ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন

বিকল্প পন্থায় (Diversion) নিষ্পত্তি

আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুকে গ্রেফতারের পর হতে বিচার কার্যক্রমের যেকোনো পর্যায়ে শিশুর পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, নৃতাত্বিক, মনস্তাত্ত্বিক ও শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনাপূর্বক, বিরোধীয় বিষয় মীমাংসাসহ তার সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা যাবে। শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, শিশু আদালত আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির নিমিত্ত বিকল্প পন্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি প্রবেশন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করতে পারবে। বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হলে সংশ্লিষ্ট শিশু, তার মাতা-পিতা বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ অভিভাবক বিকল্প পন্থার শর্ত প্রতিপালন করতেছে কিনা প্রবেশন কর্মকর্তা তা লক্ষ্য রাখবেন এবং বিষয়টি শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশু আদালতকে অবহিত করবেন। বিকল্প পন্থার শর্ত ভঙ্গ করলে প্রবেশন কর্মকর্তা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত আকারে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা শিশু আদালতকে অবহিত করবেন। যদি কেউ বিকল্প পন্থার শর্ত ভঙ্গ করেন তা হলে বিষয়টি শিশু-আদলত বা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাÑশিশুটিকে গ্রেফতার করার জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারবে, হাজির হবার জন্য লিখিত নোটিশ প্রদান করতে পারবে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর নিকট সংশ্লিষ্ট শিশুর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া আরম্ভ করার জন্য নথি প্রেরণ করতে পারবে এবং শিশুটিকে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণের জন্য আদেশ প্রদান করতে পারবে।

কোনো শিশুকে গ্রেফতার করার পর মুক্তি প্রদান, বিকল্প পন্থায় প্রেরণ করা অথবা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে হাজির করা সম্ভবপর না হলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে শর্ত ও জামানত সাপেক্ষে অথবা ব্যতীত জামিনে মুক্তি প্রদান করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধ জামিনযোগ্য বা জামিন অযোগ্য কি না তা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বিবেচনায় নিবেন না। তবে অপরাধের প্রকৃতি গুরুতর হলে বা জামিন প্রদান তা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থি বা শিশু কোন কুখ্যাত অপরাধীর সাহচর্য লাভ করতে পারে বা নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হতে পারে বা জামিন প্রদান করা হলে ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবার আশঙ্কা থাকলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিশুকে জামিন বা মুক্তি প্রদান করবেন না। সাধারণত থানা পুলিশ অফিসার অযাচিত দোষারোপ, কালিমালেপন, অভিযোগকারীর প্রত্যাশা, যথাযথ সুপারভিশন, বহিরাগত চাপ, স্বজনপ্রীতি, দোষী শিশুর প্রকৃত বয়স নির্ধারণে জটিলতা, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার অসহযোগিতা, দুর্নীতির অভিযোগ প্রভৃতি কারণে বিকল্প পন্থাকে কৌশলে এড়িয়ে চলেন। অথচ যুগোপযোগী শিশু আইন-২০১৩ এ বিকল্প পন্থার মাধ্যমে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের কথা চিন্তা করে চমৎকার একটা উপায় উল্লেখ আছে।

দোষী শিশু ও এর প্রতিচ্ছায়া

আমাদের সমাজের সর্বস্তরে দোষী শিশু বা কিশোর অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিশোর অপরাধ আগেও ছিল, বর্তমানেও আছে। তবে দিন যত যাচ্ছে তাদের অপরাধগুলো ক্রমেই হিংস্র, নৃশংস ও বিভীষিকাপূর্ণরূপে দেখা দিচ্ছে। খুন, ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো হিংস্র ধরনের অপরাধ করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে এবং এখনো বেড়েই চলেছে। সংঘবদ্ধভাবে প্রকাশ্যে দিনের আলোয় নৃশংসভাবে খুন করা হচ্ছে। পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষার লক্ষ্যে এখনই এর লাগাম টেনে ধরা দরকার। না হলে ভবিষ্যতে এটি খুব ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। করোনার কারণে বাইরের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ বলে কিশোর-কিশোরীদের ঘরে বসে সময় কাটাতে হচ্ছে। বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা সেই সময়কে বিনোদনমুখর করে তোলার জন্য সন্তানদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ট্যাব, ল্যাপটপ, অ্যান্ড্রয়েড ফোন ইত্যাদি তুলে দিচ্ছেন। ফলে বাবা-মা-র অৎান্তেই কিছু কিছু শিশু-কিশোর ইউটিউব, ভায়োলেন্ট (সহিংসতা উসকানিমূলক) গেমস, পর্নোগ্রাফি ও সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং এ আসক্তিই মূলত তাদের মাঝে ডেভিয়্যান্ট বিহ্যাভিয়ার (Deviant Behavior) বা সমাজবিচ্যুত ব্যবহারকে প্ররোচিত করে। এ ছাড়া আমরা গঠনমূলক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে তাদের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত করতে পারছি না, ফলে তারা নেতিবাচক ও সমাজবিচ্যুত কাজে আরও বেশি জড়িত হয়ে পড়ছে। স্বভাবতই অনেক সময় বাবা-মা প্রাইভেসি বা পারসোনাল স্পেসের নামে সন্তানদের আলাদা কক্ষ দিচ্ছেন এবং সেখানে তারা কী করছে তা খেয়ালও রাখছেন না। সে ক্ষেত্রে পরিবারের এবং খুব নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে বাবা-মারই প্রধান দায়িত্ব সন্তানদের গতিপ্রকৃতি দেখাশোনা অথবা বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনা বা সুপথে পরিচালিত করা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো শিশুর জন্য উপযোগী সাইট তৈরি করা এবং শিশুর জন্য অনুপযোগী সাইটগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধতা আনয়ন।

একজন শিশু বা কিশোরের বেড়ে ওঠার প্রতিটি পর্যায় তার কিশোর অপরাধী হওয়ার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিশোর অপরাধ থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করতে পারে। যেমন বাবা-মায়ের মধ্যে যদি সব সময়ই উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক থাকে, তাদের মধ্যে যদি পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্মানসূচক সম্পর্ক না থাকে তারা যদি সব সময়ই ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত থাকেন; তাহলে সন্তানরা নেতিবাচক ব্যবহার থেকে এ ধরনের আচরণ শিখেই বড় হয়। একে আমরা বলি (Social Learning Theory), যেখানে মূলত শিশুরা তাদের বেড়ে ওঠার সময় আশপাশের মানুষের ব্যবহার ও কাজগুলো দেখে এবং শেখে ও অনুকরণ-অনুসরণ করে। তার ব্যবহারের একটি বড় অংশ হলো (Socially Learned Behaviour) বা সামাজিকভাবে শেখা আচরণ, যা তারা অর্জন করে অভিভাবক, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সমাজব্যবস্থা থেকে। একইভাবে পরিবারের ভিতরে স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক এবং বাবা-মার প্রতিক্রিয়াশীল (responsive) প্যারেন্টিং সন্তানদের দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বিভিন্নমুখী মেলামেশা (Differential Association) তত্ত্বানুযায়ী আইন-শৃঙ্খলাবদ্ধ রীতিনীতি বা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ যেমন শেখানো হয় তেমন অপরাধমূলক আচরণও শেখানোর মাধ্যমেই অর্জিত হয় এবং এ শিখন কার্যক্রমটি বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা অথবা অন্তরঙ্গ দলগত সম্পর্কের মধ্যে যোগাযোগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নীতিবহির্ভূত আচরণ সামাজিকীকরণ করা যায়। অর্থাৎ পরিবারের বাইরেও কিশোররা বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে অনেক সময় অপরাধমূলক আচরণের শিক্ষা পায়।

এছাড়াও দোষী শিশু বা কিশোর গ্যাং যে ভয়াবহ হয়ে উঠছে, তা পুলিশের মাননীয় মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদের বিভিন্ন বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে গত ১১ জানুয়ারি ২০২১খ্রি. পুলিশ সদর দপ্তরে হওয়া বৈঠকে এবং বিভিন্ন আলোচনা সভায় তিনি বলেন, পুলিশের জন্য এই দোষী শিশু বা কিশোর গ্যাং সমাজ ও দেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন। তিনি বলেন, এখন পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোগুলো নানাবিধ দুষ্ট চক্রে আবর্তিত হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের মানবিক বিষয় বা সংস্কৃতিগুলো ভেঙে পড়ে পারিবারিক কাঠামো অণু-পরমাণু পরিবারে রূপান্তরিত হচ্ছে। পরিবারের গুরুজন যেমন দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা-চাচি, ফুফু, খালা, মামা বা অন্য কোন জ্ঞাতি-গোষ্ঠী গুরুজনের উপস্থিতি অথবা সমবয়সী কাজিনদের পারস্পরিক সংমিশ্রণ নেই বললেই চলে- যার দ্বারা উঠতি বয়সী শিশু-কিশোররা হর্ষ-বিষাদ ও খেলার ছলে মনের গোপনীয় জিজ্ঞাসাগুলো বিনিময় করতে পারে; পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের শিক্ষা ও আচরণ (Lesson & Behaviour) আত্মীকরণ করতে পারে। এ ধরনের যোগাযোগের দ্বারা পারিবারিক গণ্ডির মাধ্যমে শিশু-কিশোররা খাপ খাওয়ানোর জন্য পরিবর্তন, পরিমার্জন ও পরিশোধন করে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনাও শিশু-কিশোর অপরাধের ভয়াবহতা সামনে নিয়ে আসে যার জন্য অপরাধ বিশ্লেষকরা চিন্তিত, যেমন- খুন, ধর্ষণ, মাদক চোরাচালান, মাদক সেবন, সাইবার ক্রাইম অন্যতম। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা যায়, রাজধানীসহ সারা বাংলাদেশের বিভাগীয় ও জেলাশহর এবং বিভিন্ন প্রান্তে মূলত উদীয়মান কিশোর গ্যাং ছড়ানো-ছিটানো আছে। কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তথ্যমতে, তাদের তিনটি কিশোর-কিশোরী সংশোধনাগার টঙ্গি, গাজীপুর কোনাবাড়ি এবং যশোর কেন্দ্রে থাকা কিশোরদের ২০ শতাংশ হত্যা এবং ২৪ শতাংশ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে ৮২১টি মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা ১ হাজার ১৯১। সম্প্রতি ঢাকার উত্তরায় ‘অপু ভাই’ নামে খ্যাত টিকটক ভিডিও নির্মাতা একটি রাস্তা অবরোধ করে ৭০-৮০ জন মিলে টিকটক ভিডিও তৈরি করছিল; পরে তা যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণের মাধ্যমে বন্ধ করা হয়। আবার অপুকে অনুসরণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল কিশোর-যুবকদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। উঠতি বয়সি কিশোর-তরুণদের এরূপ অসামাজিক কর্মকা- বন্ধে ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য মতে, ঢাকায় ৪০টির মতো দোষী শিশু সংগঠন বা কিশোর গ্যাং রয়েছে। রাজধানীতে প্রতি মাসে গড়ে ২০টি হত্যার ঘটনা ঘটছে এর বেশির ভাগ ঘটনায় কিশোর অপরাধীরা জড়িত। ২০১৮ সাল থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীতে হওয়া ৩৬৩টি ছিনতাইয়ের নেপথ্যেও ছিল শিশু-কিশোর অপরাধীরা। এসব শিশু-কিশোররা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছুরি বা চাকু ব্যবহার করছে, কোন কোন ক্ষেত্রে পিস্তল ও লোহার রডও ব্যবহার করতে দেখা যায়। দোষী শিশু বা গ্যাং কালচার সম্পর্কে এক থানার জনৈক ওসির ভাষ্য, ‘এরা কেন কাকে মারে নিজেরাও জানে না। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এদের।’ শিশু ও কিশোর অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ বছরের শুরুতে নতুন পরিকল্পনায় থানা পুলিশকে পাড়া-মহল্লায় খোঁজ নিয়ে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

উপরোক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে শিশু-কিশোরদের দোষীসুলভ মনোভাব প্রতিরোধের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় শিশু-কিশোরদের সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মেধা ও প্রতিভা বিকাশে বাংলাদেশ স্কাউটস, শিশু একাডেমি, গণিত অলিম্পিয়াড, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ও শিশু-কিশোর উপযোগী প্রতিযোগিতার আয়োজন যেমন- খেলাধূলা, চিত্রাঙ্কন, সংগীত চর্চা, আবৃত্তি, লেখালেখি, নাটক ইত্যাদিরও প্রায়োগিক অনুশীলন করতে হবে। যেমন: বাংলাদেশ স্কাউটস ২০২০ সালের অক্টোবর-নভেম্বর এ করোনাকালীন শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের জন্য অনলাইনে বিভিন্ন মননশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সারাদেশের শিশু-কিশোরদের উজ্জীবিত করেছিল। আবার Organization of Islamic Conference (OIC) এর উদ্যোগে ২৭-৩১ মে ২০২১ স্কাউটিং এর তরুণ-যুবকদের জন্য করোনাকালীন অনলাইন প্রতিযোগিতা Scout Confercnce for Sustainable Development Dhaka ২০২১ হবে। “Sustaining the positive environmental changes that took place during the COVID-19 pandemic” এ তরুণ-যুবকরা করোনাকালীন তাদের প্রতিভা বিকাশমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে যার মাধ্যমে তাদের সৃষ্টিশীলতার বিকাশ ঘটবে, আবদ্ধকালীন একঘেয়েমি কাটবে এবং ভবিষ্যতেও তাদের কর্মক্ষেত্রে এ উদ্যোগ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এরূপ উদ্যোগকে অনুসরণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশু-কিশোররা তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিশোর-যুবকরা করোনাকালীন নিজেদের মধ্যে অনলাইন Hello Citizen প্লাটফর্ম তৈরি করে স্থানীয় মুরুব্বি বা Senior Citizenদের চাহিদাসমূহ জেনে যথাযথ ব্যবস্থা, যেমন-Telemidicine, ওষুধ সরবরাহ, অসুবিধাসমূহ জিজ্ঞাসা করে মনো-সামাজিকভীতি কমাতে পারে। করোনাকালীন যথাযথ সুরক্ষা নিয়ে পায়ে হেঁটে বা বাই-সাইকেলে মানবিক ও সামাজিক সেবা প্রদান করতে পারে। এখানে শিশু-কিশোরদের Best Practices যেমন-Health & Hygiene, Physical Exercise, Eco Friendly সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। পড়াশোনার স্বার্থে সন্তানদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস তুলে দেওয়ার সাথে সাথে তারা কোন কোন সাইট ভিজিট করছে, সেদিকেও অভিভাবকদের তীক্ষ্ন নজর রাখতে হবে। তাছাড়া সন্তানকে বিভিন্ন চারিত্রিক গুণাবলির শিক্ষা দিতে হবে, তাকে সময় দিতে হবে এবং একইসঙ্গে সন্তানের আচার-আচরণের ওপর খেয়াল রাখতে হবে যাতে পারিবারিক শিক্ষা সমুন্নত থাকে। স্কুল কর্তৃপক্ষের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে- অনলাইন ক্লাস ঠিকমতো হচ্ছে কিনা; শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে সাড়া দিচ্ছে কিনা। অনলাইনে অবাধ তথ্য প্রবাহের কারণে বই-পুস্তক পড়ার অভ্যাস ত্যাগ করে অনেকেই ডিজিটাল জগতে বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছে। দীর্ঘসময় একই স্থানে বসে-শুয়ে এহেন কর্মকাণ্ডে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকলাঙ্গতা যেমন-ঘাড় ব্যথা, চোখে ক্ষীণ দৃষ্টি, নার্ভ বা পেশিতে টান, মেরুদন্ডে সমস্যা দেখা দিচ্ছে যা বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় প্রকাশ পাচ্ছে। শিশু-কিশোরদের এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য পারিবারিক দায়-দায়িত্ব শক্তিশালী হতে হবে; স্কুল কর্তৃপক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে হবে। কমিউনিটিতে সুস্থ বিনোদনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

(চলবে)

  লেখক : উপ-পুলিশ কমিশনার

  (প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড

  ইন্টারনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন)

  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *