ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন

পূর্ব প্রকাশের পর…

সামাজিক পরিবেশে শিশু

মানসিক চাপ বা সংকট আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকার পিছনে শিশু বয়সের সামাজিক ও মানসিক বিকাশের পরিপূর্ণতার অভাব অনেকটা দায়ী। শৈশবে সামাজিক চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করার সক্ষমতা অর্জন করা বা রীতি-নীতি আয়ত্ত অনুসরণ করা উচিৎ। যদি তা ভালোভাবে অনুশীলন না করা হয়, তাহলে এর প্রভাব পরবর্তী জীবনে প্রতিফলিত হয়। শিশু যখন এমন আচরণ করতে শিখবে, যা সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকে অনুমোদনীয় এবং গ্রহণযোগ্য; তখন সে স্বাভাবিক ও সুস্থ হয়ে বেড়ে উঠছে বলে ধরে নেয়া হয়।

সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও বহির্মুখিতা, প্রকৃতির মাঝে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যাওয়ার কিংবা তাদের জীবনে সমবয়সী মেয়েদের সাহচর্য নেই বলে- খেলার সাথী, পাঠের সাথী, আপু, দিদিমনি বা কিশোরদের জীবনে বা উঠতি বয়সে প্রভাবশালী প্রেরণাদাত্রী আদর্শ, মেনটর তার সব আজ অনুপস্থিত। সমবয়সী বালক-বালিকা একসাথে খেললে এমনিতেই বিপরীত পক্ষের প্রতি একটা সংকোচ কেটে যায় এবং বিতর্ক-সমঝোতার মাধ্যমে তাদের জড়তা, ভিরুতা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিষ্ঠুরতাও বিলুপ্ত হয়। খোলার সাথীর মাধ্যমে সম্মান, শ্রদ্ধা, নীতি, নৈতিকতা তৈরি হয়। কিন্তু আজকের শিশু-কিশোররা বাহ্যিকভাবে প্রতিবেশী, বন্ধু, খেলার সাথীদের মিথস্ক্রিয়ার পরিবর্তে ঘরের চারদেয়ালের ভার্চুয়াল জগতে পলকবিহীন নজরে বন্দিত্বে ব্যস্ত। আলোক ঝলকানী ইমোজী বা কার্টুনে তারা জীবনের আনন্দ খুঁজে নিয়েছে। অনেকের কাছে স্মার্ট ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ না থাকলে বন্ধুকে unsmart বলে এবং তাদেরকে unfriend করে দিয়ে ডিজিটাল জগতকে বন্ধু, খেলার সাথী বা ভালোবাসার পাত্র-পাত্রী করে নিচ্ছে। এজন্য ব্যক্তি, পারিবারিক পরিবেশে সমস্যা তো হচ্ছেই। সামাজিক যোগাযোগ বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আর সামাজিক যোগাযোগগুলো যথাযথ না করার দরুণ অসাড়, ঘাড় বাঁকা, মাজা ভাঙ্গা, ক্ষীণদৃষ্টি প্রজন্মে পরিণত হচ্ছে। অপরদিকে করোনাকালীন সংকটে পড়ে স্কুল-কলেজ, বন্ধু-বান্ধব-শিক্ষক থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ালেখার জন্য ডিজিটাল পর্দায় সার্বক্ষণিক তাকিয়ে থেকে শারীরিক সক্ষমতাহীন হয়ে যাচ্ছে- যা পরবর্তীতে মানসিকভাবে পর্যদুস্ত বা বিকলাঙ্গ করার সামিল।

শিশুদের ব্যাপারে অন্তর্নিহিতভাবে নতুন করে ভাবতে হবে- বাসাবাড়ি যেন কোনো খাঁচা, স্কুল কারাগার এবং কোচিং সেন্টার কনডেম সেল না হয়। বাবা-মায়ের অতিশাসন বা অবহেলা-উপেক্ষা যেন না থাকে, বাবা-মা তাদের ব্যক্তিগত অবদমিত চাওয়া-পাওয়া যেন সন্তানের দ্বারা প্রতিফলনের স্বপ্ন না দেখে। তাদের উপর বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে শুধু অর্থ বিনিয়োগ করেই যেন দায়িত্বের পরিসীমা না দেখায়। যা সন্তানের মাদক, জঙ্গিবাদ ও ধর্ষক বা নারী-শিশু নিপীড়নকারী বা রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধী না বানায়।

শিশুদের তাদের শিকড়ের সন্ধানের ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। ইট-পাথরের খাঁচা থেকে শুধু বড় বড় হোটেল-রেষ্টুরেন্ট-রিসোর্টে-বিদেশে না নিয়ে মাটির টানে মাটির মানুষের সাথে মেলা-মেশা করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তাহলে দেশ-জাতি ও কষ্টার্জিত মানুষের সম্পর্কে তারা জানবে-বুঝবে এবং এর  জন্য দেশের প্রতি মমত্ববোধ বাড়বে। দেখা গেছে বাবার অবৈধ সম্পদের মাধ্যমে বিদেশি ইংরেজি স্কুল-কলেজে পড়ে বড় বড় দেশে গিয়ে আরাম-আয়েশে বাবার অবৈধ আয়ের টাকা দিয়ে মজায় কাটাচ্ছে অনেক সন্তান। অন্যদিকে অবৈধ সম্পদধারী ব্যক্তি দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে স্ত্রী-পুত্র পাঠিয়ে দিয়ে নিজে আইনের আশ্রয়ে কারাগারে আছে। সম্পদের অবৈধ প্রাচুর্যতা তাকে ধ্বংস করে জেলের ভাত খাওয়াচ্ছে আর স্ত্রী-সন্তান তা দিয়ে বিদেশে নিরাপদ জীবন কাটাচ্ছে। প্রাচুর্যপূর্ণ লোভী ব্যক্তিটি নিজের অস্তিত্ব ভুলে গিয়ে এখন দিশেহারা। আর সবকিছু হারিয়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে হীন চরিত্রের অধিকারী।

তাই শিশুদের মধ্যে এমন সুশিক্ষা দিতে হবে যাতে ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে স্বাধীনতা, ইচ্ছা, সৃজনশীলতা ও নিজ সম্পর্কে ধারণা পাকাপোক্ত, আত্মবিশ্বাস উত্তম ও স্বাধীনভাবে অর্জিত হয়। সামাজিক ও মানসিক বিকাশ সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক হলে চাপ ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা শৈশব থেকেই অর্জিত হয়। সংকটে পতিত হলে দৃঢ়তাসূচক মনোভাব পোষণ করা প্রয়োজন। উৎসাহ ও সহযোগিতামূলক মনোভাব ও আত্মবিশ্বাস থাকা চাই।

অতিশাসনে উল্টো ফল

একটি শিশুকে পূর্ণাঙ্গ মানুষরূপে পড়ে তোলার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান প্রভৃতি মৌলিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শিশুর মানসিক বিকাশের দিকেও লক্ষ রাখতে হয়। বিদ্যালয়ের পুস্তকনিহিত বিদ্যার সঙ্গে শিশুর পারিপার্শ্বিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা ও স্বতঃস্ফূর্ততা শিশুর সুস্থ মানসিক গড়নে অবদান রাখে। প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিজস্ব নীতিবোধ, তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, আচার-ব্যবহার শিশুর মনে ছোটবেলা থেকেইে স্থায়ীভাবে প্রভাব ফেলে। সঠিক অনুশাসন ও শিশুর চরিত্র হয়ে ওঠে সৎ, অনুগত ও শান্ত। সে বেড়ে উঠে সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু শাসন করতে গিয়ে মা-বাবার বাড়াবাড়ি অনেকসময় বয়ে আনে উল্টো ফল। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মা-বাবা শিশুকে কড়া শাসনে রাখেন, এমনকি কঠোর শারীরিক শাস্তিও দিয়ে থাকেন অনেকে। সাম্প্রতিক গবেষণালদ্ধ তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা এ প্রবণতা নিরুৎসাহ করছেন। তাঁদের ভাষ্য,  অতিরিক্ত শাসন ও মারধর শিশুর মনে জেদ ও ক্রোধের সঞ্চার করে, যা তাকে পরবর্তী সময়ে অবাধ্যতা ও অপরাধপ্রবণতার দিকে ঠেলে দেয়। সব কাজেই শিশুকে বারণ করা ঠিক নয়, শিশুকেও কিছু কিছু ভালো লাগা কাজ করতে দিতে হবে। তবে মা-বাবা যদি সন্তানকে একেবারেই শাসন না করেন, তাহলে আবার সন্তান যা ইচ্ছা তাÑই করতে চাইবে, অসৎ সঙ্গে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়বে। সুতরাং অতিরিক্ত শাসন ও কোনো শাসন না করা-দুটিই শিশুর জন্য ক্ষতিকর। শিশু অন্যায় করলে মারধর না করে তার ভুলগুলো বুঝিয়ে দিতে হবে। সব সময় এটা করবে না, ওটা ধরবে না, এখানে যাবে না, ওখানে যাবে না আর ভুল কিছু করলেই বকা বা পিটুনি-এতে শিশুর মনে অবসাদ চলে আসে। সঠিক কাজ বা প্রত্যাশিত আচরণ করলে শিশুর প্রশংসা করুন, তাকে উৎসাহ দিন। আবার শিশুর মধ্যে প্রাচুর্য্যতা বেশি ঢুকিয়ে দিলে তারা সব পাওয়ার রাজ্যে চলে যায় আর কোনো প্রত্যাশা থাকে না; চাহিদার পরিসমাপ্তি ঘটলেও শূন্যতায় ভুগে। প্রাচুর্যের আতিশয্যে তারা বাহ্যিক দুনিয়ার রূপ-রস-গন্ধ-স্বাদের ঊর্ধ্বে চলে যায়। তাদের আরো কিছুর সন্ধানে ‘হেথা নয় হোথা অন্য কোথাও’-র সন্ধানে অস্থির থাকে। তখন তাদের মধ্যে নতুন ভালো কিছু বা উদ্ভাবনীমূলক কিছু উপহার দিতে না পারলে হিতে বিপরীত হয়। আমরা দেখেছি অনেক প্রাচুর্যে ভরা পরিবারের সন্তানের মনের সন্ধান সঠিকভাবে না নিলে তারা অতি উৎসুক হয়ে সাইবার জগতের গভীরে ঢুকে, কেউ মাদকাসক্ত বা অ্যালকোহলিক হয়ে পড়ে। আবার কেউ-বা অতিপ্রাকৃত অন্য কিছুর সন্ধানে জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী হয়ে ধর্মের নামে তথাকথিত অতিধার্মিকতার দ্বারা পরিবার-সমাজ-সভ্যতাকে ধ্বংস করে ফেলছে। যা আমরা হলি আর্টিজানসহ বিভিন্ন জঙ্গিবাদ ঘটনা-ই উদাহরণে উল্লেখ করতে পারি।

কিশোর গ্যাং

সাম্প্রতিককালে কিশোর গ্যাং নামে উঠতি বয়সি তরুণদের রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লা দাপিয়ে বেড়ানোর দৃশ্য বিদ্যমান। দাপটের সঙ্গে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, হুমকি, মারামারি, অপহরণ, ভাড়াটিয়া খুনি এবং পথেঘাটে মেয়েদের উত্ত্যক্তসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকা- করে চলেছে তারা। পকেটে নগদ টাকা, হাতে অস্ত্র ও মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে বুনো উল্লাসের সঙ্গে হত্যার মতো ঘটনা ঘটাতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না তারা। সম্প্রতি কিশোর গ্যাং কর্তৃক বগুড়ায় যুবক খুন, নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস শ্রমিক খুন, সাভারে স্কুলছাত্রী নিলা রায় খুন এবং কামরাঙ্গীচরে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে সজীব নামের ১৭ বছর বয়সি কিশোর খুন প্রমাণ করে ভয়ংকর কিশোর গ্যাং এখন রীতিমতো ভয়ংকর সন্ত্রাসীতেও পরিণত হয়েছে।

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তরায় ডিসকো বয়েজ ও নাইট স্টার গ্রুপের একটা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাং। অন্যদিকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরেও বেরিয়ে আসে কিশোর গ্যাং কালচার এবং তাদের সংঘবদ্ধ অপরাধের ভয়ংকর চিত্র। পুলিশের ক্রাইম অ্যানালাইসিস বিভাগের তথ্যমতে, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই কয়েক বছরে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সন্ধান মিলেছে অন্তত ৫০টি এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরেও তা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।

কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার মূল কারণ নেপথ্যে থাকা এলাকার প্রভাবশালী নেতা কিংবা বড় ভাইদের রাজনৈতিক ছত্রছায়া। ব্যক্তিগত স্বার্থে টাকার বিনিময়ে নেপথ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাংদের দিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক ও বেআইনি কর্মকা- করিয়ে থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও এদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফলে একদিকে যেমন নেতা ও প্রভাবশালী বড় ভাইদের স্বার্থ হাসিল হচ্ছে, অন্যদিকে কিশোর গ্যাং সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় আলাদা একটা প্রভাব বিস্তার হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের মধ্যে হিরোইজম ভাব বেশি কাজ করে। যখন তারা দেখে যারা অপরাধ করছে, তারা সমাজে বেশ লাভবান হচ্ছে, তখন কিশোররা সেটিই অনুসরণ করে থাকে। তা ছাড়া সামাজিক সংস্কৃতিতে নানা অসঙ্গতিও রয়েছে। দেশীয় সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে বিদেশি সংস্কৃতিকে ধারণ করে কিশোররা নিজেদের জীবনে তার চর্চা করছে। অনলাইনভিত্তিক সস্তা জনপ্রিয় মাধ্যম টিকটক ও লাইকির মাধ্যমেও ‘অপু ভাই’য়ের মতো কিশোর গ্যাংও গড়ে উঠছে। কিশোর গ্যাং দিন দিন একটি জাতীয় সমস্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং কালচার যেভাবে বাড়তে শুরু করেছে, এখনই মোক্ষম সময় এ লাগাম টেনে ধরার। তা না হলে বেড়ে যায় অপরাধ প্রবণতা।

শিশু-কিশোর বিষয়ক মামলা সংক্রান্তে আইনের বিধান

শিশু আইন ২০১৩-এর (৪) ধারা অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী সবাই শিশু। আর সর্বনি¤œ ৯ বছর বয়সির বিরুদ্ধে মামলা দেয়া যায় না। সেক্ষেত্রে শিশু আইন, আলাদা অভিযোগপত্র, এজাহার এবং আদালত এসব বিধান মানতে হবে। শিশু আইনের ৪৪(৩) উপধারায় বলা আছে, শিশুকে গ্রেপ্তার করিবার পর গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন। তবে শর্ত থাকে যে গ্রেপ্তার করিবার পর যে শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাইবে না। উক্ত আইনের ৪৪(৪) উপধারায় বলা হয়েছে, উপধারা (৩)-এর অধীন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা উক্ত সনদের অবর্তমানে স্কুল সার্টিফিকেট বা স্কুলে ভর্তির প্রদত্ত তারিখসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উদঘাটনপূর্বক যাচাই বাছাই করে তার বয়স লিপিবদ্ধ করবেন। কোন কোন ক্ষেত্রে ভাই-বোনের সংখ্যা, বাবা-মার বিবাহের সন ও তাদের বয়স বিবেচনা করেও দোষী শিশুর বয়স নির্ধারণ করা যাবে। সম্প্রতি রিফাত হত্যা মামলায় বরগুনার প্রবেশন কর্মকর্তা বলেন, থানায় কোনো শিশু গ্রেপ্তার হলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে তাকে অবহিত করলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। রিফাত শরীফ মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক আসামিকে আদালতের নির্দেশে যশোর শিশু সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়; এছাড়া চার্জশিটভুক্ত ছয় শিশুকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। ছয় আসামির বয়সের বিষয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের শারীরিক গঠন দেখে তাদের প্রাপ্তবয়ষ্ক মনে হওয়ায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে ৩০ আগস্ট ছয় আসামীর পরিবার থেকে সরবরাহকৃত জন্মসনদ, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক। শিশুকে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে নিয়ম হলো গুরুতর অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত কোনো শিশুকে যখন রিমান্ডের জন্য আদালতে তোলা হয়, তখন প্রবেশন কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত থাকেন। যখন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়, তখনো প্রবেশন কর্মকর্তার উপস্থিতির বিষয়টি আদালত নিশ্চিত করেন । সম্প্রতি উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে আটটি নির্দেশনাও দিয়েছেন। এমনকি শিশু আদালতে যখন মামলার বিচারকাজ চলে তখনো প্রবেশন কর্মকর্তার একান্ত উপস্থিতির বিষয়টি শিশু আইনেই বলা আছে।

(চলবে)

লেখক : উপ-পুলিশ কমিশনার

(প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড এন্ড ইন্টারনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন)

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *