ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাহার আকন্দ বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)

পূর্বে প্রকাশের পর………..

১৯৭৪ সালে বন্যার কারণে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। কুমিল্লা BARD-এর মাধ্যমে বন্যা-উত্তর পূনর্বাসন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ওই সময় মাহবুব আলম চাষী BARD এর পরিচালক পদে নিয়োগ পান। পূর্ব যোগসূত্র থাকার কারণে খন্দকার মোস্তাক সাহেবই মাহবুব আলম চাষীকে BARD-এ পোস্টিং করিয়ে দেন। ওই সময় দেশে স্বনির্ভর আন্দোলনের একটি কমিটি করা হয়। স্বনির্ভর আন্দোলনের কমিটির বিভিন্ন মিটিং BARD-এ অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে BARD-এ আয়োজিত বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। খন্দকার মোস্তাক আহম্মদ এবং মাহবুব আলম চাষীর উদ্যোগেই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে খন্দকার মোস্তাক আহম্মদ, তাহের উদ্দীন ঠাকুর, অধ্যাপক নূরুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজেও সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সন্ধ্যার দিকে তাহের উদ্দীন ঠাকুর ও আরো দুয়েকজন এমপিসহ BARD-এর রেস্ট হাউজে চা পান করতে ছিলেন। তখন আর্মির জিপে সিভিল পোশাকে মোস্তাক সাহেবের আত্মীয় মেজর রশিদ এবং আরেক জন BARD-এ মোস্তাক সাহেবের সঙ্গে দেখা করে। তাহের উদ্দীন ঠাকুর এবং মাহবুব আলম চাষীও মোস্তাক সাহেবের রুমে যান।

জুন/৭৫-এর শেষে অথবা জুলাই-এর প্রথম দিকে কুমিল্লা দাউদকান্দি মাদ্রাসা মাঠে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে মোস্তাক আহাম্মদ, তাহের উদ্দীন ঠাকুর, আলী আশরাফ এমপি উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে মোস্তাক সাহেবের আত্মীয় মেজর রশিদ সঙ্গে মেজর ফারুক, মেজর শাহরিয়ারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিল। মাহবুব আলম চাষী এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিল। সম্মেলন শেষে মেজর রশিদ, মেজর ফারুক, মেজর শাহরিয়ার মোস্তাক সাহেবের সঙ্গে তার বাড়িতে যান।  এইভাবেই মেজর সাহেবদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত হয়।

জনাব দেওয়ান ফরিদ গাজী এমপি (বাহুবল সিলেট) তাঁর জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৪ সালে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। খন্দকার মোস্তাক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি dispose up করার জন্য জনাব ফরিদ গাজী সাহেবকে খন্দকার মোস্তাক নির্দেশ দেন। কিন্তু, নথির বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নথিটি dispose up না করে তিনি খন্দকার মোস্তাক সাহেবের কাছে যান এবং নথিটি dispose up না করার অনুরোধ করেন। কিন্তু, মোস্তাক সাহেব বার বার দেওয়ান ফরিদ গাজী সাহেবকে চাপ দিচ্ছিলেন। তখন গাজী সাহেব বলেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ‘বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপ করতে হবে’। তখন উত্তেজিত হয়ে মোস্তাক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু, he dose not know that he is walking on his grave’ দেওয়ান ফরিদ গাজী বিষয়টি বঙ্গবন্ধুকে অবহিত করলে তিনি বলেন, ‘রাখ, রাখ’ এই ঘটনার পরই ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটে।

জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহেবের স্ত্রী বেগম নাফিসা- জবানবন্দিতে জানান, ১৫ আগস্টের অনুমান এক মাস আগে মেজর ফারুক তার মামা নুরুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়া উনাদের বাসায় আসে এবং বলে যে খন্দকার মোস্তাক সাহেবের সাথে দেখা করার জন্য বলে  দিতে। তিনি যেন খন্দকার মোস্তাককে টেলিফোন করে দেন। ফারুক, জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে চায় কিন্তু নজরুল সাহেব দেখা করেন নি।

লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আবদুল হামিদ (অবঃ) পি.এস.সিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে তিনি স্টেশন কমান্ডার হিসেবে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। ১৪ আগস্ট/৭৫ তারিখ বিকেলে ক্যান্টমেন্ট আর্মি টেনিস কোর্টে টেনিস খেলছিলেন। তার সঙ্গে মেজর জেনারেল জিয়া, কর্নেল খুরশিদ, কর্ণেল পরে মেজর জেনারেল মামুন টেনিস খেলছিলেন। খেলার সময় মেজর ডালিম, মেজর নূর টেনিস গ্রাউন্ডের আশেপাশে পায়চারী করতে দেখেন। প্রকৃতপক্ষে আগস্ট/৭৫-এর প্রথম দিক হতেই মেজর ডালিম মেজর নূর মাঝে মাঝে টেনিস কোর্টে আসতো। টেনিস কোর্টে তাদের আসাটা অস্বাভাবিক ছিল। জেনারেল শাফিউল্লাহ একদিন খেলার সময় জিজ্ঞেস করেন এসব জুনিয়ররা কেন এখানে খেলতে আসে। এই দুজনকে আসতে মানা করে দিও। খেলার পর তিনি নূরকে ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কার অনুমতিতে তারা আসছে। নূর জানায়, জেনারেল জিয়ার অনুমতিতে এসেছে। মামলার হত্যাকারীদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের আগে থেকে যোগযোগ ছিল।

সেনা প্রধান মেজর জেনারেল কেএম শফিউল্লাহ জবানবন্দিতে বলেন, ‘১৯৭২ সালে ৭ই এপ্রিল তাকে কর্নেল পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। জিয়াকেও কর্নেল পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। তাকে পদোন্নতি দিয়ে সেনাবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব নিতে বলা হয়। কিন্তু জিয়া আমার থেকে বাই নাম্বারে সিনিয়র হওয়ায় দুজনের একই প্রশিক্ষণ, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও একই ব্যাক গ্রাউন্ড। তিনি  প্রথম অবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণে জেনারেল রবকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে আপত্তি জানায় এবং জিয়া বাই নাম্বারে সিনিয়র তা জানাই। বঙ্গবন্ধু তাকে ‘বল্লেন, তোমরা বড় বেশি কথা বল। জান এইটা পলিটিকেল ডিসিশান’। এরপর তিনি  অফিসে চলে আসেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি টেলিফোনে জিয়াকে জানান। জিয়া উত্তরে তাকে ‘ঠিক আছে শফিউল্লাহ, গুডবাই’। জিয়া ওই সময় থেকে ক্ষোভ পোষণ করতে থাকে। তিনি আরো বলেন, ১৯৭৪ সালের প্রথম দিকে কর্নেল তাহের একদিন ওনার অফিসে আসে এবং বলে, ‘আপনি তো অনেকদিন চিফ অব স্টাফ থাকলেন এবার জিয়ার জন্য পদটা ছেড়ে দেন।’ তিনি তার ব্যবহারে বিস্ময় বোধ করলেন এবং বল্লেন তিনি তার বিরুদ্ধে অ্যাকশান নেবার আগেই যেন মেডিকেল বোর্ডে অ্যাপিয়ার হয়ে স্বসম্মানে অবসর গ্রহণ করে। বিষয়টি তিনি বঙ্গবন্ধুকে বলেন। বঙ্গবন্ধু তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। কর্নেল তাহের চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তাহেরের অবসরের বিষয়টিও অপপ্রচারকারীরা অপপ্রচারের কাজে ব্যবহার করে। তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের জুন-জুলাই মাসের কোনো এক তারিখে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আর্মির কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে যান। আলোচনা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু প্রকাশ করেন, তিনি জিয়াকে রিজাইন করতে বলেছেন। কারণ, সে জানায় তাকে আর্মির চিফ বানালে বেটার সার্ভিস দিতে পারবে।

কর্নেল (অবঃ) সৈয়দ আলী আনসার তার জবানবন্দিতে জানান যে, তিনি ৪ নভেম্বর ১৯৭৩ সালে ১ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্ট কুমিল্লায় যোগদান করেন। তার যোগদানের আগে মেজর শরিফুল হক ডালিম এই ইউনিটের অফিসিয়েটিং সিও ছিলেন। তখন অ্যাডজুন্টে  ছিলেন ক্যাপেন্ট বজলুল হুদা এবং টু আইসি ছিলেন মেজর আবদুল আজিজ পাশা। মেজর আজিজ পাশা ক্যাপ্টেন বজলুল হুদার ভগ্নিপতি। মেজর ডালিমকে একজন উশৃঙ্খল অফিসার হিসেবে লক্ষ্য করেছেন। আইএস ডিউটি করার সময় মেজর ডালিম বিভিন্ন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়।

মেজর জেনারেল এম. খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান ১৯৭৩ সালে ২৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান থেকে এসে বাংলাদেশ আর্মিতে যোগ দেন। তখন তিনি ব্রিগেডিয়ার ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাকে ডি.জি বিডিআরের দায়িত্ব দেন। তিনি প্রকাশ করেন, তখন তিনি দেখেন, সেনাবাহিনীর মধ্যে সরকারি তরফ থেকে তাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে মর্মে এক ধরনের অনুভূতি বিরাজ করছে এবং এই নিয়ে আর্মির মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি আছে। বঙ্গবন্ধুর সময় সিভিল এবং আর্মির একই সঙ্গে ‘পে-কমিশন’ গঠিত হয়। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান আর্মি থেকে সদস্য ছিলেন। বিশ্বের কোথাও আর্মি ও সিভিল সার্ভেন্সদের একই পে-স্কেল হয় না। জিয়াউর রহমান এই বিষয়টা পে-কমিশনার এর সামনে তুলে ধরে নি। অন্যদিকে জিয়াউর রহমান এবং সফিউল্লাহ দুজন একই ব্যাচের ছিলেন। তা সত্ত্বেও জিয়াউর রহমান সফিউল্লাহর চেয়ে বাই-নাম্বারে সিনিয়র ছিলেন। সেই হিসাবে জিয়াউর রহমানের চিফ হবার কথা ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় জিয়াউর রহমানের মনে ক্ষোভ ছিল। ওই সময় শোনা যাচ্ছিল সরকার জিয়াউর রহমানকে অ্যাম্বাসেডর বা হাই কমিশনার করে বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে এবং মোস্তাক আহম্মেদও কেবিনেট থেকে আউট হয়ে যাচ্ছে।

মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামী লে. কর্নেল মুহিউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, সৈনিকদের বেতন, রেশন, কাপড়-চোপড় ইত্যাদি কম সরবরাহের কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইহা তাছাড়া সরকার রক্ষীবাহিনী গঠন, বাকশাল গঠন, গভর্নর প্রথা চালু  এবং সংবাদপত্র প্রকাশ বন্ধ করার বিষয় নিয়ে অফিসারদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে সিও মেজর রশিদ ইন্ডিয়া থেকে আসার পর প্রায়ই দ্বিতীয় ফিলড আর্টিলারির প্যারেড গ্রাইন্ডে এসে তার প্রাইভেটকারে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যেত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে যেমন বাকশাল গঠন এবং রক্ষী বাহিনী গঠন পত্রিকা বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করতেন। খন্দকার রশিদ তাকে তার মতাদর্শী মনে করতেন। উপরে বর্ণিত বিষয় পরিষ্কার বুঝা যায় যে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্র চলছিল।

তদন্তের ফলাফল

তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণে, দলিলাদি পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণে প্রকাশ পায় যে, খন্দকার মোস্তাক আহম্মদ রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেয়ে সিনিয়র ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর অবস্থান তার উপর ছিল, যা তিনি কোন সময় মনে-প্রাণে মেনে নিতে পারেন নি। আওয়ামী মুসলিম লীগ হইতে আওয়ামীলীগ গঠনের সময় মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়ায় খন্দকার মোস্তাক আহম্মদ আওয়ামী লীগে যোগদান না করে আওয়ামী মুসলিম লীগ সংগঠন চালাতে থাকেন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। শেখ মুজিবুর রহমান জুনিয়র হওয়া সত্ত্বেও দলের জেনারেল সেক্রেটারি হন। তখন থেকে খন্দকার মোস্তাক বঙ্গবন্ধুর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় খন্দকার মোস্তাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকা অবস্থায় তাঁহার সচিব মাহাবুল আলম চাষীসহ পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কনফেডারেশন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। যার কারণে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তখন থেকে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধু দেশে আসার পর নীতি নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁহার মত বিরোধ দেখা দেয় ফলে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম লগ্ন থেকেই সাবেক মেজর ও পরবর্তীতে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান উচ্চভিলাষী ও ক্ষমতা লিপসু ছিলেন। মেজর জেনারেল শফিউল্লা ও মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান দুজনেই স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং তারা কোর্সমেট ছিলেন। কিন্তু বাই নাম্বারে জিয়াউর রহমান সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে সেনা প্রধান না করিয়া শফিউল্লাকে সেনা প্রধান করার কারণে জিয়াউর রহমান তৎকালীন সরকার এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি মনে মনে ক্ষুব্ধ ছিলেন।

মেজর ফারুক রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের বাহিরে আবুধাবিতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ না নিয়ে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে দুই বছর সিনিয়রিটি দাবি করেন। কিন্তু তাকে সিনিয়রিটি দেওয়া হয় নি। প্রথম পর্যায়ে প্রথম বেঙ্গল ল্যান্সারের কমান্ডিং অফিসার হন। কিন্তু পরবর্তীতে পাকিস্তান থেকে সিনিয়র অফিসার ইউনিটে যোগদান করায় তার কমান্ডিং অফিসারের পোস্ট ছেড়ে দিতে হয়। ১৯৭৪ সালে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী অংশগ্রহণকালে বিভিন্ন কারণে তৎকালীন কতিপয় আওয়ামীলীগ কর্মীর সঙ্গে তার দন্দ্ব হয়। একই সময় মেজর ডালিমের স্ত্রী-কে কেন্দ্র করে ১ম বেঙ্গল ল্যান্সার অর্থাৎ তার ইউনিটের কতিপয় অফিসার ও জোয়ান আওয়ামী লীগ নেতা গাজী গোলাম মোস্তফার বাড়ি আক্রমণ করে তছনছ করে। উপরিক্ত কারণে তখন থেকে মেজর ফারুক আওয়ামী লীগ তথা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিক্ষুব্ধ ছিলেন।

মেজর খন্দকার আঃ রশিদ ছাত্র অবস্থায় এন,এস,এফ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং শরিফুল হক ডালিম-এর সঙ্গে এক সঙ্গে রাজনীতি করিতেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন।  যুদ্ধ অবস্থায় তার স্ত্রী-জোবায়দা রশিদ পাকিস্তানে গমন করেন এবং রশিদের সঙ্গে মিলিত হন। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে অক্টোবর মাসে পাকিস্তান সরকার রশিদকে মেজর পদে পদোন্নতি দেন। পদোন্নতি পাওয়ার পর পরই ১০ দিনের সি,এল ছুটি দেন, যা তৎকালীন সময়ে সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ছিল। এই ছুটিতে তিনি স্বপরিবারে বাংলাদেশে আসেন এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের পর তিনি দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারি, সি,ও এর দায়িত্ব পান। যুদ্ধের পর তার ইউনিটে তৎকালীন পাক বাহিনীর রেখে যাওয়া মূল্যবান মালামাল তিনি আত্মসাতের চেষ্টা করেন। কিন্তু সৈনিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হওয়ায় বিষয়টি প্রধান্য পায়। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুসন্ধান করে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করে। কিছু দিন পর তাঁকে কমান্ডিং পোস্ট ছাড়িয়া দিতে হয়। তাতে  তিনি এবং তাহার স্ত্রী  জোবাইদার রশিদ উভয়ই সরকারের প্রতি বিক্ষুব্ধ ছিলেন।

মেজর শরিফুল হক ডালিম ছাত্র অবস্থায় কুমিল্লায় লেখাপড়া করাকালীন স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তার গোলমাল হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কুমিল্লার প্রথম ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্ট কর্মরত থাকাকালীন ১৯৭৪ সালের দিকে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার সময় ব্যক্তিগত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ডালিম  ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে এবং এই সমস্ত অন্যায় কর্মকান্ডে তখন থেকেই তার সঙ্গে তৎকালীন ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা ইউনিটের অ্যাডজুটেন্ট থাকা অবস্থায় জড়িত ছিলেন। ক্যাপ্টেন আজিজ পাশা পাশাপাশি একই ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। তার সঙ্গে নেতা-কর্মীদের গোলমাল হয়। আবার একই সময়ে ডালিমের স্ত্রীকে লইয়া ঢাকা লেডিস ক্লাবে আওয়ামী লীগ নেতা গাজী গোলাম মোস্তফার লোকজনের সাথে গোলমাল হয়। সেই গোলমালের কারণে তিনি এবং প্রথম ল্যান্সার বেঙ্গল রেজিমেন্টের কিছু অফিসার ও জোয়ানসহ গাজী গোলাম মোস্তফার বাড়ি আক্রমণ করে  তছনছ করলে শৃঙ্খলা ভংগের কারণে মেজর ডালিম, মেজর নূরসহ কতিপয় অফিসারের চাকরি চলে  যায়। ওই সময় মেজর নূর মেজর ডালিমের পক্ষ সমর্থনকারী হিসেবে খুবই তৎপর ছিলেন।  ……  (চলবে)

লেখক: অতি: ডি,আই,জি (অব)

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *