ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ডিটেকটিভ ডেস্ক

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ শুরু হয় ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ থেকে। এরপর কেটে গেছে ৫০ বছর। এই সময়ের মধ্যে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। সবশেষ করোনাকালে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ পুলিশ যে মানবিকতা দেখিয়েছে, তা অনুকরণীয়। দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করায় বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২৩ জানুয়ারি ২০২২ খ্রি. রাজবারবাগ পুলিশ লাইনসে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২২’ উপলক্ষে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে পুলিশের প্রশংসা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে মানুষের জীবনে শান্তি-নিরাপত্তা নিয়ে এসেছে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তাঁরা কাজ করেছেন। এ জন্য সবাইকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

১৯৭৫ সালের বিয়োগান্তক ঘটনা স্মরণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলিতে আহত ছিলেন আমার ফুফু এবং আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সাহেবের ছেলে, স্ত্রীসহ আমার ফুফাতো ভাই-বোনেরা। যখন এই খুনিরা আক্রমণ করে চলে যায়, তখন রমনা থানা থেকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আহত-নিহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। শুধুমাত্র পুলিশের এই সাহসী ভূমিকায় আমার ফুফু বেঁচে ছিলেন। তিনি পঙ্গু অবস্থায় বাকি জীবন কাটান। আমার দুই ফুফাতো বোন এবং ভাই বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হামলায় বাধা দিতে যেয়ে গুলিতে নিহত পুলিশের বিশেষ শাখার এএসপি সিদ্দিকুর রহমানকে তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে গত ১৩ বছরে পুলিশের উন্নয়নে নানাবিধ কর্মকাণ্ড গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে মোট ৮২ হাজার ৫৮৩টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। পুলিশের নতুন ইউনিট যেমন ইন্ডাস্ট্রিয়াল-ট্যুরিস্ট-নৌ-পুলিশ, ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, অ্যান্টি টেরোরিজম ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, রংপুর ও ময়মনসিংহে রেঞ্জ, রংপুর এবং গাজীপুরে মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট, রংপুরে আরআরএফ এবং সিআইডিতে সাইবার পুলিশ সেন্টার গঠন করা হয়েছে। ২টি সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, এয়ারপোর্টে একটি ও কক্সবাজারে দুটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং র‌্যাবের জন্য ৩টি ব্যাটালিয়ন, ৩০টি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, ৬২টি থানা, ৯৫টি তদন্ত কেন্দ্র এবং ১টি ফাঁড়ি ও জাতীয় জরুরি সেবায় ৯৯৯ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। জরাজীর্ণ থানাগুলো পুননির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আইজিপির র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পুনর্প্রবর্তন করেছি। গ্রেড-১-এর ২টি, গ্রেড-২-এর ১১টি, ডিআইজির ৫২টি, অতিরিক্ত ডিআইজির ১৫৯টি, পুলিশ সুপারের ৪০২টি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ৮০০টি পদ সৃজন করেছি। ২১৫টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদকে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে, ২৫৩টি সিনিয়র এএসপি পদকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে, এসআই/সার্জেন্ট পদকে ৩য় শ্রেণি থেকে ২য় শ্রেণিতে এবং ইন্সপেক্টর পদকে ২য় শ্রেণি থেকে ১ম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে উন্নীত করেছি। সংশোধিত নিয়োগ বিধিমালার আলোকে স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্প্রতি ৩ হাজারের বেশি কনস্টেবল নিয়োগ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর ১৯৯৬ সালের প্রথম মেয়াদেই তাঁর সরকার ৫ কোটি টাকা সিড মানি প্রদান করে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে। বিভিন্ন স্থানে থানা, তদন্ত কেন্দ্র, হাইওয়ে ফাঁড়ি, পুলিশ ক্যাম্প এবং পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করে। পাশাপাশি ৮০৩ জন এসআই, ৫০৭ জন সার্জেন্ট এবং ১৪ হাজার ৬৮০ জন কনস্টেবল নিয়োগ এবং আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে কমিউনিটি পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ চালু করার ফলে আজকে পুলিশ বাহিনী দ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে। যে কারণে আজকে মানুষের মধ্যে একটা আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের আর্তমানবতার সেবায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রশংসা করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পুলিশ বাহিনীর অংশগ্রহণ বিশেষ করে নারী সদস্যদের দায়িত্ব পালনেরও প্রশংসা করেন তিনি।

অপরাধ তদন্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে উল্লেখ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২২টি নতুন ব্যারাক, ১০টি একাডেমিক ভবন, বিভিন্ন ইউনিটের জন্য ১০৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, ৬০টি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, রাজস্ব বাজেট থেকে ২৭টি থানা নির্মাণ, ২৮টি ফাঁড়ি, ১৫টি তদন্ত কেন্দ্র, ৩৩৭টি থানার হেল্প ডেস্ক, ৪৫টি হাইওয়ে আউটপোস্ট ভবন সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২১১টি আধুনিক থানা ভবন নির্মাণ, ৯৫টি থানাকে মডেল থানায় উন্নীতকরণ, ২১টি ব্যারাক ভবন ও ৬০টি তদন্তকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন পুলিশ বাহিনী প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন বাহিনীতে উন্নীত হয়েছে। সব র‌্যাঙ্কের পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি বছর ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন যুগোপযোগী ট্রেনিং মডিউল প্রণয়ন, ট্রেনিং মডিউলের মধ্যে মানবাধিকার সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বৈদেশিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এর আগে, পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিবেশন করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে একটি খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কৃতি পুলিশ সদস্যদের মাঝে পুলিশ পদকও বিতরণ করেন তিনি।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ২০২০ সালে ১১৫ এবং ২০২১ সালে ১১৫ জনসহ মোট ২৩০ পুলিশ সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৯ জনকে মরণোত্তর পদক প্রদান করা হয়। পদকের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা), রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক পিপিএম-সেবা। পদকপ্রাপ্তদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পুলিশের অন্য সদস্যরাও ভালো কাজ করে যাবেন বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *