ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল যন্ত্র রি-অ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল (আরএনপিপি-পারমাণবিক চুল্লিপাত্র) স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ অক্টোবর ২০২১ খ্রিঃ। ‘আর যেন কোনো শকুনির থাবা না পড়ে বাংলাদেশের ওপর’ এবং ‘বাংলাদেশের এই উন্নতি এবং অগ্রগতি যেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যায়’ সেজন্য সবাইকে সতর্কও করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টদের মতে, পারমাণবিক চুল্লিপাত্র বসানোর এ ঘটনা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ওই কেন্দ্রের যে যন্ত্রে নিউক্লিয়ার ফুয়েল (পারমাণবিক জ্বালানি) ইউরেনিয়াম থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়- তার মূল কাঠামো হচ্ছে এই বিশেষ যন্ত্র, পারমাণবিক চুল্লি। এটিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের হৃৎপি- বলা হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের অনেক আগেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্যুতায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছিলেন। পাকিস্তান সরকারের কাছে তাঁর দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ১৯৬১ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জমি অধিগ্রহণসহ বেশ কিছু কাজ তখন সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭০ সালে পাকিস্তান সরকার হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দিয়ে প্রকল্পটি পশ্চিম পাকিস্তানে সরিয়ে নেয়। স্বাধীনতার পরপরই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালেই বঙ্গবন্ধু ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’ ‘আইএইএ’র সঙ্গে চুক্তি করেন। সে সময় দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পরিচালক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত স্বামী বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়াও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। মূলত সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়টিতে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। এখানে প্রায় তিন-চার স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই রি-অ্যাক্টরের কাছে বা এর ভেতরে যারা কাজ করবেন তাদেরও অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি পুরো এলাকাটিরও নিরাপত্তার যে প্রয়োজন তা পূরণ করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগানো হয়েছে। প্রকল্পের শুরুতেই রাশিয়ার সঙ্গে সরকারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চুক্তি হয়েছে। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।

পারমাণবিক প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক অ্যানার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (আইএইএ) গাইডলাইন অনুযায়ী এবং সংস্থাটির কড়া নজরদারির মধ্য দিয়েই রূপপুর প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প (আরএনপিপি) বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। সূত্র মতে, ইউনিট-১ এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে রি-অ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের পারমাণবিক যন্ত্রাংশ স্থাপন সম্পন্ন হবে। ফলে এই ইউনিটের রি-অ্যাক্টর ভবনের ভেতরের কাজ প্রায় শেষ হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট অর্থাৎ মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ইতোমধ্যে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের রি-অ্যাক্টরসহ যাবতীয় যন্ত্রপাতি তৈরি হয়েছে রাশিয়ায়। এরপর যন্ত্রগুলো সমুদ্রপথে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। প্রথম ইউনিটের ভারী যন্ত্র চারটি স্টিম জেনারেটর, প্রেসারাইজার, হাইড্রো একমোডেটর ইতোমধ্যেই রূপপুরে এসে পৌঁছেছে। এই ইউনিটের রি-অ্যাক্টর গত বছর অক্টোবরে রাশিয়া থেকে দেশে এসে পৌঁছায় এবং নভেম্বরে সেটি রূপপুরে নেওয়া হয়। এ বছর আগস্টে দ্বিতীয় ইউনিটের রি-অ্যাক্টর এসেছে। এই ভারী যন্ত্রগুলো রাশিয়ার ভলগা নদী থেকে প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার সামুদ্রিক পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের মোংলা বন্দর দিয়ে রূপপুরের কাছে পদ্মায় এসে পৌঁছায়। এ রি-অ্যাক্টর ভেসেলের ওজন ৩৩৩ দশমিক ছয় টন। এ রি-অ্যাক্টর বানাতে দুই বছরের বেশি সময় লাগে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২০২৩ সালের এপ্রিলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চায় রূপপুর কর্তৃপক্ষ। আর ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। রূপপুরের কর্মকর্তারা বলছেন, রূপপুরে ইউনিট-১ এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে চুল্লিপাত্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে এ ইউনিটের কাজ প্রায় শেষ বলা যায়। এ যন্ত্রের মধ্যেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোড করা হয়। নিরাপদভাবে প্রাথমিক কাজ শেষে সফলভাবে চুল্লি স্থাপিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধানতম মাইলফলক অর্জন করতে যাচ্ছে রূপপুর। পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পথে বড় অগ্রগতি এটি। রূপপুর কর্তৃপক্ষ বলছে, রাশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। এগুলো সময়মতো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো হচ্ছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব যন্ত্রপাতি দেশে চলে আসবে। দেশেও প্রতিটি কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। রূপপুরে বর্তমানে সাড়ে চার হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। তাঁদের অধিকাংশই রাশিয়ার নাগরিক। এছাড়া ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভারতেরও কিছু দক্ষ প্রকৌশলী আছেন রূপপুর প্রকল্পে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশের এক হাজার ৪২৪ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে তাদের রাশিয়া পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

করোনায় থামেনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ, বরং বাড়তি জনবল নিয়ে নির্মাণের গতি বাড়িয়েছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রকল্পের সঙ্গে তাল রেখে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিবি)র সময়মতো বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজটি শেষ করতে হবে। এখন পর্যন্ত রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় বা মেয়াদ কোনোটাই বাড়াতে হয়নি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রাথমিক কাজ শেষে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা শুরু হবে। এ জন্য ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প এলাকায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সংযুক্তি (ফুয়েল লোডিং) শেষ করা হবে। আন্তর্জাতিক রীতি অনুসারে, ফুয়েল লোডিংয়ের দুই-তিন মাস আগেই গ্রিড প্রস্তুত রাখার দায়বদ্ধতা আছে। এছাড়া আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপযোগী গ্রিড ব্যবস্থা নির্মাণ করতে হবে।

সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে পুরো সক্ষমতা দিয়ে কাজ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সে জন্যই এখন পর্যন্ত আশা করা যায়, ‘নির্ধারিত সময়ে সব কাজ শেষ হবে।’ পিজিসিবি কাজ শুরু করেছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের। ১০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকার এ কাজ হচ্ছে ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) চুক্তির আওতায়। এতে আট হাজার ২১৯ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে ভারতের এক্সিম ব্যাংক। বাকি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার ও পিজিসিবি। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। পাঁচটি প্যাকেজে ভাগ করা এ প্রকল্পের চারটির কাজ শুরু হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদী পারাপার লাইন প্যাকেজের কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে।

অগ্রগতি ৩৯ শতাংশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন বলছে, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে। একই সময়ে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৩৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৩৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। কর্মকর্তারা জানান, এ বছরের মধ্যেই প্রথম ইউনিট স্থাপনের (ইনস্টলেশন) কাজ শেষ হবে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব যন্ত্রপাতি দেশে চলে আসবে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে। দিনে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার লোক কাজ করার কথা

থাকলেও এখন রূপপুরে ২৫ থেকে ২৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন প্রতিদিন। অগ্রগতি প্রতিবেদন বলছে, রাশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। এসব কাজ নির্ধারিত সময় ধরেই এগোচ্ছে। সময়মতো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো হচ্ছে। দেশেও প্রতিটি কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। ২০২৩ সালের এপ্রিলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চায় রূপপুর কর্তৃপক্ষ। আর ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

আন্তর্জাতিক অনুমোদনের চ্যালেঞ্জ

রূপপুর প্রকল্পের কাজটি নিয়মিত নজরদারির মধ্যে রেখেছে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা (আইইএ)। পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোও এ প্রকল্পের খোঁজ-খবর রাখছে। সময়মতো প্রতিটি ধাপ শেষ করার বিষয়টি দেখে আইইএ মূল্যায়নও করছে। নিয়মিত সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হচ্ছে। আগামী বছর থেকে প্রতিটি ধাপে আইইএ থেকে অনুমোদন নিয়ে এগোতে হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে এটিই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আইইএর সঙ্গে বাংলাদেশ পক্ষের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দেশের পারমাণবিক অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং সে ক্ষেত্রে আইইএর সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিবছর দুই পক্ষ আলোচনা করে এটি হালনাগাদ করে। বাংলাদেশিদের প্রশিক্ষণ রূপপুরে বর্তমানে সাড়ে চার হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। অধিকাংশই রাশিয়ার। এছাড়া ইউক্রেন, উজবেকিস্তান ও ভারতের কিছু দক্ষ প্রকৌশলী রয়েছেন রূপপুর প্রকল্পে। এছাড়া জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের তিন জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ খ-কালীন পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। দেশীয় বিশেষজ্ঞেরা বিভিন্ন কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। এ বছরেই রাশিয়া থেকে আরও বিশেষজ্ঞ আসবেন। বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশের এক হাজার ৪২৪ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে তাঁদের রাশিয়া পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আলাদা কোম্পানি

বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তৈরি পারমাণবিক বর্জ্য ফেরত নেবে রাশিয়া। এর জন্য ২০১৯ সালের ৩০ আগস্ট রাশিয়ার মস্কোতে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। এরপর ওই বছরের অক্টোবরে আইইএর নির্দেশিকা (গাইডলাইন) মেনে তৈরি ‘তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক জাতীয় নীতি, ২০১৯’-এর খসড়া অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এ নীতির আওতায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (আরডব্লিউএমসি) গঠন করবে। বাংলাদেশের সব তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ করবে এই কোম্পানি।

একাধিক মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা

রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি, কারিগরি পর্যালোচনা ও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীকে সভাপতি করে ২৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রিসভা। এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা সদস্য হিসেবে আছেন। রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের কাজে যুক্ত আছে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়। এগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মূল কাজটি করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। আর বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণের দায়িত্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লি স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তির অংশ হিসেবে স্থান পেয়েছে। তবে এই শক্তি শান্তির জন্যই ব্যবহার করা হবে- বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘পরমাণু শক্তির অংশ হিসেবে একটা স্থান করে নিতে পারলাম আজ। সেটা শান্তির জন্য। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্যই ব্যবহার করব। পরমাণু শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। সেটা গ্রামের মানুষের কাছে যাবে। তাদের আর্থসামাজিক উন্নতি হবে।’ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য সঞ্চালন লাইন নির্মাণ শুরু করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ‘রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়ে যাওয়ার পরে আমরা দক্ষিণাঞ্চলে জায়গা খুঁজছি। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে শক্ত মাটির জায়গা পাওয়া খুবই কঠিন। তার পরও বিভিন্ন দ্বীপ ও অঞ্চলে জরিপ করছি। আরেকটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করব। সেটা আমরা কোথায় ভালো জায়গা পাই, আমাদের ইচ্ছা পদ্মার ওপারেই করার’।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের সময়ে বাংলাদেশ এই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজের রি-অ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন করলো- যেটা সত্যিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। পাশাপাশি ২০৪১ সালের মধ্যে এই উন্নয়নশীল বাংলাদেশই উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে- এখানে থেমে গেলে চলবে না। ২০৭১ সালে নিশ্চয় নতুন প্রজন্ম একটি সুন্দর, উন্নত, সমৃদ্ধিশালী ও আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে স্বাধীনতার শতবর্ষ উদ্যাপন করবে।

প্রতিবেদক : এআইজি (প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ-১)

বাংলাদেশ পুলিশ

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *