ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

জাকির হোসেন চৌধুরী

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে মহিমাময় এক মাহেন্দ্রক্ষণ। বছরব্যাপী স্বতঃস্ফূর্ত এবং প্রাণবন্ত আয়োজনে এই উৎসব উদযাপিত হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে ‘মহান স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষপূর্তি উদযাপন করছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনকালে সুখী সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে রূপকল্প ২০২১ সফলভাবে সম্পন্ন করা জাতির কাছে আমাদের অঙ্গীকার।’ জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়কে যুক্ত করা হয়েছে যা এ উৎসব আয়োজনকে সুদূরপ্রসারী তাৎপর্যে অভিষিক্ত করবে।

১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৯তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত বাংলার মাটিতে পা রাখেন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতির প্রত্যাবর্তনে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদাররা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাঁকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি করা হয়। বাঙালি যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। আন্তর্জাতিক চাপে পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২৯০ দিন পাকিস্তানের কারাগারে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রহর গণনা শেষে লন্ডন-দিল্লি হয়ে তিনি ঢাকায় পৌঁছেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি।

বঙ্গবন্ধু হানাদারমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বিজয়ের মালা পরে। সেদিন বাংলাদেশে ছিল এক উৎসবের আমেজ। গোটা বাঙালি জাতি রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছিল কখন তাদের প্রিয় নেতা স্বাধীন দেশের মাটিতে এসে পৌঁছবেন। লাখো লাখো মানুষ সেদিন জড়ো হয়েছিল ঢাকা বিমানবন্দর এলাকায়। বিমানবন্দর থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত রাস্তা ছিল লোকে লোকারণ্য। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু। দীর্ঘ ৯ মাস পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের গণহত্যার সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘোষণা দেন, ‘রক্ত দিয়ে হলেও আমি বাঙালি জাতির এই ভালোবাসার ঋণ শোধ করে যাবো।’

পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা এ রকম অনেক মহামানব সম্পর্কে জানি। বঙ্গবন্ধু তাঁর সাহস, অনমনীয় দৃঢ়তা এবং অসাধারণ বাগ্মিতার অভূতপূর্ব সমন্বয়ে বাঙালির শ্রেষ্ঠতম নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। জেল, জুলুম, অত্যাচার কিছুই তাঁকে বাঙালির মুক্তির স্বপ্নযাত্রা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। সম্প্রতি জেলখানা থেকে প্রকাশিত একটি গ্রন্থে দেখা যায়, ৩০৫৩ দিন তিনি জেলখানায় অতিবাহিত করেছেন। সেই যে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনকালে গ্রেফতার হয়েছিলেন, তারপর থেকে জেলখানাই হয়ে উঠেছিল তার নিত্য আবাসস্থল। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ এই দুটি অসাধারণ গ্রন্থে এবং সম্প্রতি প্রকাশিত তার Secret Documents of Intelligence Branch on Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman গ্রন্থে আমরা এসব দিনের অনেক খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানতে পারি। বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষ থেকে অসাধারণ উচ্চতায় আসীন হয়েছেন। রূপান্তরিত হয়েছেন ব্যক্তি থেকে সমষ্টিতে। তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ আজ ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারের অন্তর্ভুক্ত। এ ভাষণ বাঙালির ইতিহাসের বাঁক বদলের ভাষণ। কারণ এর আগে বাঙালিকে কেউ এভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি, কেউ এভাবে স্বাধীনতার ডাক দেয়নি তার ডাকেই বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশমাতৃকার শৃঙ্খল মোচনে। এ ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যুদ্ধাবস্থার ভাষণ। একদিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রক্তচক্ষু ও তাদের ট্যাঙ্ক-কামান প্রস্তুত অন্যদিকে নিরস্ত্র বাঙালির হৃদয়ে স্বাধীনতার আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছেন অকুতোভয় এক মহানায়ক। ১৯৭১ এর ৭ মার্চের অগ্নিগর্ভ ভাষণে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন জাতির একমাত্র প্রতীক হিসেবে। সেদিন তিনি শুধু ব্যক্তি নন, শুধু নেতা নন, বাঙালি জাতিসত্তার হাজার বছরের অতিক্রান্ত ইতিহাসকে ধারণ করে নিজেই রূপান্তরিত হয়েছেন জনতার কণ্ঠস্বরে। প্রথম সার্বভৌম বাঙালি হিসেবে জনতার শক্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার উদাহরণও তিনি সৃষ্টি করেছেন।

এখনও ভুলিনি আমরা সে দিনের কথা, যে দিন বঙ্গবন্ধু তুমি তোমার দু’পা রেখেছিলে বাংলার বুকে একটি স্বাধীন দেশের পিতা হিসেবে। তুমিই তো ছিলে সাত কোটি বাঙালির প্রাণ, নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের অবিসংবাদিত জননেতা, স্বাধীনতার ঘোষক আর বাংলাদেশের স্থপতি। তোমার অপরাধ ছিল অসহনীয় শাসকদের চোখে। কারণ তুমি চেয়েছিলে বাংলার মানুষ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক শোষণের হাত থেকে মুক্ত হোক, স্বাধীন জাতি হিসেবে বাঙালিরা পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। এ অপরাধে তারা তোমাকে জেলে পুরলো। বিভিন্ন সময়ে তুমি প্রায় আঠারটি বছর জেলে কাটালে, নিজের জীবন-যৌবন দেশ মাতৃকার সেবায় উৎসর্গ করলে। তারপরও পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার থামেনি। তারা তোমাকে একাত্তরের ২৫ মার্চের রাতে নিয়ে গেলো পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কারাগারে। তোমার অপরাধ ছিল তুমি বাঙালি জাতির জন্য স্বাধীনতা চেয়েছিলে। জেলের কুঠরির সামনে তোমার চোখের সম্মুখেই তারা তোমার জন্য কবর খুঁড়ে রাখলো তোমাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেবে বলে। অকুতোভয় তুমি, একটুও ঘাবড়ালে না। নয় মাসের বেশি কারাবন্দি থাকার পর তারা তোমাকে আন্তর্জাতিক চাপে ছেড়ে দিলো। আর বিবিসি’র কল্যাণে বাহাত্তরের ৮ জানুয়ারি সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের দিশেহারা মানুষগুলো যখন জানলো তাদের মহানায়ক বেঁচে আছেন এবং তিনি দেশে শীঘ্রই ফিরবেন, তারা যে তখন কীরূপ আবেগাপ্লুত হয়েছিল তা বোঝানো যাবে না কাউকে। অখ- পাকিস্তানের বিলুপ্তি ঘটিয়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামক শব্দটির কবর রচনা করে পাকিস্তান থেকে লন্ডন এবং সেখান থেকে দিল্লি হয়ে রৌদ্রকরোজ্জ্বল মধ্যাহ্নে একটি ব্রিটিশ বিমানে করে এসে ঢাকার আকাশে কয়েক বার চক্কর দিয়ে (যা রেসকোর্স ময়দানের সভাস্থল থেকে দেখেছি) তেজগাঁও কুর্মিটোলা বিমান বন্দরে অবতরণ করল ১০ জানুয়ারি। বিমান বন্দর চত্বরে সমবেত লাখো মানুষ অবাক নয়নে দেখলো তাদের সামনে বিমান থেকে নামছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, হিমালয়ের মতো উঁচু যার সম্মান।

তুমি নামলে, জনতার প্রতি অশ্রুসজল নয়নে তাকালে, লালনীলে মাখামাখি একটা খোলা ট্রাকে দাঁড়ালে, রাস্তার দু’পাশে দাঁড়ানো হর্ষোৎফুল্ল জনতার প্রতি হাত নেড়ে নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে পড়ন্ত বিকেলে পৌঁছলে রেসকোর্স ময়দানের নৌকাসদৃশ মঞ্চে, ঠিক সেই জায়গায় যেখানে একাত্তরের সাতই মার্চ দিয়েছিলে যুগান্তকারী অলিখিত ভাষণ যা শুধু শাসকদের গাত্রদাহই সৃষ্টি করেনি, বিশ্বের বোদ্ধা ব্যক্তিদের নজরও কেড়েছিলো। তুমি কী জানো পিতা, তোমার সে ভাষণটি ২০১৭ সালে বিশ্ব-ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে? একই মঞ্চে দাঁড়িয়েই তুমি আবার ২৯০ দিন পর লাখো লাখো সমাগতদের উদ্দেশে জাতির পুনর্গঠনের জন্য দিকনির্দেশনা দিলে। দিল্লি হয়ে ঢাকায় আসার সময় পালাম বিমান বন্দরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়ে তুমি তোমার ভাষণে যে কাব্যিক নান্দনিকতা দেখিয়েছো তা আজো আমরা ভুলিনি। তুমি সেদিন বলেছিলে: ‘আমার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এই সান্ত¡নায় যে অবশেষে অসত্যের ওপর সত্যের, উন্মাদনার ওপর প্রকৃতিস্থতার, কাপুরুষতার ওপর শৌর্যের, অবিচারের ওপর ন্যায়বিচারের, অমঙ্গলের ওপর মঙ্গলের হয়েছে জয়।’

তুমি এলে বীরের বেশে, উঠলে রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের) মঞ্চে, ভেজা কণ্ঠে অভিবাদন জানালে সবাইকে। নিশ্চয়ই মনে আছে পিতা, সে মঞ্চের উপর ঋজু ভঙিতে দাঁড়িয়ে অশ্রুবিগলিত কণ্ঠে অনেক কথার মাঝে স্বাধীন বাংলাদেশের রূপরেখা ব্যাখ্যা করলে আর সবাইকে নবসৃষ্ট বাংলাদেশের পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করতে বললে। সবাইকে জানালে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখার স্বরূপ যা ছিল প্রেরণাদায়ী আর আগামীর ইঙ্গিতবাহী। কী চমৎকার ছিল তোমার সে ভাষণ, একাত্তরের সাত মার্চের অবিস্মরণীয় ১৯ মিনিটের অলিখিত কবিত্বময় ভাষণের পর এতো সুন্দর ভাষণ আমরা শুনিনি আর কোনো দিন। দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত ছিলে তুমি, তবুও সে-ই দৃঢ় কণ্ঠ, আগের বজ্রকণ্ঠ আগের মতোই তেজোদীপ্ত, ভাষণে তোমার প্রস্ফূটিত রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদৃষ্টি। সদ্য স্বাধীন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তোমার সংক্ষিপ্ত ভাবনাগুলো ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের সাথে সাথে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হলো সারা রেসকোর্স ময়দানে। সে-ই থেকে শুরু হলো মুক্ত মানুষের নব জীবনের যাত্রা, তোমার স্বপ্নের বাংলাদেশের পথ চলা।

ভাষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না তোমার কর্মকা-। পরবর্তী প্রায় তিন বছর দৃঢ়তার সাথে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পথ অতিক্রম করতে করতে সাত কোটি বুভুক্ষু মানুষের জন্য আহারের ব্যবস্থা করলে, ভেঙে পড়া প্রশাসনিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করে মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড় করালে, বিধ্বস্ত রাস্তা-ঘাট পুল-কালভার্ট তৈরির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিয়ে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিলে, হুমড়ি খেয়ে পড়া ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা করলে। এতো কিছুর মধ্যেও বৈদেশিক কূটনীতি অব্যাহত রেখে সারা বিশ্বের স্বীকৃতি আদায় করলে। তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ভূখন্ডে অবস্থানরত ভারতীয় সৈন্যদের ফেরত পাঠানো, সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্য নিয়ে চট্টগ্রাম আর মোংলা বন্দরের মাইন অপসারণ করে বন্দরকে ব্যবহারযোগ্য করা, এক কোটি ভারত-প্রত্যাগত শরণার্থীকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ প্রথম সংবিধান উপহার দেয়ার মতো অকল্পনীয় অনেকগুলো কাজ করলে চমৎকার নেতৃত্ব দিয়ে। ৪০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, ১১ হাজার নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, সকল প্রাথমিক শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেয়া, ৩৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ, কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে/নামমাত্র মূল্যে কৃষি-উপকরণ বিতরণ, ৫৮০টি শিল্প-কারখানাসহ পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সকল সম্পদ জাতীয়করণ, হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান, মাদরাসা বোর্ডের পুনর্গঠনসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট স্থাপন এবং জুয়া, রেসকোর্সে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও মদ্যপানসহ অনেক প্রকার সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দক্ষতার সাথে বন্ধ করার মতো দুঃসাধ্য কর্মযজ্ঞ সম্পাদন একমাত্র তোমার আগমনের পর তোমার প্রজ্ঞাসমৃদ্ধ নেতৃত্বের কারণেই হয়েছে। সর্বোপরি, বিশাল হৃদয়ের অধিকারী তুমি স্বাধীনতা-বিরোধীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে জনগণের রোষ থেকে তাদের বাঁচালে। আমরা তোমার অনুসারীরা কেউ ভুলিনি, যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে মূলত কিছুই ছিল না- একটা বড় শূন্য দিয়ে নতুন দেশটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। ছিল না কোনো সংগঠিত সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, এমনকি বেসামরিক প্রশাসন চালানোর মতো উপযুক্ত অবকাঠামো। না ছিল সুসংগঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক, নিজস্ব মুদ্রা। বরং ছিলো সাত কোটি মানুষের খালি পেট আর সারা দেশজুড়ে সম্পদহারা সর্বস্বান্ত মানুষের হাহাকার। আমেরিকা, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রোডলারের দেশগুলোর অবস্থান ছিল বিপরীত মেরুতে। আসছিল না তেমন কোনো বৈদেশিক সাহায্য। বিশ্বব্যাংক আর কিছু পূর্ব ইউরোপীয় দেশ যদি সাহায্য না করতো, তাহলে কী যে অবস্থা হতো তা কল্পনা করতেও শিউরে উঠতে হয়। এরূপ একটি ভঙ্গুর অবস্থায় দেশে ফিরে ন্যূব্জদেহবিশিষ্ট দেশটির হাল ধরে আমাদের বাঁচালে তুমি হে মহান অধিনায়ক। আরও অনেক কিছু বাকি ছিল করার। কিন্তু স্বাধীনতা-বিরোধী বিশ্বাসঘাতকেরা তোমাকে সে সময় দেয়নি। স্বপ্নের দেশটিকে সোনালি আলোয় উদ্ভাসিত করার অভিলাষ পূরণ করার সময় পাওনি বলে তোমার অতৃপ্ত আত্মা নিশ্চয়ই গুমরে গুমরে কাঁদছে।

এবার এক নতুন প্রেক্ষাপটে ১০ জানুয়ারি আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। এ বছরটি জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বছরটিকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে দেশে এবং জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো বিশ্বজুড়ে মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। আগামীর বছরগুলো আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এবছর ভিন্ন মাত্রায় উদযাপিত হতো জন্মশতবার্ষিকী ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে তা সীমিত আকারে পালিত হচ্ছে।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *