ই-পেপার

আহমদ সেলিম রেজা

সিনেমা উপন্যাসে গানে কবিতায় ও সাহিত্যে পদ্মানদী ও পদ্মাপাড়ের মানুষদের নিয়ে নানা জীবন কাহিনী রচিত হয়েছে। প্রমত্ত পদ্মার জেলে জীবন নিয়ে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের সেই ‘পদ্মানদীর মাঝি’ তো ইতিহাস খ্যাত হয়ে আছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গান ‘পদ্মার ঢেউরে/ মোর শূণ্য হৃদয় পদ্ম নিয়ে যা, যা রে’ বা ’দেশাত্মবোধক গান ‘এই পদ্মা এই মেঘনা এই সুরমা নদী তটে’ কিংবা দরাজ গলায় হৃদয় উদাস করা পদ্মা নিয়ে আবদুল আলিমের গাওয়া ‘সর্বনাশা পদ্মানদী তোর কাছে শুধাই/বল আমারে তোর কি রে আর কূল কিনারা নাই/ ও নদী কূল কিনারা নাই… আজো কার মনকে না নাড়া দেয়!

সেই পদ্মা।

তীব্র স্রোতেস্বীনি আমাজনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় খড়স্রোতা নদী পদ্মা। বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী পদ্মা। পদ্মার সর্বোচ্চ গভীরতা ৪৭৯ মিটার ও গড় গভীরতা ২৯৫ মিটার। গড় প্রস্থ ১০ কিলোমিটর। নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। ৩৬৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই নদীর তীব্র স্রোতে হারিয়ে গেছে পদ্মার দুই পাড়ে গড়ে ওঠা অনেক স্থাপনা, জনপদ ও ঘরবাড়ি। মুসলিম শাসনামলের রাজধানী মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক স্থাপনা, মোঘল ও ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব রাজা রাজবল্লভের প্রাসাদসহ অনেক ঐতিহাসিক কীর্তি ধ্বংস হয়ে যায় বলে পদ্মার আরেক নাম হয় কীর্তিনাশা।

সেই কীর্তিনাশা পদ্মার বুকে নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ নির্মাণ করেছে (সংযোগসহ) ৯ দশমিক ৮৭ কিমি. দীর্ঘ দ্বিতল পদ্মাসেতু। নিচতলায় রেল আর উপর তলায় গাড়ি চেপে পাড়ি দেবে মানুষ সেই উত্তাল পদ্মানদী। নদীর উপরই যার দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। এই অবিশ্বাস্য সফলতার জন্য বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে অভিনন্দিত করছে। যে বিশ্বব্যাংক একদা এই সেতু নির্মাণে অর্থায়ন করতে অস্বীকার করেছিল, সেই বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টও আজ বাংলাদেশকে অভিনন্দিত করছে। আহ্! এ যে বড়ই উল্লাসের, বড়ই আনন্দের। অভিবাদন প্রধানমন্ত্রী। অভিবাদন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অদম্য সাহসী কন্যা শেখ হাসিনাকে। যিনি বিশ্বব্যাংকের উপেক্ষা ও দূর্নীতির অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু বাস্তবায়নের অঙ্গিকার করে উভয় চ্যালেঞ্জেই বিজয় লাভ করেন এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের সফলতার বিরল কৃতিত্ব ও মাইলফলক নির্মাণ করেন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন জাতীয় সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বলেন, হ্যা! আমরাও পারি। তখন সফলতার গৌরবে বাংলাদেশের সম্মাণের মাথাটা হিমালয়ের সমান উঁচু হয়ে যায়। হ্যা! পদ্মাসেতু আজ বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের আইকনিক ব্র্যাড নেম। পাশাপাশি বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের আইকনিক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মাথা নত হয়ে যায় পরাজয় ও লজ্জায়। কানাডার আদালতে দূর্নীতির অভিযোগে করা মামলায়ও তারা হেরেছে। আদালত সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে, পদ্মাসেতুতে কোন দূর্নীতি হয়নি। অপরদিকে, পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন না করেও তারা বিজয়ী হতে পারেনি।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পদ্মা নদীর এই তীব্র গতিময়তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তুলনা করে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কবি অন্নদা শঙ্কর রায় লিখেছিলেন, “যত কাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরি মেঘনা বহমান/ ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান”। কালচক্রে সেই পদ্মার বুকে বিশ্বকে বিস্মিত করে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা নির্মাণ করলেন বিশ্বের বিস্ময় ঐতিহাসিক পদ্মাসেতু।

দেশি-বিদেশি শত ষড়যন্ত্রকারীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে, বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে নদী ও ডাঙ্গায় সমানতালে লড়াই করে পদ্মাসেতুর সব চ্যালেঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ। পক্ষান্তরে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের মাথা নিচু করতে গিয়ে নিজেরাই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হেরেছে বিশ্বব্যাংক। যার জন্য আজ থেকে পাচঁ বছর আগে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বিশ্বব্যাংককে বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি ওঠে। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাংকসহ দুর্নীতির অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এমপিরা। পাচঁ বছর পর সেই জাতীয় সংসদে দাবি ওঠে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসা হোক পদ্মাসেতুর উদ্বোধানী অনুষ্ঠানে। বলা হয়, ‘নাকে খত দিয়ে দেখে যাক পদ্মাসেতুর গৌরবময় উদ্বোধন’।

বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের আইকনিক ব্র্যাড নেম অর্জন করার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যাকে নদীর বৈরী আচরণ মোকাবেলার পাশাপাশি খালি হাতে লড়াই করতে হয়েছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তি, মার্কিন মুল্লুকের মতো ডাঙ্গার বাঘ ও দেশি নেকড়ের সাথে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো বিশ্বের অর্থনৈতিক হাতির সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করার সাহস তৃতীয় বিশ্বে আছে কার? একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তাই জাতীয় সংসদে পদ্মাসেতু বাস্তবায়নের সফলতার জন্য জাতির পক্ষ থেকে সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অকুন্ঠ চিত্তে জানানো হয় আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। সরকারি দল ও বিরোধী দল একবাক্যে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার ধৈর্য্য, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও সাহসই পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন সম্ভব করে তুলেছে। তিনি একদিকে যেমন জনগণকে পদ্মাসেতুর স্বপ্ন দেখিয়েছেন, দক্ষিণ পশ্চিমঞ্চলের অবহেলিত মানুষকে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়েছেন একইসঙ্গে সেই স্বপ্ন পূরণের রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা ও দৃঢ়তাও দেখিয়েছেন। আবার তার উন্নয়ন পরিকল্পনা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল বা পূর্বাঞ্চলও। প্রতিটা উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং। পদ্মার মতো গভীর, প্রশস্থ ও খড়স্রোতা নদীর বুকে দ্বিতল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন আরো চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী জনগণকে স্বপ্ন দেখিয়েই ক্ষ্যান্ত দেননি। বাস্তবায়নের প্রতিটি পদক্ষেপ নিজের নজরদারিতে রেখেছেন। কারগিরী টিম সম্ভাব্যতা যাচাই, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা প্রকল্প প্রণয়ন, সেই প্রকল্পের প্রয়োজনে বারবার সংশোধন। প্রতিটি সংশোধনীতে ব্যয় বৃদ্ধির খতিয়ান- কোন কিছুতেই তিনি ক্ষ্যান্ত হননি। রেল লাগবে, রাস্তা চার লেন হতে হবে, ওপারে গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন যেতে হবে- ওকে যাবে। যেখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন, দিয়েছেন। অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আইন করতে হবে, করেছেন। এমনকি দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা যখন চূড়ান্ত নকশা প্রধানমন্ত্রীকে দেখালেন, প্রধানমন্ত্রী বললেন, শুধু নদীর মাঝখান দিয়ে জাহাজ চলবে কেন, খড়স্রোতা নদী- জাহাজের সুবিধা মতো যে কোন জায়গা দিয়ে চলাচলের সুযোগ রাখতে হবে। আবার স্রোতের কারণে কোন জাহাজ পিলারে ধাক্কা দিলে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও পিলার যেন অক্ষত থাকে সেজন্য যা লাগবে, যেভাবে করতে হবে, সেভাবে নকশা করতে বললেন প্রকৌশলীদের। একইভাবে কোন কারণে পুরো সেতু জুড়ে একসাথে ট্রেন ও সড়ক পথে যানজট সৃষ্টি হয়ে গেলে সেতুর সেই লোড বহনের সক্ষমতা সম্পন্ন পিলার নির্মাণ করতে বললেন তিনি। শেষ পর্যায়ে সেতুর দু’টি পিলার স্থাপনের সমস্যা সৃষ্টি হলে দিক নির্দেশনা দিলেন দক্ষ প্রকৌশলীর মতো। প্রতিবারেই চিন্তিত প্রকৌশলীদের ব্যয় নিয়ে দু:শ্চিন্তা মুক্ত রাখলেন তিনি। এরআগে সেতুর কারণে দফায় দফায় নদীর দুই পাড়ের বিপুল জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার। কিন্তু এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরী হওয়ার আগেই সংসদে আইন করে জনগণের হতে তিনগুণ ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন তিনি। এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো টাকা জোগারের দূরূহ অভিযানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব দূরদর্শিতা,বিচক্ষণতা, দক্ষতা, সাহস দেখিয়েছেন তিনি। পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন আটকানো যাবেনা নিশ্চিত হওয়ার পর বিশ্বব্যাংক যখন নির্লজের মতো পদ্মাসেতুতে অর্থায়নের প্রস্তাব নিয়ে আসলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুখের উপর না করে দিলেন।

সেতুর কাজ শুরু হলে উন্মত্ত হয়ে ওঠে নদী

সেতুর কাজ শুরু হলে নদী উন্মত্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় তীব্র নদীর ভাঙ্গন, কঠোরভাবে তা মোকাবেলা করবে কে? পিলার বসানোর ড্রিলিং করতে গিয়ে হঠাৎ নদী তলা খুঁজে না পাওয়া-ড্রিলেংয়ের জন্য ষ্টিলের পাইপ হারিয়ে যাওয়া, এসময় আকাশের দিকে দু’হাত তুলে যখন নদী পাড়ের মানুষেরা আল্লাহর গায়েবী মদদ চাইছে, তখন বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করলো বিদেশি মদদে একদল লোক মিথ্যা তথ্য ও গুজবের মহামারি সৃস্টি করছে। সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অবিচল থেকে দৃঢ় চিত্তে লড়লেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার মেধা ও দূরদর্শিতাও দেখিয়েছেন তিনি। তারপরও সেতুর নামকরণের প্রশ্নে যখন প্রশাসন থেকে ‘শেখ হাসিনা পদ্মাসেত’ নামের রাখার প্রস্তাব করা হলো, তিনি বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দিয়েছেন সেই প্রস্তাব। নদীর নামেই রেখেছেন সেতুর নাম পদ্মা সেতু। তাই অকুন্ঠ চিত্তে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে অভিবাদন জানাতে আজ ঐক্যবদ্ধ জাতি।

পদ্মাসেতু নিয়ে সরগরম ছিল তিনটি সংসদ

নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের পর পর তিনবারের সংসদ নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এই তিন সংসদের বিভিন্ন অধিবেশন জুড়েই আলোচনায় ছিল পদ্মাসেতু। নবম সংসদে জাতিকে পদ্মাসেতুর স্বপ্ন দেখান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এগিয়ে আসে বিশ্বব্যাংক। তারপর হঠাৎ করেই স্বপ্নের আকাশে দেখা দেয় কালোমেঘের ঘনঘটা। স্বপ্নকে অঙ্কুরেই বিনিষ্ট করে দিতে স্বপ্নের বাগানে হানা দেয় বুনো শুয়ার। স্বপ্নকে তছনছ করে দিতে মাঠে নামে বিশ্ব মোড়লেরা। বাংলাদেশে আসতে শুরু করেন বিদেশি অতিথিরা। পদ্মাসেতু প্রকল্পে কে থাকবে কে থাকবে না, কোথায় কাকে রাখতে হবে, কোত্থেকে কাকে বাদ দিতে হবে, কাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, কাকে দিয়ে কী কাজ করাতে হবে, কাকে কী দিতে হবে-নানা শর্তের বেড়াজালে আটকে দেওয়ার চেষ্টা হয় স্বপ্নের পদ্মাসেতুকে। বঙ্গবন্ধুর কন্যার দৃঢ়তায় ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলে ওঠে দূর্নীতির অভিযোগ। দূর্নীতির অভিযোগে সরগরম হয়ে ওঠে সংসদ ও রাজপথ। টাকা ছাড় হওয়ার আগেই দূর্নীতির অভিযোগ ওঠায় প্রধানমন্ত্রী দূর্নীতির বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। একইসঙ্গে ঘোষণা দেন নিজস্ব অর্থায়নেই হবে পদ্মাসেতু। তখন দেশি-বিদেশি অনেকেই এমন চ্যালেঞ্জে হেসেছিলেন।

দশম সংসদে শুরু হয় বিজয় অভিযাত্রা

মনে পড়ে ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির কথা। সেদিন ছিল রবিবার। একদিন আগে শুক্রবার কানাডার আদালত বলেছে, পদ্মাসেতু নিয়ে দূর্নীতির অভিযোগ ‘ভোগাস’। সেদিন সংসদ থেকে (লেখক) রিপোর্ট করেছিলাম। শিরোনাম দিয়েছিলাম,‘বিশ্বব্যাংকসহ দুর্নীতির অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এমপিদের/বিশ্বব্যাংককে বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি সংসদে’

রিপোর্টটি ছিল এমন, ‘বহুল আলোচিত পদ্মাসেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়েরকৃত মামলা কানাডার আদালত খারিজের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংকসহ দুর্নীতির অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এমপিরা। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাংককে বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের কাছে ‘প্রটেস্ট নোট’ পাঠানোরও দাবি জানানো হয়।  

একাদশ সংসদে পদ্মাসেতুর সফলতার

বিজয় মাল্য হলো প্রধানমন্ত্রীর কন্ঠহার

চলতি একাদশ সংসদের ১৮তম (বাজেট) অধিবেশনের ৮ জুনের বৈঠক চলেছে রাত ১১টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত। এদিন জাতিকে পদ্মা সেতু উপহার দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য আনা হয় ধন্যবাদ প্রস্তাব। মাগরিবের নামাজের বিরতি বাদ দিয়ে দীর্ঘ ছয় ঘন্টা ধরে চলে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা।

জাতীয় সংসদের ১৪৭ বিধিতে সাধারণ আলোচনার প্রস্তাবটি আনেন চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী। এ ধন্যবাদ প্রস্তাবে বলা হয়, ‘আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু কাঙ্খিত সর্ববৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প ‘পদ্মা সেতু’ উদ্বোধন করবেন। এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে

থাকবে। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার তিন কোটির অধিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। চার লেনের হাইওয়ে এবং এক লেনের রেললাইন সম্বলিত ৬. ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু আজ পরম বাস্তবতা। বাঙালির অহংকার আত্মপ্রত্যয়, সক্ষমতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। এই অর্জন ও কৃতিত্বের দাবীদার একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর সাহসী ও দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব মানুষের প্রতি অপার ভালোবাসা এবং জাতিকে পদ্মা সেতু উপহার দেয়ার জন্য জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে জাতির পক্ষ থেকে কৃতিজ্ঞাচিত্তে আন্তরিক অভিন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হোক।’

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ৮ জুন বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদে আনা অভিন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। এরআগে  দীর্ঘ ৬ ঘন্টা ব্যাপী চলা এ আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জাসদ, ওয়ার্কাস পার্টির এমপিসহ ৩৮জন মন্ত্রী ও এমপি। পরে রাত ১১টা ৪০মিনিটে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।

লেখক: সাংবাদিক ও সদস্য, বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x