপসর্গজনিত কোভিড সুরক্ষায় এই টিকার কার্যকারিতা ৬৩.০৯%। দুই ডোজ সমাপ্ত করলে অবশ্যই টিকার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।

কেন নিবেন টিকা?

এটি আপনাকে রোগের ভয়ংকর উপসর্গ থেকে সুরক্ষা দেবে। এছাড়া পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ কাজে যেমন, বিদেশ গমন বা চিকিৎসা সংক্রান্ত ভাইটাল ক্ষেত্রগুলোতে টিকার সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি হতে পারে?

টিকা গ্রহণের পর কারো কারো ক্ষেত্রে সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন- হাল্কা জ্বর, গা ব্যথা, মাথাব্যথা, টিকাদানস্থলে ব্যথা ইত্যাদি। তবে এটি খুবই ক্ষণস্থায়ী। ব্যথা হলে সাধারণ প্যারাসিটামলই যথেষ্ট।

টিকার পরে কি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে পাব?

সত্যি বলতে কি, টিকা নিয়ে এখনও আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে। যতদিন না এ সংক্রান্ত পূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা, ভিড় এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা ইত্যাদি স্বাস্থ্যবিধিসমূহ মেনে চলতে হবে।

টিকা নিন, সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে মহামারির ভয়াবহতা পাশ কাটিয়ে আমরা ফিরে পাব আমাদের পূর্বের সেই স্বাভাবিক জীবনধারা।

 

লেখক : এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)

  সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝুমঝুমপুর, যশোর

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *