ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

শামস্ নূর

তাঁর ছদ্মবেশ। তিনি মূলত কেজিবির হয়ে কাজ করতেন, ছিলেন সংস্থাটির মেজর। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসবাস করেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯৩ সালে তিনি স্থায়ীভাবে দেশটিতে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও পান তিনি। ৬৭ বছর বয়সি ইউরি শভেৎস বর্তমানে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা তদন্তকারী হিসেবে কাজ করছেন। ইউরির বরাত দিয়ে মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক ক্রেগ আঙ্গার লিখেছেন একটি বই; নাম আমেরিকান কমপ্রোম্যাট। বইটিতে ওঠে এসেছে ট্রাম্পের হাঁড়ির খবর।

ভার্জিনিয়া থেকে টেলিফোনে ইউরি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে বলেন, কেজিবি গোয়েন্দাদের একটি কৌশল ছিল সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী অথবা তরুণদের লক্ষ্যবস্তু বানানো। একসময় এই তরুণেরাই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছান। ট্রাম্পের বিষয়টি এই কৌশলেরই একটি উদাহরণ।

চেক মডেল ইভানা জেলনিকোভা ছিলেন ট্রাম্পের প্রথম স্ত্রী। আমেরিকান কমপ্রোম্যাট বইতে মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ার-এর সাবেক কন্ট্রিবিউটিং এডিটর ক্রেগ আঙ্গার লিখেছেন, ট্রাম্প রুশ গোয়েন্দাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার পর চেকস্লোভাকিয়া ও কেজিবি পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে তাঁকে নিয়ে কাজ শুরু করে। ১৯৭৭ সালে প্রথম বিয়ের তিন বছর পর ট্রাম্প তাঁর আবাসন ব্যবসায় প্রথম বড় কাজে হাত দেন। নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনের কাছে তাঁর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে গ্র্যান্ড হায়াত নিউইয়র্ক হোটেল। এই হোটেলের জন্য সেমইয়ন কিসলিন নামের এক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০টি টেলিভিশন সেট কিনেছিলেন ট্রাম্প। রুশ নাগরিক কিসলিন তখন নিউইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউর জয়-লুড ইলেকট্রনিকসের মালিকদের একজন ছিলেন।

১৯৮৭ সালে ট্রাম্প ও ইভানা প্রথমবারের মতো মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গ ভ্রমণ করেন। ইউরি শভেৎসের দাবি, সেখানে কেজিবির গোয়েন্দাদের কথার জাদুতে মজে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই গোয়েন্দারাই প্রথম তাঁর মাথায় রাজনীতির বুদ্ধিটা ঢুকিয়ে দেয়।

ইউরি শভেৎসের দাবি, জয়-লুড নিয়ন্ত্রণ করতেন কেজিবি। আর কিসলিন ছিলেন এই গোয়েন্দা সংস্থার স্থানীয় এজেন্ট। তাঁর কাজ ছিল কেজিবির টোপ গিলতে পারে এমন মানুষ শনাক্ত করা। উদীয়মান তরুণ ব্যবসায়ী ট্রাম্পকে কিসলিনই শনাক্ত করেছিলেন। কেজিবিও তাঁকে সম্ভাবনাময় বলে মেনে নিয়েছিল। তবে কিসলিন কেজিবির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯৮৭ সালে ট্রাম্প ও ইভানা প্রথমবারের মতো মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গ ভ্রমণ করেন। ইউরি শভেৎসের দাবি, সেখানে কেজিবির গোয়েন্দাদের কথার জাদুতে মজে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই গোয়েন্দারাই প্রথম তাঁর মাথায় রাজনীতির বুদ্ধিটা ঢুকিয়ে দেয়।

কেজিবির সাবেক মেজর ইউরি শভেৎস স্মৃতি হাতড়ে বলেন, ‘কেজিবি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করেছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে ট্রাম্প অত্যন্ত নাজুক ছিলেন। তিনি তোষামোদ পছন্দ করতেন। এই বিষয়টিই কাজে লাগায় কেজিবি। গোয়েন্দারা এমন একটা ভাব ধরলেন, যেন ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া উচিত। তাঁর মতো মানুষেরাই বিশ্বটাকে বদলে দিতে পারেন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, কেজিবির এই খেলায় ট্রাম্প এতটাই মজে গিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেই রিপাবলিকান পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা শুরু করলেন। এমনকি নিউ হ্যাম্পশায়ারে পোর্টসমাউথে তিনি একটি সমাবেশও করলেন। ১৯৮৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও বোস্টন গ্লোব-এর মতো সংবাদপত্রে পুরো পাতায় বিজ্ঞাপন দিলেন। এই বিজ্ঞাপনে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি নিয়ে নিজের অভিমত তুলে ধরেন। এ ছাড়া এতে জাপানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে শোষণের অভিযোগও তোলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোয় যুক্তরাষ্ট্রের থাকা নিয়েও দ্বিমত পোষণ করেন।

ট্রাম্প ছিলেন একটা সম্পদ। তবে বিষয়টা এমন নয় যে কেজিবি তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আমরা এই লোককে গড়ে তুলব এবং ৪০ বছর পর তিনি প্রেসিডেন্ট হবেন। আশির দশকের যে সময় বিষয়টি শুরু হয়েছিল, তখন কেজিবি পাগলাটে লোকদেরই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছিল এবং ট্রাম্পের মতো আরও অনেকের পেছনেই ছুটছিল তারা। ক্রেগ আঙ্গার, ‘আমেরিকান কমপ্রোম্যাট’ বইয়ের রচয়িতা ওই বিজ্ঞাপন প্রকাশের কিছুদিন পর কেজিবির সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইউরি শভেৎস দেশে ফিরে যান। এর পরপরই তিনি কেজিবির ফার্স্ট চিফ ডিরেক্টরেটের সদর দপ্তরে যান। বিদেশের মাটিতে গোয়েন্দা কর্মকা- পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের দায়িত্ব ছিল এই দপ্তরের ওপর। সেখানেই ইউরি একটি গোপন তার বার্তা পান, যাতে ট্রাম্পের বিজ্ঞাপন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়।

ইউরির ভাষ্যমতে, ‘ঘটনাটি ছিল অভূতপূর্ব। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। সে সময় আমরা বিশ্বাসই করতে পারিনি যে কেউ নিজের নামে এমন একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে এবং পশ্চিমা দেশটির মানুষেরা তা মেনেও নেবে। কিন্তু ঘটনা সেটাই ঘটেছে। ট্রাম্প ঠিকই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।’

ইউরির বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনে বিজয় মস্কোয় যেন উৎসবের আমেজ তৈরি করেছিল। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট ম্যুলার ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের সঙ্গে রুশ আঁতাতের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেননি। কিন্তু সেন্টার ফর আমেরিকান প্রোগ্রেস অ্যাকশন ফান্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠান ঠিকই নিজেদের অনুসন্ধানে ট্রাম্পের প্রচারশিবির ও অর্ন্তবরতী দলের কমপক্ষে ২৭২ জনের রুশ-সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছিল। এ ছাড়া রুশ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ট্রাম্প শিবিরের বিভিন্ন সদস্যের কমপক্ষে ৩৮টি বৈঠকের তথ্যও তারা পেয়েছে।

কেনিয়ার ‘গোয়েন্দা রানী’

আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার নিজস্ব ভার্সনের জেমস বন্ড চরিত্র রয়েছে। তার নাম জেন মুগো। তাকে কেনিয়ার একমাত্র সেলিব্রেটি বেসরকারি তদন্ত কর্মকর্তা বলা হচ্ছে।

কেনিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুগোর ফলোয়ারের সংখ্যা অনেক। এ পর্যন্ত তিনি শতাধিক মামলার সুরাহা করেছেন নিজস্ব কায়দায়। এ মামলাগুলোর মধ্যে প্রায় অধিকাংশই হত্যা ও অপহরণসংক্রান্ত। এমনকি রাষ্ট্রের হয়েও একাধিক কঠিন মামলার সমাধান করার রেকর্ড রয়েছে তার।

বিবিসিকে নিজের পেশা সম্পর্ক মুগো বলেন, ‘বিশ্বে আমিই একমাত্র নারী যাকে সর্বাধিকসংখ্যক অপরাধী হত্যা করতে চায়। লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমি কাজ থামাই না। আমি আমার কাজে সেরা। আফ্রিকা এবং কেনিয়াতে কেউ আমাকে হারাতে পারে না।’ মুগোকে সবসময় ১০ জন দেহরক্ষী ঘিরে রাখে। এ দেহরক্ষীরাও আবার মুগোরই প্রশিক্ষিত।

কেনিয়াতে মুগো জনপ্রিয় হলেও, একই সঙ্গে বেশ বিতর্কিতও। তার নাম সন্ত্রাসীদের তালিকাতেও উঠেছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেওয়ার একাধিক অভিযোগ আছে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শুরু থেকেই। এ নিয়ে আদালতের শরণাপন্নও হয়েছিলেন তিনি।

কেনিয়ার সাংবাদিক শ্যারন মাচিরা টানা কয়েক মাস মুগো ও তার গোপন জগৎ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর তুলনায় কেনিয়াতেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। সরকারি পুলিশের প্রতি মানুষের কোনো আস্থা না থাকায় বেসরকারি গোয়েন্দাদের চাহিদা অনেক। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মানুষ বেসরকারি গোয়েন্দাদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। বিশ্লেষকদের মতে, কেনিয়ার এ বেসরকারি গোয়েন্দা খাতে বছরে কয়েক মিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়।

২০১৯ সালের শেষের দিকে বিতর্কের শিকার হন মুগো। পুলিশ তার বিরুদ্ধে মৃত্যুর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। কিন্তু কোনো অভিযোগই প্রমাণ করা যায়নি। দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের হয়েও মুগো কাজ করেন। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় তার রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। মাচিরাকে মুগো জানান, তিনি কেনিয়ার কুখ্যাত ৭০ জন অপরাধীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। ফলে তাকে প্রায়ই মৃত্যু হুমকি পেতে হয় বিভিন্ন স্থান থেকে। তাকে ঘিরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতটাই শক্ত যে, তিন বেলা খাওয়ার আগে তার খাবার পরীক্ষা করা হয়, যাতে তিনি বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত না হন।

কাশ্মীরে আবারও দীর্ঘ সুড়ঙ্গের সন্ধান

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) ২৩ জানুয়ারি জম্মু ও কাশ্মীরে একটি দেড় শ মিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ পাওয়ার দাবি করেছে। এটি পাকিস্তানি গোয়েন্দারা ভারতে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহার করে বলে জানিয়েছে তারা। কাশ্মীর সীমান্তে গত ১০ দিনের ভেতর পাওয়া এটা দ্বিতীয় কোনো সুড়ঙ্গ। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত।

বিএসএফের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা গত ২৩ জানুয়ারি জানান, ভারতে জঙ্গি ঢোকাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাটির নিচে একাধিক সুড়ঙ্গ তৈরি করেছে পাকিস্তান। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সুড়ঙ্গের সন্ধানের অভিযানে নামেন তারা। ৩৯ মিটার গভীর সুড়ঙ্গটির অবস্থান কাঠুয়া জেলায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিএসএফ-এর পানসর ঘাঁটির কাছে ১৪ ও ১৫ নম্বর বর্ডার পোস্ট দু’টির মাঝামাঝি। সীমান্তের অন্য প্রান্তে রয়েছে পাকিস্তানের শাকরগড় জেলার আভিয়াল ডোগরা এবং কিংরে-দি-কোঠে সীমান্তঘাঁটি।

ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়, শাকরগড়ে রয়েছে সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবির, যার দায়িত্বে রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের কম্যান্ডার কাশিম জান। এই কাশিম জান ১৯ নভেম্বর জম্মুর নাগ্রোটায় সন্ত্রাসবাদী সংঘর্ষে জড়িত এবং ২০১৬ সালে পাঠানকোটে সেনার বিমানঘাঁটি আক্রমণকা-ে প্রধান অভিযুক্ত। ভারতে জইশ জঙ্গিদের অন্যতম প্রধান নির্দেশকও কাশিম জান। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস্।

বড় দেরি করে আসছেন জেমস বন্ড

ছবিতে তাঁর অ্যাকশন কিংবা দ্রুত সিদ্ধান্তের কথা কে না জানে? রুপালি পর্দার ব্রিটিশ গুপ্তচর জেমস বন্ড তাই ভক্তদের পছন্দের শীর্ষেই থাকেন। কিন্তু ২৫তম বন্ড নিয়ে যে বেজায় বিরক্ত ভক্তরা। এই বন্ড রুপালি পর্দায় আসতে দেরি করতে করতে যেন ক্রমেই ‘মি. লেট’ উপাধি পেতে চলেছেন।

বন্ড সিরিজের পরবর্তী ছবি ‘নো টাইম টুই ডাই’। এই ছবি নিয়ে আলোচনা যেন ফুরোচ্ছেই না। ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বন্ড চরিত্রাভিনেতা ড্যানিয়েল ক্রেগের অভিনয় নিয়ে। তিনি জানান, এটি হতে যাচ্ছে তাঁর অভিনীত ‘বন্ড’ হিসেবে শেষ ছবি। এই ঘোষণার পরে ছবির মুক্তি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। একের পর এক মুক্তির তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় বিরক্ত হয়ে পড়েন ভক্তরাও।

এবার আবার ছবিটি মুক্তির তারিখ পেছানো হয়েছে। চলতি বছরের ৮ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। করোনাকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং লোকসান থেকে বাঁচতে আবারও পেছানো হলো সিনেমাটি মুক্তির তারিখ। জেমস বন্ড অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে নতুন মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে হলিউডকেন্দ্রিক গণমাধ্যমগুলো প্রতিবেদন করেছে।

ইন্ডাস্ট্রিতে মহামারির নেতিবাচক প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে নিঃসন্দেহে রাখা যাবে ‘নো টাইম টু ডাই’-এর মুক্তির তারিখ পেছানোর ব্যাপারটি। ছবিটির মুক্তির তারিখ এতবার পেছানো হয়েছে যে ভক্তরা এই নতুন তারিখ নিয়েও সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। প্রথমবার ঘোষণা হয়েছিল ছবিটি মুক্তি পাবে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে। এরপর করোনার প্রকোপে সেটি পিছিয়ে যায়। নতুন মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয় একই বছরের নভেম্বর মাসে। সেটিও পরিবর্তন করে ফের মুক্তির তারিখ রাখা হয় ২০২১ সালের ২ এপ্রিল। কিন্তু ইউরোপ ও আমেরিকাজুড়ে করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় আবারও নতুন মুক্তির দিন ঠিক করা হলো ৮ অক্টোবর।

‘নো টাইম টু ডাই’ পরিচালনা করেছেন ‘বিস্টস অব নো নেশন’ ও ‘ট্রু ডিটেকটিভ’ ছবিখ্যাত নির্মাতা ক্যারি জোজো ফুকুনাগা। সিনেমাটিতে বন্ডের চরিত্রে দেখা যাবে ড্যানিয়েল ক্রেগকে। খল চরিত্রে দেখা যাবে রামি মালিককে। আরও আছেন লিয়া সিডক্স, নওমি হ্যারিস, ক্রিস্তফ ওয়াল্টজ প্রমুখ।

এবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গুপ্তচর ফ্রিদা

পর্দায় নুর হয়ে ওঠা প্রসঙ্গে ফ্রিদা বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন অন্য রকম “হিরোইন” তিনি। অহিংসায় বিশ্বাস করতেন। কখনো অস্ত্র তুলে নেননি। তাঁর বাবা ইনায়েত খান ছিলেন নামকরা সংগীতজ্ঞ আর সুফি। আর নুর কাজ করেছেন ব্রিটিশ গুপ্তচর হিসেবে। নোরা বেকার ছদ্মনামে ফ্রান্সে বেতার অপারেটর হিসেবে কাজ নিয়েছিলেন টিপু সুলতানের এই বংশধর। পরে যুদ্ধক্ষেত্রে ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা আর ফরাসি ভাষায় পারদর্শিতার জন্য ২৯ বছর বয়সে তাঁকে ফ্রান্সের গুপ্তচর হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়। ধরা পড়ার পর গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দ্যখো কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে মাত্র ৩০ বছর বয়সে মেরে ফেলা হয় তাঁকে। এই রহস্যময়, দুর্দান্ত নারীকে পর্দায় নতুন করে জন্ম দেওয়া আমার জন্য জীবনের দারুণ এক সুযোগ। আমি তার ষোল আনা সদ্ব্যবহার করতে চাই।’

বড় পর্দায় নাম লেখানোর আগে লেখালেখি করতেন ফ্রিদা। তখন প্রেম করতেন রোহান অ্যান্টাও নামের এক প্রকাশকের সঙ্গে। ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এর পরে তিনি প্রেম শুরু করেন এই ছবির সহশিল্পী দেব প্যাটেলের সঙ্গে। ২০০৮ সাল থেকে ছয় বছর এক ছাদের নিচে থাকার পর ২০১৪ সালে সেই সম্পর্ক ভেঙে খান যায়। এরপর সময় নিয়েছেন। নতুন করে সম্পর্কে জড়িয়েছেন মার্কিন আলোকচিত্রী কোরি ট্রানের সঙ্গে। ট্রানের জন্মদিনে তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা বাগদান সেরে ফেলেছেন। তবে বিয়ের আসরে কবে বসবেন, তা এখনো জানা যায়নি।

নারীবাদী হিসেবে নামডাক আছে ৩৬ বছর বয়সি ফ্রিদার। যদিও ‘নারীবাদ’ শব্দটাকে মানুষ ভুল বোঝে বলে আক্ষেপও আছে তাঁর। এক শব্দে নারীবাদ তাঁর কাছে সমতা।

তুরস্কে ভ- ‘ধর্ম প্রচারকের’ ১০৭৫ বছরের জেল

তুরস্কে যৌন অপরাধের দায়ে এক ভ- ধর্ম প্রচারককে ১০৭৫ বছর কারাদ- দিয়েছে আদালত। ৬৪ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির নাম আদনান ওকতার। তিনি নারীদের ‘বিড়ালছানা’ বলে সম্বোধন করতেন। ১১ জানুয়ারি নারী ও শিশুদের ওপর যৌন অত্যাচার, গুপ্তচরগিরি ও জালিয়াতির একাধিক অভিযোগে তুরস্কের ফৌজদারি আদালত তার বিরুদ্ধে এ রায় দিলেন।

এর আগে ২০১৮ সালের জুন মাসে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন অত্যাচার, গুপ্তচরবৃত্তি ও জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল ইস্তানবুল পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধদমন শাখার পুলিশ। তারপর থেকে আড়াই বছর ধরে মামলা চলার পর তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শোনান তুরস্কের উচ্চ ফৌজদারি আদালত।

তুরস্কের বিতর্কিত ইসলামিক প্রচারক ও বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের লেখক আদনান ওকতার ওরফে হারুন ইয়াহিয়া টিভিতে ইসলামিক বিষয়ে বক্তব্য রাখতেন। বিভিন্ন টক শোতেও ইসলামিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করতেন। আর সেই সব আলোচনার ফাঁকে চড়া মেকআপ ও স্বল্প পোশাক পরা সুন্দরী নারীদের সঙ্গে নাচতেন সবার সামনে। এই মহিলাদের আবার আদর করে নিজের ‘বিড়ালছানা’ বলেও পরিচয় দিতেন তিনি।

আবার তার নামে অপরাধমূলক সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া, নারী ও শিশুদের যৌন নিপীড়ন, অস্ত্র দিয়ে মানুষকে হুমকি, ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ, মানুষকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, নির্যাতন, পাচার, সামরিক গুপ্তচরবৃত্তি, জালিয়াতি এবং প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। এরপরই ইস্তানবুলের বাড়ি থেকে আদনান ওকতারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সে সময় মোট ২৩৬ জনকে আটক করা হয়েছিল।

পরে তাদের মধ্যে ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় নিজের অপরাধের কথা স্বীকারের পাশাপাশি তার হাজারের বেশি বান্ধবী রয়েছে বলেও জানায় আদনান। তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথাও স্বীকার করে সে। এরপরই তাকে ১০৭৫ বছরের কারাদ- দেন বিচারক।

‘বন্ড গার্ল’ তানিয়া আর নেই

মারা গেছেন তানিয়া রবার্টস। জেমস বন্ডের ‘আ ভিউ টু আ কিল’ সিনেমায় বন্ড গার্ল হয়ে সাড়া ফেলেছিলেন তিনি। চার্লিস অ্যাঞ্জেলসের শেষ সিজনেও দেখা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। ২৪ ডিসেম্বর পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হন তানিয়া। সেখানে পড়ে গিয়ে আহত হয়ে ভর্তি হন লস অ্যাঞ্জেলেসের সিডার্স-সিনাই মেডিকেল সেন্টারে। ৩ জানুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলসের এই হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে তিনি করোনায় আক্রান্ত হননি। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তাঁর বন্ধু ও ম্যানেজার মাইক পিঙ্গেল। টুইটারে মাইক লেখেন, ‘আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে দুর্দান্ত মানুষটা আজ চলে গেলেন।’

স্যার রজার মুরের শেষ বন্ড সিনেমায় তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন তানিয়া রবার্টস। দেখা দিয়েছেন ‘দ্য বিটমাস্টার’ আর ‘শিনা: কুইন অব দ্য জঙ্গল’ সিনেমায়। ক্যারিয়ারের শুরুতে দেখা দিয়েছিলেন দ্য সেভেনটি’জ শোতে।

বন্ড সিনেমার প্রযোজক মিশেল জি উইলসন তানিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো একটা ব্যাপার। তানিয়া দারুণ ফুরফুরে একটা ব্যক্তিত্ব। ও আশপাশে থাকলে এমনিতেই ভালো লাগত। আমরা ওকে ভুলব না।’ ‘দ্য বিটমাস্টার’-এর পরিচালক ডন কসক্যার্যালি টুইট করেছেন, ‘ভিতর আর বাহির-সর্বাগ্রে সুন্দর একটা মানুষ চলে গেলেন। ও পশুপাখিদের খুব ভালোবাসত। ও একটা হৃদয়বান মানুষ ছিল। আমরা তোমায় ভুলব না তানিয়া।’

১৯৫৫ সালে জন্ম নেন ‘ভিক্টোরিয়া লেই বাম’। নিউইয়র্কে বড় হয়ে ১৯৭৭ সালে হলিউডে নাম লেখানোর সময় নাম বদলে হন তানিয়া রবার্টস।

চালক যখন শার্লক হোমসের চেয়েও প্রখর

শার্লক হোমসের স্রষ্টা স্যার আর্থার কোনান ডয়েল প্যারিসে বেড়াতে গেছেন। একটা ট্যাক্সিতে উঠতেই ট্যাক্সিচালক তাঁকে প্রশ্ন করলেন, ‘কোথায় যাবেন, মিস্টার ডয়েল?’ আর্থার কোনান ডয়েল অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, ‘তুমি আমাকে চিনলে কী করে?’

চালক উত্তর দিলেন, ‘কাগজে দেখেছিলাম, লেখক স্যার আর্থার কোনান ডয়েল প্যারিসে এসেছেন। আর আপনার ডান হাতের আঙুলে কালি লেগে আছে দেখে বুঝলাম যে আপনি লেখক। তা ছাড়া আপনার চালচলন, পোশাক দেখেই বুঝেছি যে আপনি নির্ঘাত ইংরেজ।’

‘বাহ্, তোমার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা যে আমার শার্লক হোমসের চেয়েও প্রখর! সামান্য কয়েকটা লক্ষণ দেখেই তুমি আমাকে চিনে ফেললে!’ চালক বললেন, ‘অবশ্য আপনাকে চিনতে আরও একটা ব্যাপার সাহায্য করেছে।’

‘সেটা কী?’ উৎসুক হয়ে কোনান ডয়েল জানতে চাইলেন। ‘আপনার হাতের ব্যাগের গায়ে বড় বড় করে আপনার নাম লেখা আছে।’

  লেখক : প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *