ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার)

ও কামরুন নাহার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহী

উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, এই অগ্রযাত্রায় শামিল হয়েছি আমরা, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার অংশ হিসেবে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন বর্তমান ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)। আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশনাকে ধারণ করে একটি গতিশীল, গণতান্ত্রিক ও জনবান্ধব রেঞ্জ পুলিশ ব্যবস্থাপনার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন মোঃ আব্দুল বাতেন, বিপিএম, পিপিএম, ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ, রাজশাহী।

বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশে যে গুণগত এবং আচরণগত পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় ‘কার্যকর প্রশিক্ষণ-পেশাদার পুলিশিং’ এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে প্রযুক্তি নির্ভর, মেধাভিত্তিক ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহী।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স স্মারক নং- সিএন্ডএ/বি/২০-২০০৫/৯৯৫, তারিখ-১৮/০৪/২০০৫ খ্রি. মোতাবেক রাজশাহী জেলায় কর্মরত কনস্টেবল থেকে এএসপি পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইন্সে দ্বিতল (আংশিক) একটি ভবন নির্মাণপূর্বক ওই ভবনে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহী’র যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহীর কর্মপরিধি সম্প্রসারিত হয় এবং আরআরএফ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ওই প্রতিষ্ঠানের আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার-এর প্রশিক্ষণকে গতিশীল ও যুগোপযোগী করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, পুলিশ-৩ শাখার স্মারক নং-৪৪.০০.০০০০.০৯৬.০৫.০১০.১৮-৮৭(৫), তারিখ-১৫/০৩/২০২০ খ্রি. মোতাবেক কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার)-এর একটি পদ সৃজন করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকার স্মারক নং-ওঅ্যান্ডএম/৪৪.০১.০০০০.০২৬.৯৯.৩৬-২০১৯/১৮৫(১৬৬), তারিখ- ২৪/০৩/২০২০ খ্রি. মোতাবেক ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারগুলো জেলার সাংগঠনিক কাঠামো থেকে অবমুক্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ডিআইজি’র সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত হয়।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম

দেশব্যাপী চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারগুলোয় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনা মোতাবেক বেশ কিছু দিন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত ছিল। তথাপি গত সেপ্টেম্বর/২০২০ থেকে সেপ্টেম্বর/২০২১ পর্যন্ত বর্তমান রেঞ্জ ডিআইজি মহোদয়ের নির্দেশনায় বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের জন্য ৩১টি প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে মোট ৯৩০ জন পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত ৯৩০ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ১৩ জন, সহকারী পুলিশ সুপার চার জন, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র)/ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ৮৪ জন, এসআই(নিরস্ত্র)/সার্জেন্ট/টিএসআই ২৩৯ জন এবং অন্যান্য পদমর্যাদার মোট ৬৯০ জন রয়েছেন। পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য যাতে যুগোপযোগী ও প্রয়োজনভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো দক্ষ ও পেশাদার পুলিশি সেবাদান করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নেপথ্যে কাজ করে চলেছে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহী। বর্তমান রেঞ্জ ডিআইজি মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় এ প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি বিশেষ প্রশিক্ষণ-এর সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো-

  • দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) মহোদয় পুলিশের কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত প্রত্যেক সদস্যের বছরে ন্যূনতম একবার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রি. পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা থেকে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ মহোদয় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে পুলিশের সব সদস্যের পদমর্যাদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বিপিএ, পিটিসি, সব ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারসহ দেশের ১০৫টি পুলিশ ইউনিটে সব পদমর্যাদার প্রশিক্ষণ একযোগে শুরু হয়। ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহী’র পরিচালনায় পৃথক পৃথক তিনটি ভেন্যু রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও আরএমপি, রাজশাহী’তে কনস্টেবল ও নায়েক পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের জন্য এক সপ্তাহ মেয়াদি ‘দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স’ (প্রথম ব্যাচ) শুরু হয় এবং ওই কোর্সে ১০৫ জন কনস্টেবল ও নায়েক পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন। সম্মানিত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ মহোদয় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি চলমান প্রশিক্ষণ কোর্সের ১০৫টি প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে রাতের সেশনে অংশগ্রহণ করে প্রশিক্ষণ সংক্রান্তে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

ডিআইজি মোঃ আব্দুল বাতেন, বিপিএম, পিপিএম, রাজশাহী রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ, রাজশাহী, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ আবু কালাম সিদ্দিক, রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার, এ বি এম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার এ এইচ এম আব্দুর রকিব বিপিএম, পিপিএম (বার) এবং ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহী’র কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার), মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয়গণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। প্রথম ব্যাচের ১০৩ জন পুলিশ কনস্টেবল ও নায়েক সফলতার সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ শেষ করেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীগণ দীর্ঘদিন পর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে মর্মে অভিমত প্রকাশ করেন

  • বিট পুলিশিং কর্মশালা 

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। কোভিড-১৯ কে মোকাবিলা করতে গিয়ে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত, তখন এই স্থবিরতার মাঝেও বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা অব্যাহত রয়েছে। উন্নয়নের এই জয়যাত্রায় জনগণের পাশে থেকে জনবান্ধব পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ পুলিশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এলক্ষ্যে ‘বিট পুলিশিং’ কার্যক্রমকে সম্প্রসারিত করে সারাদেশে অভিন্নরূপে ছড়িয়ে দেয়ার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ মহোদয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ-এর নির্দেশনায়, কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) মহোদয়ের পরিচালনায়, রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার এএসআই থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের জন্য মোট আটটি ‘বিট পুলিশিং’ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সর্বশেষ কর্মশালাটিতে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন)দ্বয়, সার্কেল অফিসারগণ, প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জ অংশগ্রহণ করেন।

  • ‘সাইবার ক্রাইম সম্পর্কিত মামলা তদন্ত’ বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ

অপরাধী শনাক্তকরণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। উন্নত দেশের আদলে বাংলাদেশেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রায় প্রতিটি বিভাগেই সংযোজন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

প্রযুক্তিগত এসব সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন দক্ষ জনবল। বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত পরিচালনা এবং কার্যকরভাবে সাইবার ক্রাইম তদন্ত সক্ষমতা জোরদার করার জন্য দক্ষ তদন্তকারী দল তৈরির লক্ষ্যে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে, কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) মহোদয়ের পরিচালনায়, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৪০ জন মামলা তদন্ত ও তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তাদের জন্য ‘সাইবার ক্রাইম সম্পর্কিত মামলা তদন্ত’ বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ-এর আয়োজন করা হয়। ডিআইজি মোঃ আব্দুল বাতেন বিপিএম, পিপিএম-এর উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণে সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, সিটিটিসি, ডিএমপি, ঢাকা এর দুজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দান করেন। প্রশিক্ষণ শেষে ডিআইজি মহোদয় রাজশাহী রেঞ্জের প্রতিটি জেলায় একটি করে ‘সাইবার ক্রাইম রেসপন্স টিম’ গঠনের নির্দেশনা দেন। এ রেঞ্জাধীন জেলাগুলোতে সাইবার সম্পর্কিত অপরাধ তদন্তের গুণগতমান বৃদ্ধি, অপরাধী ও অপরাধ চিহ্নিতকরণ ও উদঘাটনে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে ‘সাইবার ক্রাইম রেসপন্স টিম’।

  • মামলা তদন্তে ক্রটি ও বিচ্যুতি বিষয়ক কর্মশালা

ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মামলা তদন্ত, যে কাজটি করে বাংলাদেশ পুলিশ। একটি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধী শনাক্তকরণ ও গ্রেফতার এবং পুলিশ রিপোর্ট দান। পুলিশের দাখিলকৃত রিপোর্ট মোতাবেক বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক বিচারকার্য পরিচালিত হয়। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিজ্ঞ আদালত অনেক সময় পুলিশি তদন্তের বিভিন্ন ক্রটি-বিচ্যুতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। যার ফলে অপরাধ সংঘটন প্রমাণিত না হওয়ায় ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয়।

একজন বিচারকের দৃষ্টিতে মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে তদন্তকারী ও তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তার যে সব ভুল-ক্রটি লক্ষ  করা যায়, সেগুলোর বিষয়ে সচেতন থেকে যাতে সুচারুরূপে মামলা তদন্ত কাজ সম্পন্ন করা যায় সেজন্য রেঞ্জ ডিআইজি মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহীতে তদন্তকারী ও তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তাদের ‘মামলা তদন্তে ত্রুটি ও বিচ্যুতি বিষয়ক কর্মশালা’-এর আয়োজন করা হয়, যেখানে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এবং পিবিআই, রাজশাহীর ২৮ জন বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্তকারী ও তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, রাজশাহী ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, রাজশাহী। আমন্ত্রিত আলোচকগণ বিচারাধীন সময়ে লক্ষণীয় মামলার ক্রটি ও বিচ্যুতি সম্পর্কে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। পাশাপাশি রাজশাহী রেঞ্জ ও জেলা এবং  রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ মামলা তদন্তের ক্রটি ও বিচ্যুতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীগণ মামলা তদন্তে ক্রটি ও বিচ্যুতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন।

  • পার্সোনাল হেলথ্ অ্যান্ড হাইজিন বিষয়ক কর্মশালা

বাংলাদেশ পুলিশে এই মুহূর্তে কর্মরত নারী সদস্যের সংখ্যা ১৫ হাজার ১৬৩ জন যা মোট জনবলের শতকরা আট শতাংশ। নারী পুলিশ সদস্যরা পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। প্রকৃতিগত কারণেই নারীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ইস্যুগুলো স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা এগুলো গোপন করে এবং অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়গুলো অনুপস্থিত থাকে। এই পরিস্থিতিতে একজন নারী পুলিশ সদস্য নিজের পাশাপাশি তার পরিবারকেও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলেন। নারী পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মহোদয়ের নির্দেশনায় ও সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি লি. এর সহযোগিতায় রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার এবং আরআরএফ, রাজশাহী’র কনস্টবল থেকে এসআই পদমর্যাদার নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য দুটি পার্সোনাল হেলথ্ অ্যান্ড হাইজিন বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। যেখানে মোট ১০০ জন নারী পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মোসা আমিনা ফেরদৌস, এমবিবিএস (আরএমসি), সিএমইউ, ডিএমইউ, এমপিএইচ (ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো, যুক্তরাজ্য) মেডিকেল অফিসার, নওহাটা পৌরসভা, পবা, রাজশাহী। তিনি সব প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে পার্সোনাল হেলথ্ অ্যান্ড হাইজিন বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেন, তাদের সমস্যা, সুবিধা-অসুবিধার কথা জানতে চান এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন ।

  • হিজড়া/ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মতবিনিময় সভা

সমাজের অবহেলিত সম্প্রদায় হিসেবে তৃতীয় লিঙ্গের অধিকারী বা হিজড়া কমিউনিটির সদস্যদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনগ্রসর এই সম্প্রদায়কে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে তাদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রেঞ্জ ডিআইজি স্যারের নির্দেশনায় ইউএনডিপি এবং বন্ধু ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সার্বিক সহযোগিতায় রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ২৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা, হিজড়া কমিউনিটির আটজন এবং সহযোগি সংস্থার চার জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় হিজড়া কমিউনিটির উপস্থাপিত বিভিন্ন সমস্যাগুলো ধৈর্য্য, মানবিকতা ও সহনশীলতার সঙ্গে সমাধানের ব্যাপারে একমত পোষণ করা হয়। সমাজের প্রতিটি নাগরিকের মতো হিজড়াদের সমানাধিকার নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সদস্যদের অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দায়িত্বপালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

উপসংহার

মানব সম্পদ উন্নয়নে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হচ্ছে কোনো ব্যক্তির জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তার যোগ্যতার উন্নতি ও সমৃদ্ধি সাধন করা। তাই প্রতিটি পেশাজীবির জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে নির্ধারিত বেসিক ট্রেনিং সম্পাদন করে চাকুরিতে প্রবেশ করতে হয়। এর জন্য সারা দেশে মাত্র কয়েকটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই স্বল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বেসিক ট্রেনিং ব্যতীত পুলিশ সদস্যদের অন্য কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ একজন পেশাজীবীর পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধির একমাত্র উপায়। বাংলাদেশ পুলিশের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির অন্যতম লক্ষ্যমাত্রা হলো পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে বছরে কমপক্ষে ০১ টি করে ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনা মোতাবেক সারা দেশে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারগুলো কাজ করে চলেছে। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) স্যারের নেতৃত্বে গুণগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে কার্যকর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাদার পুলিশিং নিশ্চিত করার জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহী।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *