ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার)

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তির মহামন্ত্রে জাতিকে জাগিয়েছেন এবং স্বাধীনতার পথ ধরে পুরো জাতিকে পৌঁছে দিয়েছেন স্বপ্নের চূড়ান্ত লক্ষ্যে, বিজয়ের স্বপ্নতোরণে।

বঙ্গবন্ধুর লেখা “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” মূলত তাঁর জীবন সংগ্রামেরই রোজনামচা। তিনি কী ভাবতেন, কী স্বপ্ন দেখতেন, মানুষ হিসেবে, বাঙালি হিসেবে তাঁর প্রতিকৃতি কী, এ স্মৃতিগ্রন্থে তা চমৎকারভারে বিধৃত হয়েছে। ৩০ মে ১৯৭৩ সালে তাঁর ব্যক্তিগত নোটবইতে তিনি লিখে রেখেছিলেন-“As a man what concerns mankind, concerns me.  As a Bengalee I am deeply involved in all that concerns Bengalees।” অর্থাৎ মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতিই ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাবনায়, বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালির সাথে সম্পর্কিত, তাই বঙ্গবন্ধুকে গভীরভাবে আন্দোলিত করে। একজন সফল, প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয়টি নিবিড়ভাবে অনুধাবন করেন। তিনি একটি আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক, প্রযুক্তিজ্ঞান সমৃদ্ধ, দক্ষ জাতি গঠনের লক্ষ্যে নানামুখী উদ্ভাবনী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ৭ মার্চের সে বজ্রনির্ঘোষ ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাস পুরো জাতিকে শক্তি আর সাহস যুগিয়েছে, দিয়েছে বিজয়ের অপ্রতিরোধ্য স্পৃহা। আবার বিজয়ের পরে দেশে ফেরার পথে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে (১০ জানুয়ারি ১৯৭২) তিনি জলদগম্ভীর কন্ঠে বলেছিলেন, “It was a journey from darkness to light, from captivity to freedom, from desolation to hope”. “আমাদের এ যাত্রা অন্ধকার থেকে আলোর, নিরাশা থেকে আশার, স্থবিরতা থেকে গতিময়তার এবং বিন্দু থেকে বৃত্তের যাত্রা”। এই গভীর বক্তব্যে দেশ ও জাতিকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সুদূরপ্রসারী চিন্তা, স্বপ্ন ও পরিকল্পনার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়। পর্যায়ক্রমে লক্ষ্যের দিকে অবিচল থেকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছার দৃঢ় প্রত্যয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমরা বাংলাদেশকে এশিয়ার সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই”।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। গ্রহণ করেছিলেন কৃষি উন্নয়নের নানা পদক্ষেপ। তিনি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নের পথে এগুতে থাকেন। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণেই আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মান, অস্ট্রেলিয়া, চীনকে আমরা বলছি উন্নত রাষ্ট্র। অর্থনীতির সাথে অন্য আর সব উন্নয়নও যুক্ত। বঙ্গবন্ধু দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নের জন্য কৃষি ও শিল্পবিপ্লবে মনোযোগী হোন। শিল্প ও কৃষি গবেষণায় জোর দেন। জোর দেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তিতেও; জোর দেন শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষায়।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধান। ছিলেন দূরদর্শী ও বিজ্ঞানমনস্ক। তাঁর দর্শনই ছিল শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিজ্ঞান এবং দারিদ্র্য বিমোচন। তিনি করেন রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার।

তাঁর বিজ্ঞানমনস্ক মন ছিল বলেই প্রায়োগিক কাজে তাঁর আগ্রহ ছিল বেশি। প্রায়োগিক কাজগুলো ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও পুল-কালভার্ট নির্মাণ, শরণার্থীর পুনর্বাসন করা, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, কর্মের ব্যবস্থা করা, পাকিস্তান আমলে কৃষকদের বিপক্ষে করা দশ লাখ সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার, কৃষিপণ্যের জন্য সর্বোচ্চ ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য রেশন সুবিধা প্রদান ইত্যাদি।

বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞানমনস্কতা নিয়ে এইচ টি ইমাম বলেছেন-

বিজ্ঞানের দিকে বঙ্গবন্ধুর বিশেষ নজর ছিল। বিজ্ঞানের মধ্য দিয়েই তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি ৭ মার্চের ভাষণে মুক্তি সংগ্রামের কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে ক্ষুধা, দারিদ্র্য,অশিক্ষা- কুশিক্ষা, ধর্মান্ধতা থেকে মুক্তির কথা বলেছেন। এসবের যোগফলই সোনার বাংলা। আমরা সেই   বাংলাদেশের দ্বারপ্রান্তে।

বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি বঙ্গবন্ধুর দরদ ছিল। তিনি পরমাণু শক্তি কমিশন, কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, বিজ্ঞান একাডেমি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

সূত্রঃ- বাংলা ট্রিবিউন, তারিখ-২০ মার্চ ২০১৯ ইং, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন, যার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদা। বঙ্গবন্ধু  চেয়েছিলেন এমন শিক্ষাব্যবস্থা, যার মাধ্যমে শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই দেশের কোমলমতি শিশু কিশোরদের মেধা ও মননের সঠিক বিকাশ হয় এবং তারা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী বিষয়ে দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিতেন, যাতে করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধু তাঁর এই চিন্তাধারা প্রকাশ করেন ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া একটি ভাষণে। তিনি সে ভাষণে বলেন, Illiteracy must be eradicated by adopting an extraordinary method. A crash program must be launched to extend free compulsory primary education to all children within five-years. Secondary education should be made readily accessible to all section of our people. New universities, including medical and technical universities, must be rapidly established.’ বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্য হতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার প্রতি তাঁর সবিশেষ গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি উঠে আসে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর ‘আমার দেখা নয়া চীন’ গ্রন্থে ১৯৫৪ সালে চীন ভ্রমণে গিয়ে চীন দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেছেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “আমাদের দেশের মতো কেরানী পয়দা করার শিক্ষাব্যবস্থা আর নাই। কৃষি শিক্ষা, শিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনিক্যাল শিক্ষা দেয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।” বইটিতে বঙ্গবন্ধু তাঁর লেখায় নানকিংয়ে সান ইয়াৎ সেনের কবর পরিদর্শনে গিয়ে উল্লেখ করছেন,“আমার কিন্তু পুরোনো আমলের ভাঙা বাড়ি দেখার ইচ্ছা ছিল না। কারণ আমি দেখতে চাই কৃষির উন্নতি, শিল্পের উন্নতি, শিক্ষার উন্নতি, সাধারণ মানুষের উন্নতি।”

একটি জাতি বা রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন অপরিহার্য। এই অমোঘ সত্যটি বঙ্গবন্ধু তাঁর গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে অনুধাবন করেছিলেন বহু বছর আগেই। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল, উন্নত, আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তি নির্ভর, সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত করতে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে  নানাবিধ যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তন্মধ্যে বিশেষ প্রণিধানযোগ্য উদ্যোগগুলো- আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নে (আইটিইউ) বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভ এবং বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আইটিইউ’র সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধুর এই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত তথা বহির্বিশ্বের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন  যোগাযোগ স্থাপনের সুফল আজ আমরা ভোগ করছি। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ হয়েছে এবং মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ভিত্তি রচিত হয়। বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথেই ঠিক ৪৩ বছর পর ২০১৮ সালের ১২ মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ১৯৮টি দেশের মধ্যে ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট এলিট ক্লাবের সদস্য হয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাংলাদেশের জন্য শুধু গৌরবের বিষয়ই নয়, এটি আমাদের মহাকাশ গবেষণা, স্পেস অর্থনীতি ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার পথকে আরও মসৃণ ও বেগবান করছে।

জাতির পিতা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছিলেন। এই ধারাবাহিকতায় পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ সেক্টরসহ দেশের সকল সেক্টরে বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নির্দেশনা ও উদ্যোগে ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ-১৫ দ্বারা বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন (বিএইসি) গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকার সাভারে বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন এর সবচেয়ে বড় স্থাপনা অ্যাটমিক এনার্জি রিসার্চ স্টাবলিশমেন্ট (এইআরই) গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় ২৫৯ একর ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে এইআরই গঠিত হয়। দেশের বিখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওয়াজেদ মিয়া এবং তাঁর সহকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৬ সালে পারমানবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে জীব, ভৌত ও প্রকৌশল বিজ্ঞানসহ সামগ্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে অ্যাটমিক এনার্জি রিসার্চ স্টাবলিশমেন্ট (এইআরই) এর কার্যক্রম শুরু হয়। এই ধারাবাহিকতায় ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণকল্পে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়ে ওঠা অ্যাটমিক এনার্জি রিসার্চের সফলতার দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিপি) কে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাছাড়া, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর  এদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রতিষ্ঠা করেন।

কৃষি গবেষণার মাধ্যমে খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনে তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, ইক্ষু গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনসহ অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে আইন করে ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। ১৯৭৪ সালে গমের উচ্চফলনশীল জাতের নতুন গম উদ্ভাবনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা সফল হন। তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা হবে বিজ্ঞানভিত্তিক।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু জ্বালানি সম্পদ ও গ্যাস শিল্পের উপর ও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ১৯৭৫ সালে তাঁর শাহাদাত বরণের মাত্র ৬দিন আগে তিনি ৫টি সমৃদ্ধ গ্যাস ক্ষেত্র বিদেশী কোম্পানি ‘শেল’ থেকে সুলভ মূল্যে ক্রয় করেন এবং প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ বিশ্ব জ্বালানি শক্তির দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়। তিনি তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে বিদেশী তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর সূচিত বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নের পথ ধরে তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমৃদ্ধ ও উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে সার্বিক সহযোগিতা করছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র  এবং  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

মানুষ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, জিনোম সিকোয়েন্সিংসহ আরও অনেক প্রযুক্তির ব্যবহার করে আমাদের পরিচিত পৃথিবীর আদল পালটে দিচ্ছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অভিঘাত মোকাবেলা এবং সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নানা প্রায়োগিক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছেন।

পৃথিবীতে কালে কালে দেশে দেশে বহু রাষ্ট্রনায়ক এসেছেন যাঁদের প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ, জাতি ও বিশে^র প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিঃসন্দেহে সেইসব দূরদৃষ্টি ও অর্ন্তদৃষ্টিসম্পন্ন বিশ্বনেতাদের সম্মুখ সারির একজন। কঙ্গোর প্যাট্রিস লুমুম্বা, চিলির সালভাদর আলেন্দে, ব্রাজিলের জোয়াও গোলার্ট, ইরানের মোহাম্মদ মোসাদ্দেক, গুয়াতেমালার জ্যাকাবো আরবেঞ্জ কিংবা ঘানার কোয়ামে নক্রুমার মতই বাংলাদেশ নামক আধুনিক রাষ্ট্রের রূপকার, অবিসংবাদিত রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যা করে কায়েমী স্বার্থগোষ্ঠী এদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে স্থবির করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এ অশুভ চক্র তাঁর স্বপ্নকে হত্যা করতে পারেনি। এদেশের প্রতিটি অঙ্গনে তিনি তাঁর স্বপ্নের জাল বিছিয়ে গেছেন, যা আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও সম্যক অনুধাবন করতে পারছি। John Kerry, former secretary of state, USA যথার্থই বলেছেন“To have removed such brave & brilliant leadership through violence and cowardice is a heinous crime. Despite this, Bangladesh is making Bangabandhu’s dreams a reality under the leadership of his daughter.”

আজকের বাংলাদেশের মুকুটে সাফল্যের যে সকল সোনালী পালক যুক্ত হয়েছে, বঙ্গবন্ধুই সে সকল শেখরস্পর্শী স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন। সেই বীজ তাঁর সুযোগ্য কন্যার দূরদর্শী নেতৃত্বে আজ মহীরুহে পরিণত হতে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবন ছিল মানবিক মূল্যবোধ, আধুনিক দর্শন, কর্ম ও সংগ্রামের এক অভূতপূর্ব মিশেল। মুজিববর্ষে আমাদের অঙ্গীকার হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে সামনে রেখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধিকতর উৎকর্ষ লাভ করে আমরা উন্নয়ন, শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাব। আমাদের সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২০৪১- এ উন্নত বিশ্বের আঙ্গীনায় বাংলাদেশের দীপ্ত পদচারণা সূচিত হবে। জাতি হিসেবে আমরা পৌঁছে যাব মর্যাদাময় আত্মপরিচয়ের এক আলোকিত প্রাঙ্গণে। শুরু হবে আমাদের এক নতুন স্বর্ণালী অধ্যায়।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *