ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

সজীব ওয়াজেদ জয়

এক দশকের কিছু আগে বাংলাদেশ অঙ্গীকার করেছিল, স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী ২০২১ সালের মধ্যে প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর জাতিতে নিজেদের রূপান্তর ঘটানো হবে।

অনেকেই বিশ্বাস করেনি যে, এটা আমরা করতে পারব।

এই প্রকল্পের প্রধানতম ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় আসেন, সেই ২০০৯ সালে দেশে মাত্র ২ কোটি মানুষের হাতে মোবাইল ফোন ছিল। কিন্তু এখন ১২ কোটি মানুষের হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে এবং আরও কয়েক কোটি মানুষ প্রত্যন্ত অঞ্চলের দ্রুত গতির নেটওয়ার্কে যুক্ত। এর ফলে অগণিত মানুষের জীবনের উন্নয়নও সাধিত হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের উচ্চাকাক্সক্ষী পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় ২০০৯ সালে। যার লক্ষ্য ছিল সরকারি দীর্ঘসূত্রতা ও কাগজভিত্তিক সেবাকে সহজসাধ্য ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের আওতায় নিয়ে আসা। ই-সিগনেচার ও ইলেকট্রিক ফাইলিংয়ের ব্যাপক ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

এটা কাজ করেছে। সরকার সাড়ে ৮ হাজার ডিজিটাল সেন্টারের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা বলতে গেলে আজীবন অনলাইন সেবা দিচ্ছে। জন্মনিবন্ধন, কর্মসংস্থান এবং অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা এই ডিজিটাল সেবার আওতাধীন। অনেক জাতীয় কর্মসূচিও অনলাইনের অন্তর্ভুক্ত। গত বছর (২০২০) করোনাভাইরাসের সময় লকডাউনে সরকারি সেবায় বলতে গেলে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।

আদলত তার কার্যক্রম চালিয়ে গেছে নতুন বিচারিক পোর্টালের মাধ্যমে।

কৃষি পোর্টালের মাধ্যমে আবহাওয়া ও কৃষি সম্পর্কিত অনেক খবর পেয়েছেন কৃষকেরা। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করোনা সম্পর্কিত তথ্য পেয়েছেন সাধারণ জনগণ।

বিশ্বের অন্যতম বড় সরকারি পোর্টাল চালু করেছে সরকার, যেখানে সরকারের প্রায় প্রতিটি সেবা যুক্ত। আমাদের লক্ষ্য হলো, ৮৫ ভাগ সেবা আঙুল চেপে (স্মার্টফোনের মাধ্যমে) পাবেন জনগণ, ১০ শতাংশ সেবা বাড়ির দরজায় পৌঁছে যাবে, আর ৫ শতাংশ কাজের জন্য যেতে হবে সরকারি দপ্তরে।

তাই অনেক কর্মসূচি অনলাইনে চলে গেছে, যেখানে সরকারি অফিসের সঙ্গে বলতে গেলে সরাসরি কোনো কাজ করারই দরকার পড়ছে না। পাসপোর্ট প্রাপ্তি, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনের মতো কাজের ক্ষেত্রে ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

সাফল্যের এই গল্পের পেছনে একটি বড় ভূমিকা রেখেছে মোবাইল ফোন। বাংলাদেশের এখন একটি টোল ফ্রি জাতীয় জরুরি ৯৯৯ হেল্পলাইন আছে, যেখানে জনগণ ফোন করে দুর্ঘটনা, সাইবার ক্রাইমসহ বিভিন্ন অপরাধ, নারীর প্রতি সহিংসতা, আগুন ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। জাতীয় জরুরি সেবা হেল্পডেস্ক প্রতি মিনিটে ৬০টি কল-এ সাড়া দিয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্ট জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য কৌশলকে ধন্যবাদ, টেলিমেডিসিন কেবল সম্ভবই হয়নি, এটি বিশেষ করে বঞ্চিত প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন একটি কমপ্লায়েন্স। এর কর্মসূচিগুলো সুস্বাস্থের অধিকারী জনগোষ্ঠী তৈরির লক্ষ্যে মৌলিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য প্রচার করছে। এ ছাড়া সরকার আরও জবাবদিহিনির্ভর এবং দায়বদ্ধ হয়ে উঠেছে। অনলাইন অভিযোগের প্রতিকার ব্যবস্থা বাংলাদেশিদের সহজেই সরকারি সেবা বা পণ্য সম্পর্কে অনলাইনে অভিযোগ দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

বিস্তৃত সংযোগ অর্থনীতিতেও সহায়তা করেছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। একটি দক্ষ, ডিজিটালি প্রস্তুত জনবল তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ তার পুরো শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করেছে এবং এখন বার্ষিক পাঁচ লাখ স্নাতক কর্মী বের হচ্ছেন। কেবল গত বছরই তাদের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী তৈরি হয়েছেন ৬৫ হাজার।

ডিজিটাল কেন্দ্রগুলোই তাদের কাজের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনটি পদের জন্য একটি নারীর জন্য নির্ধারিত।

মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই ২৫ বছরের কম বয়সী বলে বাংলাদেশ সাইবার কর্মী তৈরির একটি উপযুক্ত জায়গা। তরুণরা সুযোগটি লুফে নিচ্ছেন। এর আগে তাদের বেশির ভাগ পরিবারের সদস্য কৃষিকাজের বাইরে নতুন কিছু করার কথা কল্পনাও করতে পারতেন না। বর্তমানে তরুণ বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই নগরজীবন, স্মার্টফোনে অভ্যস্ত এবং নতুন অর্থনৈতিক পরিম-লে প্রবেশে প্রস্তুত।

ডিজিটালাইজেশন থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হয়েছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটির সূচনা হওয়ার পর থেকে প্রযুক্তিতে দক্ষ ১৩ লাখের বেশি পেশাজীবী বাংলাদেশে থিতু হয়েছেন। দেশটির প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তার সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। সম্মিলিতভাবে এ খাত থেকেই তারা প্রতি বছর ১০০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছেন। অন্যদিক থেকে দেখতে গেলে, ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণা চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশিরা ২০০ কোটি ঘণ্টা, ৮০০ কোটি ডলার এবং সরকারি স্থাপনাগুলোতে ১০০ কোটি পরিদর্শন বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ এখন আক্ষরিক অর্থেই নক্ষত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ২০১৮ সালে প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে পাঠায় এ দেশ। টেলিযোগাযোগ সেবায় যুক্ত হয়ে এই স্যাটেলাইট আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

কী অসাধারণ অভিযাত্রা!

২০০৮ সালে বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি ছিল প্রায় ৫ শতাংশ। আজ এ হার ৮ শতাংশ অতিক্রম করেছে। এই উন্নতির জন্য দ্রুত গতির যোগাযোগব্যবস্থার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

মালদ্বীপ, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে ডিজিটালাইজেশন ছড়িয়ে দিতেও কাজ করছেন বাংলাদেশি প্রশিক্ষকরা।

এক দশক আগেও কেউ ভাবেনি, এটা কখনও সম্ভব হবে।

  লেখক : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা

নিবন্ধটি ৩ মার্চ যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকী নিউজউইক-এ প্রকাশিত। ইংরেজি থেকে বাংলায় ভাষান্তর করেছেন সারোয়ার প্রতীক।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *