ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

জহিরুল হক শামীম

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)। যার মধ্যে রয়েছে ভিশনারি লিডারশীপের বিরল গুণাবলীর সমন্বয়। তিনি নিজে স্বপ্ন দেখেন, মানুষকে স্বপ্ন দেখান। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেন। দক্ষতা যোগ্যতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার সমন্বয়ে তারই নেতৃত্বে নানা প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে দীপ্ত গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ পুলিশ।

১৫ এপ্রিল ২০২০ পুলিশের আধুনিকায়ন ও জনমুখী পুলিশ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মহা-পরিদর্শকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ড. বেনজীর আহমেদ। ১৫ এপ্রিল ২০২২ নানামাত্রিক সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্ণ হলো।

তিনি এমন এক সময়ে পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব বুঝে নেন যখন বৈশ্বিক মহামারি করোনার আঘাতে পুরো বিশ্ব স্তব্ধ। এরকম একটি সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া গুরু দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দেশ ও জনগণের সেবা সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৃত্যু ঝুঁকিকে তুচ্ছ করে করোনা মোকাবেলায় তাঁরই নির্দেশনায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশ পুলিশ। করোনার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের নেতৃত্ব তুলে নেন ড. বেনজীর আহমেদ নিজের কাঁধে। এ এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই। নেই পূর্ব অভিজ্ঞতা, আছে নানা সুরক্ষা সামগ্রীর সীমাবদ্ধতা, প্রতিদিন কোন না কোন সহকর্মী আক্রান্ত হচ্ছেন, কেউ বা দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে শহীদ হচ্ছেন। ঘরবন্দি মানুষ। কারও বাসায় খাবার নেই, কারও বাজার নেই, প্রয়োজনীয় ঔষধ নেই। খাবার বা ঔষুধ কেনার টাকা নেই। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনগুলো মেটানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় পুলিশ। খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের অপ্রয়োজনীয় চলাচল বন্ধে তাঁর প্রদর্শিত পথ ধরেই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ড. বেনজীর আহমেদ পুলিশ সদস্য ও সাধারণ জনগণের সেবা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতায় তাঁর উদ্যোগে পুরো একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া করা হয়। কেন্দ্রীয় রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কোভিড-১৯ হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়। এছাড়াও পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ, নানা ধরণের ঔষধ বিতরণ, স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তিনি। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছিলো করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইজিপি মহোদয় প্রচলিত পুলিশিং ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে শুরু করেন ‘প্যান্ডেমিক পুলিশিং।’ সুনির্দিষ্ট এসওপি এবং ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল প্রণয়ন করেন। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য সর্বোত্তম সেবা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ ব্যারাককে আইসোলেশন সেন্টারে পরিণত করেন। করোনা প্রতিরোধ ও প্রতিকারে দেশের সকল পুলিশ ইউনিটকে অভিন্ন ব্যবস্থায় নিয়ে আসেন তিনি।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাস্ক, পিপিই, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সংগ্রহ করে এগুলো প্রত্যেক পুলিশ সদস্যদের মাঝে বিতরণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)। দায়িত্বভার গ্রহণ করেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যাশিত জনতার পুলিশ হিসাবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে গ্রহণ করেনঃ

*           অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা

*           ভিশন ২০৪১ ডেল্টা প্লান ২১০০

*           ডেল্টা প্লান ২১০০

*           সেই সাথে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সামনে রেখে আইজিপি মহোদয়-

ম         স্বল্পমেয়াদী

*           মধ্যমেয়াদী

*           এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশকে দেশের সেরা জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বসেরাদের কাতারে নিয়ে যেতে কৌশলগত, কাঠামোগত এবং পদ্ধতিগত পরিবর্তনের নীতি প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন শুরু করেন তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুলিংশিয়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মহাপরিদর্শক মহোদয়ের নির্দেশিত উদ্যোগ গ্রহণে করোনা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয় যা প্রত্যক্ষভাবেই দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। মানুষ ফিরে পায় হারানো মনোবল। পুলিশ হাসপাতাল দেশ সেরা করোনা হাসপাতাল হিসাবে মানুষের কাছে স্বীকৃতি পায়।

আইজিপির অফিস হিসাবে পরিচিত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স তিনি ব্যাপক পরিবর্তন আনয়ন করেন। তাঁর নির্দেশেই পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিটি শাখার কার্যাবলী ও দায়িত্বসমূহ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গোলা বারুদসহ সকল লজিস্টিকস চিকিৎসা সামগ্রী প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশের সকল ইউনিটের জন্য একই প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এবং পুরষ্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে আইন ও বিধি অনুযায়ী ন্যায্যতা বিধানের লক্ষ্যে তার নির্দেশে বিভিন্ন বিষয়ে এসওপি নির্দেশিকা ও গাইড লাইন প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের সকল সরকারি মোবাইল নম্বর ০১৩২ সিরিয়ালে নিয়ে আসা হয়েছে এবং অন্যান্য নিরাপত্তার অংশ হিসাবে ফায়ার সেফটিকে গুরুত্ব দিয়ে এ সংক্রান্ত এসওপি করা হয়েছে। আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের গুণগত পরিবর্তনের জন্য পাঁচ মূলনীতি ঘোষণা করেছেন। পরিবর্তনের প্রত্যয়ে ঘোষিত এই মূলনীতির উদ্দেশ্য-

*           মাদক নির্মূল করা

*           দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

*           বিট পুলিশিং এবং

*           অমানবিক ও অপেশাদার আচরণ বন্ধ করা

*           পুলিশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করণ।

মাদক নির্মূল

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে আরও বেগবান করতে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। মাদক নির্মূলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বেনজীর আহমেদ পুলিশ সদস্যদের জন্যও ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করেছেন। মাদকের সাথে সামান্যতম সংশ্লিষ্টতা আছে এমন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ঘোষণা বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। পুলিশের সকল পর্যায় থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে দুর্নীতির কিছু খাত চিহ্নিত করেছেন। এসব খাত থেকে দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটন করতে তিনি পদ্ধতিগত এবং কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে আসার জন্য বিদ্যমান কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত সংস্কার শুরু করেছেন। পদোন্নতি, বদলি ও নিয়োগ সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদের এ সংক্রান্ত নীতিমালা  ইতোমধ্যেই প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ পদোন্নতি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে। বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা ও কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্য পুলিশ সদস্যগণ পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন। আধুনিক পুলিশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে  আইজিপি মহোদয় কনস্টেবল, এসআই এবং সার্জেন্ট পদে নিয়োগের নীতিমালায় যুগোপযোগী পরিবর্তন এনেছেন যা আগামী প্রতিটি নতুন নিয়োগ থেকে বাস্তবায়িত হবে। আইজিপির উদ্যোগে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হয়েছে যা সামগ্রিকভাবে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ জুগিয়েছে।

বিট পুলিশিং

পুলিশের কাঙ্খিত সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ সারা দেশকে ৬ হাজার ৯১২টি বিটে ভাগ করে বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু করেছেন। মানুষের কাছে পুলিশের সেবাকে আরও সহজ সাধ্য করতে থানা সেবাকে শহর এলাকায় ওয়ার্ড এবং গ্রাম পর্যায়ে ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। প্রতিটি বিটের জন্য বিট কার্যালয় ও বিট অফিসার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ প্রতিকার নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে সেবা প্রত্যাশির সেবা গ্রহণ সময় (Time) ভ্রমণ (Visit) ও ব্যয় (Cost) কমানো সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতেও বিট পুলিশিং কার্যকরি ভূমিকা রেখে চলেছে।

নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বন্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে দেশব্যাপি একযোগে বিট পুলিশিং এর প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রায় ১২ লাখ মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। সেই সম্মেলনে যোগদানকারি ব্যক্তিরা নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বন্ধে স্বত:স্ফূর্তভাবে শপথ গ্রহণ করেন। বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে এপর্যন্ত অন্তত ৫০০টি নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

অমানবিক ও অপেশাদার আচরণ বন্ধকরণ

পুলিশ সদস্যদের আচরণে গুণগত পরিবর্তনের জন্য কার্যকরি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন আইজিপি। তাঁর নির্দেশে সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পেশাদারি আচরণ নিশ্চিত করতে পুলিশের এএসপি (প্রবেশনার), আউট সাইট ক্যাডেট (এস আই), সার্জেন্ট ও ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) মৌলিক প্রশিক্ষণের পাঠ্যসূচি ও প্রশিক্ষণ মডিউল পরিবর্তন করা হয়েছে। ইন সার্ভিস প্রশিক্ষণেও আচরণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বসহকারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সাথে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কাঙ্খিত আচরণ নিশ্চিত করতে অডিও ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে তা প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়াও অপেশাদার আচরণকারি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আইজিপি মহোদয়  বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তনের জন্য বহুমুখী এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশানুযায়ী কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের জন্য বছরে  অন্তত একবারের জন্য হলেও বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কাঠামোগত গুণগত সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ নীতিমালা প্রণয়ন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পদনুযায়ী দায়িত্বের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রশিক্ষণ সিলেবাস মডিউল এবং সেশন প্রণয়ন করা হয়েছে। যুগের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে নতুন নতুন  বিষয়ে প্রশিক্ষণ চালু করেছেন এবং বিদ্যমান প্রশিক্ষণে নতুন নতুন বিষয় সংযোজন করেছেন।

পুলিশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণ

আইজিপি সকল পুলিশ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে বিশ্বমানের বিশেষায়িত হাসপাতালের ঘোষণা দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পুলিশ মেডিক্যাল কোর গঠনের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। পুলিশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ড. বেনজীর আহমেদ জীবিত অবস্থায়ই পুলিশ সদস্যদের জন্য কল্যাণ নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুব্যবস্থা করতে আইজিপি প্রতিটি জেলা পর্যায়ে একটি করে স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসাবে প্রাথমিক পর্যায়ে আটটি বিভাগীয় শহরে একটি করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে উন্নত চিকিৎসা সামগ্রী সংযোজন করা হচ্ছে। ঢাকায় একটি ডিভিশনাল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ডায়ালাইসিসসহ অন্যান্য আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই হাসপাতালটিকে বিশেষায়িত হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। এছাড়াও  পুলিশ সদস্যদের জন্য আবাসন, বিনোদন এবং অন্যান্য সুবিধা চালু করতে আইজিপি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন যা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরা যাতে ব্যাংক থেকে সহজেই আর্থিক সুবিধা পান তা নিশ্চিতে পুলিশ পরিচালিত কমিউনিটি ব্যাংকের মাধ্যমে নতুন নতুন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। আইজিপি মহোদয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী মুজিববর্ষ উদযাপনে বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে মুজিববর্ষেই অসহায় ও গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছে পুলিশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এমন উদ্যোগের ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। 

আইজিপির উদ্ভাবনী উদ্যোগসমূহ

টাইমস ফ্রি পুলিশিং চালু করতে আইজিপি মহোদয়ের উদ্যোগে ডিএমপি ও সিএমপিতে ট্যাকটিক্যাল বেল্টের প্রচলন করা হয়েছে। নারীদের জন্য নিরাপদ সাইবার স্পেস নিশ্চিত করতে আইজিপির নিজস্ব উদ্যোগে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন নামে একটি অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ (cybersupport@police.gov.bd) চালু করা হয়েছে। সম্পূর্ণ নারী পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পরিচালিত এই পেজটির মাধ্যমে সাইবার স্পেসে নানা ধরণের হয়রানির শিকার নারীরা খুব সহজেই সরাসরি অভিযোগ জানিয়ে পুলিশের সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

মুজিববর্ষের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি থানায় নারী শিশু বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক চালু করেছে। কলোনিয়াল ধারা থেকে বের হয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক ও স্মার্ট করতে আইজিপির উদ্যোগে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার চালু করা হয়েছে। হ্যান্ডস ফ্রি পুলিশিং নিশ্চিত করা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে চালু এই গিয়ারে একটি ট্যাকটিক্যাল বেল্টের সাথে থাই হোল্ডস্টার যুক্ত করে সেখানে স্মল আর্মস রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইজিপি মহোদয়ের ঐকান্তিক উদ্যোগে বাংলাদেশ পুলিশের অপারেশনাল কার্যক্রমেও প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সংযোজন করা হচ্ছে। গণমানুষের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশের প্রতিরোধমূলক পুলিশিং জোরদার করতে নতুন নতুন প্রযুক্তি যোগ করা হচ্ছে। এছাড়াও দায়িত্ব পালনকালে প্রয়োজন হয় এমন সকল সরাঞ্জাম ট্যাকটিক্যাল বেল্টের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন- থাই হোল্ডস্টার উইথ আর্মস, এক্সপ্যান্ডেবল ব্যাটন, হ্যান্ডকাফ, টর্চলাইট ও ওয়াটার বোতল থাকছে এই গিয়ারে। হ্যান্ডস ফ্রি থাকায় মানুষের প্রয়োজনে খুব সহজেই দ্রুততার সাথে সারা দানে সক্ষম হচ্ছে পুলিশ সদস্যরা।

আইজিপি মহোদয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশের পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসাবে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য ৬৪.১ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সহায়তায় তাঁরই উদ্যোগে মিয়ানমার থেকে জোর পূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিক অধ্যুষিত এলাকার নিরাপত্তার জন্য আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়নের নতুন ইউনিট ও ভাসান চরে নতুন থানা গঠন করা হয়েছে।

ই-পুলিশিং

জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর আধুনিকায়ন ও অন্যান্য সকল পুলিশি সেবাকে অনলাইনে নিয়ে আসতে সিডিএমএস, অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, অনলাইন পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন, ইজিপি, ই নথি বাস্তবায়নসহ অন্যান্য কার্যক্রম জোর গতিতে এগিয়ে চলছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও দ্রুত পুলিশি সেবাকে নিশ্চিত করতে আইজিপির উদ্যোগে বিভিন্ন পুলিশি সেবাকে অনলাইন ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় পুলিশের ডাটা ম্যানেজমেন্ট আধুনিক করার পাশাপাশি বিদ্যমান অনেক সেবাকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও পুলিশের আইডি কার্ডকে আরও আধুনিক করা হচ্ছে যাতে খুব সহজেই সকল তথ্য পাওয়া যাবে।

পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে নতুন প্রতিষ্ঠান

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের পরিকল্পনা অনুযায়ি বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে-

*           পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে পুলিশ ট্রাস্ট কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড।

*           পুলিশ ট্রাস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন লিমিটেড গঠন শেষে এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

*           রাঙামাটি পার্ক অ্যান্ড কটেজের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে।

*           বান্দরবন থানচি হাইল্যান্ডারস পার্ক অ্যান্ড কটেজ।

*           বাগেরহাটের রামপাল ওয়াটার পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

*           রাঙ্গামাটির আরশিনগর পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট ও রাঙ্গামাটি বিলাইছড়ি পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

*           ওয়াটার পার্ক নির্মাণের উদ্দেশ্যে নরসিংদীর চর গৌরিপুর ও চর মাধবপুর মৌজার প্রায় ৬০০ বিঘা জমি ক্রয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

*           পুলিশ ট্রাস্ট সার্ভিসেস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট লিমেটেড বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোন (বেজা) টেকনাফ, সাবরাং এ ৪০ একর প্লট বরাদ্দ, টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে প্রায় ৫.১১ একর জমি ক্রয়, কেরাণীগঞ্জের বসুন্ধরায় রিভারভিউ প্রকল্পে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

আইজিপি মহোদয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সকল আধুনিক সুবিধা নিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্রস ব্যারাক সংস্কার করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রথম বছর পূর্তিতে আইজিপি মহোদয়ের বিশেষ উদ্যোগে বাংলাদেশ পুলিশের দূরপাল্লার যাত্রায় হ্রাসকৃত ভাড়ায় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস বাস চালু করা হয়েছে। এছাড়াও সকল ক্ষেত্রে যথাযথ মাননিয়ন্ত্রণ, সকল কাজে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে নীতি প্রণয়নের মতো অনেক কাজ সম্পন্ন করেছেন।

করোনার এই দুর্দিনে আইজিপি হিসাবে বাংলাদেশ পুলিশের মতো বিশাল একটি প্রতিষ্ঠানকে সঠিকভাবে পরিচালনার পাশাপাশি করোনা সংকটে সমস্যায় পড়া বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ড. বেনজীর আহমেদ।  তাঁর দূরদর্শী যোগ্য নেতৃত্ব আর সঠিক পরিচালনার মাধ্যমে ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের উপযোগী পুলিশ হিসাবে নিজেদের গড়ে তুলতে দীর্ঘ মেয়াদি এক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশ। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে মহাপুলিশ পরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ। এ প্রত্যাশা ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের।

লেখক : সাংবাদিক

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *