ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

তাহমিনা আক্তার

চারদিকে কত কোলাহল কিন্তু কলকাকলী নেই। বলতে গেলে যন্ত্রের চেয়ে মানুষের কোলাহলই বর্তমানে বেশি। পাখিদের কলকাকলী এখন আর শহর জীবনে শোনা যায় না। তা শুনতে গেলে শহর ছেড়ে দূরের নিবিড় গ্রামে যেতে হবে তাও আগের তুলনায় খুব কমই শোনা যাবে। কি করবেন যেখানে সর্বজান্তা মানুষ হয়ে সমাজের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন সেখানে পাখিরও অভিমান হয় নিজেকে গুটিয়ে রাখার। সবকিছুর পাশাপাশি কোলাহলেও মানুষের অংশীদারিত্ব বেশি। কলকাকলী শব্দটি সুন্দর হলেও এই শব্দটি কোলাহলের কাছে বর্তমানে হেরে যায়। নগর কলকাকলী শব্দটি সুন্দর তাই এটি বিশেষ জায়গায় ব্যবহার করা হতো যেমন-কবি এবং লেখক তাদের কবিতা উপন্যাসে এই শব্দটি বেশি ব্যবহার করতেন। যেমন ধরেন পাখিদের কলকাকলী। এই দুটি শব্দ যদি মন থেকে কল্পনা করেন তাহলে আপনার চোখে ভেসে উঠবে কিছু রং বে-রংয়ের নিষ্পাপ পাখিদের ঠোট, চোখ আর পালক। অন্যদিকে বর্তমান সমাজে আপনি কোলাহল শব্দ খুঁজতে গেলে পাবেন মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট শব্দ দুষণ, ভয়ংকর হুংকার, যন্ত্রের অসহনীয় শব্দ, নয়তো উদ্দেশ্যমূলক অর্থবিহীন শব্দে বানানো সম্মিলিত কোনো মিছিল। কোলাহলই আজকের সময়ে কলকাকলীর জায়গায়টা জুড়ে বসেছে। আর কোলাহলটাই নাকি আজকের সমাজের কলকাকলী তাও আবার মানুষের। বর্তমান সময়টা এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যেখানে খারাপ জিনিসটাকে ভালো বলে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। আর ভালো জিনিসটা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে খারাপ কাজের তলায়।

জন্মকাল থেকে সৃষ্টিকর্তা আমাদের দুনিয়াতে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন। মর্যাদা দিয়েছে স¦য়ং সৃষ্টিকর্তা আর অযোগ্যতা অর্জন করছে মানুষ নিজেই। সেই সাথে আমরা অদ্ভুত এবং আজব প্রাণীও বটে। মানুষ বর্তমানে সমাজব্যবস্থা ও পরিবেশকে এমন এক পর্যায়ে এনেছে যেখানে এসে ভালো কে খারাপ আর খারাপকে ভালো বলতে এখন মানুষ প্রায়ই বাধ্য। সব নিয়ম এবং সকল ব্যবস্থা মানুষের তৈরি। সমাজে যা কিছু ঘটছে সব কিছুই মানুষের সুফল আর কুফল চিন্তাধারা দিয়েই। হরেক রকম মজার মধ্যে দিয়ে অন্যতম মজার বিষয় হলো আমরা রক্তে মাংসে গড়া মানুষ হয়ে আবার অন্যকে মানুষ মনে করিনা। এটার উদাহরণঃ আপনার চারপাশসহ আপনি নিজে এবং অন্য উদাহরণ চাইলে বলবো, আমরা অভাগা পুলিশ। আমাদের কেউ শুনতে চায় না, বুঝা তো অনেক দূরের কথা। আজকের ভদ্র ও অভদ্র সমাজ মানুষ এবং পুলিশকে আলাদা আলাদাভাবে চেনে। মিলিয়ে দেখবেন কোনো দুর্ঘটনায় ৪ জন মারা গেলে বিস্তারিত বলতে লোকে বলে ৩ জন মানুষ আর ১ জন পুলিশ মারা গেছে। কিন্তু এটা বলার আগে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কেউ ভাবার চেষ্টা করেনা যে, মাতৃগর্ভ থেকে কেউ পুলিশ হয়ে জন্মলাভ করেনি মানুষ হয়েই জন্মলাভ করে।

পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের শুরু থেকে শেষ অবধি স্তরে স্তরে বিভিন্ন পর্যায় কষ্টের সাথে পাড় করতে হয়। সারাদেশে প্রত্যেকটি জেলায় বিভিন্ন ইউনিটে আমরা পুলিশ বাহিনী কাজ করছি। ২৪ ঘণ্টা জনসাধারণের নিরাপত্তার আর সাহায্যের জন্য খোলা থাকে বিভিন্ন হেল্পসেন্টার। মাঠপর্যায়ে বিশেষ ভূমিকা রাখছে আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ বাহিনীর সকল ইউনিটের কর্মরত পুলিশ সদস্যদের কথা বলতে গেলে উপন্যাস রচিত হয়ে যাবে। তাই প্রথমে শুধুমাত্র একটি ইউনিট অর্থাৎ আমাদের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কথা দিয়েই শুরু করি।

চৈত্রের রৌদ্রে আপনি যখন ক্লান্ত, বার বার রুমাল দিয়ে মুখ মুছেন, আপনার পিঠের ব্যাগ থেকে মিনারেল ওয়াটার এর বোতল বের করে পিপাসা কাতর গলা ভেজাচ্ছেন। নিজ মাথায় ছাতা ধরে আছেন, আবার ছাতা নেই দেখে ট্রাফিক পুলিশের ক্রসিং এর ছাতার নিচে এসে মাঝে মাঝে ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। সেই ট্রাফিক পুলিশ রৌদ্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজ কর্তব্য পালন করেও একটু দুর্বল অনুভব করলেও সে বলতে পারবে না আমি দুর্বলতাবোধ করছি। কারণ “এরকম রোগা পুলিশ কেন যে বাহিনীতে নেয়”? নিজ প্রিয়জন বা পরিবারের ক্ষেত্রে কিন্তু আপনার এই তিরস্কার কখনোই থাকবে না, এটা শুধুই আমাদের পুলিশেরই প্রাপ্তি। তাছাড়া খবরের কাগজ, টেলিভিশনের সংবাদ, ফেসবুকসহ ইত্যাদি মাধ্যমে প্রতিনিয়ত দেখা ও শোনা যাচ্ছে বাস চাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় মামলা দেওয়ায় মোটরসাইকেল চালক ক্ষিপ্ত হয়ে সার্জেন্টের গায়ে হাত। আর অন্যদিকে ছোট ঘটনাকে বড় আর পজিটিভ সংবাদকে খুব নিখুঁতভাবে নেগেটিভভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে প্রচার করার মতো গুণ তো অনেক পেশাদারের-ই রয়েছে।

প্রশ্ন আর তিরস্কার যখন দুটো একসাথে কানে এসে পৌঁছে তখন পুলিশের মনেও অভিমানী প্রশ্ন জাগে, আসলেই কি আমরা মানুষ নাকি শুধুই পুলিশ? মনের বিশালতা এমন একটি শব্দ অনুভূতির খেলাচক্রে তার সীমাবদ্ধতা আকাশ সমান হয়। সেই আকাশের নিচে লক্ষ মানুষের আশ্রয় হয় এবং স্বস্তি¡র সাথে তারা আশ্রয় নেয়ও বটে। আর অন্যদিকে মনের কৃপণতা এমন একটি শব্দ যেখানে ছোট পিঁপড়েও আশ্রয় নিতে সম্মতি প্রদর্শন করে না, হোক না সেখানে পিঁপড়ে দেখানো চিনির কারখানা। কারণ সে জানে কৃপন ব্যক্তির মন আর কাকের কোকিল সাজার ঢং প্রায় একি। একজন ব্যক্তির ভেতরে ভালো ও মন্দ দুটো ভাবনাই কাজ করে। কারো ভেতরে শুধু ভালো ভাবনা কাজ করে কিন্তু খারাপ ভাবনা কাজ করেনা এটা বলাটা অর্থহীন, ভিত্তিহীন। সে যতই ভালো হোক কিন্তু কারো না কারো প্রতি বিশেষ করে ব্যক্তিটির শত্রুর প্রতি হিংসা, অহংকার নয়তো অভিশাপ কাজ করে আর সেটাই তার খারাপ ভাবনা। হয়তো সে পরিস্থিতির শিকার নয়তো সে এরকম ভাবনায় বাধ্য। কিন্তু ভালোর সাথে খারাপ ভাবনা বা দৃষ্টি কাজ করবেই। ঠিক এই প্রেক্ষিতে বলি কোনো ভালো মানুষের ভেতর খারাপ অনুভূতি নেই এবং কোনো খারাপ মানুষের ভেতর ভালো অনুভূতি নেই এটাও যুক্তিহীন। একজন খারাপ মানুষও কিন্তু কখনো কখনো কারো প্রতি ভালো আচরণ, ভালো অনুভূতি ধারণ করে। কিন্তু আমরা নির্বিশেষে সবসময় ভালো সময়টার কথা মনে রাখিনা খারাপটাই মনে রাখি। কেউ যদি সারা বছর কারো উপকার করে আর একদিন খারাপ ব্যবহার করে মানুষ সেই একদিনের খারাপ ব্যবহারটাই মনে রাখে সারা বছরের উপকারটা নয়। ভালো খারাপ নিয়ে আমাদের পৃথিবী। খারাপের মধ্যে থেকে ভালোটা আর ভালোর মধ্যে থেকে খারাপটা নির্বাচন করতে হবে আর সেটা নির্বাচন করা শুধু তখনই সম্ভব যখন সঠিক বিবেক আর মনুষ্যত্ব কারো ভেতরে বিরাজ করবে।

একের পাপের বোঝা দশে বহন করে। অথচ আমরাই বলে থাকি হাতের পাঁচ আঙুল সমান হয় না। আবার আমরাই পাঁচটা আঙুলকে টেনেটুনে এক করে দেই। শুধু পেশাদারিত্বের দিক হতে আমরা মানুষের চরিত্র নির্বাচন করি। পেশার আগে ও পরে যে মানুষের নিজস্ব একটা পরিচয় আছে তা আমরা ভুলে যাই। পুলিশও মানুষ তাদেরও একটা মন আছে। নিজস্ব একটা চরিত্র আছে, খারাপের সাথে ভালো অনুভুতি আছে।

বছরের পর বছর কাটে, আকাশের রং পাল্টায় এবং সেই আকাশে এক সময় ঈদের চাঁদও ওঠে। সেই চাঁদের খোঁজ রাখলেও খুশি উপভোগ করার আশা পোষণ করা পুলিশের সাজে না। ঈদের ছুটিতে যখন ঘরমুখী মানুষ নিজ বাড়িতে পরিবারের সাথে আনন্দ উল্লাস করার জন্য শহর ফাঁকা করে ঘরে ফিরে তখন ঐ ফাঁকা শহরের ফাঁকা রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকাও পুলিশের কর্তব্য হয়ে উঠে। অন্যদিকে শহরে থাকা স্থানীয় অস্থানীয় বাসিন্দা যখন ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য ঈদগাহে যায় তখন পুলিশ নামের ঐ হৃদয়হীন রোবটই তাদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে মূল পয়েন্টে অন ডিউটিতে মজুত থাকে। মানুষের ধারণা পুলিশ তো হৃদয়হীন রোবট তাই ঈদের নামাজ আদায় না করার কোনো কষ্ট পুলিশের হয়না। সবশেষে পরিবারের কাছে কষ্ট লুকাতে হাতের ফোনটি হয়ে যায় বড় সঙ্গী। ফোনে কথা বলে ঈদের খুশি ভাগ করে সেখানেই নিজের বাড়তি না ফেরার কষ্ট বুকের ভেতর চাপা পড়ে যায়।

সময় চলে যায়, একের পর এক উৎসবগুলোও কেটে যায়, ঘরমুখী মানুষ পরিবারের সাথে সময় কাটিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসে। পুলিশের ডিউটি আরো জোরালো হয়। জিজ্ঞেস করার মতো কেউ থাকেনা এই কয়দিন কেমন কাটলো আপনাদের পরিবার পরিজন ছাড়া? এইতো সেদিনকার ঘটনা। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে ৪০ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস ডোবায় পড়ে যায়। আশপাশের লোকজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাহুতাশ করছে কিন্তু এদোঁ ডোবায় নেমে কাউকে উদ্ধার করার চিন্তা মনে কড়া নাড়লেও শেষ পর্যন্ত কারো সাহস হয়ে উঠেনি নামার। তখন সেই মুহূর্তে যাত্রীদের উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন পুলিশেরই কনস্টেবল পারভেজ। বাসের জানালার কাচ ভেঙে ২৬ জনকে তিনি একাই উদ্ধার করেন। আমার মনে হয় না উদ্ধার হওয়া ঐ ২৬ জন আজ আর কনস্টেবল পারভেজের কথা মনে রেখেছে। বর্তমানে কেউ জানতে চাইবে না পারভেজ কেমন আছে। অথচ যে পারভেজ তার সাহসিকতা আর মহানুভবতার কারণে বিপিএম সম্মাননা পদক প্রাপ্ত হয়েছিলেন আজ সে সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু। হয়তো মনে হয়না পারভেজের এই পঙ্গুত্বের কথা শুনে কেউ আফসোস করেছে। বরং তার এই দুর্ঘটনার সংবাদ ফেসবুকে প্রকাশ হলে কিছু মানুষের অশালীন মন্তব্য পুলিশ সদস্যদের মনে আঘাত দেয়।

পৃথিবীজুড়ে কোটি কোটি মানুষ। সেই মানুষের মধ্যে পুলিশও আছে। কিন্তু আমরা মানুষ হয়ে পুলিশকে মানুষ মনে করি না। কারণ আমাদের সমস্যাটা মনুষ্যত্বে। মানুষের মধ্যেই মনুষ্যত্বের চর্চা। অর্থাৎ মনুষ্যত্ব চর্চার ক্ষেত্র হলো মানুষ। আকার-আকৃতি, রঙ্গে ঢঙ্গে মানুষ পৃথক হতে পারে, কর্মদিক থেকেও মানুষ পৃথক হতে পারে কিন্তু সবার মধ্যে মনুষ্যত্বের গুণগুলোর কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু আমরাই আমাদের মনুষ্যত্ব দিন দিন হারিয়ে ফেলছি। মৃতদেহ পড়ে থাকছে রাস্তায়। কেউ ধরছে না, স্পর্শ তো দূরের কথা। স্পর্শ করছে পুলিশ। হচ্ছে না শেষবারের মতো সম্মানের সঙ্গে সৎকারের ব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থা করছে পুলিশ। বর্তমান সময়ে করোনার কারণে হাজারো মানুষ মারা গেলে জানাজা পড়ানোর জন্য খুঁজে পাওয়া যায়নি তেমন কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষ। সেই জানাজা সম্পন্ন করেছে এই অধম পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য। তারপরও কিছু সমালোচকের মনে পুলিশের স্থান হয় না। মানুষ হয়ে পুলিশকে মানুষ পরিচয় দিতে যেন কোথায় নিষেধাজ্ঞা। স্বাভাবিক আর অস্বাভাবিক মৃত্যুর চেয়েও মনুষ্যত্বের এই মৃত্যু নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক। মানুষ দিন দিন ভুলতে বসেছে তার ভেতরের মানবিকতার কথা। মনুষ্যত্বের ঘাটতিতে নিজের ভেতরে প্রতিনিয়ত মরছে মানুষ। পৃথিবীতে ভালো খারাপ দুটোই বিদ্যমান।

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। মানুষের মধ্যেই আছে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার মতো  মন মানসিকতা ও বিবেক-বুদ্ধি। পৃথিবীতে বহু প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেলেও মানুষই টিকে আছে সগৌরবে। মানুষ নিজেদের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে পৃথিবীতে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছে। মানুষে মানুষে মিলেমিশে বসবাসের জন্য সমাজবদ্ধ হয়েছে। সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে দেশে দেশে বিভক্ত হয়েছে। কিন্তু মানুষে মানুষে ঐক্যবদ্ধ থাকার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা কাম্য হলেও বর্তমানে ক্রমেই মানুষের মধ্যে অনৈক্যতার বিষয়টি প্রকাশ হচ্ছে চরমভাবে। যেখানে নিজেই বড় হওয়া ও সফল হওয়ার লড়াই দেখা যায়। নিজে বড় হতে গিয়ে কাউকে হেয় করা, তুচ্ছ করা কিংবা পথ থেকে সরিয়ে দিতে হলেও পিছপা হয় না স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা। অথচ আজকের যে স্বাধীন দেশটা আমরা পেয়েছি সেই দেশ স্বাধীন করার জন্য পাকিস্তানিদের দিকে প্রথম প্রতিবাদী বুলেট ছুঁড়েছিল পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। যারা পুলিশের এই পেশাকে এত ছোট করে দেখেন তাদের কাছে একটা প্রশ্ন পুলিশের সার্কুলার প্রকাশ হলে ভর্তি পরীক্ষার দিন পুলিশ বাহিনীতে ভর্তি হওয়ার জন্য লাইনে হাজার হাজার লোক এরা কারা? এরকম হাজারো প্রশ্ন আছে উত্তর জানা থাকলেও আমরা উত্তর দিতে আগ্রহী না। তাই শুধু একটাই প্রত্যাশা বর্তমানে আমরা পুলিশ যতদূর এগিয়ে গিয়েছি এরকম হাজার উন্নতির চলার পথ আর প্রসারিত হবে আর আমাদের হাত দিয়েই হবে। আমরা সবাই মানুষ, রক্তের রং একই। কিন্তু আমরা মানুষের কাছে পুলিশ হয়ে বাঁচতে চাই না, মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই। কর্মভাগ দিয়ে মানুষ ভাগ হবে না, সবার পরিচয় হবে একটাই সে মানুষ। পুলিশ বাহিনীর সদস্য হয়ে আমাদের এটাই প্রত্যাশা।

  লেখক : নারী কনস্টেবল/৫৫৭০-, ট্রাফিক অ্যাডমিন এ্যান্ড রিসার্চ, ট্রাফিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার  (ডেল্টা-থ্রী)

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *