ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোঃ ফারুক আহমেদ

নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্মভূমি রংপুর মহানগরীতে যাতে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অপরাধ কোনভাবেই বৃদ্ধি না পায় সে লক্ষ্যে পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের মূল্যবান পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা অনুসারে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষদের নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ড চালানো হয় যেমনঃ- একটি সুশিক্ষিত ও উন্নত সমাজ, দেশ ও জাতি বিনির্মাণে সকলকে নারী ও শিশুদের গুরুত্ব বুঝানো; ধর্মীয় গ্রন্থ সমূহের আলোকে প্রতিটি ধর্মীয় ব্যবস্থায় নারী ও শিশুদের সম্মান ও গুরুত্ব সর্ম্পকে বুঝানো; স্কুল ও কলেজে নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ে সঠিক পাঠদান; ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা; মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় এ সংক্রান্ত বিশদ আলোচনা; জনপ্রতিনিধিদের এ সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানসহ সর্বোপরি প্রত্যেক মা-বাবা এবং পরিবারের সদস্যদের আবশ্যকভাবে নিজেদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নবান ও সচেতন করে তোলা। এছাড়াও উঠান বৈঠক, বিট পুলিশিং এবং প্রো-এ্যাকটিভ কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচার ও প্রচারণা করে দারুণ সাফল্য পাওয়া গেছে। মাহিগঞ্জ জোনের অধীন মাহিগঞ্জ ও হারাগাছ থানা এলাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সর্ব সাধারণের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসূচীটি বাস্তবায়িত হয়। প্রোগ্রামটিতে অত্র থানাসমূহের নারী ও শিশু নির্যাতন সম্পর্কিত মামলার পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোগ্রাম ও কাউন্টার ন্যারেটিভ সংযুক্ত ছিল। থানাধীন ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে তদূর্ধ্ব সকল বিদ্যালয়- মাদ্রাসা- কলেজ, হাট-বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা, বিড়ি ও অন্যান্য ফ্যাক্টরীসহ সকল জনবহুল স্থানে সভা/ উঠান বৈঠক/ বিট পুলিশিং আকারে ব্যাপকভাবে প্রচার প্রচারণা করা হয়।

মাহিগঞ্জ ও হারাগাছ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন সম্পর্কিত অপরাধ ও তৎ সংশ্লিষ্ট আইনে রুজুকৃত মামলা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্ণিত মামলা সমূহের ভিকটিমরা অধিকাংশই ১২-১৮ বছর বয়সী মেয়ে-শিশু ও স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী। উল্লিখিত মামলার ভিকটিমরা নারী ও শিশু নির্যাতনের মত ঘৃণ্য অপরাধের শিকার হওয়ায় তারা বিদ্যালয়ে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে তাদের শিক্ষা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক মেয়ে অকালে গর্ভবতী হয়ে পড়ছে। ফলে মা ও শিশু উভয়ের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও সংকটময় হয়ে উঠছে। আপোষ মীমাংসা ও সামাজিকতার খাতিরে অপরাধের শিকার অনেক মেয়েই বাল্য বিবাহের শিকার হচ্ছে। আবার অনেক মেয়ে শ্লীলতাহানি, ইভটিজিং, ধর্ষণ, অপহরণ ও অন্যান্য  নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়ে মান সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষার্থে আত্মহত্যার শিকার হচ্ছে। কোন এলাকায় এ রকম একটি ঘটনা ঘটে থাকলে স্বভাবতই অত্র এলাকার অন্য মেয়েরাও আতঙ্কগ্রস্ত হয় এবং বিদ্যালয়ে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে থাকে। যা অত্র এলাকার শান্তিপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপদ বসবাস, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অন্তরায়।

এ পেক্ষাপটে অত্র সমস্যার টেকসই সমাধানকল্পে মাহিগঞ্জ থানার একটি বিদ্যালয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রোগ্রামটির উদ্বোধন করেন মোহাঃ আবদুল আলীম মাহমুদ বিপিএম, পুলিশ কমিশনার, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, রংপুর মহোদয়। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ প্রোগ্রাম অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিন ও তারিখে উল্লিখিত থানা দুটির বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আয়োজিত সচেতনতামূলক সভায় অংশগ্রহণ করেন। ফলে প্রোগ্রামটি ফলপ্রসূ ও কার্যকরী হয়। আমার  (লেখক) সার্বিক কর্মপরিকল্পনায় মাহিগঞ্জ ও হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ, সকল অফিসার ও ফোর্সদের আন্তরিক প্রয়াস এবং অত্র থানাসমূহের সকল শ্রেণীর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে প্রোগ্রামটি মাহিগঞ্জ জোনে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়। উক্ত প্রোগ্রামের অংশ হিসাবে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে মাহিগঞ্জ জোনের আওতাধীন মাহিগঞ্জ ও হারাগাছ থানার ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে তদূর্ধ্ব ২৪ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২০ টি মাদ্রাসা, ৪৭ টি হাট-বাজার, ১৫ টি বিড়ি ও অন্যান্য ফ্যাক্টরী, ৩ টি কলেজ, থানাধীন সকল ধর্মীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে এবং মে দিবসে প্রচারণা করা হয়। এতে প্রায় মোট ৪২,০০০ (বিয়াল্লিশ হাজার) বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা ও বয়সের  জনসাধারণের নিকট নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সংক্রান্ত কাউন্টার ন্যারেটিভটি পৌঁছে যায়। লিফলেট আকারেও এটি জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

অত্র জোনের থানাধীন এলাকা সমূহে সর্ব সাধারণের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রো-এ্যাকটিভ কার্যক্রম ও কাউন্টার ন্যারেটিভ এর আলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রস্তুতকৃত প্রোগ্রাম অনুযায়ী বর্ণিত স্থানে যথা সময়ে আলোচনা সভা/উঠান বৈঠক/ বিট পুলিশিং/মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। জনসচেতনতামূলক প্রোগ্রামটি সহজে এবং স্বল্প সময়ে বাস্তবায়ন ও ফলপ্রসূ করার জন্য প্রত্যেক থানায় ০৩ টি করে দল গঠন করি। প্রতিটি দল ১ জন পুলিশ পরির্দশকের নেতৃত্বে ০২ জন এসআই, ০২ এএসআইয়ের সমন¦য়ে গঠিত হয়। উক্ত দলসমূহ প্রোগ্রাম অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, হাট-বাজার ও কল-কারখানায় নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে কাউন্টার ন্যারেটিভ এর আলোকে ছাত্র/ছাত্রী ও জনসাধারণের মাঝে প্রচারণা চালায়। বর্ণিত প্রোগ্রামে ব্যবহৃত নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, দেশের প্রচলিত আইন, ধর্মীয় বিধি-বিধান ও মণীষীদের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে জনসচেতনতামূলক কাউন্টার ন্যারেটিভটি তুলে ধরা হয়।

ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার

নারীদের ‘মা’ হিসেবে সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠতম মর্যাদার আসনে অলংকৃত করেছে ইসলাম। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত’। রাসূল (সাঃ) বলেছেন “তোমাদের সন্তানদের মধ্যে মেয়েরাই উত্তম”। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে রয়েছে ‘তারা তোমাদের আবরণ স্বরুপ আর তোমরা তাদের আবরণ’ (সূরা-২ আল-বাকারা, আয়াতঃ ১৮৭)। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করো’ (সূরা-৪ নিসা, আয়াতঃ ১৯)। নারীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে ‘তোমরা তাদের (নারীদের) সঙ্গে উত্তম আচরণ করো ও উত্তম আচরণ করার শিক্ষা দাও’ (সূরা-৪ নিসা, আয়াতঃ ১৯)। এছাড়াও শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- ‘পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা আলাক: ১)। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে- ‘ইলম শিক্ষা করা (জ্ঞানার্জন করা) প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর প্রতি ফরজ (উম্মুস সহিহাঈন-ইবনে মাজাই শরিফ)’।

নারীদের মর্যাদা নিয়ে

বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি/দৃষ্টিভঙ্গি

  • সারা বিশ্বে অন্যতম সেরা সেনাপতি ফরাশি বিপ্লবের অগ্রনায়ক নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছেন-

           ‘তুমি আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দিবো’।

  • সভ্যতার উন্নয়নে নারীর অবদান সম্পর্কে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন-

           বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর; অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

  • প্রতিটি মেয়ের প্রতি পিতার অগাধ ভালোবাসা ও গুরুত্ব সম্পর্কে হুমায়ুন আহমেদ বলেছেন-

‘প্রতিটা মেয়ে হয়তো তার স্বামীর কাছে রাণী হয়ে থাকতে পারে না। কিন্তু প্রতিটা মেয়েই তার  বাবার কাছে রাজকন্যা হয়ে থাকে’। তিনি মেয়েদের আবেগপ্রবণতা নিয়ে লিখেছেন- ‘তরুণী মেয়েদের হঠাৎ  আসা আবেগ হঠাৎ চলে যায়। আবেগকে বাতাস না দিলেই হলো। আবেগ বায়বীয় ব্যাপার, বাতাস পেলেই তা বাড়ে। অন্য কিছুতে বাড়ে না’। 

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের- ১৯(৩) অনুচ্ছেদে দেশের প্রতিটি কাজে মহিলাদের যুক্ত হওয়া ও প্রাপ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন’। এছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি ও চাকরিসহ রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার সম্পর্কে ২৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন’।

আইনগত ভিত্তি

নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে দেশে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০(সংশোধনী/২০০৩)’ বিদ্যমান আছে। এই আইনে নারী ও শিশুর প্রতি সংঘটিত অপরাধসমূহ (ধর্ষণ, অপহরণ, ধর্ষণের পর খুন, নারী ও শিশু পাচার, যৌনপীড়ন) কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডসহ মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।

জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১

জাতীয় জীবনে নারীর সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণসহ সাংবিধানিক বিধি-বিধান ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ২০১১ সালে জাতীয় ‘নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১’ প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালায় বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর সেসব অধিকার ও সুযোগ রয়েছে এবং জাতিসংঘের, নারীসনদে সেসব ধারা রয়েছে তার সারসংক্ষেপ রয়েছে।

শিশুদের নিরাপদ বিকাশের গুরুত্ব

শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। আজকের শিশুই আগামীতে দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের মহান দায়িত্বে নিয়োজিত হবে। তাই শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে পিতা-মাতা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদেরকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত, মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন, দেশপ্রেম, শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যাবসায়ী, পরমতসহিষ্ণু ও আইন কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলতে হবে। পরিবার থেকেই শিশুদের ভালো-মন্দ, ন্যায় নীতি, দেশপ্রেম ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ার কারণ

মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি, পারিবারিক শিক্ষার অভাব, পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা, ভোগবাদী মানসিকতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গির অভাব, নেতিবাচক মানসিকতা, সুস্থ বিনোদনের ঘাটতি এবং মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিমাত্রায় ব্যবহার ও অপব্যবহারের কারণে বর্তমানে নারী ও শিশুর প্রতি অন্যায় ও সহিংসতা বাড়ছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সম্মিলিতিভাবে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে হবে-

১। মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা।

২।        প্রত্যেককে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা।

৩। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ়করণ এবং পরিবার থেকে শিষ্টাচার ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা।

৪। ভোগবাদী মানসিকতা দূর করে তরুণদের উদার মানসিকতা সম্পন্ন প্রকৃত ও শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত করা।

৫। পরিবার, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসাসহ সর্বক্ষেত্রে নারীদের সম্মানের চোখে দেখতে শেখানো।

৬। নারীদের দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করা।

৭। নারী ও শিশুর প্রতি অপরাধের ক্ষতিকর দিক, পরিণতি ও শাস্তি সম্পর্কে সকলকে অবগত করা।

৮। শিশু ও কিশোরদের অতিমাত্রায় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার এবং অপব্যবহার রোধ করা।

৯। অপরিণত বয়সের তথাকথিত প্রেম-ভালোবাসার করুণ পরিণতি সম্পর্কে ছাত্রছাত্রী ও যুবক-যুবতীদের সচেতন করা এবং তাদের এই মোহ ও ফাঁদে পা দেওয়া থেকে নিবৃত করা।

নিম্নোক্ত উপায়ে প্রোগ্রামটি সহজে এবং স্বল্প সময়ে বাস্তবায়িত হয়

১।        প্রোগ্রাম সুষ্ঠু ও সূচারুরূপে পরিপালন করার জন্য প্রোগ্রাম প্রাপ্তির পর থেকেই থানার নিয়মিত রোলকলে একাধিক দিন নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধমূলক কাউন্টার ন্যারেটিভ ও সকল সংযুক্তিসহ অত্র পত্র সকল অফিসার ও ফোর্সদের পরিপূর্ণরুপে ব্রিফিং প্রদান করা হয়।

২। বর্ণিত স্কুল/কলেজ/মাদ্রাসা/বাজার-এ নির্ধারিত প্রোগ্রামের কমপক্ষে ০৫ (পাঁচ) দিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যথাযথভাবে যোগাযোগ করা হয়েছিল।

৩। নির্ধারিত প্রোগ্রামের কমপক্ষে ০৩ (তিন) দিন পূর্বেই ব্যানার ও লিফলেট তৈরী, নিমন্ত্রণ পত্র বিতরণ ও সংশ্লিষ্ট সকল স্কুল/কলেজ/মাদ্রাসা/বাজার/ধর্মীয় উপাসনালয়ে অত্র পত্র প্রেরণ নিশ্চিত করা হয়।

৪। অত্র প্রোগ্রাম বাস্তবায়নকারী বর্ণিত দলসমূহের দলনেতা ও অন্যান্য সদস্যরা (অফিসার) নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কাউন্টার ন্যারেটিভটি সম্পর্কে প্রস্তুতি গ্রহণ করে নির্ধারিত স্থানসমূহে প্রাঞ্জল, যুক্তিপূর্ণ, শালীন ও সকলের জন্য গ্রহণযোগ্যভাবে বক্তব্য প্রদান করেন।

৫। প্রোগ্রামটি একই দিনে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন স্থানে কার্যকর করার নির্দেশনা থাকায় এক স্থানে প্রোগ্রাম চলা অবস্থায় প্রত্যেক দলের ০১/০২ জন সদস্য পরবর্তী ভেন্যুতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ভেন্যু প্রস্তুত রাখেন। 

৬। প্রত্যেক ভেন্যুতে মতবিনিময় সভার এক পর্যায়ে উপস্থিত জনতা/ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট হতে তাদের এলাকার/ বিদ্যালয়ের/ হাটবাজারের/ রাস্তাঘাটে যাতায়াতের পথে কোন নারী ও শিশু নির্যাতন (ইভটিজিং, শ্লীলতাহানি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন)/ অন্যান্য অপরাধ সম্পর্কিত অভিযোগ/সমস্যা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে নোট নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উক্ত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

৭। প্রত্যেক বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষকে অত্র প্রোগ্রামের সাথে সংযুক্ত জনসচেতনতামূলক কাউন্টার ন্যারেটিভটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতঃ প্রতি মাসে অন্ততঃ ০১ (এক) বার সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এসেম্বলিতে/ সুবিধাজনক সময়ে বর্ণিত কাউন্টার ন্যারেটিভের আলোকে ব্রিফিং প্রদান /আলোচনা করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

৮। প্রত্যেক বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিতব্য প্রোগ্রামে সকল ছাত্র-ছাত্রীসহ তাদের অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিকটস্থ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের (ইমাম/পুরোহিত) উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয় এবং সে অনুযায়ী তারা কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

৯। প্রত্যেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের (ইমাম/পুরোহিত) অত্র প্রোগ্রামের সাথে সংযুক্ত জনসচেতনতামূলক কাউন্টার ন্যারেটিভটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতঃ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে/ধর্মীয় অনুষ্ঠানে (মসজিদ/মন্দিরে) সুবিধাজনক সময়ে মাসে অন্তঃত ০১ (এক) দিন ধর্মীয় অনুসারিদের মাঝে বর্ণিত কাউন্টার ন্যারেটিভের আলোকে ব্রিফিং প্রদান /আলোচনা করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

১০। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রোগ্রামে উল্লিখিত প্রত্যেক বিদ্যালয় ও কলেজের কমপক্ষে ০১ জন করে শিক্ষক ও ম্যানিজিং কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এতে তারা পরবর্তীতে তাদের বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারে। থানার সকল জনপ্রতিনিধি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক/ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের (ইমাম/পুরোহিত/ সভাপতি/ সেক্রেটারি) সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করতঃ বর্ণিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

বর্ণিত প্রোগ্রামটি মাহিগঞ্জ ও হারাগাছ থানা এলাকায় সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রোগ্রামটি অত্র থানা দুটির সর্বসাধারণ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং এটি সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। জনসাধারণের মাঝে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ব্যাপক আলোড়ন ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উক্ত থানা দুটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অপরাধ ও মামলা উল্লেখ্যযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রোগ্রামটি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে চলমান থাকবে।

লেখক : সহকারী পুলিশ কমিশনার

(মাহিগঞ্জ জোন), রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, রংপুর।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *