ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন

৩.

পূর্ব প্রকাশের পর…

জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (Convention on the Rights of the Children)-এ ১৮ বছরের নীচে সকল মানব সন্তান-ই শিশু; যদি না শিশুর জন্য প্রযোজ্য আওতায় ১৮ বছরের আগে শিশুকে সাবালক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উক্ত সনদে শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ (Best Interest of Child) নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে; যথা: শিশু অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, শিশুর স্বার্থ সুরক্ষা, শিশুর প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন, শিশুর জন্মনিবন্ধীকরণ, শিশুর মানসম্মত আবাসন ও আইনসম্মত পরিচিতি, শিশুর পারিবারিক সংহতি ও কোনোক্রমেই ভীতি প্রদর্শন না করা, শিশুর মত ও ভাবপ্রকাশের অধিকার, শিশুর চিন্তা-বিবেক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিশুর সংঘবদ্ধ ও সমাবেশের অধিকার, শিশুর মর্যাদা এবং সুনামের অধিকার, শিশুর শারীরিক ও মানসিক উন্নয়ন, শিশুর যথোপযুক্ত লালন পালন, শিশুর প্রতি সদাচরণ, পরিবার বঞ্চিত শিশুর যত্ন, দত্তক গ্রহণ, শরণার্থী ও প্রতিবন্ধী শিশুর অধিকার, শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, চিকিৎসা-পরিচর্যা, শিশুর সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন, শিশুর শিক্ষালাভের অধিকার, শিশুর অবসর ও বিনোদন এবং বিকাশ, মাদকদ্রব্য ও চেতনানাশক ওষুধের অবৈধ ব্যবহার হতে শিশুকে রক্ষা, যৌন পীড়ন হতে রক্ষা, শিশু শোষণ-পাচার  প্রতিরাধ, শিশুর গ্রেফতার ও দন্ড নির্ধারণ, শিশুকে সশস্ত্র সংঘাতে নিযুক্ত না করা, শিশুর প্রতি অবহেলা প্রদর্শন না করা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

জাতিসংঘের UNICEF এর হিসেবে বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের সংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লাখ। পুলিশ সদর দপ্তরে শিশু বা কিশোর অপরাধের রেকর্ড আছে ২০১২ সাল থেকে। সে সময় ৪৮৪ মামলায় আসামি ছিল ৭৫১ জন শিশু-কিশোর। ২০২০ সালের প্রথম ৬ মাসে ৮২১ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ১ হাজার ১৯১ জন। শিশু-কিশোরেরা প্রধানত গ্যাং কালচার, মাদক, হত্যা ও ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে উন্নয়নকেন্দ্রগুলোয় আছে বলে জানিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

মাদক ও দোষী শিশু

মাদকের নেশা শিশুর স্বাভাবিক বেঁচে থাকার অধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন, যা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর মারাত্মক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষতিকর প্রভাবও রয়েছে। একটি হিসেবে দেখা যায়, মাদক গ্রহণের ফলে বিশ্বে জিডিপিতে প্রতিবছর প্রায় এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়। সম্প্রতি ঢাকার কলাবাগানে এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর মাধ্যমে মাদকের নেশা ও দোষী শিশুর অপরাধের এক ভয়ংকর চিত্র ফুটে উঠেছে। উক্ত ঘটনা নিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ এহেন কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির জন্য প্রধানত মাদককেই দায়ী করেছেন।

সন্তানের প্রতি অবশ্যই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। তবে সন্তান কখন কোথায় যায়, কাদের সাথে মেশে, কী করে সময় কাটায় ইত্যাদি ব্যাপারে অবশ্যই মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর রাখতে হবে এবং সন্তানকে ঠিক পথে পরিচালিত করতে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, মা-বাবা সন্তান জন্ম দিলেও এরাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ভবিষ্যতে এরাই দেশ পরিচালনা করবে। কাজেই শিশু-কিশোর ও তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করার এবং এদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব রাষ্ট্রসহ সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সর্বত্র ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা এবং সুস্থ ধারার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের অভাব ইত্যাদি ব্যক্তিক, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটাচ্ছে যা শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বাভাবিক চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদেরকে মাদকের নেশায় আচ্ছন্ন করছে।

শিশু অপরাধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ হলো মাদকের সহজপ্রাপ্যতা। শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। খুব সহজেই শিশু-কিশোরদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে মাদক। কাজেই শিশু-কিশোরদের মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হলে মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। আর কোনো শিশু-কিশোর যদি ইতোমধ্যে মাদকের ভয়াবহ ছোবলে পড়েই যায়, তাদেরকে সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

সাইবার ক্রাইম ও দোষী শিশু

শিশু অপরাধ ও সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির পিছনে মাদকের পাশাপাশি ইন্টারনেটের অবাধ অপব্যবহারও আরেকটি বড় কারণ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক প্রসার শিশু-কিশোর-তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাবের চেয়ে নেতিবাচক প্রভাবই বেশি ফেলছে। অন্যদিকে সার্টিফিকেটভিত্তিক পাশনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে লেখাপড়ার প্রতি ব্যাপক অনীহা সৃষ্টি করছে। করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এই সমস্যাকে আরো তীব্র করে তুলছে। যে কারণে শুধু শহরেই নয়, বরং গ্রামগঞ্জেও কিশোর গ্যাং কালচার বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্যই মাদকমুক্ত পরিবেশ এবং ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের বিকল্প নেই।

১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটির বেশি, তন্মধ্যে ব্যবহারকারী শিশু-কিশোরদের সংখ্যাই বেশি। ইন্টারনেটের ভালো-মন্দ দুটো দিকই আছে, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে শিশু বা কিশোর বয়সিরা তাদের অপরিপক্বতা ও অনভিজ্ঞতার জন্য প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কিছু সাইটের প্রভাবে সাইবার অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। আইনের ভাষায় যা ‘সাইবার ক্রাইম’ বলেই পরিচিত। সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল আইডি বা পেজ হ্যাক করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড, অনলাইন ব্যবসা ও চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, যৌন হয়রানি, পর্নোগ্রাফি, গুজবসহ আরো অনেক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে; আর সাইবার অপরাধের শিকার হওয়াদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

সাইবার অপরাধ নির্মূল করে ব্যবহারকারীদের ইতিবাচক স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮)’, ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২’ এবং ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ ইত্যাদির বিভিন্ন ধারায় অপরাধীদের জেল ও জরিমানার মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রেখেছে। ২০১৪ সালে চালু করা হয় ‘সাইবার নিরাপদ হেল্প ডেস্ক’ ও সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল। এখানে অনেক শিশু-কিশোর সাইবার অপরাধের সাথে যুক্ত আবার কেউ কেউ সাইবার অপরাধের শিকার। তবে এক্ষেত্রে নানাবিধ কারণে অপরাধের সংখ্যার তুলনায় অপরাধী আটকের সংখ্যা কম। কেননা প্রচলিত আইন সম্পর্কে জনসাধারণের অজ্ঞতাই মূল কারণ। আবার অনেক ভুক্তভোগী বিশেষ করে নারী তথাকথিত সামাজিক বিড়ম্বনার ভয়ে সাইবার অপরাধের শিকার হলেও আইনের আশ্রয় নিতে অনাগ্রহী কেননা, অপরিপক্ব শিশু-কিশোর কর্তৃক নারী ও শিশুরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। অনেক সময় উপযুক্ত প্রমাণের অভাবেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগকে একশ্রেণির মানুষ ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার করছে। ফলে প্রযুক্তির ভুল ব্যবহারে ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে সাইবার অপরাধের পরিধি। এক্ষেত্রে প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ উত্তম। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা গেলে বিড়ম্বনা ও অপরাধ শুরুতেই প্রতিরোধ করা যায়। এক্ষেত্রে অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান না করা, আইডির গোপন নম্বর শক্তিশালী করা ও একান্তই গোপন রাখা, অপরিচিত কারো সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আলাপ বা সখ্য না গড়া, বাছবিচারহীনভাবে গ্রুপ বা কোনো লিংকে শিশুদের প্রবেশ না করতে না দেওয়া, লটারি বা উপহার সংক্রান্ত তথ্য এড়িয়ে যাওয়া, পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারে সতর্ক থাকা, অশ্লীল ও রাষ্ট্রবিরোধী তথ্য লাইক বা শেয়ার না করা ইত্যাদি ব্যাপারে সবার সচেতন থাকা উচিত।

ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কিশোর বয়সিদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি। দুর্ভাগ্যক্রমে অনলাইনে প্রতারণা বা হয়রানির শিকার হলে প্রমাণপত্র (ছবি, স্ক্রিনশট, ভিডিও, তথ্য) নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ থানার পুলিশকে জানানো উচিত। এক্ষেত্রে আইডি ডিলিট করা যাবে না। কারণ তখন অপরাধীকে ধরা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে যায়। শিশু-কিশোরদের দ্বারা সংঘটিত সাইবার অপরাধ দমন ও নির্মূলে সরকারের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। সম্ভাব্য সকল মাধ্যম ব্যবহার করে ইন্টারনেটের যথাযথ ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

সাইবার ক্রাইম এ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিসিএ ফাউন্ডেশন)-এর গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে সাইবার ক্রাইম উদ্বেগজনকভাবে ক্রমবর্ধমান। এই ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটছে সহিংস উগ্রবাদ, গুজব, রাজনৈতিক অপপ্রচার, মিথ্যা সংবাদ, গ্যাং কালচার, আত্মহত্যা, পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, জালিয়াতি, চাঁদাবাজি, আসক্তি ইত্যাদি ধরনের অপরাধ। বাস্তব জীবনে ঘটমান অপরাধগুলো এখন স্থানান্তরিত হয়ে রূপ নিচ্ছে ডিজিটালে। পরিসংখ্যানে ভুক্তভোগীদের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শিশু; যা অনেকাংশে দোষী শিশু কর্তৃক সংঘটিত। দেশে সাইবার অপরাধের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ফোনে বার্তা পাঠিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনা। জরিপের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এগুলো দেশে নতুন ধরনের অপরাধ এবং মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে শিশু পর্নোগ্রাফি।

দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কিছু সুপারিশ শিশু-কিশোরদের জন্য অবশ্যম্ভাবী। যেমন: Police Cyber Support for Women, শিশু-কিশোরদের জন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা সাইবার পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে দক্ষ প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানো ইত্যাদি। দেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের সঙ্গে সমান্তরাল হারে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। সহিংস উগ্রবাদ, গুজব, রাজনৈতিক অপপ্রচার, মিথ্যা সংবাদ, গ্যাং কালচার, আত্মহত্যা, পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, জালিয়াতি, চাঁদাবাজি, পাইরেসি, আসক্তি-এর সবই হচ্ছে প্রযুক্তির মাধ্যমে। বাস্তব জীবনে ঘটমান অপরাধগুলো এখন ডিজিটাল মাধ্যমে স্থানান্তরিত হচ্ছে। অথচ এই ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে একটি ভার্চুয়াল জগতের বাসিন্দা হলেও বিশ্বনাগরিক হিসেবে ব্যবহারকারীদের সিংহভাগই অন্তর্জালে যুক্ত হতে গিয়ে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় জড়িয়ে পড়ছেন ভ্রান্তির-জালে; যেগুলো প্রতিফলিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের মধ্যে ভয়াবহভাবে। কেননা পারিবারিক পরিবেশে ডিজিটাল ডিভাইসগুলো শিশুরা অবাধে ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় কখনও নিজেরাই ভিক্টিমাইজ হচ্ছে, আবার কখনও সাইবার আসক্ত হয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে শিশু সম্পর্কিত সাইবার অপরাধ সংখ্যা বাড়ছে। শিক্ষিত ঘরের শিশুদের মধ্যেই এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা বেশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, যৌন হয়রানি হচ্ছে হরহামেশা। ছোট ছোট অপরাধের বেশির ভাগই এখন সাইবার স্পেসে সংঘটিত হচ্ছে। যেমন: নেশাজাতীয় দ্রব্যের কেনাবেচা ও চাইল্ড পর্নোগ্রাফি। এসব অপরাধের বেশির ভাগই পারিবারিক বিদ্বেষ, বন্ধু-বান্ধবদের সুসম্পর্কের অবসানের কারণে সৃষ্ট জটিলতা থেকে হচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে আছে- বিদ্বেষপূর্ণ স্ট্যাটাস-মন্তব্য, অন্তরঙ্গ ভিডিও-ছবি ও কুরুচিপূর্ণ অঙ্গ-ভঙ্গির ভিডিও আপলোড, ফেক অ্যাকাউন্ট পেজ তৈরি ইত্যাদি।

(চলবে)

লেখক : উপ-পুলিশ কমিশনার

(প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড এন্ড ইন্টারনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন)

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *