ই-পেপার

ডিটেকটিভ রিপোর্ট

ঘাতকের নির্মম বুলেট ১৫ আগস্টে কেড়ে নিয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাণ। তাঁর নামও বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। দেশে এখন জন্ম নিয়েছে কোটি কোটি মুজিবুর। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতির পিতাকে স্মরণ করেছে বাঙালি জাতি। শুধু বাংলাদেশই নয়, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬শে মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে উদযাপন করবে বাংলাদেশ। এই মুজিববর্ষকে বিশ্বস্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো। ফলে বিশ্বব্যাপী নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিনে সূচনা হয়েছে বছরব্যাপী কর্মসূচির।

মুজিববর্ষ সাড়ম্বরে উদযাপনের সব প্রস্তুতি সরকার নিলেও নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সেই আয়োজন সীমিত করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ই মার্চ জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। দিবসটিতে স্কুল-কলেজে শিশুদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও তা এবার হয়নি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

১৭ মার্চ সকাল ৭টার পর রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে স্থাপিত প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর কিছু সময় সেখানে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এ সময় অন্যদের মধ্যে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সংসদ সদস্যরা ছাড়াও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা নিবেদন করে চলে যাওয়ার পর সর্বসাধারণের জন্য স্থানটি উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শুভ শুভ শুভদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’সহ বিভিন্ন শ্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টার পর পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতির স্মরণে সেখানে তাঁরা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়। এরপর বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। পরে ছোট বোন শেখ রেহানা ও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ সময় তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, পুত্রবধূ ক্রিস্টিনা জয়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছেলে ও মেয়ে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাষ্ট্রপতি সকাল সাড়ে ১১টায় এবং দুপুর সোয়া ২টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

আতশবাজি ও আলোকসজ্জা

রাত ৮টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মক্ষণ উপলক্ষে সারাদেশে একযোগে আতশবাজি প্রদর্শনী ও ফানুস উত্তোলন করা হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে, ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

দোয়া মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনা সভা

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া তেজগাঁও গির্জায়, মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ (৩/৭-এ সেনপাড়া, পবর্তা, মিরপুর-১০)-এ খ্রিস্টান সম্প্রদায়, রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতিম ও দুস্থ মানুষের মধ্যে

খাবার ও মিষ্টি বিতরণ

দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে আজিমপুর এতিমখানা প্রাঙ্গণে অসহায়, দুস্থ ও এতিমদের মধ্যে খাবার, বস্ত্র ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

দুপুর ১টায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বনানী করাইল বস্তিতে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এতিম ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

এছাড়াও বাদ আসর রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ দুস্থদের মধ্যে খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করবে। সারাদেশে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ধরণের কর্মসূচি পালন করা হয়।

ফ্রি বাস সার্ভিস

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৭ই মার্চ থেকে ২৬শে মার্চ পর্যন্ত গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া মোড় থেকে টুঙ্গিপাড়া জাতির পিতার সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে যাত্রী পরিবহনে বিআরটিসি বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করেছে।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে টুঙ্গিপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন স্থান সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সসহ আশপাশ এলাকায় তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে।

বিমানবাহিনীর মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার আকাশে ‘একশ’ লিখে সালাম প্রদর্শন করে বিমানবাহিনীর বিমানগুলো। ১০টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত চলে এ উড্ডয়ন।

বায়তুল মোকাররমে ১০০ বার

কোরআন খতম

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুপুর ১২টায় ১০০ জন কোরআনে হাফেজের মাধ্যমে ১০০ বার পবিত্র কোরআন খতম সম্পন্ন হয়েছে। কোরআন খতম শেষে জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

দুপুর সাড়ে ১২টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x