ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

করোনা সংকটকালে সব শ্রেণিপেশার মানুষকে এক ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ সেই চ্যালেঞ্জকে মাথায় নিয়ে প্রথম সারির যোদ্ধা হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই করোনা যুদ্ধে পুলিশ কি কি ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সবধরণের ঝুঁকিকে মাথায় নিয়ে আরো নতুন কি কি পরিকল্পনা তাদের আছে এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে নিউজ ২৪ টিভির মৌ খন্দকার মুখোমুখি হন বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ বিপিএম (বার)-এর। সাক্ষাতকারে আইজিপি মহোদয় প্রয়োজনে করোনার সঙ্গে দীর্ঘদিন বসবাসের মানসিক প্রস্তুতি, করোনা পরিস্থিতিতে প্যান্ডামিক ল’ এনফোর্সমেন্ট এসওপি তৈরী, করোনাক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ, নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, হোম কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন নিশ্চিত করাসহ জনগণের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ানো মানবিক পুলিশ এর নানা কার্যক্রম নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাক্ষাতকারটি প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় ডিটেকটিভ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো : সম্পাদক।

হয়তো দীর্ঘদিন এই করোনার সঙ্গে বসবাস করার প্রয়োজন হতে পারে। এটাই এখনকার যারা গ্লোবাল হেলথ অ্যাক্সপার্ট, স্পেশালি ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন হু (WHO) একথা বলছে যে, অ্যান্টিডক্স বা কার্যকর অ্যান্টিডক্স বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের হয়তো এটার সঙ্গে বসবাস করতে হতে পারে। তো, সেক্ষেত্রে ডেফিনেটলি করোনাকালীন বা প্যান্ডামিক ল’ এনফোর্সমেন্ট স্বাভাবিক জনজীবনের ক্ষেত্রে, যে ল’ এনফোর্সমেন্ট আমরা করে থাকি তার থেকে অবশ্যই ভিন্ন প্রকৃতির। এটাই আমাদের জন্য এক সময় শুরুতে খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিলো। কারণ আমাদের কেন, আমার মনে হয় যে, অনেক দেশেরই এই প্যান্ডামিক ল’ এনফোর্সমেন্ট এর তাৎক্ষণিক কোন অভিজ্ঞতা ছিলো না। তো, আমাদেরও একই সমস্যা আমরা ইনেশিয়ালি প্রাথমিক দিকে আমাদের এই সমস্যা প্রকট ছিলো। কিন্তু আমরা দ্রুতই মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং চেষ্টা করেছি যে যেহেতু অনেক দেশে আমাদের আগেই ক্রাইসিসটা শুরু হয়েছিলো, যেমন ইউরোপিয়ান কান্ট্রিগুলো তারপরে যুক্তরাষ্ট্র। অনেক এশিয়ান কান্ট্রিতেও আমাদের আগে শুরু হয়েছে। তো সে কারণে আমরা ঐদেশের পুলিশ বাহিনী কিভাবে প্যান্ডামিক ল’ এনফোর্সমেন্ট করছে সেটি জানার চেষ্টা করি। পাশাপাশি (WHO) হু এবং আমাদের কিছু ইন্টারন্যাশনাল সংগঠন আছে পুলিশের তারা কিছু গাইড লাইন প্রকাশ করেছে। আমরা এই সবগুলো মিলিয়ে আমাদের দেশের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে আমাদের সঙ্গে তাদের ধারার সঙ্গে, সংস্কৃতির সঙ্গে, মূল্যবোধের সঙ্গে আমাদের লোকাল স্থানীয় যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলোর সঙ্গে সমন্বিত করে আমরা একটা প্যান্ডামিক ল’ এনফোর্সমেন্ট এসওপি তৈরি করেছি। এর সাথে যেটা হয়েছে যে এখন আমাদের এই দুই লক্ষ পুলিশ বাহিনী জানে কোন সমস্যায় কখন কিভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আমরা এখন দেখছি যে দুভাবে আমরা দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি। একটা হচ্ছে যে আপনারা জানেন যে, আমাদের দেশে যারা এই মুহুর্তে করোনা আক্রান্ত হয়েছে বা যারা কোয়ারেন্টিনে আছে, যারা আইসোলেশনে আছেন এদের মানবিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা এবং এমনও দেখা গেছে যে যেখানে হয়তো পরিবারের নিকট আত্মীয়-স্বজন মৃতদেহ দাফন করতে আসে নাই আমাদের পুলিশ সদস্যরা কিন্তু মৃতদেহ বহন করেছে, কবর খুঁড়েছে, জানাজা পড়েছে, দাফন করেছে এই ঘটনাও আছে। অসুস্থ রোগীকে হয়তো নিকট আত্মীয়-স্বজন রাস্তায় ফেলে দিয়ে গেছে তাকে আমাদের লোকজন হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে, রিলিফ বন্টন করেছে। এখন অনেকে আছে যে, যারা হয়তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা হাত বাড়িয়ে রিলিফ নিতে পারেন না কারণ তাদের সামাজিক অবস্থান রয়েছে এই ধরণের যারা ভারনাবেল জনগোষ্ঠী আছে তাদেরকেও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কিন্তু আমাদের লোকজন রিলিফ পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি কোয়ারেন্টাইন বলবৎ করেছে, আইসোলেশন বলবৎ করেছে এবং একই সঙ্গে আমরা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছি। আমরা এই দুই ফ্রন্টেই কাজ করছি। একটা হচ্ছে যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করার যে প্রয়াস সেটি অব্যাহত রেখেছি, সেই সঙ্গে আমরা এই করোনা মোকাবেলার জন্য যে প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো আছে যেমন কোয়ারেন্টাইন বলবৎ করা, আইসোলেশন বলবৎ করা, যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে যে ডিসিশনগুলো আছে সেগুলো বলবৎ করা। পাশাপাশি গণমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা শুশ্রুষা করা এগুলো আমরা একইসঙ্গে করে যাচ্ছি। আমরা এটি করার জন্য, আমরা যাতে করে এই ক্রাইসিস দীর্ঘমেয়াদি হলে, এই ধরণের প্রয়াসকে বলবৎ রাখতে পারি চালু রাখতে পারি সেজন্য আমরা আভ্যন্তরিণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও আমরা অনেক পরিবর্তন নিয়ে এসেছি। আমাদের অ্যাকমোডেশন যেগুলো ছিলো সেগুলোতে থাকার ব্যবস্থা পরিবর্তন নিয়ে আসছি। আমাদের প্রতিটি সদস্যকে আমরা স্বাস্থ্য, করোনা সম্পর্কে যে ঝুঁকি রয়েছে সেই ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের সচেতন করেছি, মোটিভেশন করেছি।

পাশাপাশি তাদেরকে বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী, আই প্রোটেক্টর, মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই, হ্যান্ড স্যানিটাইজার কোন কোন ক্ষেত্রে সাবান এগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আপনারা জানেন যে, আমরা একেবারে সামনে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা কিন্তু শুরু থেকেই আমাদের কোন সুরক্ষা সামগ্রী ঘাটতি আছে বা অন্য কোন সমস্যা আছে এই দোহাই দিয়ে কিন্তু আমরা কখনোই দায়িত্ব থেকে সরে আসি নি। আমরা একদম প্রাথমিক পর্যায় থেকে করোনা ক্রাইসিসে জনগণের সঙ্গে পাশে পাশে থেকে আমরা মোকাবেলা করেছি তো সে কারণে আমাদের প্রচুর সদস্য কিন্তু বিভিন্ন পদমর্যাদার একেবারে অ্যাডিশনাল ডিআইজি, এসপি, এডিসি, ডিসি এসি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদমর্যাদার আমাদের সদস্যগণ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এবং শুরুর দিকে একসময় এ রকম হচ্ছিল যে প্রতিদিন আড়াইশ-তিনশ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হচ্ছিল। আমরা দ্রুত একেবারে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নিয়ে আমরা আমাদের রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালকে একেবারে কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রূপান্তর করে ফেলেছি। সেই সঙ্গে আমরা দুটো ব্যারাককে আমরা কুইকলি হসপিটালে রূপান্তর করেছি। আড়াইশ বেডের একটি আধুনিক প্রাইভেট হাসপাতালকে আমরা ভাড়া করেছি। উদ্দেশ্য সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

আমরা যে কাজটা করছি সেটা হচ্ছে যে আমাদের অপারেশনাল যে ব্যবস্থাপনা সেটিতে পরিবর্তন নিয়ে আসছি। আমাদের ট্রুপ, অফিসারদের থাকার যে ব্যবস্থা সেটি পরিবর্তন করেছি, ডিউটি প্যাটার্ন সেটাকে আমরা পরিবর্তন করেছি। তাদেরকে আমরা করোনা সম্পর্কে সচেতন করেছি সেই সঙ্গে তাদেরকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আমার চাই না আমাদের কোন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হোক। তারপরেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ যদি আক্রান্ত হয় তাহলে আমরা সর্বোচ্চ সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। এতদসত্ত্বেও আমাদের কিন্তু প্রায় চৌদ্দজন সহকর্মী শাহাদৎ বরণ করেছেন এই রাষ্ট্রের জন্য কাজ করতে গিয়ে, জনগণের জন্য কাজ করতে গিয়ে, দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে এবং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে। আমরা মনে করি তারা জাতীয় বীর। এবং আমরা এই চৌদ্দজন শাহাদৎবরণকারী তাদের প্রত্যেকের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আমরা চাই না আমাদের আরেকজন শাহাদৎ বরণ করুক। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমাদের প্রতিটি সদস্যকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য, সুচিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমরা এই প্রয়াস অব্যাহত রাখবো। এবং এর মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করবো যেন এই ক্রাইসিসটা প্রলম্বিত হলে বা দীর্ঘমেয়াদি হলেও আমরা যেন একইতালে বা একই স্ট্যান্ডার্ডে আমরা যেভাবে এখন কাজ করছি আগামী দিনগুলোতেও আমরা একইভাবে কাজ করতে সক্ষম হবো। আমাদের প্রায় চৌদ্দশ সদস্য সুস্থ হয়ে ফিরে আসছেন এবং আপনি জেনে খুশি হবেন তারা প্রত্যেকেই কিন্তু নিজ দায়িত্বে জয়েন করেছেন। এবং আগের মতো করেই তারা তাদের দু:সাহসিকতা দেখিয়ে দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেকে পুনরায় নিয়োজিত করেছে।

আমরা যেটা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিচ্ছি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছি সেটা হচ্ছে সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা। আমরা যে আমাদের কাছে সাহায্য নিতে আসবেন, আমাদের হেল্প নিতে আসবেন, আমাদের সদস্যকে সুরক্ষা দিতে হবে আর যিনি হেল্প নিতে আসছেন তাকেও, যাতে তিনি সুরক্ষিত থাকেন সে বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিবো। আর এখানে হয়েছে কি, আমি যেটা মনে করি, যেহেতু পুলিশ জনগণের সঙ্গে আস্টেপৃষ্ঠে একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করে দায়িত্ব পালন করে, এক্ষেত্রে, আমি মনে করি যে নাগরিকদেরও একটা বিশাল ভূমিকা আছে সচেতন থাকার ক্ষেত্রে, সুরক্ষাবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে। পাবলিক প্লেসগুলোতে তো এখন পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মুক্ত করা হয় নাই, তারপরও আমরা যেহেতু অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিল আছে তাতে করে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অফিস আদালতে চলতে পারে, ন্যূনতম প্রয়োজনে সেখানে চলতে পারে, দোকান কাঁচাবাজার খোলা আছে শপ খোলা আছে, মেডিসিনের দোকান খোলা আছে, ঈদ উপলক্ষে কিছু শপিং মল মার্কেট খুলে দেওয়া হয়েছে তো সেকারণে যারা বাইরে আসবেন তারা ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারেন। আমি অনুরোধ করবো, দয়া করে বিনা প্রয়োজনে বাইরে কেউ আসবেন না এবং যতটুকু সময় ন্যূনতম প্রয়োজন আপনার কাজটি করে সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে থাকবেন ঘরে থাকবেন, ঘরে থাকাই গুরুত্বপূর্ণ। যখন বাইরে আসবেন তখন আবার মিনিমাম সুরক্ষা যেটি গ্লাভস, মাস্ক, আই প্রোটেক্টর চশমা এগুলো ব্যবহার করবেন। বাসায় গিয়ে যথাবিহীত নিজেকে ইনফেক্ট করবেন এবং আমি আবারো বলবো বিনা প্রয়োজনে বাইরে আসবেন না। আমরা যদি এটি মেইনটেইন করি তাহলে বোধ হয় যে আমরা অ্যাজ এ ন্যাশন এই ক্রাইসিস থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হবো।

ইতোমধ্যে সরকারিভাবে বিভিন্ন হসপিটাল তৈরি করা হয়েছে বা প্রস্তুত করা হয়েছে, ল্যাবগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে আমরা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নিজেরাও একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করেছি, আমরা দ্বিতীয় পিসিআর ল্যাব স্থাপন করতে যাচ্ছি খুব শীঘ্রই যাতে করে আমাদের সদস্যরা সবসময় সর্বোচ্চ সুরক্ষা সেবা পেতে পারেন নিশ্চিত করার জন্য। আর নাগরিকদের বলবো যে দয়া করে সুরক্ষা বিধি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন যাতে করে আমরা নিরাপদ থাকবো দেশও নিরাপদ থাকবে এবং আমরা দেশটাকে সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবো। থানাগুলো আর এটা হচ্ছে পরিস্থিতি বিবেচনা- আমরা প্রতিমুহুর্তে থানাগুলোকে যেকোন উদ্ভূত পরিস্থিতি বা দ্রুত সমস্যা নিরীখে প্রতিমুহুর্তে থানাগুলোকে বা ইউনিটগুলোকে সচেতন করছি।

এই মুহুর্তে যদি আমরা ক্রাইম প্যাটার্ন দেখি তাহলে দেখবো সমস্ত অপরাধ কিন্তু নিম্নমুখী। আবার আমরা কিছুদিন আগে দেখেছি, যেহেতু, মানুষ ঘরে থাকে বেশি এখন বিভিন্ন কারণে বিবাদ মারামারি বেশি হচ্ছে আর কি- এই মারামারি হওয়ার মতো অপরাধ কিছুটা গত দুই সপ্তাহ বেড়েছিলো আমরা এগুলো নিয়ে সচেতন আছি, প্রতিমুহুর্তেই আমরা আমাদের ক্রাইম সিচুয়েশন মনিটরিং করছি, করোনা সিচুয়েশন মনিটরিং করছি। আমাদের এখানে একটা করোনা মনিটরিং সেন্টার খোলা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পুলিশ সদর দফতর সেখানে কাজ করছে। তাতে করে করোনা নিয়ে যেকোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষিণকভাবে আমরা জানতে পারি সারা দেশ থেকে আমাদের সঙ্গে করোনা কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ আছে এবং তারাও প্রতিমুহুর্তে দেশের বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমরা যে ব্যবস্থাগুলো এখন বলবৎ আছে এর বাইরে যখনই যে চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে সেগুলো নিয়ে আমরা তৎপর রয়েছি এবং আমাদের থানা ও সকল ইউনিটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

বিদেশে যেটা হয়েছে, আমি আপনাকে বলছি একটু আগে, আমাদের দেশে গত দুই সপ্তাহ মারামারি বেড়েছে তুচ্ছ কারণে, আমরা দেখেছি ঝগড়া বিবাদ মারামারি। আর আমরা দেখছি বাইরেও বিদেশে কি হচ্ছে সেগুলো আমরা মনিটরিং করছি। বিদেশে বেশি হচ্ছে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স। আমাদের এখানে কিন্তু ডমেস্টিক ভায়োলেন্স হয় নি। আমাদের দেশে গত দুই সপ্তাহ মারামারির মতো ঘটনা ঘটেছে। এগুলোকে যাতে করে নিবৃত্ত থাকে আমরা যেহেতু কমিউনিটি পুলিশিং করি, বিট পুলিশিং করি তার মাধ্যমে আমরা এই ধরণের অপরাধ যেন না ঘটে সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি। এর বাইরে প্রলম্বিত হলে অন্য কোন ট্রেন্ড দেখা দেয় সে ট্রেন্ডগুলো মোকাবেলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

এই মুহুর্তে আসলে পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে বৃহত্তর যে পরিকল্পনাগুলো আছে সেগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য আমার মনে হয় ইটস নট রাইট টাইম। এখন হচ্ছে আমাদেরকে করোনা ক্রাইসিস মোকাবেলা করতে হবে। আমি মনে করি ফার্স্ট থিং ফার্স্ট। আমার এখানে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি হচ্ছে করোনাকালীন যুদ্ধের মোকাবেলা করা। এটি মোকাবেলা করার পরে আমার এই পুলিশবাহিনীর সার্বিক উন্নয়ন সমৃদ্ধি এবং জনগণের কাছে কিভাবে তারা আরো বেশি বেশি করে পৌঁছাতে পারবে সেবিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করবো।

আপনারা জানেন যে, ইতোমধ্যে প্রায় এই গত দুই মাসে- তিন মাসে বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের জন্য কাজ করে একটা বিশেষ অবস্থান অর্জন করেছে। আঠারো কোটি মানুষের হৃদয়ে কিন্তু গত কয়েক মাসে তাদের যে অনন্য অবদান করোনা যুদ্ধের মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে, আত্মত্যাগের মাধ্যমে ইভেন শাহাদৎ বরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী কিন্তু জনগণের একেবারে হৃদয়ের গভীর মনিকোঠায় স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। করোনা পরবর্তীসময় আমি মনে করি যে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে এই অবস্থানটাকে ধরে রাখা এবং আরো সুসংহত করা সেটিই হবে আমাদের প্রথম কর্তব্য এবং সেটা করার জন্য পুলিশ বাহিনী সরকারের তত্ত্বাবধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যা যা করা প্রয়োজন সবগুলোই আমরা একে একে বাস্তবায়ন করবো। পুলিশ কিন্তু বেশ দীর্ঘ সময় ধরেই আমাদের যেটা পুলিশ ভ্যালো ইনসিকোয়েন্সটি অর্থাৎ পুলিশবাহিনীর যারা বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত হোন তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু শূন্য সহিষ্ণুতার নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে এবং এখান থেকে তো আমি মনে করি যে ভিন্ন কোন কিছু করার কোন চিন্তা করার সুযোগ আছে বলে মনে করি না। পুলিশ বাহিনীর কোন সদস্য কোন ধরণের কোন অপরাধে যুক্ত হবেন না এটাই হলো শেষ কথা মোদ্দা কথা। আর যদি কেউ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে যুক্ত হোন এটা তার ব্যক্তিগত দায়দায়িত্ব- এই দায়িত্ব পুলিশ বাহিনী নিবে না। এবং যিনি যে মাপের অপরাধ করবেন তিনি সেই মাপের শাস্তি ভোগ করবেন এতে বিন্দুমাত্র কোন ক্ষমা নেই, ছাড় নেই।

সূত্র : নিউজ ২৪ টিভি।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *