ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ডিটেকটিভ ডেস্ক

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গাছে গাছে বাসা বেঁধেছে বিরল প্রজাতির বিপন্ন পাখি। গ্রামবাসী আগলে রেখেছেন পাখিগুলোকে। নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে পাখির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার কানাইপুকুর ও কাজীপাড়া গ্রামে বড় বড় গাছে এসব পাখি বাসা বাঁধে।

সরেজমিন দেখা গেছে, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে আলমপুর ইউনিয়নের কানাইপুকুর গ্রামের আব্দুস সামাদ ম-ল ও সোবহান মন্ডলের পুকুরপারের শতাধিক গাছে শামুকখোলসহ ছয় প্রজাতির হাজার হাজার পাখির স্থায়ী আবাসস্থল। প্রতিদিন বিকালে হাজারও শামুকখোল পাখি এসে আশ্রয় নেয় মন্ডলবাড়ির তেতুলতলী পুকুরের গাছগুলোতে। কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত চারপাশে তারা মনের সুখে ডানা ঝাপটায়, কেউবা আবার বাচ্চার মুখে তুলে দেয় খাবার। প্রকৃতির অপরূপ খেয়ালে এখানে গত একযুগ ধরে বাসা বেঁধে আছে হাজার হাজার শামুকখোল পাখি। সন্ধ্যায় পুরো পুকুরপাড় মুখরিত হয়ে ওঠে পাখির কল-কাকলিতে। রাতভর চলে ওদের ডানা ঝাপটানো। নির্বিঘ্নে রাত কাটিয়ে ভোর হলেই উড়ে যায়। দিনশেষে নীড়ে আবারো ফিরে আসে।

শামুখখোল, শামুকভাঙা, হাইতোলা মুখ, পানকৌড়ি এসব নামে পরিচিত পাখি। গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল আর ফসলের মাঠ থেকে খাবার খোঁজে খায় পাখিগুলো। নিরাপদ আশ্রয়ে প্রজননও করছে তারা। এতে দিন দিন বাড়ছে পাখির সংখ্যাও। আর এই পাখি কলোনির নিরাপত্তা দিচ্ছে গ্রামবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, শামুকখোল পাখির ইংলিশ নাম Asian Openbill আর বৈজ্ঞানিক নাম Anastomus oscitans. এই পাখির ঠোঁটের সঙ্গে অন্য কোনো পাখির ঠোঁটের মিল নেই। শামুকখোল পাখির ঠোঁটের নিচের অংশের সঙ্গে উপরের অংশে বড় ফাঁক। এরা এই বিশেষ ঠোঁটে শামুক তুলে চাপ দিয়ে শামুকের ঢাকনা খুলে ফেলে এবং ভিতরের নরম অংশ খেয়ে নেয়। মূলত শামুকের ঢাকনা খোলার শৈল্পিক কৌশলের কারণেই এই পাখির নামকরণ করা হয়েছে শামুকখোল পাখি।

স্থানীয়রা বলেন, পাখির কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে থাকে পুরো গ্রাম। এসব পাখি গাছের ফল, পুকুরের মাছ সাবাড় করলেও কোন ক্ষোভ নাই পুকুর মালিক আব্দুস সোবহানের। এই পাখিগুলো প্রতি বছর এখানে আসে এবং বাচ্চা ফুটায় এখানেই। পাখিগুলো প্রাকৃতিক সম্পদ, তাই রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রতিদিন পাখি কলোনি দেখতে ভিড় করছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ।

পুকুরের মালিক আব্দুস সামাদ ও তার ছোটভাই সোবহান বলেন, পাখিগুলোকে আমরা আগলে রেখেছি। গাছের ফলমূল আমাদের আর হয় না। পুকুরেও মাছ ভাল হয় না, কারণ পুকুরটির চারদিকে গাছ-গাছড়ায় জঙ্গল হয়ে গেছে। কানাইপুকুর গ্রামের পাখির অভয়ারণ্য গড়তে আন্তরিক হবেন প্রশাসন এমন দাবি এলাকাবাসীর।

উপজেলার আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার নাদিম বলেন, পাখিগুলোর যাতে ক্ষতি না হয় সে জন্য ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে খেয়াল রাখার ব্যবস্থা থাকবে।

নিরাপত্তার সঙ্গে পাখি কলোনির দেখভাল করা হবে প্রতিশ্রুতি দিলেন স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষেতলাল থানার ওসি নিরেন্দ্রনাথ ম-ল। তিনি বলেন, পাখিগুলোকে যাতে কেউ শিকার করতে না পারে সে দিকটি খেয়াল রাখছি।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *