ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন

স্বপ্ন দেখা এবং বাস্তবায়ন করা থেমে নেই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে। স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করতে ২০৪১ সালকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে সরকার। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘রূপকল্প ২০৪১’। এর ভিত্তিমূলে রয়েছে দুটি প্রধান অভীষ্ট-প্রথমত. ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ, যেখানে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি; দ্বিতীয়ত. বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলা, যেখানে দারিদ্র্য হবে সুদূর অতীতের ঘটনা। এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারের বিভিন্নমুখী উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের অন্যতম চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ সহায়তায় ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ‘মাল্টি লেন রোড টানেল আন্ডার রিভার কর্ণফুলী প্রজেক্ট’ নামে বাংলাদেশে নদীর তলদেশে দেশের প্রথম সুড়ঙ্গ পথের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। সেপ্টেম্বর/২০২১ পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৭৫ শতাংশ।

কর্ণফুলী নদীর পূর্বতীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ডাউন টাউনকে শহরের সঙ্গে যুক্ত করে চট্টগ্রাম শহরকে চীনের সাংহাই নগরীর মতো ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে নতুন সড়ক যোগাযোগের জন্যই এ টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকল্পের কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্প ব্যয়ের চীনের এক্সিম ব্যাংক প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দিচ্ছে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বাকি অর্থ দেওয়া হচ্ছে সরকারি ফান্ড থেকে। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। তবে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে সরকারের ঋণচুক্তির পর ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে কার্যত প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হয়। পুরোদমে টানেল খননের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের শেষদিকে।

করোনার মধ্যেই গত বছরের আগস্টে টানেলের প্রথম টিউবের বোরিং শেষ হয়। এরপর ডিসেম্বরে শুরু হয় আনোয়ারা থানা প্রান্ত থেকে দ্বিতীয় টিউবের বোরিং কাজ। এরপর থেকে চীন ও দেশীয় মিলে সহস্রাধিক শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। কিন্তু দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ আকারে নিলে প্রভাব পড়ে নির্মাণকাজে। যথাসময়ে নির্মাণকাজ শেষ করতে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের চেষ্টার ঘাটতি নেই। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বারবার থামিয়ে দিচ্ছে। করোনার প্রথম ঢেউয়ে পিছিয়ে পড়লেও পরে পুষিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ে টানেলের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এখন নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কার্যক্রম চলছে।

চট্টগ্রাম জেলা ও আনোয়ারা থানার দু’পাড়ের মেলবন্ধন বঙ্গবন্ধু টানেল। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ গিয়ে যে সুড়ঙ্গপথ তৈরি হচ্ছে তা শুধু সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করবে না, চট্টগ্রাম বন্দরের জন্যও সহায়ক হবে। কেননা, সেখানে পিলার সেতু হলে পলি জমে নদীর নাব্য ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় বাস্তবায়নাধীন বঙ্গবন্ধু টানেল সৌন্দর্য্যরে পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মেলবন্ধন। সিটি আউটার রিং রোড প্রবেশ করবে এই টানেলে, যা বেরিয়ে আনোয়ারা হয়ে মিলিত হবে কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে। আবার এই রিং রোড উত্তর দিকে সম্প্রসারিত হয়ে চলে যাবে উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই, সীতাকুন্ড ও ফেনী জেলার সোনাগাজী থানা এলাকায় বাস্তবায়নাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর পর্যন্ত।

বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের সূত্রমতে, টানেলে মোট দুটি টিউব। এরমধ্যে একটি দিয়ে যানবাহন যাবে এবং অপরটি দিয়ে ফিরবে। দুই টিউবের একটির কাজ আগেই শেষ হয়েছে। প্রতিটি টিউবের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৪৫০ মিটার। এখন চলছে দ্বিতীয় টিউব নির্মাণের কাজ, যার ২ হাজার ১৭০ মিটার বোরিং হয়ে গেছে। ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী টানেলের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম মহানগর রূপ নেবে চীনের সাংহাইয়ের মতো ওয়ান সিটি টু টাউনে। এ সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী সব ধরনের যানবাহন চলাচল করবে। ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারায়ও গড়ে উঠবে শিল্প কারখানা। সেখানে একটি চায়না ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগ করবেন চীনা বিনিয়োগকারীরা। মিনি কক্সবাজার খ্যাত পারকি সমুদ্র সৈকত ঘিরে প্রায় একশ’ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর আওতায় হবে হোটেল, রিসোর্ট ও সৈকতের সৌন্দর্যবর্ধন। পর্যটকরা আউটার রিং রোড অর্থাৎ পতেঙ্গা সি-বিচ থেকে টানেলের ভেতর দিয়ে চলে যেতে পারবে পারকিতে, যা সামুদ্রিক পর্যটন এলাকা হিসেবে খ্যাত হয়ে আছে। টানেল চালু হলে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। টানেলকে ঘিরে দেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। সেই সঙ্গে হাজারো সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে প্রত্যাশা করছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের করোনা সংক্রমণ কমে আসায় কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে  প্রকল্পের কাজ শেষ করতে অর্থায়নের কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য বাড়তি জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিতে অত্যাধুনিক নানা যন্ত্রপাতি, মেশিনারিজ সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাজের গতি অনেকটাই বেড়েছে।

যেমন হবে ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’

চার লেন বিশিষ্ট দুটি টিউব সম্বলিত ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মিত হচ্ছে। নদীর তলদেশে প্রতিটি টিউব চওড়া ১০ দশমিক ৮ মিটার বা ৩৫ ফুট এবং উচ্চতা ৪ দশমিক ৮ মিটার বা অন্তত ১৬ ফুট। একটি টিউব থেকে অপর টিউবের পাশাপাশি দূরত্ব অন্তত ১২ মিটার। টানেলের প্রস্থ ৭০০ মিটার এবং দৈর্ঘ্য তিন হাজার ৪০০ মিটার। এছাড়া টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এপোচ রোড এবং ৭২৭ মিটার ওভার ব্রিজ সম্পন্ন টানেলটি চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করবে।

প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্ণফুলী টানেল চালুর প্রথম বছর ৬৩ লাখ গাড়ি টানেলের নিচ দিয়ে চলাচল করবে। যেটি ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে দেড় কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে। চালুর প্রথম বছরে চলাচলকারী গাড়ির প্রায় ৫১ শতাংশ হবে কনটেইনার পরিবহনকারী ট্রেইলর ও বিভিন্ন ধরনের ট্রাক ও ভ্যান। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে ১৩ লাখ বাস ও মিনিবাস। আর ১২ লাখ কার, জিপ ও বিভিন্ন ছোট গাড়ি চলাচল করবে।

এক নজরে টানেল নির্মাণের কারণ

চীনের সাংহাই শহরের ন্যায় চট্টগ্রাম শহরকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ মডেলে গড়ে তোলা।

কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শহরের সাথে ডাউন টাউনকে যুক্ত করা এবং উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিতকরণ।

চট্টগ্রাম পোর্টের বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ এবং প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দরের নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিতকরণ।

চট্টগ্রাম শহরে নিরবচ্ছিন্ন ও যুগোপোযুগী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আধুনিকায়ন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে নতুন একটি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সড়ক সংযোগ স্থাপন।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

টানেল প্রকল্পকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামে ইকোনমিক জোনসহ বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ চলছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড), বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বড় সার কারখানা (কাফকো), চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেডে (সিইউএফএল) এবং চট্টগ্রাম বন্দর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি স্টেশনসহ বহুবিধ শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। মিয়ানমার হয়ে প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্তিসহ ৭টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে টানেল নির্মাণের কাজ। টানেল নির্মাণে চট্টগ্রাম শহরসহ সারাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের তথা কক্সবাজার-টেকনাফ পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজতর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মূলত কর্ণফুলী টানেলকে ঘিরে চীনের সাংহাই সিটির মতো চট্টগ্রামে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’। এতে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার।

জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলেছেন, কর্ণফুলী টানেল নির্মিত হলে এলাকার আশে পাশে শিল্পোন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। ফলে দারিদ্র দূরীকরণসহ দেশের ব্যাপক আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে। ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ফিনান্সিয়াল ও ইকোনোমিক আইআরআর এর পরিমাণ দাঁড়াবে যথাক্রমে ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়া ফিনান্সিয়াল ও ইকোনোমিক ‘বেনিফিট কস্ট রেশিও (বিসিআর)’ এর পরিমাণ দাঁড়াবে যথাক্রমে ১ দশমিক শূন্য ৫ এবং ১ দশমিক ৫। ফলে কর্ণফুলী টানেল নির্মিত হলে জিডিপিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

কর্ণফুলী নদী দেশের বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামকে দুইভাগে বিভক্ত করেছে। এই নদীর উপর ইতোমধ্যে তিনটি সেতু নির্মিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলের জন্য তা যথেষ্ট নয়। এছাড়া কর্ণফুলী নদীর উপর সেতু নির্মাণে তলদেশে পলি জমে সমস্যা তৈরি করে, যা চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বড় হুমকি। এই সমস্যার মোকাবিলায় কর্ণফুলীতে নতুন কোনো সেতু নির্মাণ না করে তলদেশে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে টানেল নির্মাণের জন্য ২০১৪ সালের ১০ জুন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বেইজিংয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর ২০১৯ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় টানেল প্রকল্প এলাকার কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে সুইচ টিপে আনুষ্ঠানিকভাবে খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীন সরকারের (জি টু জি) যৌথ অর্থায়নে সেতু কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৪ হাজার ৪৬১ কোটি ২৩ লাখ আর চীন সরকারের ঋণ ৫ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। চীনের কমিউনিকেশন ও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) টানেল নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে।

সর্বশেষ অগ্রগতি

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানেল প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ হয়ে নদীর ওপারে আনোয়ারা পর্যন্ত স্থাপিত প্রথম টিউবের ইন্টারনাল ট্রাকচার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪.১৩ ল্যান্ড স্লাব ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় টিউব স্থাপনের কাজও প্রায় শেষের পথে। দ্বিতীয় টিউবের ১৯৬৮ মিটার অর্থাৎ ৮০.৫৯ শতাংশ বোরিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। টানেলের সবকটি অর্থাৎ ১৯৬১৬ টি সেগজুলাইন্টের সবকটির নির্মাণ এবং রিজেক্টেট সেগজুলাইন্ট সমূহের সম-পরিমাণ সেগজুলাইন্টের পুননির্মাণ কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে আনোয়ারা প্রান্তের ৭২৭ মিটার ভায়াডাক্টের গার্ড রেল ও ওয়েট জয়েন্ট কনস্ট্রাকশনের কাজ চলমান রয়েছে। টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে মোট ৫.৩৫ কিলোমিটার এপ্রোচ সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া টানেল প্রকল্পের ম্যানেজজুলাইন্ট সফটওয়্যারের কাজ প্রায় শেষ। হার্ডওয়ার স্থাপন ও বিবিএ বিল্ডিং নেটওয়ার্কিংয়ের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে আনোয়ারা প্রান্তে সার্ভিস এরিয়ার বালি ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সার্ভিস এরিয়ায় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলমান রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োজিত সাব-কনট্রাক্টররা।

টানেল নির্মাণের অর্থনৈতিক প্রভাব

কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপিত হবে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।

কর্ণফুলী নদীর পূর্বপ্রান্তের প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের সাথে উন্নত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। ফলে ভ্রমণ সময় ও খরচ হ্রাস পাবে এবং পূর্বপ্রান্তের শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত মালামাল চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দর ও দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহন প্রক্রিয়া সহজ হবে।

কর্ণফুলী নদীর পূর্ব প্রান্তের সাথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে পূর্বপ্রান্তে পর্যটনশিল্প বিকশিত হবে।

সার্বিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজিকরণ, আধুনিকায়ন, শিল্পকারখানার বিকাশ সাধন এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের ফলে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প নির্মিত হলে বেকারত্ব দূরীকরণসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

বঙ্গবন্ধুর মতো স্বপ্নে এবং কর্মে অবিচল থেকে এগিয়ে যাচ্ছে তাঁর যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পথে পথে বাধাগুলোকে সাহসী পদক্ষেপ দিয়ে অতিক্রম করা দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন, অনেকেই ঈর্ষান্বিতও হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নপূরণের সাহস ও অঙ্গীকার দেখে বিশ্বনেতারা এবং বিশ্ব সংস্থার কর্তারাও হতবাক হয়ে যান। বঙ্গবন্ধুকন্যার সাহসী নেতৃত্ব, দেশপ্রেম, জনগণের প্রতি নিবেদন, ভালোবাসা এ রকম অসম্ভব কাজকে সম্ভব করে তুলতে সহায়তা করেছে। ২০২২ সাল বাংলাদেশের একটি অহংকারের বছর হতে যাচ্ছে। সাহসী স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপায়িত করে বাংলাদেশ দেখাতে সক্ষম হবে বাঙালি শুধু আবেগকে সম্বল করে বাঁচে না, বাঙালি কঠোর পরিশ্রম করে স্বপ্নকে বাস্তবে দৃশ্যমান করারও যোগ্যতা রাখে।

স্বপ্নের মতো এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ নিশ্চয়ই জাদু দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে না। বাংলাদেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে সাহস জোগাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা নিয়ে তাঁর সারথি হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল সরকারের মেগা উন্নয়ন কাজের অন্যতম। চোখের সামনে দৃশ্যমান এখন দৃঢ় পদক্ষেপে স্বপ্নকে সহযাত্রী করে অদম্য সাহস নিয়ে এগিয়ে গেলে রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন করে ‘একটি দারিদ্র্যশূন্য দেশ’ গড়াও আমাদের জন্য সম্ভব বলে মনে করি। নেতৃত্বের দৃঢ় প্রত্যয়, দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাদের ২০৪১-এর রূপকল্প বাস্তবায়নের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ, দ্রুত আমরা আরো স্বপ্নকে ছুঁতে যাচ্ছি। মনে হয় স্বপ্নের সারথি আমাদের সাধারণ মানুষ এখন তা খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারছে।

প্রতিবেদক : এআইজি (প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ-১)

বাংলাদেশ পুলিশ

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *