ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ডিটেকটিভ রিপোর্ট

করোনা সংকট দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এই মহামারির কারণে সব ক্ষেত্রেই বিরাট ধাক্কা লেগেছে। তবে আশা করি এই বাধা দূর করে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। দেশবাসীকে মনে সাহস রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

১০ মে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণকালে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, অসুখ-বিসুখ হলে মানুষকে মনে সাহস রাখতে হবে। শুধু ডাক্তার বা ওষুধ দিয়েই ভালো হবে না, মনের জোর ও আত্মবিশ্বাস থেকেও অনেকটা সুস্থ হওয়া যায়। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেসব নির্দেশনা দিয়েছে সকলকে সেগুলো মেনে চলতে হবে। তাহলে সুরক্ষিত থাকা যাবে। ভয় পেয়ে করোনা আক্রান্তদের সঙ্গে অনেকের অমানবিক আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে তাকে দূরে ঠেলে দেওয়া ঠিক না।’

প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় তার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দেশের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। ১০ মে সকালে নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সঙ্গে যুক্ত হন। পিএমওতে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান।

জীবন-জীবিকা চালাতেই বন্ধ

পরিস্থিতি ক্রমশ শিথিল করা হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের জীবন-জীবিকা চালাতেই বন্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ শিথিল করা হচ্ছে। আমরা কিছু কিছু ধীরে ধীরে উন্মুক্ত করার চেষ্টা করছি। কিছু জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা যাতে মানুষ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করছি। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেসব নির্দেশনা দিয়েছে-পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, এক জায়গায় জটলা না করা, যাতে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে, সবাইকে সেটা মেনে চলতে হবে।’

৫০ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ

সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অন্যান্য দেশে করোনাভাইরাসে যেভাবে আক্রান্ত এবং মারা যাচ্ছে তার তুলনায় আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। এই যে একটি অদৃশ্য শক্তির হঠাৎ আক্রমণ এবং এর ফলে সবাই বিপর্যস্ত। আমাদের ভূখন্ড ছোট কিন্তু জনসংখ্যা বেশি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতি সচল রাখা উচিত। এ জন্য আমাদের রয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।’

প্রধানমন্ত্রী ১৪ মে গণভবনে এক অনুষ্ঠানের (ভিডিও কনফারেন্স) মাধ্যমে করোনাভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫০ লাখ পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ প্রেরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। প্রতি পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদানে এরই মধ্যেই ১২৫০ কোটি টাকা ছাড় করেছে সরকার। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিনা খরচে প্রত্যেক পরিবারের হাতে ঈদের আগেই এই টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ২০১৯ সালের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বিতরণ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি চার লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং উপবৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

একই সঙ্গে সুইচ চেপে দুটি কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই হলো আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ। কারো কাছে যেতে হবে না, ধরণা দিতে হবে না, বলতে হবে না। কিন্তু সবার কাছে টাকা হেঁটে পৌঁছে যাবে। মানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, এ অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। আমরা হয়তো অনেক বেশি দিতে পারব না। কিন্তু কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়, সবাই যাতে সামান্য হলেও সহায়তা পায় আমাদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনে প্রয়োজন অনেক বেশি। মানুষের ক্ষুধার জ্বালা আমরা বুঝি। এ জন্য অর্থনৈতিক কর্মকা- ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মহামারি করোনাভাইরাসকে অদৃশ্য শক্তি আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, এমন একটি অদৃশ্য শক্তির মোকাবেলা কোনো দেশই করতে পারছে না। কত শক্তিশালী দেশকেও আমরা দেখেছি, এই করোনাভাইরাস শক্তির কাছে সারেন্ডার করছে।

সারা বিশ্বের এই লকডাউন পরিস্থিতিতে ‘লাভ হয়েছে’ প্রকৃতির বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে পরিবেশ-প্রতিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। প্রকৃতি তার আপন গতিতে ফিরে যাচ্ছে। এটি একটি অদ্ভুত ব্যাপার, এ ধরণের ঘটনা পৃথিবীতে আর কখনো ঘটেনি। অনেক মহামারি ও দুর্ভিক্ষের কাহিনি আমরা জানি। কিন্তু এবারের বিষয়টা ভিন্ন।

কর্মসংস্থান-প্রবাসী ব্যাংকে

আড়াই হাজার কোটি

টাকা দেবে সরকার

কর্মসংস্থান ব্যাংকে দুই হাজার কোটি টাকা আমানত দেবে সরকার। যাতে স্বল্প সুদে দেশের বেকার তরুণ-তরুণীরা ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন। আর প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে আরো ৫০০ কোটি টাকা আমানত দেবে সরকার। যাতে ঘরবাড়ি বিক্রি করে বিদেশে যেতে না হয় এবং বিদেশ থেকে ফিরলে সেখান থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংকে ঋণ প্রদান বৃদ্ধি করার জন্য আরো দুই হাজার কোটি টাকার বিশেষ আমানত দেওয়া হবে। ওখান থেকে যুবক শ্রেণি যাতে বেকার হয়ে ঘুরে না বেড়ায় তার জন্য সেখান থেকে ঋণ নিতে পারবে তারা। নিজেরা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে।

প্রবাসীদের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের যারা প্রবাসী, তারা রেমিট্যান্স পাঠায়। তারা যেন ঘরবাড়ি বিক্রি না করে, ঋণ নিয়ে বিদেশে যেতে পারে, তার জন্য প্রবাসী কল্যাণ নামে আরেকটি বিশেষ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি। সেই ব্যাংকেও আমরা আরো টাকা দেব। সেখানে আমরা অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা দেব। এর আগে ওখানে আমরা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছি।’

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *