ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ডিটেকটিভ ডেস্ক

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের প্রতিটি থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সার্ভিস ডেস্ক এবং গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া বাংলাদেশ পুলিশের মহতী উদ্যোগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ১০ এপ্রিল ২০২২ ভার্চ্যুয়ালি থানায় থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সার্ভিস ডেস্ক ও গৃহহীনদের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের নির্মিত গৃহ হস্তান্তরের উদ্বোধনের সময় এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ প্রান্ত থেকে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আক্তার হোসেনসহ বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনস্, পীরগঞ্জ থানা এবং মাগুরা সদর থানা সরাসরি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিল। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের সব থানা ও সব পুলিশ লাইনস্ প্রান্ত ওয়ানওয়ে সংযুক্ত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছে। অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদতবরণ করা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, জাতীয় চার নেতা, করোনা মহামারিতে দায়িত্ব পালন করার সময় জীবন উৎসর্গ করা পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতার হত্যার পর বাংলাদেশের সব অগ্রযাত্রা থেমে গিয়েছিল। স্বাধীনতার আদর্শ থেকে বাংলাদেশ বিচ্যুত হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ আবার তার পথে ফেরে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে ঘোষণা করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়ক হিসেবে পুলিশ গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৫১৯টি থানায় ৫২০টি গৃহ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কাল ৪০০টি গৃহ হস্তান্তর করা হবে। ৪১৫ বর্গফুট আয়তনের দৃষ্টিনন্দন প্রতিটি গৃহ পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। গৃহহীন পরিবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত, প্রতিবন্ধী ও উপার্জনে অক্ষম, অতিবৃদ্ধ ও পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্য নেই, এমন পরিবার অথবা অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে বছরব্যাপী নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল পুলিশ। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সেসব পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় কিছু অর্থ বেঁচে যায়। সেই অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আবাসন কার্যক্রমে শামিল হয় বাংলাদেশ পুলিশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি থানায় স্থাপন করা হয়েছে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক। দেশের ৬৫৯টি থানায় একটি বিশেষ কক্ষ নির্মাণ অথবা প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সার্ভিস ডেস্ক পরিচালনার জন্য একজন সাব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করা হয়েছে। সার্ভিস ডেস্ক কর্মকর্তা থানায় আগত নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সমস্যা মনোযোগসহকারে শুনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করে থাকেন। মুজিববর্ষের সূচনালগ্ন ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে সার্ভিস ডেস্ক পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৭৬ জন নারী, ৩২ হাজার ২৮৬ জন শিশু, ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩২৫ জন পুরুষ এবং ১১ হাজার ৮১ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মোট ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৬৮ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে এই ডেস্ক থেকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে পুলিশের অবদান অনেক বেশি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের আক্রমণই শুরু হয়েছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্-এ। বাঙালি পুলিশ সদস্যরা অকুতোভয় প্রতিরোধ গড়েছিলেন সে সময়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তা প্রতিটি থানায় পৌঁছার পর বাংলাদেশ পুলিশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়। জাতির পিতার যে আকাঙ্কা ছিল, বাংলাদেশ পুলিশ হবে জনগণের পুলিশ, সেই আকাঙ্কা পূরণ করতে হবে।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *