ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী

বৃষ্টিতে গাড়ি চালনা

গাড়ি চালনার সময় অবশ্যই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মাথায় রাখতে হবে। কারণ সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এটি একটি অন্যতম কারণ। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। যদি বৃষ্টিতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তবে, নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা আপনাকেই ভাবতে হবে। আমাদের দেশে বৃষ্টির দিনে পানি জমে রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হয়, ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা থাকায় এবং রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার জন্য অনেক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। পিচ্ছিল রাস্তার মতো ভারী বৃষ্টিতে সাবধানতার সঙ্গে গাড়ি চালানো উচিত।

আমাদের দেশে বৃষ্টির সময় সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়ে যায়। কারণ বৃষ্টি গাড়ির স্থিতিশীলতায় বিঘ্ন ঘটায়। বৃষ্টি পিচ্ছিলকের মতো আচরণ করে এবং রাস্তার উপরিতলকে পিচ্ছিল করে। বৃষ্টির পানি রাস্তায় জমে যানজটের সৃষ্টি করে। এছাড়া বৃষ্টির সময় গাড়ির উইন্ডশিল্ড, হেডলাইট, মিররগুলো ঘোলা এবং নোংরা হতে পারে এজন্য বৃষ্টির সময় গাড়ির যথাযথ নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রয়োগ করতে হবে।

(ক) হালকা বৃষ্টিতে গাড়ি চালনা

অনেকে মনে করেন, ভারী বৃষ্টির চেয়ে হালকা বৃষ্টিতে ড্রাইভিং নিরাপদ। প্রকৃত পক্ষে হালকা বৃষ্টিতে রাস্তা সবচেয়ে বেশি পিচ্ছিল থাকে। কেননা রাস্তার উপরিভাগে জমাকৃত ধুলাবালি এবং তেল জাতীয় পদার্থ হালকা বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় না বরং খুব পিচ্ছিল করে।

দীর্ঘ গরমের পর হঠাৎ হালকা বৃষ্টি আরো বেশি ভয়ংকর কেননা গরমের কারণে রাস্তায় জমাকৃত তেল পানির সঙ্গে ভেসে উঠে রাস্তাকে পিচ্ছিল করে।

(খ) পানিতে ডোবা রাস্তায় ড্রাইভিং

পানিতে ডোবা রাস্তায় ড্রাইভিং করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করতে হবে। বৃষ্টির পানির কারণে বিপদজ্জনক ময়লাস্তূপ কিংবা গর্তকে দেখা যায় না। এছাড়া ডোবা পানি গাড়ির ব্রেক সিস্টেমকে নষ্ট করতে পারে। রাস্তায় পানি থাকলে সামনের এবং পেছনের বড় গাড়ির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, কেননা সেগুলো আপনার গাড়ির উইন্ডশিল্ডে অতিরিক্ত পানি স্প্রে করে আপনার দৃষ্টি আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে। যদি এরকম ঘটে তবে সেক্ষেত্রে-

* গাড়ির স্টিয়ারিং শক্তভাবে ধরে থাকতে হবে।

* গাড়ির গতি কমাতে হবে।

(গ) হাইড্রোপ্লেনিং (Hydroplaning/ Aquaplaning):

যদি ভেজা রাস্তায় ৫০ কিমি/ঘণ্টার বেশি গতিতে গাড়ি চালান তবে গাড়ির টায়ার সম্পূর্ণভাবে রাস্তার সংস্পর্শে নাও আসতে পারে। কারণ চাকাগুলো তখন পানি বা তেলের লেয়ারের উপর দিয়ে চলে। এক্ষেত্রে অনেক সময় ব্রেক করা কিংবা স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়। গাড়ির এ অবস্থায় যখন স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ ও ব্রেকের কার্যক্ষমতা কমে যায় কিংবা রাস্তার সঙ্গে টায়ারের ঘর্ষণ শব্দ শোনা যায় না, তাকে হাইড্রোপ্লেনিং বলা হয়।           

হাইড্রোপ্লেনিং থেকে রক্ষার উপায়:

(ক) বৃষ্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথে গাড়ির গতি ৫০কিমি/ঘন্টার নিচে নামাতে হবে।

(খ)       টায়ার যথাযথ স্ফীত রাখতে হবে, খারাপ টায়ার পরিবর্তন করতে হবে।

(গ)       সামনের গাড়ির লাইনে গাড়ি চালাতে হবে। হাইড্রোপ্লেন অবস্থায় পতিত হলে আপনি একে পিছলিয়ে যাওয়ার মতো তুলনা করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি-

* এক্সিলারেটর প্যাডেল থেকে পা সরিয়ে নিয়ে গতি কমান।

* হঠাৎ টার্ণ করা যাবে না, এতে গাড়ি পিছলিয়ে পড়তে পারে।

ভেজা রাস্তায় স্টপিং সিস্টেম, শুকনা রাস্তার স্টপিং সিস্টেম থেকে দ্বিগুণ হয়। ভেজা রাস্তার উপরিভাগ এবং টায়ারের কম ঘর্ষণের কারণে এটি হয়। ভেজা রাস্তায় হঠাৎ ব্রেক করা হলে চাকা লক হয়ে গাড়ি পিছলিয়ে যেতে পারে। যদি দুর্ঘটনা বশত আপনি ব্রেক চাপেন তবে তাড়াতাড়ি প্যাডেল থেকে পা সরিয়ে নিয়ে ‘অন/অফ’ ব্রেকিং টেকনিক ব্যবহার করুন; যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনার গাড়ি সম্পূর্ণ থেমে যায়। ভেজা রাস্তায় এধরনের বিপদ থেকে বাঁচতে গাড়ি ধীরে চালান। যে রাস্তায় প্রচুর পানি আছে কিন্তু গাড়ি যেতে পারবে, সে ক্ষেত্রে গাড়ির গতি নিচের গিয়ারে নামিয়ে আনুন। পানি অতিক্রম করার পর অনেক সময় ব্রেক অকার্যকর হয়ে যায়। তখন ব্রেক প্যাডেলকে বারবার পাম্প করতে হবে যতক্ষণ না এটি শুকিয়ে দ্রুত র্কাযকর হয়।     

(ঘ) বৃষ্টিতে গাড়ি চালাতে যা করতে হবে

(ক) দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার কারণে হেডলাইট অন করতে হবে।

(খ) প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা দেখার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির গতি কমাতে হবে।

(গ)       হঠাৎ থামা বা বাঁক নেওয়া পরিহার করুন।

(ঘ) পশ্চাদগমন দূরত্ব (Following Distance) বেশি রাখুন, যাতে নিরাপদে থামার জন্য অতিরিক্ত জায়গা পেতে পারেন।

(ঙ)       উইন্ডশিল্ড পরিষ্কার করুন।

(চ) সামনের গাড়ির লাইনে গাড়ি চালান।

লেখক : এ আই জি (ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট)

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *