ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাহার আকন্দ বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)

মামলার অকুস্থল ধানমন্ডি থানার অন্তর্গত সাবেক ৩২ নং বর্তমানে ১১ নং সড়কের সাবেক ৬৭৭ বর্তমানে ১০ নং বাড়ি যাহা থানা হইতে অনুমান ২ কিঃ মিঃ উত্তর/পশ্চিমে অবস্থিত। বাড়িটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজস্ব বাস ভবন। বাড়িটি

তৃতীয় তলাবিশিষ্ট একটি পাকা বাড়ি। ধানমন্ডি সাবেক ৩২নং বর্তমানে ১১ নং পাকা সড়ক সংলগ্ন উত্তর পাশ্বের ঘটনাস্থলে বাড়িটি অবস্থিত। বাড়িটি চারিদিকে পাকা প্রাচীর ঘেরা। বাড়িতে ঢোকার জন্য দক্ষিণ/পশ্চিম কোনায় একটি গেইট আছে। বাড়ির চারি ধারে দেওয়ালে ছয়টি সেন্ট্রি পোষ্ট ছিল। বাড়িটি ৩২ নং রোডের দিকে মুখ করা। বিল্ডিং এ ঢোকার পথে সামনে একটি বারান্দা আছে। বাড়ির নিচ তলায় বাথরুমসহ মোট ৯টি কক্ষ আছে। প্রথমে বাম পার্শ্বে কক্ষ আছে যাহা বর্তমানে যাদুঘরের কিউরেটর সাহেবের অফিস কক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই কক্ষটি ১৯৭৫ সালে রিসিপসনিস্টের অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই কক্ষটির পূর্ব পাশ্বের বারান্দা হইতে ভিতরে ঢুকার একটি দরজা এবং ভিতরে করিডোর হইতে ঢোকার একটি দরজা আছে। রুমের পশ্চিম পার্শ্বে একটি দরজা আছে। তাছাড়া রুমের দক্ষিণ দিকে দুইটি জানালা আছে। রুমের সংলগ্ন উত্তর পাশ্বের একটি বাথরুম আছে। এই রুমেই বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামাল এবং সংলগ্ন বাথরুমে বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই কক্ষটির পূর্ব পাশে একটি কক্ষ আছে, যাহা বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর প্রদর্শনী কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই কক্ষের পূর্ব পার্শ্বে কক্ষটি বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত পাঠাগার, যাহা বর্তমানে যাদুঘরের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পাঠাগারে বুলেট বিদ্ধ পাঁচটি বই, একটি শোকেছ যাহার কাচ ভাঙা, দুইটি আলমারি (কাচ ভাঙা) এবং সোহরাওয়ার্দি ও বঙ্গবন্ধুর যুগল ছবির ফ্রেম বুলেট বিদ্ধ অবস্থায় আছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার এবং অন্যদের হত্যা করার সময় ঘাতকদের এলোপাথারি গুলিতে উল্লিখিত জিনিসপত্রগুলো বুলেট বিদ্ধ হয় বলে জানা যায়। অফিস কক্ষ এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরের মধ্যে উত্তর/দক্ষিণ করিডোরের বাম পাশে উপরে উঠার সিঁড়ি। সিঁড়ি দিয়া দোতলায় উঠার মাঝখানে দেওয়ালের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু গুলির দাগ আছে। সিড়ির দোতলায় উঠার পথে দ্বিতীয় ধাপে কিছু পুরাতন রক্তের দাগ দৃশ্যমান, যাহা বর্তমানে গ্লাস দ্বারা ঢাকা আছে। তা বঙ্গবন্ধুর রক্ত। দ্বিতীয় তলায় উঠার পথে সামনের দেওয়ালে বেশ কিছু গুলির চিহ্ন দেখা যায়। সিঁড়ির রেলিং এর বাহিরের দিকে দুইটি ও সিঁড়ির গোড়ার বাম দিকে একটি গুলির চিহ্ন দেখা যায় এবং এই সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর মৃতদেহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পরে ছিল এবং এইখানেই তাঁকে গুলি করা হইয়াছিল ।

বাড়ির দোতলায় নিচ তলার মতো একই রকম ৯টি কক্ষ এবং একটি বারান্দা আছে। দক্ষিণ/পশ্চিম কোনের কক্ষটি বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ জামালের শয়ন কক্ষ ছিল। এই রুমের বিভিন্ন জায়গায় মোট আটটি গুলির চিহ্ন আছে এবং বাথরুমের আয়নায় দুইটি গুলির চিহ্ন আছে। ইহাও বর্তমানে যাদুঘরের প্রদর্শনী হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সিঁড়ি হতে উঠে সোজা পূর্ব পার্শ্বে কক্ষটি শেখ রেহানার শয়ন কক্ষ ছিল। এই কক্ষের দেওয়ালে মোট আটটি গুলির চিহ্ন আছে। বর্তমানে এই কক্ষটিতে বঙ্গবন্ধুসহ নিহত অন্যান্যদের ব্যবহৃত রক্তমাখা পরিধেয় বস্ত্র, গুলির খোসা, গুলি ও অন্যান্য জিনিসপত্র কাচের বেষ্টনীর মধ্যে সর্বসাধারণের প্রদর্শনীর জন্য রক্ষিত আছে। তদন্তকালে ঘটনা সংশ্লিষ্ট মালামাল আলামত হিসাবে জব্দ করা হয়েছে।

এই রুমের সংলগ্ন পূর্ব/উত্তর পার্শ্বে বঙ্গবন্ধুর শয়ন কক্ষ। এই রুমে ব্যবহৃত খাটসহ তাহার নিজস্ব ব্যবহৃত কিছু মালামাল আছে। এই রুমের ওয়ালে এবং ফ্লোরে একটি করে গুলির চিহ্ন আছে। রুমের সামনে দরজার মুখে বারান্দায় একটি গুলির চিহ্ন বিদ্যমান। তাছাড়া রুমের সিলিং-এ মগজ, রক্ত, চুল জড়ানো আছে যাহা শিশু রাসেলের বলে প্রকাশ। এই রুমে একটি ড্রেসিং টেবিল আছে। যাহাতে রক্তের চিহ্ন বিদ্যমান এবং কাচের ফ্রেমে বাঁধানো বঙ্গবন্ধুর সাদা কালো ছবি একটি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আছে। এই রুমের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে দরজার সামনে বেগম মুজিব, শেখ জামাল, রোজি জামাল, সুলতানা কামাল ও শেখ রাসেলের লাশগুলি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়িয়া ছিল। এই রুমের সংলগ্ন উত্তর পাশে বাথ কাম ড্রেসিং রুম আছে। এই রুমে বেগম মুজিব, শেখ জামাল, তার স্ত্রী রোজি জামাল, কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ রাসেল ও কাজের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে রমা প্রাণ ভয়ে লুকাইয়া ছিলেন এবং সেখান হতে  তাঁদেরকে বাহির করে  বঙ্গবন্ধুর রুমেই গুলি করে হত্যা করা হইয়াছিল। বঙ্গবন্ধুর রুমের উত্তর দিকে শেখ হাসিনার শয়ন কক্ষ। কক্ষটি সংলগ্ন উত্তর দিকে বাথরুম। এই কক্ষের পার্শ্বে উত্তর পশ্চিমে আরো একটি ছোট কক্ষ। শেখ হাসিনার রুম সংলগ্ন পশ্চিম দিকে একটি বারান্দা। বারান্দার উত্তর দিক দিয়া নিচে উঠা নামার একটি সিঁড়ি রয়েছে।

বাড়ির তৃতীয় তলায় শেখ কামালের শয়ন কক্ষ এবং বঙ্গবন্ধুর বৈঠক খানা। শেখ কামালের রুমটি সিঁড়ি দিয়ে উঠে উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। কক্ষটি পূর্ব পশ্চিমে লম্বা, কক্ষটির দক্ষিণ দিকের জানালার গ্লাসে একটি গুলির চিহ্ন আছে, গ্লাস ভাংগা, কক্ষটির দক্ষিণ দিকে একটি দরজা, সিঁড়ি দিয়া উপরে উঠা এই দরজা দিয়া কক্ষে প্রবেশ করা যায়। এই রুম সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ড্রেসিং কাম বাথ আছে।

ঘটনাস্থলের চৌহদ্দীঃ

ঘটনাস্থল বাড়ির উত্তরে একটি নির্মাণাধীন বহুতল বিশিষ্ট দালান যাহার নাম ‘প্যারাডাইস পয়েন্ট’। ইহার পরে ধানম-ির সাবেক ৩১ নং বর্তমান ১২ নং রোড। দক্ষিণে সাবেক ৩২ নং রোড বর্তমানে ১১ নং রোড, ইহার পর খালি জায়গা তথা লেকের পার ও পরে ধানমন্ডিলেক। এই লেকের পূর্ব দক্ষিণে কলাবাগান পার্ক যাহা ঘটনাস্থল বাড়ি হতে আনুমানিক ২৫০ গজ দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এই মাঠ থেকেই আসামি মেজর (অবঃ) মহিউদ্দিন আহমেদ আর্টিলারি-গান থেকে ঘটনাস্থলের দিকে গোলা ছুড়ে ছিল। পূর্বে ৬৭৮ (পুরাতন) ৮ (নতুন) বাড়ি যাহার মালিক সাবেক সচিব জনাব নূর উদ্দিন আহমেদ, ইহার পরে ৬৭৯ (পুরাতন) ৬ (নতুন) বাড়ি যাহার মালিক লুৎফর রহমান, আয়কর কর্মকর্তা পরে ৬৮০ (পুরাতন) ৪ (নতুন) হোল্ডিং আয়নুল হকের বাড়ি। ইহার পর উত্তর-দক্ষিণে মিরপুর রোড। পশ্চিমে ৬৭৬ (পুরাতন) ১২ (নতুন) বাড়ি যাহার মালিক মৃত ডাঃ আব্দুস সামাদ। ইহার পর ৬৭৫ (পুরাতন) ১৪ (নতুন) হোল্ডিং এনাম আহমেদ চৌধুরী এবং ফারুক আহমেদ চৌধুরীর বাড়ি। পরবর্তী ৬৭৪ (পুরাতন) ১৬ (নতুন) বাড়ি যাহার মালিক মহিবুল হাসান। ইহার পর একটি উত্তর-দক্ষিনে বাইলেন, যাহা ৩১, ৩২ নং রোডের সংযোগ রয়েছে। ঘটনাস্থলের বিস্তারিত খসড়া মানচিত্র সূচিসহ তৈরি করা হয়। ঘটনাস্থল বাড়ি থেকে পুরাতন রক্তসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ৪৫ প্রকার আলামত জব্দ করা হয়।…….  (চলবে)

লেখক : অতি : ডি,আই,জি (অব)

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *