ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

 ডিটেকটিভ রিপোর্ট

আগামীর বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের সকল নাগরিককে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, “সুবর্ণজয়ন্তীর এই শুভক্ষণে আমাদের শপথ নিতে হবে, কেউ যেন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। দেশের গণতান্ত্রিক এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।

“আসুন, সকল ভেদাভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলি।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ এমন এক সময়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে, যখন মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ সরকারে রয়েছে এবং সরকার প্রধান জাতির পিতারই জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। তবে এই উদযাপন যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা-সর্বস্ব না হয়। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সামনে রেখে আমাদের দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার নতুন করে শপথ নিতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতেই সবাইকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “২৬ মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। এবার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। আমরা উদযাপন করছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। একইসঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি – তিনি আমাদের এই সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের তৌফিক দান করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে একাত্তরের ২৫ মার্চের কালরাতের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা জানান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় চার নেতা, ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সালাম জানান। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে নিহত নিজের পরিবারের সদস্যদের কথাও গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সেই ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দীর্ঘ ২৪ বছরের নিরন্তর রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল, আর এই সংগ্রামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

“শেখ মুজিব একটি দেশ, একটি জাতি-রাষ্ট্রের স্রষ্টা বলে জাতি তার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একযোগে উদযাপন করছে।” জাতীয় জীবনের দুই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপনের সময় স্বাধীনতাযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসানোয় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে যেমন স্তব্ধ করে দেওয়া হয়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

তিনি বলেন, “জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে, তারা দীর্ঘ একুশ বছর এদেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে, জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে তাদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছে, বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশ হিসেবে বহির্বিশ্বে পরিচিত করেছে।”

তিনি বলেন, “আজ বাংলাদেশ সম্পর্কে সকল নেতিবাচক এবং নিরাশাবাচক ভবিষ্যদ্বাণী অসার প্রমাণিত করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে গর্বিত দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

“এক দশক আগেও বাংলাদেশকে যেখানে দারিদ্র্য আর অনুন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হত, আজ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞগণ সেই বাংলাদেশকেই দারিদ্র্য-জয় এবং উন্নয়নের আদর্শ মডেল হিসেবে তুলে ধরছেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একবার ভাবুন, আমরা আজ যে স্বাধীন দেশের মাটিতে আজ মুক্ত নিশ্বাস ফেলছি, তা অর্জনে কত শত তরুণ অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন? কত মা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, কত বাবা তাদের পুত্র হারিয়েছেন, কত ভাইবোন তাদের ভাই হারিয়েছেন, কত স্ত্রী তাদের স্বামী হারিয়েছেন, সন্তানেরা বাবা হারিয়েছেন? কতশত মুক্তিযোদ্ধা পঙ্গু হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন?

“তাদের একটাই প্রত্যাশা ছিল এ দেশ স্বাধীন হবে। এ দেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। সকলে মৌলিক অধিকার ভোগ করবে। আজকে আমরা তাদের সেই প্রত্যাশা কিছুটা হলেও পূরণ করতে পেরেছি।” এবারের স্বাধীনতা দিবস অন্যান্য বারের স্বাধীনতা দিবসের মত নয়, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “এবার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হল। এই দিন আনন্দে অবগাহনের দিন।”

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *