ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোঃ এনায়েত করিম

পুলিশের অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের জন্য ব্রিটিশ আমল থেকে চলমান বিদ্যমান পদোন্নতি পরীক্ষায় বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা ছিলো। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)-এর নির্দেশে অভ্যন্তরীন সেবা সহজীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে উত্তরণের উপায় হিসেবে ২০২০ সাল হতে নতুন পদ্ধতিতে পুলিশ বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা চালু হয়েছে।

ডিটেকটিভ পত্রিকায় প্রতি সংখ্যায় বিভাগীয় পদোন্নতি সহায়ক হিসেবে লিখিত ও MCQ অনুশীলনী প্রকাশিত হচ্ছে।

ফৌজদারী কার্যবিধি

[১৮৯৮ সালের ৫নং আইন]

অনুশীলনমূলক MCQ

প্রশ্ন: ‘থানার অফিসার ইনচার্জ’ এর সংজ্ঞা ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের কোন ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে?

  (ক) ৪ (১) (ত)             (খ) ৪ (২) (ক)

  (গ) ৪ (২)                   (ঘ) ৪ (৩)

  উত্তর: (ক)

প্রশ্ন: গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মহিলা হলে কে দেহ তল্লাশী করবেন?

  (ক) নারী পুলিশ সদস্য          (খ) পুলিশ অফিসার

  (গ) গ্রেফতারকারী অফিসার            (ঘ) উপরের কেউ না

  উত্তর: (ক)

প্রশ্ন: গ্রেফতারী পরোয়ানা কে জারি করেন?

  (ক) পুলিশ অফিসার (খ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

  (গ) পুলিশ সুপার                   (ঘ) আদালত

  উত্তর: (ঘ)    [ফৌ: কা: ২০৪ ধারা]

প্রশ্ন: ক্রোককৃত সম্পত্তি কত দিনে মধ্যে পুনরুদ্ধার করা যায়?

  (ক) ১ বছর                (খ) ২ বছর

  (গ) ৫ বছর                (ঘ) ৪ বছর

  উত্তর: (খ)    [ফৌ: কা: ৮৯ ধারা]

প্রশ্ন: স্বামী কর্তৃক স্ত্রী ধর্ষণ মামলার তদন্ত কে করবেন?

  (ক) এএসআই                       (খ) ইন্সপেক্টর পদের নিম্নে নহে

  (গ) এসআই              (ঘ) খ ও গ

  উত্তর: (খ)    [ফৌ: কা: ৫৬১ ধারা]

প্রশ্ন: জব্দ তালিকা কত কপি তৈরি করতে হয়?

   (ক) ২ কপি               (খ) ১ কপি

  (গ) ৩ কপি                (ঘ) ৪ কপি

  উত্তর: (গ)    [ফৌ: কা: ১০৩ (২) ধারা, পিআরবি ২৮০ বিধি]

প্রশ্ন: বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হওয়ার আদেশ কে দিতে পারেন-

  (ক) থানা অফিসার ইনচার্জ  (খ) ম্যাজিস্ট্রেট

  (গ) বেসামরিক লোক           (ঘ) ক ও খ উভয়ই

  উত্তর: (ঘ)    [ফৌ: কা: ১২৭ ধারা]

প্রশ্ন: ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৪ ধারার আদেশ কে জারি করেন?

  (ক) ম্যাজিস্ট্রেট                     (খ) ডিউটি অফিসার

  (গ) থানার অফিসার ইনচার্জ            (ঘ) উপরের সবাই

  উত্তর: (ক)

প্রশ্ন: এজাহারে কে কে স্বাক্ষর করেন?

  (ক) বাদী                    (খ) থানার অফিসার ইনচার্জ

  (গ) ডিউটি অফিসার              (ঘ) ক ও খ উভয়ই

  উত্তর: (ঘ)    [ফৌ: কা: ১৫৪ উপধারা, পিআরবি-২৪৩ বিধি]

প্রশ্ন: এজাহারে কী ধরনের অপরাধের কথা উল্লেখ থাকে?

  (ক) জামিনযোগ্য                  (খ) অধর্তব্য

  (গ) ধর্তব্য                   (ঘ) আমলের অযোগ্য

  উত্তর: (গ)

প্রশ্ন: কেস ডায়েরী ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের কোন ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে?

  (ক) ১৭৩ ধারা                        (খ) ১৭৪ ধারা

  (গ) ১৭২ ধারা             (ঘ) ১৬২ ধারা

  উত্তর: (ক)    [পিআরবি-২৬৩, ২৬৪ বিধি]

প্রশ্ন: পুলিশ রিপোর্ট সাধারণত কত প্রকার?

  (ক) ২ প্রকার             (খ) ৫ প্রকার

  (গ) ৩ প্রকার             (ঘ) ৪ প্রকার

  উত্তর: (ক)    [ফৌ: কা: ১৭৩ ধারা ও পিআরবি ২৭২/২৭৫ বিধি]

প্রশ্ন: পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হলে সুরতহাল রিপোর্ট কে তৈরি করবেন?

  (ক) ডাক্তার               (খ) এএসআই এর উপরস্থ সবাই

  (গ) থানার অফিসার ইনচার্জ            (ঘ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

  উত্তর: (ক)    [ফৌ: কা: ১৭৩ ধারা ও পিআরবি ২৭২/২৭৫ বিধি]

প্রশ্ন: কবর হতে লাশ উত্তোলন করার ক্ষমতা কার?

  (ক) পুলিশ কর্মকর্তার           (খ) ইউপি চেয়ারম্যান

  (গ) ডাক্তার                (ঘ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের

  উত্তর: (ঘ)    [ফৌ: কা: ১৭৬(২) উপধারা, পিআরবি ৩০৩ বিধি]

প্রশ্ন: নারাজি পিটিশন বলতে কি বুঝায়?

  (ক) সন্তুষজনক নয়              (খ) আমি প্রত্যাখ্যান করলাম

  (গ) আমি এই রিপোর্ট মানি না          (ঘ) উপরের খ ও গ উভয়ই

  উত্তর: (গ)

প্রশ্ন: মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে কার অনুমতি নিতে হয়?

  (ক) দায়রা আদালত  (খ) হাইকোর্ট

  (গ) জেল কর্তৃপক্ষের            (ঘ) ম্যাজিস্ট্রেটের

  উত্তর: (খ)    [ফৌ: কা: আইনের ৩৮১ ধারা]

প্রশ্ন: হেবিয়াস কর্পাস নোটিশ কে দিতে পারেন?

  (ক) হাইকোর্ট                        (খ) দায়রা জজ

  (গ) ম্যাজিস্ট্রেট                     (ঘ) ক ও খ উভয়ই

  উত্তর: (ক)    [ফৌ: কা: আইনের ৪৯১ ধারা]

প্রশ্ন: PP পূর্নরূপ কোনটি?

  (ক) Personal Peon     (খ) Public Prosecutor

  (গ) Private Partnership            (ঘ) কোনটাই না

  উত্তর: (ক)    [ফৌ: কা: আইনের ৪৯২ ধারা]

প্রশ্ন: আগাম-জামিন বলতে কী বুঝায়?

  (ক) গ্রেফতারের পর জামিন            (খ) চার্জ গঠনের পূর্বে জামিন

  (গ) গ্রেফতারের পূর্বে জামিন           (ঘ) শুনানীর পূর্বে জামিন

  উত্তর: (গ)

প্রশ্ন: পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পর কে পুনঃ তদন্তের আদেশ দিতে পারেন?

  (ক) এসপি                 (খ) এএসপি সার্কেল

  (গ) ম্যাজিস্ট্রেট                     (ঘ) ক ও খ

  উত্তর: (গ)

প্রশ্ন: গ্রেফতারী পরোয়ানা কে বাতিল করেন?

  (ক) দায়রা জজ                     (খ) পুলিশ সুপার

  (গ) পিপি                   (ঘ) জারিকারী ম্যাজিস্ট্রেট

  উত্তর: (ঘ)    [ফৌ: কা: আইনের ৭৫(২) উপধারা, পিআরবি ৩২৩ বিধি]

প্রশ্ন: CR এর পূর্ণরূপ কী?

  (ক) Complaint Registered           (খ) Central Intelligence Agency

  (গ) Case Registered   (ঘ) Court Registered

  উত্তর: (ক)

প্রশ্ন: ভবঘুরে সন্দেহভাজন ব্যক্তির সদাচরণের জন্য কয় বছরের মুচলেকা সম্পাদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?

  (ক) ১ বছরের অধিক নহে    (খ) ২ বছরের অধিক নহে

  (গ) ৩ বছরের অধিক নহে    (ঘ) ৪ বছরের অধিক নহে

  উত্তর: (ক)    [ফৌ: কা: আইনের ১০৯ ধারা]

প্রশ্ন: তরুণ অপরাধীকে কোথায় আটক রাখা হয়?

  (ক) থানা হাজতে                   (খ) জেল হাজতে

  (গ) সরকার কর্তৃক স্থাপিত সংশোধনাগারে  (ঘ) আদালত প্রাঙ্গনে

  উত্তর: (গ)    [ফৌ: কা: আইনের ৩৯৯ ধারা]

প্রশ্ন: ফরিয়াদী বা সাক্ষীর খরচ কে বহন করবেন?

  (ক) সরকারি তহবিল হতে    (খ) আদালত

  (গ) পুলিশ সুপার                   (ঘ) কেউ না

  উত্তর: (ক)    [ফৌ: কা: আইনের ৫৪৪ ধারা]

প্রশ্ন: তল্লাশী পরিচালনা করতে হবে-

  (ক) দুই বা ততোধিক সম্মানিত ব্যক্তির উপস্থিতিতে  (খ) যে কোন ব্যক্তির উপস্থিতিতে

  (গ) আদালতের নির্দেশমতে (ঘ) পছন্দমত ব্যক্তির সামনে

  উত্তর: (ক)

প্রশ্ন: জমি সংক্রান্ত বিবাদে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৫ ধারায় অভিযোগ কোর্ট হতে থানায় প্রাপ্ত হলে পুলিশের করণীয়?

  (ক) বিরোধী পক্ষকে উচ্ছেদ করা  (খ) পুলিশ কর্তৃক সম্পত্তি হেফাজতে নেয়া

  (গ) শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নোটিশ দেয়া            (ঘ) শালিস করা

  উত্তর: (গ)

প্রশ্ন: আদালত কর্তৃক ইস্যু করা প্রত্যেকটি সমন হবে?

  (ক) ৩ কপি               (খ) ২ কপি

  (গ) ১ কপি                 (ঘ) কোনটাই না

  উত্তর: (খ)

প্রশ্ন: সাধারণ জনগণ কোন ধরনের আসামীকে গ্রেফতার করতে পারে?

  (ক) জামিন অযোগ্য             (খ) আমল যোগ্য

  (গ) জামিন যোগ্য                  (ঘ) ক ও খ উভয়ই

  উত্তর: (ক)

প্রশ্ন: গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল করতে পারেন-

  (ক) শুধুমাত্র পুলিশ               (খ) ইউএনও

  (গ) নির্দেশিক ব্যক্তি              (ঘ) ইচ্ছাপোষণকারী ব্যক্তি

  উত্তর: (গ)

প্রশ্ন: গ্রেফতারী পরোয়ানা বলবৎ থাকে-

  (ক) আদালত বাতিল না করা পর্যন্ত   (খ) তামিল না করা পর্যন্ত

  (গ) প্রতিবেদন না দেয়া পর্যন্ত           (ঘ) ক ও খ

  উত্তর: (ক)

প্রশ্ন: আসামীকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা যায়-

  (ক) তদন্ত সমাপ্ত না হলে আদালতের নির্দেশে (খ) ২৪ ঘন্টার বেশি আটক রাখা যায় না

  (গ) আদালতের নির্দেশের দরকার নেই        (ঘ) কোনটিই নয়

  উত্তর: (ক)

প্রশ্ন: গ্রেফতারী পরোয়ানা ফরমের অন্তর্ভুক্ত নয়-

  (ক) মামলার সুত্র                  (খ) আসামীর নাম ও ঠিকানা

  (গ) আদালতের সীল ও স্বাক্ষর (ঘ) এজাহারের বর্ণনা ও সাক্ষীদের নাম ও ঠিকানা

  উত্তর: (ঘ)

প্রশ্ন: তল্লাশী পরোয়ানার অন্তর্ভুক্ত নয়-

  (ক) চোরাই মাল ও জাল দলিল         (খ) প্রকাশনী সামগ্রী

  (গ) কড়ি ও পদ         (ঘ) চিঠিপত্র ও পার্সেল

  উত্তর: (গ)

প্রশ্ন: একটি গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকরী করা যায় কোন স্থানের মধ্যে?

  (ক) থানা                    (খ) জেলা

  (গ) সমগ্র বাংলাদেশ (ঘ) পৌরসভা

  উত্তর: (গ)

অনুশীলনমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ঃ সুরতহাল রিপোর্ট কি? সুরতহাল করার পদ্ধতি আলোচনা কর?

উত্তর ঃ আত্মহত্যা, বন্যপ্রাণী কর্তৃক নিহত কিংবা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে সংবাদ প্রাপ্তির পর ফৌজদারী কার্যবিধি ১৭৪ ধারা মোতাবেক পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় দুই বা ততোধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মৃতদেহের বিস্তারিত বর্ণনাসহ আপাতদৃষ্টিতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যে রিপোর্ট প্রণয়ন করেন তাই সুরতহাল রিপোর্ট।

                                [পিআরবি ২৯৯ প্রবিধান]

সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করার পদ্ধতি

ফৌজদারী কার্যবিধি ১৭৪ ধারা ঃ কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংবাদ আসলে পুলিশ অফিসার বিপি ফরম নং ৪৮-এ অপমৃত্যু মামলা নিবেন এবং নিহত ব্যক্তির লাশ যেখানে আছে সেখানে সুরতহাল তদন্তের জন্য তিনি যাবেন এবং নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন ঃ

(১)        ঘটনাস্থল ও মৃতদেহ নিরাপদ বেষ্টনীর মধ্যে নিবেন এবং লাশটি সনাক্ত করাবেন। অজ্ঞাত লাশ হলে ফটোগ্রাফ ও আঙ্গুলের ছাপ নিবেন।

(২)       ফৌজদারী কার্যবিধি ১৭৫ ধারা মোতাবেক প্রয়োজনে নোটিস দিয়ে সাক্ষীদের জবানবন্দী নিতে পারেন। তিনি লাশটি নিজে নেড়েচেড়ে ভালভাবে দেখবেন এবং আশেপাশে কোনো আলামত থাকলে তা সংগ্রহ করবেন এবং প্রয়োজনে সাক্ষীদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

(৩)       মৃতদেহের সুরতহাল তৈরির সময় লাশটি কোথায় কি অবস্থায় পড়ে আছে তা লিখবেন। হাত-পা-আঙ্গুল-চুল ইত্যাদির অবস্থা বর্ণনা করবেন। এগুলোতে কোনো দ্রব্য লেগে আছে কিনা তা উল্লেখ করবেন।

(৪)       লাশের পাশে টেবিল, বিষাক্ত দ্রব্য, ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র যদি থাকে তা কি অবস্থায় আছে তার বর্ণনা দিতে হবে।

(৫)       মৃতদেহের বর্ণনা একদিক থেকে যেমন মাথা বা পা থেকে শুরু করতে হবে। শরীরে কোনো জখমের চিহ্ন, মুখে বা নাকে রক্ত, বস্ত্রে কোনো দাগ, মলদ্বার বা যৌনাঙ্গে কোনো আঘাত বা কোনো তরল পদার্থ দেখতে পেলে লিখতে হবে। মৃতদেহটি মহিলা হলে তার গোপন যৌনাঙ্গ একজন মহিলা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে।

(৬)      মৃতদেহের সুরতহাল এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে যদি মৃত্যু সম্পর্কে সামান্যতম সন্দেহ হয় তবে তদন্তকারী অফিসার ময়না তদন্তের জন্য লাশটি অবশ্যই মর্গে প্রেরণ করবেন।

(৭)       আর যদি সাক্ষ্য-প্রমাণে এবং সুরতহাল তদন্তে প্রতীয়মান হয় যে মৃত্যুটি কোনো ধর্তব্য অপরাধের মধ্যে পড়ে না বা এ সম্পর্কে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ করার কোনো হেতু নেই, তবে তিনি সাক্ষীদের সঙ্গে একমত পোষণ করে মৃতদেহটি ধর্মীয় বিধান মতে সৎকারের অনুমতি দিতে পারেন।

[পিআরবি ২৯৯ প্রবিধান]

(৮)       সুরতহাল প্রতিবেদনে অবশ্যই কমপক্ষে তিনজন সাক্ষীর স্বাক্ষর থাকতে হবে।

প্রশ্ন ঃ বেআইনি সমাবেশ বলিতে কি বুঝ? কে এই সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে? তিনি কি গুলি করার আদেশ দিতে পারেন?

উত্তর ঃ সংজ্ঞা ঃ বেআইনি সমাবেশ বলিতে সেই সমাবেশকে বুঝায় যখন পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে সমবেত হইয়া একই উদ্দেশ্যে সিদ্ধিকল্পে বেআইনীভাবে বলপ্রয়োগ করিয়া সরকারকে আইনসঙ্গত বা সরকারি কর্মচারীকে আইনসঙ্গত কার্য করিতে বিরত রাখে বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বা অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশের জন্য বেআইনি বলপ্রয়োগ করে বা কোনো ব্যক্তির ন্যায়সঙ্গত কাজ হইতে বিরত রাখে বা চেষ্টা করে তাহাকে বেআইনি সমাবেশ বা বেআইনি জনতা বলে।

                [দন্ডবিধি ১৪১, ১৪৩ ধারা]

ফৌজদারী কার্যবিধি ১২৭ ধারা, পুলিশ আইনের ৩০-ক ধারা এবং পিআরবি ১৪৩ প্রবিধান মোতাবেক যেকোন শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হওয়ার আদেশ দিতে পারেন। বেআইনি জনসমাবেশের উপর গুলি করার আদেশ দেওয়াকে একটি চরম ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচনা করিতে হইবে। সুতরাং জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা যখন অনিবার্য হইয়া পড়ে তখন ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে মনে করেন যে, বেআইনি সমাবেশ অন্য কোনো উপায়ে ছত্রভঙ্গ করা যাইতেছে না তখন সর্বশেষ পন্থা হিসাবে ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশ অফিসার গুলি করার আদেশ দিতে পারেন। গুলি করার পূর্বে জনতাকে সতর্ক করিয়া দিতে হইবে এবং ছত্রভঙ্গ করিতে যতটুকু ক্ষতির প্রয়োজন ততটুকু করিতে হইবে ইহার অতিরিক্ত করা যাইবে না। যদি পরিস্থিতি এমন হয় দেহ ও সম্পত্তি রক্ষার অধিকারে ফৌজদারী কার্যবিধি ১২৭, ১২৮ ধারা শেষ পন্থা হিসাবে দন্ডবিধি ১০০ ও ১০৩ ধারা এবং ফৌজদারী কার্যবিধি ১২৮ ধারায় বর্ণিত মতে পিআরবি ১৫৩-গ প্রবিধান মোতাবেক উক্ত বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি করা যায় বা গুলি করার ক্ষমতা দেওয়া হইয়াছে।

       [দন্ডবিধি ১৪১, ১৪৩, ১০০, ১০৩ ধারা; ফৌজদারী কার্যবিধি ১২৭, ১২৮ ধারা, পুলিশ আইনের ৩০-ক ধারা এবং পিআরবি ১৪৩, ৫৩-গ প্রবিধান]

প্রশ্ন ঃ বেআইনি সমাবেশ বা জনতা কখন দাঙ্গায় পরিণত হয়? ইহা কিভাবে ছত্রভঙ্গ করা যায়?

উত্তর ঃ বেআইনি জনতা সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনকল্পে মারপিট বা বলপ্রয়োগ করিলে তাহা দন্ডবিধি ১৪৬ ধারা মোতাবেক দাঙ্গায় পরিণত হয়।

বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করা যায় ঃ

১।        বেআইনি সমাবেশের সংবাদ পাইলে সাথে সাথে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৫৪, ১৫৫ ধারা; পুলিশ আইনের ৪৪ ধারা এবং পিআরবি ৩৭৭ প্রবিধান মোতাবেক থানায় সাধারণ ডায়েরী করিতে হইবে।

২।        থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফৌজদারী কার্যবিধি ১২৭ ধারা মূলে এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসার ফৌজাদারী কার্যবিধি ৫৫১ ধারা মূলে বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।

                                                [পিআরবি ১৪২ প্রবিধান]

৩।       বেআইনি সমাবেশকে সতর্কবাণী দেওয়ার পরও যদি ছত্রভঙ্গ না হয় তাহলে ফৌজদারী কার্যবিধি ১২৮ ধারা এবং পিআরবি ১৪৩, ১৫৩ প্রবিধান মোতাবেক বলপ্রয়োগ করিয়া বা বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করিয়া ছত্রভঙ্গ করা যায়।

৪।        বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করিতে না পারিলে ফৌজদারী কার্যবিধি ১২৮ ধারা মোতাবেক জনসাধারণের সাহায্য নিতে হইবে।

৫।       বেআইনি সমাবেশের ব্যক্তি কর্তৃক দন্ডযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে অন্য কোনভাবে যদি তা প্রতিহত করা না যায় তাহলে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৫১ ধারা এবং পিআরবি ৩১৬ প্রবিধান মোতাবেক বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করিয়া ও বলপ্রয়োগ করিয়া ছত্রভঙ্গ করা যায়।

৬।       উপরোক্ত পদ্ধতিতে ছত্রভঙ্গ না হইলে বা আয়ত্তে আনা না গেলে সর্বোচ্চ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ফৌজদারী কার্যবিধি ১২৯ ধারা এবং পিআরবি ১৫৮ প্রবিধান মোতাবেক সেনাবাহিনী তলব করা যায়।

৭।        উপরোক্ত পদ্ধতিতে ছত্রভঙ্গ না হইলে বা আয়ত্তে আনা না গেলে সর্বোচ্চ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ফৌজদারী কার্যবিধি ১২৯ ধারা এবং পিআরবি ১৫৮ প্রবিধান মোতাবেক সেনাবাহিনীর তলব করা যায়।

            [দন্ডবিধি ১৪৬ ধারা, ফৌজদারী কার্যবিধি ১৫৪, ১৫৫,

১২৭, ১২৮, ৫৫১, ৪২, ১৫১, ১২৯, ধারা,

পুলিশ আইন ৪৪, ৩০-ক ধারা, ৩১, ৩২ এবং

পিআরবি ৩৭৭, ১৪২, ১৪৩, ১৫৩, ৩১৬, ১৫৮ প্রবিধান] 

তথ্যসূত্র :         ১. ফৌজদারী কার্যবিধি, দন্ডবিধি, পিআরবি ও পুলিশ আইন

                        ২. পুলিশ পদোন্নতি, বি এল দাস

লেখক : সহকারী পুলিশ সুপার, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি’র কার্যালয়।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *