ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

সামীউন তাজ্জীদ ইসলাম ও

সামীউন তাম্মীন ইসলাম

উভয়ে সপ্তম শ্রেণি, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহী

আমাদের সোনার বাংলাদেশে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে, যেখানে আমাদের অনেকেরই কখনই যাওয়া হয়নি। উত্তরবঙ্গে অনেক আশ্চর্য রকমের বিখ্যাত স্থান আছে, যা আমাদেরকে মুগ্ধ করে। আমরা সেই মুগ্ধ করার স্থানগুলো দেখার জন্য ১১ই জানুয়ারি ২০২২ উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রাজশাহী জেলা থেকে বের হই। আমরা জমজ দুই ভাই তাম্মীন – তাজ্জীদ বেড়াতে বের হই আমাদের বাবা-মা-এর সঙ্গে। আমরা বের হয়েছিলাম সন্ধ্যা ৬টার সময়। সেই সময় রাজশাহী শহরটি আলো ঝলমল করছিল। তখন রাজশাহী শহরটিও আমাদের মুগ্ধ করছিলো। সে সময় অনেক ঠা-া পড়েছিলো। আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য বগুড়ার মুগ্ধকরা জিনিসগুলো দেখা। রাতের সময় যদিও প্রাকৃতিক দৃশ্য ভালো করে দেখা যায় না, কিন্তু তার একটা আলাদা মজা আছে। হাইওয়েতে রাতে চলাকালীন অবস্থায় কিছু দেখা যায় না, অন্যান্য গাড়ির আলো ছাড়া। যখন রাত ৯টা তখন রাস্তায় মাঝে মধ্যেই ব্যাপক কুয়াশা ছিল। তখন রাস্তার চারপাশটা ভূতুড়ে লাগছিল। মনে হচ্ছিল কখন কোন ভূত দেখি।

আমরা একটি দোকানের সামনে নেমে চা খেয়ে কিছু সময়ের বিরতি নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করি। আনুমানিক ৩ ঘণ্টার বেশি সময় পর আমরা আবার বগুড়া যাত্রা শুরু করি। আনুমানিক ৩ ঘন্টার রেশি সময় পর আমরা বগুড়া পৌঁছাই। সেখানে আমরা আমাদের বাবার এক বন্ধু মামুন আংকেল-এর বাড়িতে এক রাত কাটাই। পরের দিন ৭টায় ঘুম থেকে উঠি। তারপর আমরা বগুড়ার আমাদের দেশের বিখ্যাত মহাস্থানগড়ের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়ি তাদের বাড়ি থেকে। সময় বাঁচানোর জন্য আমরা আমাদের নাস্তা একটি রেস্টুরেন্ট থেকে খেয়ে নিই। যখন আমরা মহাস্থানে পৌঁছে যাই আমি অবাক হয়ে যাই যে সেই প্রাচীন সভ্যতা এখনও কী করে টিকে আছে। বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। ‘মহাস্থানগড়’ পুন্ড্রনগর নামেও  পরিচিত ছিল। এক সময় মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিলো। যিশু খ্রিষ্ট্রের জন্মের আগে অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এখানে সভ্য জনপদ গড়ে উঠেছিল। এই দীর্ঘ সময়ে অধিকাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে চারদিকের দেয়াল এখনো টিকে আছে। আমরা এখানে আসার পর সেই নগরের প্রাচীন দেয়ালের ওপর দিয়ে হেঁটেছি। সেই জনপদ অনেক সভ্য ও ধনী ছিলো। ফলে তারা নিরাপত্তার জন্য চারদিকে প্রশস্ত ও উঁচু একটি দেয়াল তৈরি করে। অনেকটা চীনের মহা প্রাচীরের মতো। তারপর মহাস্থানগড়ের জাদুঘরে গেলাম। সেখানে প্রাচীন মূর্তি, হাড়ি, পাতিল দেখলাম। জাদুঘর থেকে বের হয়ে আমরা রংপুরের উদ্দেশ্যে বের হলাম।

আমাদের র্টাগেট তিন বিঘা করিডোর। আমরা মাঝখানে থেকে খাবারের প্যাকেট কিনে নিলাম। বিকেল ৩টার সময় আমরা বিকেলের খাবার খেয়ে আবার যাত্রা শুরু করি। তিন বিঘা করিডোর পৌঁছানো আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তিন বিঘা করিডোরা হলো একটি স্বতন্ত্র ভূমি, যা ভারতের নিয়ন্ত্রিত জায়গার মধ্যে অবস্থিত। করিডোর ছাড়া আঙ্গরপোতা গ্রাম ও দহগ্রামের মানুষেরা তাদের নিজের দেশে আসতে পারতনা। দুটি গ্রামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা স্বাস্থ্য সেবা ছিল না। সেখানকার মানুষের চলাফেরার জন্য কোন রাস্তা ছিল না। নানা ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল তারা। ২০১১ সাল করিডোরটি ভারত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে সেই সঙ্গে ছিটমহলে বসবাস রত মানুষের নতুন দিনের সূচনা হয়। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ৪ ঘণ্ঠা জার্নির পরে আমরা সন্ধ্যা ৬ টায় সেখানে পৌঁছাই। সন্ধ্যা বেলায় করিডোরটি গাছপালায় পূর্ণ হওয়ায় দেখতে অত্যন্ত সুন্দর, মনোরম লাগছিল। করিডোরটি তখন পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত ছিল। মনে হয় পাখিগুলি তিন বিঘা করিডোরে আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। করিডোর এর দুই পাশে ভারতের ও বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী সতর্কভাবে কাজ করছিল। আমরা বাংলাদেশের বিজিবির সঙ্গে কথা বলি এবং তাদের বাচ্চাদের কথা জিজ্ঞেস করি। মনে হয় অনেক দিন বাচ্চাদের দেখতে না পেয়ে তাদের মনে কষ্ট ছিল। আমরা করিডোরটি হেঁটে অঙ্গরপোতা গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলাম। আমরা সেখানে নাস্তা করি। আমাদের সঙ্গে বিজিবিও পুলিশ নাস্তা করে। আনুমানিক ৪০ মিনিট পর আমরা ভিন্ন জগতের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। রাস্তায় তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। চারপাশে শুধু কুয়াশা কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তাই আমার একটু ভয় করছিলো। যেতে যেতে রাস্তার একটি দোকান থেকে কিছু কমলা কিনে নিই।

ভিন্ন জগতে আসার আগে আমাদের বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারেজ দেখার সুযোগ হয়েছে। আমরা গাড়ি থেকে নেমে দেখলাম ব্যারেজটি। নদীতে অনেক স্রোত ছিল। কেউ মাছ ধরছিল। নদীর প্রবল ¯্রােতে আবার মাঝে মধ্যে ব্রিজটি কাঁপছিল আবার গাড়িতে ওঠে রওনা দিলাম। আমরা ভিন্নজগতে রাত ১১টায় পৌঁছাই। আমরা ভিন্নজগতের আবাসিক হোটেলে রাতের খাবার খেয়ে নিই। হোটেলের নাম ড্রিম প্যালেস। আমরা সেই হোটেলে এক রাত কাটাই। সকাল ৭টায় ওঠে আমরা কুয়াশার মধ্যে হেঁটে চারদিকটা যতটুকু দেখা যায় ততটুকু দেখে আসলাম তারপর হোটেলে এসে নাস্তা করি। যেহেতু কুয়াশার মধ্যে কোনো কিছু ভালো করে দেখা যায় নি তাই ভিন্নজগতের নিদর্শন দেখতে আবার বের হই। সেখানে একটা গাছের উপর কাঠের একটি বাড়ি দেখেছি। সেখানে আমরা আবার গুহায় ঢুকি। সেই গুহা তেমন কোনো গুহা না। তবে গুহাটিতে বাংলার  কিছু সাধারণ দৃশ্যের মূর্তি আছে। আমরা হাটতে হাটতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। তাই মাঝখানে একটু লাল চা পান করলাম। ভিন্নজগতে দুনিয়ার কিছু বিশেষ নিদর্শন ছোট আকারে নমুনা বানানো হয়েছে। সেখানে ছিলো আইফেল টাওয়ার, চীনের মহাপ্রাচীর, তাজমহল, পিরামিড, এবং মস্কোর বিখ্যাত ঘণ্টা। ভিন্নজগতে একটি প্লানেটোরিয়াম আছে। সেখানে মহাবিশ্ব নিয়ে কিছু ভিডিও দেখলাম। তারপর আমরা হোটেলে আমাদের রুমের চাবি দিয়ে আসি।

আমাদের ভ্রমণের মধ্যে অরেকটি ছিলো রংপুরের চিকলি ওয়াটার পার্ক। সেখানকার ম্যানেজার আমাদের পার্কটা দেখালেন। সেখানে ইংল্যান্ডের লন্ডন আই এর মতো বড় এক নাগরদোলায় উঠেছি। আমরা তার নাম দিলাম রংপুর আই। নাগরদোলাটি অনেক উঁচু সেখানে থেকে নেমে আমরা বিকালের খাবার খেয়ে একটা স্পিডবোডে উঠলাম। পাশে একটা বিল ছিলো। সেখানে বোটটি পানিতে ভাসছিল। সেই পার্কটিতে বসার সুন্দর একটি জায়গা ছিল। আমাদের সাথে যোগ দিলেন বাবার কলিগ এসপি আসাদ ও এসপি জাকির আংকেল এবং তাদের পরিবার। সেখানে আমরা রংপুরের স্থানীয় খাবার ও চটপটি খেলাম। সেখানে অনেক সময় ধরে বসেছিলাম। তারপর ৬টা ৩০ মিনিট বগুড়ার উদ্দেশ্যে পার্কটি ত্যাগ করি অর্থাৎ রংপুর ত্যাগ করি।

তারপর আবার আমরা বাবার বন্ধুর বাড়িতে সেই রাত থেকে পরের দিন রাজশাহীতে ফিরে গেলাম। ভ্রমণে যাওয়া শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে একজন শিশুদের অভিজ্ঞতা বাড়ে এবং এতে শিশুদের জ্ঞান অর্জন হয়। ভ্রমণের মাধ্যমে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও মানুষের মধ্যে সম্পৃতি গড়ে ওঠে। শিশুরা ভ্রমণের মাধ্যমে দেশ সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করে এবং বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে। তাই অবিভাবকদের উচিত শিশুদের দেশের বিভিন্ন স্থান দর্শনে নিয়ে যাওয়া, যা শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *