ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

সুমন পালিত

পাকিস্তানি শাসনামলে বাঙালির মাতৃভাষার কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলেছিল। ১৯৫২ সালে নিজেদের বুকের রক্ত ঢেলে বাংলা ভাষার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করে এদেশের ছাত্র-জনতা। স্বল্পসংখ্যক উর্দূভাষী মানুষের ভাষা অধিকাংশ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পাকিস্তানি শাসকরা। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামও যুক্ত হয়েছে এ অন্যায়ের সঙ্গে।

উর্দু পাকিস্তানের কোনো অংশের অধিবাসীদের ভাষা ছিল না। এটি ছিল ভারত থেকে আসা উদ্বাস্তুদের ভাষা। অথচ সে ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হয় শুধু বাঙালি নয় পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাবি, সিন্ধি, পাখতুন ও বালুচসহ সব জাতিগোষ্ঠীর ওপর। তারা এ অন্যায় মেনে নিলেও মেনে নেয়নি বাঙালিরা। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ৭ মাস পর ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকায় এসে পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। তার সেই অবিবেচনা প্রসূত বক্তব্য সেদিন স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করেছিলো। জ্বলে উঠেছিলো ভাষা আন্দোলনের বারুদ। বাঙালিদের কাছে সেদিন জিন্নাহ চিত্রিত হয়েছিলেন বাংলাবিদ্বেষী হিসেবে, যার উদ্দেশ্যই ছিলো বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিনাশ ঘটানো।

জিন্নাহ স্বভাবে ছিলেন কর্তৃত্ববাদী। আর সে জন্যেই তিনি তার সৃষ্ট রাষ্ট্রের অধিবাসীদের ওপর চাপিয়ে দেন বহিরাগতদের উর্দুভাষা। মজার ব্যাপার হলো জিন্নাহ নিজেই উর্দুভাষী ছিলেন না। তার পরিবার করাচিতে এসেছিল ভারতের গুজরাট থেকে। জিন্নাহর মাতৃভাষা ছিল গুজরাটি। জিন্নাহর ইতিহাস সম্পর্কে যাদের কিছুমাত্র জ্ঞান আছে, তারা জানেন, উর্দু পড়তে বা লিখতে পারা তো দূরে থাক, জিন্নাহ ভালোভাবে বলতেও পারতেন না!

জিন্নাহর ছোট বোন এবং পাকিস্তানের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ফাতিমা জিন্নাহ তার ভাইকে নিয়ে লেখা বই, ‘মাই ব্রাদার’-এ লিখেছেন তার ভাই উর্দু কিংবা বাংলায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। পাকিস্তানের সুশীল সমাজের সঙ্গে তার কথাবার্তা হতো ইংরেজিতে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সাত মাস পর ঢাকা সফরে এসে জিন্নাহ যে বক্তৃতায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন, সেটিও বলেন ইংরেজি ভাষায়।

জিন্নাহ নিজে উর্দু ভাষা লিখতে, পড়তে বা স্বাচ্ছন্দ্যে বলতে না পারলেও সে ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করতে ওঠে পড়ে লেগেছিলেন ঘোরতর রাজনৈতিক কারণে। জিন্নাহ রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে উর্দুকে বেছে নেন লিয়াকত আলী খানসহ ভারত থেকে পাকিস্তানে হিজরত করা কিছু উর্দু ভাষী রাজনীতিক ও আমলার পরামর্শে।

উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রক্রিয়া শুরু হয় দেশভাগের পরপরই। ১৯৪৭ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। প্রচারমাধ্যম ও বিদ্যালয়ে কেবল উর্দু ব্যবহারের প্রস্তাব নেওয়া হয় ওই সম্মেলনে। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি সদস্যদের বাংলায় বক্তৃতা প্রদান এবং সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ইংরেজিতে দেওয়া ওই বক্তৃতায় তিনি  বাংলাকে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে উল্লেখ করে একে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবি তোলেন। জিন্নাহ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব সহজ চোখে দেখেননি। ২৪ দিন পর ১৯ মার্চ ঢাকায় এসে পৌঁছান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক গণ-সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি ভাষণ দেন। তার ভাষণে তিনি ভাষা আন্দোলনকে পাকিস্তানের মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। বাঙালিদের প্রতি ঘোরতর অবিশ্বাসের প্রকাশ ঘটান তিনি। সেখানেই তিনি ‘উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা’- এই বক্তব্য দেন। জিন্নাহর বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে ছাত্র জনতা। সেসময় গোটা পাকিস্তানের কেবল সাত শতাংশ মানুষের ভাষা ছিলো উর্দু। বাকি ৯৩ ভাগ মানুষ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতো। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভাষা ছিলো বাংলা। তারপর ছিল পাঞ্জাব, সিন্ধি ও পাখতুন এবং বালুচ ভাষীর সংখ্যা। তাহলে অন্য সকল ভাষা, বিশেষ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে না চাওয়ার কারণ কী?

খ্যাতনামা রাজনীতিক ও সু-সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদ তাঁর ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ বইয়ে লিখেন, ‘উর্দুকে যদি রাষ্ট্রভাষা করা হয় তবে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত সমাজ ‘নিরক্ষর’ এবং সকল সরকারি পদের ক্ষেত্রেই ‘অনুপযুক্ত’ হয়ে পড়বে।’

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নাকচ করার জন্য পাকিস্তানি শাসকরা নোংরা প্রচারণার আশ্রয় নেয়। তাদের বক্তব্য ছিল বাংলা হিন্দুদের ভাষা। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বাংলা নামটি মুসলমান শাসকদের দেওয়া। মুসলিম শাসনামলেই বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে ঠাঁই দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাভাষীদের সিংহভাগই মুসলমান। সে দিক থেকে বাংলাকে হিন্দুয়ানি ভাষা বলা অযৌক্তিক শুধু  নয় বিদ্বেষপ্রসূত। বাংলা ভাষা শুধু নয়, বাংলা সনের সঙ্গেও রয়েছে ইসলামী ঐতিহ্যের সম্পর্ক। সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তক। বাংলা সনের উদ্ভব হিজরি সন থেকে। সন শব্দটিও আরবি।

ভাষার প্রশ্নে পাকিস্তানি শাসকদের বক্তব্য ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিপন্থী। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী দুনিয়ার সব ভাষার স্রষ্টা মহান আল্লাহ। ভাষার বৈচিত্র্য আল্লাহর অপরিসীম কুদরত। উর্দু ভাষার প্রচলন ঘটে সুলতানি ও মোগল আমলে। সেনা শিবিরে বহিরাগত ফার্সি, আফগান ও তুর্কিভাষী এবং এদেশীয় হিন্দি, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, মারাঠা ইত্যাদি ভাষী সৈনিকদের পারস্পরিক মতবিনিময়ের সময় যে জগাখিচুড়ি ভাষার সৃষ্টি হয় তারই নাম উর্দু। বাংলার মতো উর্দু ভাষার সঙ্গে কোনো ধর্মের সম্পর্ক নেই বা থাকার কথা নয়। পাকিস্তানের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশের ভাষা হলেও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানি বিভিন্ন ভাষী মানুষের কাছে উর্দু বোধগম্য ভাষা হওয়ায়। বাঙালিদের জন্য সে শর্ত প্রযোজ্য ছিল না।

পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষের ভাষা হিসেবে বাংলাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানানো হলে সেটিও খুব একটা অযৌক্তিক হতো না। কিন্তু ১৯৫২ সালে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ বাংলাকে একমাত্র নয় অন্যতম রাষ্ট্রভাষার দাবি জানিয়েছিল। রাষ্ট্রভাষা কোনটি হবে তা নিয়ে বিতর্ক চলছিল পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভের আগে থেকেই। স্বীকার করতেই হবে মুসলিম লীগ নেতাদের একাংশের কাছে উর্দু ভাষাই প্রাধান্য পেয়েছে। বাংলার দুই প্রভাবশালী মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী এবং খাজা নাজিমউদ্দিন দুজনই ছিলেন  উর্দুভাষী। তবে সোহ্রাওয়ার্দী বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার পক্ষে ছিলেন। মুসলিম লীগ নেতারা  উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার পক্ষে থাকলেও বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে জড়িতরা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছিলেন অনঢ়। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঢাকা সফরের আগে ভাষার প্রশ্নটি লেখক, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং ছাত্রদের মধ্যে সীমিত ছিল। জিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা  দেওয়ার পর তা ক্রমান্বয়ে সর্বস্তরের বাঙালিদের দাবি হয়ে ওঠে। তার সামনেই ছাত্র জনতা এ বিষয়ে আপত্তি জানায়। জিন্নাহ সম্ভবত ঢাকা সফরে এসে এমন বিক্ষোভের মুখে পড়বেন তা আশা করেননি। তবে তিনি করাচি ফিরে ভাষার প্রশ্নে দৃশ্যত নীরবই থাকেন।

পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের বিরুদ্ধে ক্রমান্বয়ে হুমকি হয়ে দাঁড়ানো বাঙালি জনগোষ্ঠীকে প্রশাসন থেকে ছেঁটে ফেলার একটা অপচেষ্টাই ছিলো উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার অন্যতম উদ্দেশ্য। অন্তত তখনকার বুদ্ধিজীবীরা তাই মনে করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষকদের মতে ধর্মকে কাজে লাগিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছিলো পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী।

উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পেছনে জিন্নাহর কী কী বিবেচনা কাজ করেছিলো, সেটা নিয়ে তিনি দেশবাসীকে সুস্পষ্ট কিছু বলেননি। সে সময় পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ ছিল পূর্ববাংলার অধিবাসী। আর পূর্ব বাংলার কিছু পরিবার ছাড়া বাদবাকি কেউ উর্দুভাষী ছিলো না। উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে বাঙালির জন্য বড় বিপদই ঘটতো।

গবেষকদের মতে, ‘উর্দুকে বেছে নেওয়ার পেছনে আরও একটা কারণ থাকতে পারে। সেটা হলো, তখন ধর্ম এবং সাম্প্রদায়িকতা দিয়েই সবকিছুকে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছিলো। এটা ছিলো সস্তা ধর্মীয় উন্মাদনাকে ব্যবহার করার চেষ্টা। উর্দু হরফের সঙ্গে আরবি হরফের কিছুটা মিল আছে। খুব সামান্য সংখ্যক আলেম-ওলামা ছাড়া, আরবি তো সরাসরি প্রচলন করা যেত না, কারণ পাকিস্তানে আরবি ভাষায় সে সময় পঠন-পাঠন বা কথা বলতে পারে এমন লোক ছিল হাতে গোনা। সাধারণ মানুষের মধ্যে কোথাও আরবি ভাষার প্রচলন ছিলো না। তারপরও বাঙালি মুসলমানের ভাষা আরবি হওয়া উচিত এরকম কথা বলার চেষ্টা চলছিলো তখন। আরবি বর্ণমালায় বাংলা লেখার কথাও বলা হয়েছে। সেগুলো সবই হয়েছে, কিন্তু সেসব জারিজুরি ধোপে টেকেনি।

গবেষকদের মতে, ধর্মকে ভিত্তি করে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের তৈরি হওয়াটাই ছিল ‘বড় অপরাধ’। তখন থেকেই রাজনৈতিক দমন-পীড়নের জন্য ধর্মকে হাতিয়ার করাটাই ছিলো জিন্নাহ্’র কৌশল। তারই একটা সম্প্রসারিত রূপ ছিলো উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা।

জিন্নাহর মৃত্যুর পর ঢাকার নবাব পরিবারের খাজা নাজিমউদ্দিন যখন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল এবং নূরুল আমিন যখন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তখন এই দুই জাতীয় বেঈমানের উস্কানিতে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রয়াস চলে। ফলে রুখে দাঁড়ায় ছাত্র সমাজ।

মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে রক্ত দিয়েছিল সালাম, বরকত, রফিক, শফিক বাংলা মায়ের সেরা সন্তানরা। বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদানে পাকিস্তানি শাসকরা বাধ্য হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বিকশিত হয় বাঙালির স্বাধিকার চেতনা। যার চূড়ান্ত রূপ সত্তরের নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সে অবিনশ্বর চেতনা বাঙালি জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জন করেছে। ভাষা শহীদদের এ দিনটি এখন জাতিসংঘের উদ্যোগে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। দুনিয়ার দেশে দেশে মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার সমুন্নত রাখার শপথ নেওয়া হয় এ দিনে। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার যে একটি মানবাধিকার তাও স্বীকৃত এখন আন্তর্জাতিকভাবে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পাকিস্তানি পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। একুশের শহীদদের রক্তদান বাঙালি জাতিকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সাহস জুগিয়েছে। এ সাহসই ছিল ১৯৭১ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের অনুপ্রেরণা। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তা অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বাংলাভাষী জনগণের জাতি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এই প্রেরণাকে বুকে লালন করতে হবে। সর্বস্তরে বাংলা প্রতিষ্ঠার দায় পূরণেও উদ্যোগী হতে হবে। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের হার না মানা চেতনাকে সঙ্গী করে দেশ গঠনে ব্রতী হলে কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।

লেখক : সিনিয়র সহকারী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *