ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

শামস্ নূর

১. আগাথা ক্রিস্টির প্রথম গোয়েন্দা কাহিনীর ১০০ বছর

সাহিত্যের গোয়েন্দা ঘরানার সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক মনে করা হয় ব্রিটিশ লেখক আগাথা ক্রিস্টিকে। ১৯২০ সালে তার প্রথম গোয়েন্দা উপন্যাস প্রকাশ হয়। তখন থেকে এখনও সমান জনপ্রিয় অসাধারণ এই লেখকের সব বই। ক্রিস্টির নাতির ছেলে জেমস পিচার্ড সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, উপন্যাস লেখার ধারণাটা ক্রিস্টি পান তার ছোটবোনের কাছ থেকে। মূলত ক্রিস্টি তার ছোটবোনের সঙ্গে বাজি ধরেন যে, তিনি গোয়েন্দা উপন্যাস লিখে তা প্রকাশ করতে পারবেন না। এরপরই ক্রিস্টি লেখেন তার প্রথম উপন্যাস ‘দ্য মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার্স অ্যাট স্টাইলস’। ক্রাইম কাহিনির রানি বলা হয় আগাথা ক্রিস্টিকে। তিনি ১০০ বছর আগে ক্রাইম থ্রিলার লিখে সাহিত্যে নতুন ধারা সৃজন করেন, যা তাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে, পাঠকপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।

সাহিত্য পাঠের সাথে রহস্য যুক্ত হয়ে পাঠককে এসব সাহিত্য আগ্রহের সাথে পড়তে বাধ্য করেন ব্রিটিশ লেখিকা আগাথা ক্রিস্টি। একজন নারী এত রহস্য ও ক্রাইমের অন্ধিসন্ধি কী করে জানলেন আর তার বইয়ে তা কিভাবে ওঠে এলো এটাকে বিস্ময় হিসেবেই দেখেন অনেকে। তার এই ধারা অনুসরণ করে শত শত লেখক-লেখিকা গড়ে উঠেছেন। তিনি রয়ে গেছেন আজো রানির আসনে, আজও তার বই পাঠকপ্রিয়। তার প্রথম ডিটেকটিভ উপন্যাস প্রকাশের ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে ২০২০ এ। বইটির নাম ‘দ্য মিস্টিরিয়াস অ্যাফেয়ার অ্যাট স্টাইলস’। ক্রিস্টির বয়স তখন মাত্র ৩০ বছর। জানা যায়, তার বোনের সাথে বাজি ধরেই লেখা হয়েছিল এই বই। ১৯২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বইটি ধারাবাহিক আকারে ব্রিটিশ সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। অক্টোবরে আমেরিকা থেকে বই হয়ে বের হয়। পরের বছর বেরোয় ব্রিটেনে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুসারে আগাথা ক্রিস্টি বিশ্বের বেস্ট সেলিং ফিকশন রাইটার। তার ক্রাইম নভেলের ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) কপি বিক্রি হয়েছে। তার রহস্য উপন্যাসের সংখ্যা ৬৪টি, রয়েছে অনেক রহস্য গল্প সঙ্কলন। তিনি ১৯৭৬ সালে মারা যান।

২. ভেঙে পড়ল জেমস বন্ডের এলিয়েন সন্ধানী টেলিস্কোপ

জেমস বন্ডের ‘গোল্ডেন আই’ ছবিটিতে দেখানো সেই বিশাল আকৃতির রেডিও টেলিস্কোপটি ভেঙে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পুয়ের্তো রিকোতে অবস্থিত আইকনিক টেলিস্কোপটি ৫৭ বছর ধরে জ্যোতির্বিদদের মহাকাশের বিভিন্ন গবেষণায় সাহায্য করে যাচ্ছিল। সম্পতি বিশাল ওই টেলিস্কোপ ভেঙে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফ) বলেছে, টেলিস্কোপটির ৯০০ টন যন্ত্রপাতি ৪৫০ ফুট ওপর থেকে রিফ্লেকটর ডিশের ওপর পড়ে যায়।

পুয়ের্তো রিকোর এই আরেসিবো অবজারভেটরি বিশ্বের অন্যতম বড় একটি অবজারভেটরি ছিল। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৭ বছর ধরে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এ টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের ছবিটির ব্যাকড্রপ দৃশ্যে দেখানো হয়েছিল।

এনএসএফ জানিয়েছে, গত ৩১ নভেম¦র স্থানীয় সময় ৭টা ৫৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৫ মিনিট) এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিশাল ডিশটি ভেঙে গেছে এবং আশপাশের স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। ওই টেলিস্কোপে এক হাজার ফুট প্রশস্ত রেডিও ডিশ ও ৪৫০ ফুট ওপরে ঝুলন্ত যন্ত্রপাতি ছিল। তিনটি বিশেষ টাওয়ার থেকে তারের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করা ছিল। দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, টেলিস্কোপের তিনটি টাওয়ারের ওপরের অংশ ভেঙে ৯০০ টন যন্ত্রাংশ নিচে পড়ে গেছে। টেলিস্কোপের সঙ্গে যুক্ত তারও পড়ে গেছে।

এর আগে গত আগস্ট মাসে দুটি তার ছিঁড়ে যাওয়ার পর ওই কাঠামোর ক্ষতি হয়েছিল। তখনই কর্মকর্তারা এ অবজারভেটরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আগের মাসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পর যন্ত্রাংশ ভেঙে পড়ার ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছিল। এটি ঠিক করার কোনো পথ ছিল না। এখন এনএসএফের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হবে এ রেডিও টেলিস্কোপ। টেলিস্কোপটি ষাটের দশকের গোড়ার দিকে নির্মিত হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের আয়নোস্ফিয়ার নিয়ে গবেষণা। তবে পরে এটি গবেষণার অন্য কাজেও ব্যবহার শুরু হয়।

৩. উইলিয়াম জে. বার্নসকে সিআইএ প্রধান নির্বাচিত করলেন জো বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) এর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিতে উইলিয়াম জে. বার্নসকে মনোনীত করেছেন। গত ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এ খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বাইডেন বলেছেন, তিনি আমাদের পরবর্তী সিআইএ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমেরিকার মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। তিনি খুবই অসাধারণ কূটনৈতিক। আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে বিশ্ব মঞ্চে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা আছে তার। আমার মতো তিনিও বিশ্বাস করেন গোয়েন্দা বিভাগ হবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। উইলিয়াম জে. বার্নস -সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান থেকে শুরু করে বারাক ওবামার আমল পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

৪. জেমস বন্ডের প্রথম ছবিতে বিনিয়োগ ১১ লাখ ডলার, আয় ৬ কোটি

সালটা ১৯৬২। জেমস বন্ড নামক এক ব্রিটিশ গুপ্তচরের আবির্ভাব ঘটলো সিনেমার পর্দায়। সিক্রেট সার্ভিস এমআই-সিক্স এজেন্ট, কোড ০০৭, খুন করার লাইসেন্স আছে।

বন্ড সিরিজের প্রথম ছবি নাম ড. নো। শন কনরি ধামাকা লাগিয়ে দিলেন শুরুতেই। সতীর্থ এজেন্ট লাপাত্তা, সে বিষয়ে তদন্ত করতে জ্যামাইকা যান জেমস বন্ড। নায়িকা ছিলেন উরসুলা আন্দ্রেস। ছবির বাজেট ছিলো ১১ লাখ মার্কিন ডলার। বক্স অফিস দাপিয়ে ড. নো কামিয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

পরের বছরেই পরের পর্ব, ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ। রাশিয়া থেকে একটা ডিকোডিং মেশিন খুঁজে নিয়ে আসতে হবে। আর তা করতে হবে শয়তান ভিলেন সেটা খুঁজে পাবার আগেই। এই ছবিতে ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ, আয় ৭ কোটি ৮০ লাখ। বন্ড গার্ল ড্যানিয়েলা বিয়ান্সি।

তিন নাম্বারে গোল্ডফিঙ্গার, ১৯৬৪ সালে। নায়িকা অনার ব্ল্যাকম্যান। বন্ডের যুদ্ধ গোল্ড ফিঙ্গার নামের গোল্ড স্মাগলারের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সম্পদ ছিলো ফোর্ট নক্সে থাকা, সেই সোনার বারোটা বাজানোর পরিকল্পনা করে ওই স্মাগলার। সেটা ঠেকিয়ে দিন জেমস বন্ড। এবারেও আয়ের রেখা উর্ধ্বমুখী, দুসপ্তাহের মধ্যে খরচের টাকা ওঠে এলো। মোট আয় করলো ১২ কোটি ডলার। শন কনরির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ হিরো তিনি, এজেন্ট ০০৭। ১৯৬৫ সালে চতুর্থ ছবি থান্ডারবল, ন্যাটোর চুরি যাওয়া আনবিক বোমা ফিরিয়ে আনার মিশন। চোরেরা বলেছে, ১০ কোটি পাউন্ড মূল্যের হীরা দিতে হবে। তা না হলে আমেরিকা বা ব্রিটেনের কোনও একটি শহর ধ্বংস করে দেবে। শন কনরি তার চোখ ধাঁধানো অ্যাকশন, ক্ষুরধার বুদ্ধি আর তুমুল প্রেমের জোয়ার, সব মিলিয়ে এবারও দর্শককে তৃপ্ত করলেন। বন্ডগার্ল ছিলেন ক্লডিন অগার।

১৯৬৭ সালে ইউ ওনলি লিভ টুয়াইস, পঞ্চম এবং শেষ পারফরম্যান্স, এমনটাই ঘোষণা দিয়েছিলেন শন। এবারের কাহিনি শীতল যুদ্ধের যুগে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে লেগে যাওয়া ফ্যাসাদ। দুপক্ষেরই স্পেসক্র্যাফট হারিয়ে যাচ্ছিলো, আর একে অপরকে দুষছিলো ওয়াশিংটন ও মস্কো। প্রায় বেঁধে যাওয়া যুদ্ধটা ঠেকান বন্ড, ছবিটির এবারের আয় ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার। বন্ডগার্ল ক্যারিন ডর।

অবসর নেওয়া হয়নি, ১৯৭১ সালে শন কনরিকে নিয়ে সিরিজের ষষ্ঠ ছবি ডায়মন্ডস আর ফরএভার। বন্ডগার্ল জিল এসটি জন। অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত বন্ড ঢুকে পড়েন লাসভেগাসের এক হীরা চোরাচালানী দলে। স্মাগলাররা ওয়াশিংটনকে টার্গেট করে লেজার ছুড়বে বলে প্ল্যান করেছিলো।

দীর্ঘ বিরতি পড়লো বন্ড সিরিজে। সপ্তম ছবি এলো ১৯৮৩ সালে। নেভার সে নেভার এগেইন। ছবির টাইটেলে জানিয়ে দেওয়া হয়, ১৯৭১ সালে ষষ্ঠ ছবিটি করার সময় শন কনরি বলে দিয়েছিলেন, বন্ড চরিত্রে নেভার এগেইন। শন কনারির ০০৭ মিশন শেষ হলো ৭ম পর্বে, সঙ্গে ছিলেন বন্ডগার্ল কিম বেসিংগার।

কোটি কোটি মানুষকে ব্যথাতুর করে ঘুমের মধ্যেই মারা গেছেন প্রথম জেমস বন্ড শন কনরি, বয়স হয়েছিলো ৯০।

৫. মার্কিন গোয়েন্দা বিমানকে অবতরণের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি ইন্দোনেশিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিমানকে ইন্দোনেশিয়ায় অবতরণের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটির সরকার। মার্কিন কর্মকর্তাদের দফায় দফায় যোগাযোগ করা সত্ত্বেও জ্বালানি নিতে দেশটিতে নামার অনুমতি পায়নি মার্কিন পি-৮ পোসেইডন মেরিটাইম সার্ভেইলেন্সের বিমান।

গত ২০ অক্টোবর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ইন্দোনেশিয়ার চার জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা এই বিমানগুলোকে ইন্দোনেশিয়ায় অবতরণ করে সেখান থেকে জ্বালানি নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলো ইন্দোনেশিয়া।

ওই কর্মকর্তারা জানান, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো যুক্তরাষ্ট্রের ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যানের আগে বিষয়টি নিয়ে জাকার্তার উচ্চ পর্যায়ে দফায় দফায় যোগাযোগ করেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

এই বিষয়ে জানতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জাকার্তায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেটনো মার্সুডির প্রতিনিধিরাও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের দেশ সবসময়ই নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী। এটাই তাদের দীর্ঘকালীন নীতি। দেশটি কখনোই কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীকে সেখানে কাজ করার অনুমতি দেয়নি।

মার্কিন পি-৮ পোসেইডন গোয়েন্দা বিমানগুলো মূলত দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক তৎপরতার ওপর নজর রাখতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। সেখানকার বেশিরভাগ অঞ্চলই চীন নিজের বলে দাবি করে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই নৌপথের ইন্দোনেশিয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক দাবিদার নয়। তবে দক্ষিণ চীন সাগরের একটি অংশকে নিজেদের হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেটনো মার্সুডি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের যোগসূত্র রয়েছে তার দেশের। দেশটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মধ্যে যেতে চায় না। এছাড়া দুই পরাশক্তির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও দক্ষিণ চীন সাগরের সামরিকীকরণের কারণেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেটনো জানান, আমরা দুই দেশের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আটকাতে চাই না।

৬. জেমস বন্ডের প্রথম পিস্তলের দাম ২ কোটি টাকা!

‘জেমস বন্ড চরিত্রটির বড় পর্দায় অভিষেকের সেই চলচ্চিত্রজুড়ে এর নায়ক কনারিকে এই নায়কোচিত অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে।’

১৯৬২ সালে জেমস বন্ড সিরিজের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ড. নো’তে বন্ডরূপী সদ্যপ্রয়াত অভিনেতা শন কনারির ব্যবহার করা সেই ওয়ালদার পিপি হ্যান্ডগানটি হলিউডের স্মারক বিক্রেতা জুলিয়েন’স অকশনস এক নিলামে ২ লাখ ৫৬ হাজার ডলার বা প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকায় বিক্রি করেছে।

ঐতিহাসিক ওই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বেভারর্লি হিলস-ভিত্তিক ওই নিলামঘরের ৩ ডিসেম্বর আয়োজিত নিলামে জায়গা পাওয়া পাঁচ শতাধিক কস্টিউম, প্রপস ও হলিউড আর্টিফ্যাক্টসের মধ্যে শীর্ষ আইটেম।

 ‘জেমস বন্ড চরিত্রটির বড় পর্দায় অভিষেকের সেই চলচ্চিত্রজুড়ে এর নায়ক কনারিকে এই নায়কোচিত অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে,’ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় জুলিয়েন অকশনস।

অস্ত্রটির ক্রেতার নাম প্রকাশ করা না হলেও তিনি একজন আমেরিকান নাগরিক এবং জেমস বন্ডের পাগল-ভক্ত বলে জানানো হয়।

৭. ৫০ বছর পর সমাধান!

দীর্ঘ ৫০ বছরের অপেক্ষা শেষে জোডিয়াক কিলারের ‘কোডেড’ মেসেজের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। সম্প্রতি স্কাই নিউজের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ক্রিপ্টোগ্রাফাররা জানিয়েছে, সিরিয়াল কিলার ওই মেসেজে প্রশাসনকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে।

‘কোডেড’ মেসেজ বলা হয়েছিল, ‘আপনারা আমাকে ধরার চেষ্টা করছেন। আশা করি, এই কাজে আপনাদের খুব মজা হচ্ছে। তবে আমি গ্যাস চেম্বারকে একটুও ভয় করি না। কারণ এটি আমাকে স্বর্গে পৌঁছে দেবে। আমাকে ধরে ফেললেও বিশেষ লাভ হবে না। আমার কাজ করার জন্য অসংখ্য ভৃত্য রয়েছে। আমি খুন করতে ভালোবাসি। কারণ এ কাজে আমার খুব মজা লাগে।’ এই মেসেজ ‘ডিকোড’ করাকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে বিভিন্ন মহল। কারণ এর মধ্য দিয়ে ৫০ বছর আগের একটি সিরিয়াল কিলারের ‘কোডেড’ ম্যাসেজের রহস্য উদঘাটন হয়েছে।

১৯৬৮-৬৯ সালে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার শহরে একের পর এক খুন করে চলছিল ঘাতক ‘জোডিয়াক কিলার’। এক, দুই করে পর পর পাঁচটি। তবে ঘাতকের দাবি, সবমিলিয়ে খুনের সংখ্যা ৩৭। আর তিনি একা নন, খুনে সাহায্য করার জন্য রয়েছে ‘ভৃত্যের দল’। সে সময় সবাই বেশ ভয়েই রাত কাটিয়েছে। এর মধ্যেই ১৯৬৯-এ একটি মার্কিন সংবাদপত্রের অফিসে পৌঁছল সিরিয়াল কিলারের বেশ কয়েকটি ‘কোডেড মেসেজ’। প্রশাসন ভাবল, এবার বুঝি রহস্য থেকে পর্দা সরবে। হাতকড়া পরানো যাবে ঘাতককে। কিন্তু ওই কোডেড মেসেজের কিছুই বুঝতে পারেনি পুলিশ। একদিন, দু’দিন করে কেটে গেল ৫০টা বছর। এর মাঝে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু লাভ হয়নি। এত দিন পর সেই মেসেজের রহস্যভেদ করার দাবি করেছেন আমেরিকার ওয়েব ডিজাইনার ডেভিড ওরানচক। ২০০৬ সাল থেকে এই রহস্য থেকে পর্দা সরাতে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন তিনি। তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন অস্ট্রেলিয়ান গণিতবিদ স্যাম ব্ল্যাক এবং বেলজিয়ামের লজিস্টিশিয়ান জা ভ্যান এয়েকচে।

৮. যাদের কাছে গোয়েন্দা পুলিশও ‘ফেল

গত বছর থাইল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং রাজার ক্ষমতা কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ চলে চার মাস ধরে। পুলিশ টের পায় না কোথায় কখন বিক্ষোভ মিছিল হবে, কিন্তু অনেক বিক্ষোভকারীর চেয়েও আগে খবর পেয়ে তারা ঠিকই হাজির হয় সেখানে! তবে তারা গোয়েন্দা পুলিশ নয়।

কিন্তু এত দ্রুত কেমন করে যে বিক্ষোভের জায়গায় পৌঁছে যায় তা ভেবে থাইল্যান্ডের অনেকেই অবাক। আসলে তারা স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা। গত জুলাই থেকে যেখানে বিক্ষোভ সেখানেই ঝটপট হাজির হয়ে যাচ্ছেন তারা।

২৮ বছর বয়সি প্লয় ব্যাংককের রাস্তায় নিয়মিত বিক্ষোভে অংশ নেন। বেশিরভাগ সময় তার অনেক আগে খাবার বিক্রেতাদের ভ্যান নিয়ে পৌঁছে যেতে দেখে তিনি খুব অবাক, ‘তারা আমাদের চেয়েও আগে পৌঁছে যায় সেখানে’।

এত দ্রুত কিভাবে তারা বিক্ষোভ মিছিলের খবর সংগ্রহ করছেন, জানেন? মোবাইল ফোনের সহায়তায়। গণতন্ত্রপন্থিদের কোনো অংশ যখনই নিজেদের মধ্যে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে, সঙ্গে সঙ্গেই সেই তথ্য নিজেদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন স্ট্রিট ফুড বিক্রেতারা। ফলে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভস্থলে হেঁটে পৌঁছানোর অনেক আগে গরম-টাটকা খাবারের ভ্যান চালিয়ে গিয়ে ক্রেতার অপেক্ষা শুরু করে দেন বিক্রেতারা।

থাই পুলিশ, এমনকি অনেক বিক্ষোভকারীর চেয়েও আগে খবর সংগ্রহ করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়ার এই দক্ষতার জন্য ব্যাংককের স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের নাম হয়ে গেছে ‘সিআইএ’! সিআইএ মানে মনে নেই? সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, অর্থাৎ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। হ্যাঁ, থাইল্যান্ডের অনেকেই মনে করেন, ব্যাংককের স্ট্রিট ফুড বিক্রেতারা গোপন খবর চট করে সংগ্রহ করে ঝটপট ঘটনাস্থলে চলে যাওয়ার দক্ষতায় গোয়েন্দাদেরও হার মানিয়েছেন।

৯. ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রে ফের দেখা যাবে আবীর চট্টোপাধ্যায়কে!

আবীর চট্টোপাধ্যায়কে নিয়েই ফের ব্যোমকেশের ছবি করার পরিকল্পনায় ভেঙ্কটেশ ফিল্মস। মাঝে অরিন্দম শীলের প্রস্থানের পর ব্যোমকেশের চরিত্রে নতুন মুখ এবং নতুন পরিচালক নেওয়ার খবর শোনা যায়।

সত্যান্বেষীর চরিত্রে অনির্বাণ ভট্টাচার্য থাকবেন, পরিচালক বিরসা দাশগুপ্ত, এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল। করোনা হানা না দিলে, এত দিনে হয়তো সে ছবির শুটিংও হয়ে যেত। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেক কিছুই বদলেছে। ব্যোমকেশ হচ্ছেন আবীরই, পরিচালনায় ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনির্বাণ যেমন ওয়েব প্ল্যাটফর্মে ব্যোমকেশ বক্সীর চরিত্র করছেন, তেমনটাই করবেন। ‘গুপ্তধন’ সিরিজ হিট দেওয়ার পরে প্রযোজনা সংস্থার ঘরে ধ্রুবর নম্বর অনেকটাই বেড়েছে। ব্যোমকেশের মতো ওজনদার সিরিজের দায়িত্ব তাঁর হাতেই দিতে চাইছে সংস্থা। তা ছাড়া আবীরের সঙ্গে ধ্রুবর সমীকরণও বেশ ভালো। তবে ছবির শুটিং শুরু হতে এখনো দেরি আছে। সিনেমা হল না খোলা পর্যন্ত নতুন কোনো কাজে হাত দিতে চাইছে না প্রযোজনা সংস্থা। তবে এ খবরে এসভিএফ কিংবা আবীর কেউই সিলমোহর দেননি।

ব্যোমকেশ পর্ব এখানেই শেষ নয়। একই সময়ে দুই অভিনেতা, একই চরিত্রে অভিনয় করছেন তা বোধহয় শুধু টলিউডেই সম্ভব! পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ব্যোমকেশ এই পূজায় মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। ‘দুর্গরহস্য’র মতো কাহিনি করোনা পরিস্থিতিতে শুট করা সম্ভব নয়। রাজস্থানে আউটডোর শুটের পরিকল্পনা ছিল। সবটাই আপাতত বাতিল করা হয়েছে।

পরমব্রত অভিনীত ব্যোমকেশের মেন্টর অঞ্জন দত্ত আর পরিচালক ছিলেন সায়ন্তন ঘোষাল। আগের ছবিটির সময়ে মেন্টর-ডিরেক্টরের মনোমালিন্য হয়েছিল। যে কারণে সায়ন্তনকে না জানিয়েই মেন্টর নতুন পরিচালকের অন্বেষণও শুরু করে দিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়নি।

১০. সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চির প্রস্থান

মৃত্যুর সাথে দীর্ঘ সপ্তাহের লড়াই শেষে অবশেষে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ১৫ নভেম্বর রবিবার কলকাতার স্থানীয় সময় ১২টা ১৫ মিনিটে কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে তিনি প্রয়াত হন। হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চির প্রস্থান ঘটল বাংলা ছবির প্রবীণ মহাতারকা, অভিনেতা-নাট্যকার-বাচিকশিল্পী-কবি-চিত্রকর। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। এর আগে ১৩ নভেম্বর থেকে সৌমিত্রর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটতে থাকে। হৃদযন্ত্র আর কিডনির জটিলতা অনেকটা বেড়ে যায়। বেড়ে যায় হার্ট রেট। বাড়তে থাকে স্নায়বিক সমস্যাও। প্রবলভাবে ওঠানামা করতে থাকে অক্সিজেনের মাত্রা। শনিবার বিকেলে চিকিৎসকরা জানান, অলৌকিক কিছু না ঘটলে সৌমিত্রের সুস্থ হয়ে ওঠা অসম্ভব।

ওপার বাংলার সিনেমার বর্ষীয়ান এই অভিনেতা করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৬ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর কয়েক দফায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও উন্নতির খবর পাওয়া যায়। করোনা থেকে মুক্ত হয়েছিলেন সৌমিত্র। তবে অন্যান্য জটিল রোগের কাছে পরাস্ত হয়ে আজ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন এই কিংবদন্তি। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় করোনার সাথে একাধিকরোগে ভুগছিলেন। তিনি প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। এটা নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছিল ফুসফুস ও মস্তিষ্কে। মূত্রথলিতেও সংক্রমণ হয়েছিল তার। এতকিছুর সাথে এই বার্ধক্যে তার শরীর লড়াই করে উঠতে পারছিল না।

প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকা খ্যাতিমান এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গনে। স্বয়ং সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, তার জীবনের সেরা আবিষ্কার সৌমিত্র। তাকে ছাড়া কে-ই বা পথ আটকে গেয়ে উঠবে ‘কে তুমি নন্দিনী’ কে আর অপু হবে..কে-ই বা প্রখর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে রহস্যের জট খুলবেন ফেলুদা হয়ে?

সাবলীল আর স্বকীয় ভঙ্গিমায় অভিনয় দিয়ে শুধু নিজেকে নয়, ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রকেই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। জীবনের প্রায় ৬০ বছরই চলচ্চিত্রকে দিয়েছেন। এমনকি শেষ সময়েও দুর্দান্ত প্রাণশক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। ৬ দশক ধরে দাপটের সাথে ভারতের চলচ্চিত্র ও মঞ্চে অভিনয় করেছেন কিংবদন্তি এই অভিনেতা। কর্মজীবনের শুরুটা হয়েছিল রেডিওর ঘোষক হিসেবে। এরপর রূপালি পর্দায় পথচলা শুরু ১৯৫৯ সালে খ্যাতিমান নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ দিয়ে। তার অভিনীত চরিত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পায় সত্যজিৎ রায়েরই সৃষ্ট ফেলুদা।

১১. আগাথা ক্রিস্টির গল্প নিয়ে বলিউডের ছবি

‘কুইন অব ক্রাইম’ উপাধিতে খ্যাত আগাথা ক্রিস্টির গল্প নিয়ে এবার সিনেমা বানাচ্ছেন বলিউডের পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ। আগাথা ক্রিস্টি লিমিটেড’এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগেও বিশ্বের বহুদেশে বহু ভাষায় এই লেখকের বিভিন্ন গল্পকে নিজের মতো করে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। যাকে বলা হয় ‘এডাপ্টেশন’।

এবার ভারতের পরিচালক বিশাল অনুমতি চাইলে তাকে ফিরিয়ে দেননি আগাথা ক্রিস্টি এস্টেটের নির্বাহী জেমস প্রিচার্ড। ওদিকে বিশালের ক্যারিয়ারও বিশালই বটে। পরিচালনা এবং প্রযোজনার খাতায় আছে ১৫টি ছবি। এডাপ্টেশনেও আছে মুন্সিয়ানা। এর আগে ম্যাকবেথ অনুসরণে ‘মকবুল‘, অথেলো অনুসরণে ‘ওমকারা’, হ্যামলেট অনুসরণে ‘হায়দার’ বানিয়ে প্রশংসার ঝুলি করেছেন ভারী। জনপ্রিয়তার পাশাপাশি হয়েছেন ব্যবসা সফলও। এবার আগাথা ক্রিস্টির সিনেমার গল্পটিতেও বলিউডের টুইস্ট আনতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী এই পরিচালক।

বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া লেখক আগাথার গল্প নিয়ে বিশাল কাজ করা শুরু করবেন অচিরেই। এই গল্পটি গড়ে উঠেছে হিমালয়ে বেড়াতে যাওয়া একজোড়া দম্পতি নিয়ে। যারা না চাইতেও জড়িয়ে যান খুনের সঙ্গে। বাকিটুকু দেখা যাবে রুপালি পর্দায়।

১২. প্রয়াত প্রথম ‘বন্ড শন কনারি

তাঁর মতো রিভলভার তাক করতে পারতেন না কেউ। বাহুলগ্না নায়িকার দিকে থেকে বিন্দুমাত্র নজর না-সরিয়ে দুষ্টু লোককে গুলি চালিয়ে উড়িয়ে দেওয়াতেও তাঁর জুড়ি মেলা ছিল ভার। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ঝুলিয়ে রেখে যখন বলতেন, ‘দ্য নেম ইজ বন্ড, জেমস বন্ড’, হৃদ্স্পন্দন থেমে যেত মেয়েদের। হয়তো ছেলেদেরও।

গত ৩১ অক্টোবর রাতে বাহামাসের রাজধানী নাসাউয়ে তাঁর নিজের বাড়িতে ঘুমের মধ্যে মারা গিয়েছেন সেই আদি ও অকৃত্রিম বন্ড— শন কনারি। গত তিন বছর এই ক্যারিবীয় দ্বীপেই নিরবচ্ছিন্ন অবসরযাপন করছিলেন স্কটিশ অভিনেতা। সেখানেই গত আগস্ট মাসে ৯০ বছরের জন্মদিন পালন করেছিলেন। আজ স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জন এই খবর জানিয়ে টুইট করেন, ‘‘দেশের অন্যতম প্রিয় সন্তান চলে গেলেন।’’ 

এডিনবরার বস্তি থেকে হলিউডের খাস অলিন্দ ঘুরে বাহামাসের বিলাসবহুল ভিলা— চমকপ্রদ শনের জীবনাখ্যান। ‘শন’ হিসেবে অবশ্য তাঁর পরিচিতি অনেক পরে। অলান্তিক পেরিয়ে হলিউড মাতানোর আগে তিনি ছিলেন নেহাতই এক ‘টমি’।

টমাস শন কনারির জন্ম ১৯৩০-এর ২৫ অগস্ট, এডিনবরার ফাউন্টেনব্রিজ এলাকার এক খুপরি অ্যাপার্টমেন্টে। মা এফি ছিলেন সাফাইকর্মী, আর বাবা জো লরিচালক। একটা ভাগের বাথরুম, যার দাবিদার আরও দুটি পরিবার। সদ্যোজাতের জন্য আলাদা খাট কেনার সামর্থ্য ছিল না মা-বাবার। তাই কাঠের দেরাজের নিচের তাকে বিছানা পেতে ব্যবস্থা হয়েছিল ছোট্ট টমিকে শোয়ানোর। ‘ছোট্ট’ টমি অবশ্য কয়েক বছরেই দিব্য মাথাচাড়া দেয়। তার যখন আট বছর বয়স, বাড়িতে আর এক সদস্য এল- ভাই নীল। সংসারে বাড়ল আরও অনটন। ফলে ১১ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দুধ বেচা শুরু করে দিল টমাস।

মানুষ হিসেবে কেমন ছিলেন এই তুখোড় অভিনেতা, তা বুঝতে সাহায্য করবে তাঁর এই কঠিন ছেলেবেলা। যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, এক লক্ষ পাউন্ড ফি হাঁকতেন সিনেমা-পিছু, আবার চোখের পলক না-ফেলে দান করে দিলেন ৫০ হাজার পাউন্ড, কখনও স্কটিশ স্কুল কমিটিকে, কখনও বা ব্রিটিশ ফুটবল সোসাইটিকে। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘ছোটবেলায় কখনও ভালো করে স্নান করিনি। একটা বাথটব ছিল বহু দিনের শখ। এখন যখন বাথটবে ডুবে বসে থাকি, মনে হয়, যেন স্বর্গের সুখ উপভোগ করছি।’’

যখন ২৩ বছর বয়স, এক বন্ধুর পাল্লায় পড়ে গিয়েছিলেন লন্ডনে, ‘মিস্টার ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। ছোটখাটো একটা খেতাবও জুটে গিয়েছিল লম্বা ছেলেদের ক্যাটেগরিতে তৃতীয় স্থান। কিন্তু এই প্রতিযোগিতাই তাঁর জীবনের মোড় পাল্টে দিল।

৬ ফুট দু’ইঞ্চির টমাসকে মনে ধরেছিল এক মিউজিক্যাল নির্মাতার। ‘সাউথ প্যাসিফিক’ নামের সেই মিউজিক্যালে কোরাসে গলা মেলানোর সুযোগ দেওয়া হয় কনরিকে। দুধ বিক্রি বা ছোটখাটো কাজ করে যা রোজগার হত, মঞ্চে অর্থপ্রাপ্তিটা তার কিঞ্চিৎ বেশি বলেই নাটকের দলের সঙ্গে জুড়ে যান স্কটিশ যুবক।  আর তখনই নামের প্রথম অংশ ছেঁটে ফেলে হয়ে যান শন কনারি।

ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস ঘুরে ঘুরে নাটক করার সময়ে শনের সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব হয় আমেরিকান এক মঞ্চাভিনেতা রবার্ট হেন্ডারসনের। তাঁর থেকে বয়সে বেশ কিছুটা বড় এই রবার্টই শনের হাতে তুলে দেন সাহিত্য নামে জাদুকাঠিটি। ‘‘জর্জ বার্নার্ড শ, অস্কার ওয়াইল্ড, হাইনরিখ ইবসেন, ইংরেজি ভাষায় বা অনুবাদে যা পেতাম, গোগ্রাসে গিলতাম। নাটকের অভিনয় না-থাকলে চলে যেতাম স্থানীয় লাইব্রেরিতে। বই যে মানুষের জীবন পাল্টে দিতে পারে, তার সব থেকে জ্বলন্ত উদাহরণ আমি’’  বলেছিলেন কয়েক বছর আগে।

এর পরে আরও কয়েকটি নাটক, আর টিভিতে ছোটখাটো কিছু রোল। তার পরে সেই দিন- ৩১ মার্চ ১৯৫৭। ‘রিকুয়েম ফর আ হেভিওয়েট’ নামে বিবিসি-র এক সিরিজে প্রৌঢ় বক্সারের ভূমিকায় টিভি পর্দায় মুখ দেখানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিনেমার একাধিক অফার। ১৯৬১-র ‘আনা কারেনিনা’য় ভ্রনস্কি-রূপী কনরিকে দেখে হলিউডের এক প্রযোজকের মনে হয়, ইয়ান ফ্লেমিংয়ের ০০৭কে রুপালি পর্দায় তুলে ধরতে পারবেন ইনিই। ১৯৬২তে মুক্তি পায় প্রথম বন্ড-ছবি ‘ডক্টর নো’।

যে জেমস বন্ড হিসেবে তাঁর সব থেকে বেশি নাম যশ, পাঁচটি ছবির পরে সেই বন্ড সিরিজ থেকে স্বেচ্ছাবসর নেন শন। পরে অবশ্য আরও দুটি ছবিতে বন্ড হয়েছেন তিনি। বন্ড সিরিজ থেকে সরে আসার কারণ হিসেবে বলেছিলেন, ‘‘আমি যে বোকাহাবা বা বুড়ো, সব ধরনের চরিত্রেই অভিনয় করতে পারি, তা নিজের বোঝা খুব দরকার ছিল।’’ ১৯৭৫-এর ‘দ্য ম্যান হু উড বি কিং’ থেকে শুরু করে ২০০৩-এর ‘দ্য লিগ অব এক্সট্রাঅর্ডিনারি জেন্টলমেন’, বন্ডের বাইরে তাঁর অভিনয়ের পরিধি বহু দূর বিস্তৃত। চৌকস ব্রিটিশ এজেন্টের মতোই মনোগ্রাহী ‘এনট্র্যাপমেন্ট’-এর ‘রবার্ট ম্যাকডুগাল’, ‘ইন্ডিয়ানা জোনস অ্যান্ড দ্য লাস্ট ক্রুসেড’-এর ‘ডক্টর হেনরি জোনস’ বা ‘রবিন অ্যান্ড মারিয়ান’-এর ‘রবিন হুড’।

অভিনেত্রী ডায়ান সিলেন্টোর সঙ্গে প্রথম বিয়ে টিঁকেছিল বছর নয়েক। তার পরে নামী গল্ফার ও মরোক্কান শিল্পী মিশেলিন রকব্রুনের সঙ্গে বিয়ে ১৯৭৫-এ। গল্ফ কোর্স থেকে অস্কারের রেড কার্পেট, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁদের আলাদা করতে পারেনি কেউ।

কয়েক দশক ধরে হলিউড দাপিয়ে বেড়ালেও তাঁর স্কটিশ শিকড় কষনও ভুলে যাননি কনরি। স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন, প্রতি মাসে ৫ হাজার পাউন্ড অনুদান দিতেন তাদের। এই দলেরই চাপে কনরিকে ২০০০ সালে নাইটহুড দিতে একপ্রকার বাধ্য হন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

২০০৪-এ যখন স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট দিচ্ছেন স্কটেরা, একটি উত্তর-সম্পাদকীয়তে কনারি লিখেছিলেন, ‘‘নতুন দেশ গড়ার মতো আনন্দের আর কিছুই নেই।’’ আমৃত্যু ডান হাতে এঁকে রেখেছেন ‘ফরেভার স্কটল্যান্ড’ ট্যাটু। বলেছেন বহু বার, ‘‘নিজের অম্তরাত্মা থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি কখনও। তাই তো এত ভালো অভিনয় করে যেতে পেরেছি।’’ 

লেখক : অনুবাদক

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *