ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ডিটেকটিভ ডেস্ক

যে শহরের বাসিন্দারা অফিসে যান বিমানে

শহরে বসবাসরত সবার বাড়িতেই বিমান আছে। তা দিয়ে কেউ যাচ্ছেন কাজে। কেউবা মনকে হালকা করতে বেরিয়ে পড়ছেন বিমান নিয়ে। এ এমন এক শহর যেখানে অলিগলি, ছোট-বড় রাস্তা বলে কিছুই নেই। একটাই পথ- তার পুরোটাই রানওয়ে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত এই শহরটির নাম ক্যামেরন পার্ক। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এই এলাকা আসলে মার্কিন সরকারের নথিভুক্ত কোনো শহর হয়। সবাই একে ফ্লাই-ইন রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিটি হিসেবেই চিনে। সোজা কথায় এটি একটি এয়ারপার্ক। এই ধরনের কমিউনিটি মূলত বিমানপোতে গড়ে ওঠে।

বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, শহরকে দুই ভাগে ভাগ করে একটি রানওয়ে। বিমান অনায়াসে সেখানে ওঠানামা করতে পারে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের বহু বিমানপোত অকেজো হয়ে পড়েছিল। একইসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত পাইলটের সংখ্যাও ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছিলো। পাইলটের সংখ্যা ১৯৩৯ সালে ৩৪ হাজার থেকে বেড়ে ১৯৪৬-এ চার লাখে গিয়ে ঠেকে।

যুদ্ধে অংশ নেওয়া অবসরপ্রাপ্ত পাইলটদের আরামের অবসর দিতেই ফ্লাই-ইন রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ অকেজো বিমানপোতগুলো ঠিক করে অবসরপ্রাপ্ত বিমানচালকদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। চেনা-পরিচিত পরিবেশে থাকতে পাইলটদের ভালো লাগবে, এই ধারণা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

১৯৬৩ সালে সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছিলো পার্কটি। একসময় নাম ছিলো ক্যামেরন পার্ক এয়ারপোর্ট। সেই নাম বদলে হয় ক্যামেরন পার্ক এয়ারপার্ক। শহরের প্রতিটি পরিবারেরই কোনো না কোনো সদস্য একসময় পাইলট বা বিমানচালক ছিলেন।

জানা যায়, বিশ্বে এমন ফ্লাই-ইন কমিউনিটি রয়েছে ৬৪০টি। তার মধ্যে ৬১০টিই যুক্তরাষ্ট্রে। ক্যামেরন পার্ক এয়ারপার্কে হাতে গোনা ১২৪টি বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে ২০টি বাড়ি ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

সেই সব বাড়ি সস্তায় বেছেও দিচ্ছেন অনেকে। ফেব্রুয়ারি মাসেই এমন একটি বাড়ির বিজ্ঞাপন প্রকাশ্যে আসে। ইন্টারনেটে দেওয়া সেই বিজ্ঞাপনে প্লেনের হ্যাঙ্গারসহ বাড়িটির দাম চাওয়া হয়েছিল মাত্র ছয় লাখ ৮৫ হাজার ডলার!

তবে ক্যামেরন পার্কের অধিকাংশ বাসিন্দা আরামেই আছেন। ছোট্ট শহর এ সুবিধার কমতি নেই। স্কুল, বাজার, হাসপাতাল, এমনকি শপিংমলও রয়েছে। আর যদি কিছু না পাওয়া যায় তা হলেই বা চিন্তা কীসের। প্লেনে চড়ে কাছের শহরে চলে যাওয়া তো মিনিট কয়েকের ব্যাপার মাত্র!

কাচে ধাক্কা খেয়ে ৩০০ পাখির মৃত্যু

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থিত নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ভবনের কাচের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩০০ অভিবাসী পাখির। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবনটির নিচে পড়ে থাকা পাখিগুলোর মৃতদেহের ছবি পোস্ট করেছেন নিউ ইয়র্ক সিটি অদুবন নামের এক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা।

সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, নিউ ইয়র্কের বহুতল ভবনগুলোর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বছরের পর বছর বহু পাখি মারা যাচ্ছে। তবে চলতি সপ্তাহে পাখি মারা যাওয়ার সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

অদুবনের সহযোগী পরিচালক কাইটলিকন পারকিনস জানান, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে পাখিদের মারা যাওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অনেক বড় ঝড় ও বাজে আবহাওয়া ছিলো কিছুদিন আগে। এর কারণে জানালার সঙ্গে পাখির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ঝড়ের কারণে পাখিরা নিচু দিয়ে উড়তে বাধ্য হয়েছে কিংবা তারা বিভ্রান্ত হয়েছিল। এছাড়া নৈশকালীন আলোর প্রভাবও পাখির ওপর অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে মেঘাচ্ছন্ন রাতে।’

মেলিসা ব্রিয়ার নামের এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, তিনি নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ভবনগুলোর আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ পাখির মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। ভবনগুলোর উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম প্রান্ত এবং ফুটপাতগুলোতে পাখির মৃতদেহগুলো পড়েছিল।

৪০০ বছরের পুরনো উৎসবে পিটিয়ে মারা হয় ডলফিন

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জ ফ্যারো। স্বশাসিত অঞ্চলটি বর্তমানে ডেনমার্কের অধীনে। দ্বীপপুঞ্জটিতে ৪০০ বছরের এক পুরনো উৎসব পালন করা হয়। সেখানে পিটিয়ে মারা হয় ডলফিন এক প্রতিবেদনে এই উৎসব সম্পর্কে জানিয়েছে জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে।

জানা যায়, সম্প্রতি প্রায় এক হাজার ডলফিনকে হত্যা করা হয়েছে। এই শিকার উৎসবের নাম হলো গ্রিন্ডাড্র্যাপ। কিন্তু সাম্প্রতিক উৎসবে এত ডলফিন মারা হয়েছে যে, এই দ্বীপের ভাবমূর্তিতে প্রবল আঘাত লেগেছে।

ঘটনার পর পরিবেশ বিজ্ঞানী, সমুদ্র ও ডলফিনের জীবনচক্র নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই নির্বিচারে প্রাণী হত্যার তীব্র নিন্দা করেছেন। অবিলম্বে তারা এই প্রথা বন্ধের দাবি তুলেছেন।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থা সি শেফার্ড ফেসবুকে এক পোস্ট করে জানিয়েছে, এক হাজার ৪২৮টি ডলফিন মারা হয়েছে। এই ডলফিনগুলোর একপাশ সাদা। এই দ্বীপপুঞ্জে এর আগে কখনো এত ডলফিন হত্যা করা হয়নি।

এছাড়া সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা ওশেন কেয়ার জানিয়েছে, যেভাবে প্রাণী হত্যা করা হয়েছে- তা মানা যায় না। সব সীমারেখা তারা পার করেছে।

জানা যায়, এই দ্বীপপুঞ্জের মানুষ প্রতিবছর এক হাজারের মতো সামুদ্রিক প্রাণী মারেন! গতবার তারা ৩৫টি ডলফিন মেরেছিলেন!

গ্রিন্ডাড্র্যাপ নামে এই শিকার উৎসবে বহু মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন গোষ্ঠী নৌকায় করে ডলফিন ও পাইলট তিমিকে তাড়িয়ে তীরের দিকে নিয়ে আসে। এরকমই একটি সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান বলেছেন, এই বছর বেশি প্রাণী হত্যা হয়েছে। তাই তিনি নিজেকে এর থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

পাইলট তিমি বা একদিকে সাদা রঙের ডলফিন বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত নয়। তা সত্ত্বেও এত প্রাণী কেন মারা হবে, সেই প্রশ্ন তুলছে সবাই।

মালিতে এক নারীর একসঙ্গে নয়টি সন্তান প্রসবের বিরল ঘটনা

পশ্চিম আফ্রিকার মালির ২৫ বছর বয়সী এক নারী একসঙ্গে নয়টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ডাক্তাররা ধরে নিয়েছিলেন তিনি সাতটি সন্তান প্রসব করতে যাচ্ছেন, কারণ তার স্ক্যান পরীক্ষায় তেমনটিই ধরা পড়েছিল।

হালিমা সিসে তার সন্তান প্রসব করেছেন মরক্কোয়- পাঁচ কন্যা এবং চার পুত্র। বিশেষ তত্ত্বাবধানে সন্তান প্রসবের জন্য মালির সরকার তাকে মরক্কোয় পাঠিয়েছিল।

‘আমি খুবই খুশি,’ বিবিসিকে বলেন হালিমার স্বামী। ‘আমার স্ত্রী এবং বাচ্চারা সবাই ভালো আছে।’

আমেরিকার একজন নারী ২০০৯ সালে একসঙ্গে আটটি শিশুর জন্ম দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড-এ নাম উঠিয়েছিলেন। একসাথে সর্বাধিক সংখ্যক জীবিত শিশুর জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে এতদিন এটাই ছিল গিনেসে নথিভুক্ত বিশ্বরেকর্ড।

এর আগেও একসঙ্গে নয়টি শিশু প্রসবের ঘটনা নথিভুক্ত হয়- একটি অস্ট্রেলিয়ায় ১৯৭১ সালে এবং অন্যটি মালয়েশিয়ায় ১৯৯৯ সালে। কিন্তু দুটি ক্ষেত্রেই সব কয়টি শিশু কয়েকদিনের মধ্যেই মারা যায়।

আমেরিকার মা নাদিয়া সুলেমানের আট সন্তান এখন বড় হয়েছে। তাদের বয়স ১২। তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন আইভিএফ বা ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের মাধ্যমে।

মালির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফান্টা সিবি এই ‘আনন্দময় ফলাফলের’ জন্য মালি এবং মরক্কোর চিকিৎসক দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

হালিমা সিসে তার শিশুদের জন্ম দিয়েছেন মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কায় যে আইন বর্জা ক্লিনিকে, তার মেডিকেল পরিচালক অধ্যাপক ইউসেফ আলাউয়ি এএফপি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন এটি ‘অতি বিরল ঘটনা, খুবই অভিনব’- পূর্ণতা না পাওয়া শিশুগুলোর প্রসবে সেখানে সাহায্য করেছেন ১০ জন ডাক্তার এবং ২৫ জন প্যারামেডিক বা সহযোগীদের একটি দল।

একেকটি শিশুর ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজির ভেতর। তাদের এখন ‘দুই-তিন মাস’ ইনকিউবেটরের ভেতর রেখে বড় করা হবে।

নয় শিশুর বাবা বলেছেন, তার পরিবার এই শিশুদের জন্মদানের ব্যাপারে যে ধরনের সহায়তা পেয়েছে, তাতে তারা মুগ্ধ।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *