ই-পেপার

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে রক্তের অক্ষরে  লেখা একটি জ্বলজ্বলে দিন। তাছাড়া এবার ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর স্মরণে দিবসটি জাতীয় জীবনে আলাদা বৈশিষ্ট্যের দাবী রাখে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বছরব্যাপী বিভিন্ন বর্ণাঢ্য কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। ইউনেসকো সারা বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে। সাড়ম্বরে শুরু হয় ক্ষণ গণনা। কিন্তু আকস্মিক কোভিড-১৯ দূর্যোগের কারণে জনগণের নিরাপত্তার কথা ভেবে জাতির পিতার জেষ্ঠ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর জনসমাগম হয় এমনসব কর্মসূচী স্থগিত ঘোষণা করেন। করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়ানোর জন্য এবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি বাতিল করা হলেও, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান বছরব্যাপী চলমান থাকবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের, দীর্ঘ সংগ্রাম আর ত্যাগের কথকথা । ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের এক বছর যেতে না যেতেই রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাভাষীদের সঙ্গে বিমাতা সূলভ আচরণ শুরু করে। প্রতিবাদে, বাঙালি জাতি রুখে দাঁড়ায় বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট, ১৯৬৬-এর ৬ দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০-এর নির্বাচনে বিজয় ছিল জাতির আকাঙ্খার প্রতিফলন। পাকিস্তানি শাসকচক্র ওই বিজয় প্রত্যাখ্যান করলে একাত্তরের ১ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতি এগিয়ে যায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ-এর পানে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হয় স্বাধীনতার অমোঘ বাণী, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মূলত সেদিনই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। কিন্তু বাঙালি জাতির স্বাধীনতার চেতনাকে স্তব্ধ করতে ২৫ মার্চ কালরাতে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যায় মেতে ওঠে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

শুরু হয় হানাদারদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার চূড়ান্ত লড়াই। রাজারবাগের পুলিশ লাইনস্ থেকেই প্রথম বুলেট ছোড়া হয়। নয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ আর লুটপাটের কলঙ্কিত অধ্যায়ের বিপরীতে রচিত হয়। মুক্তিকামী বাঙালির যুদ্ধজয়ের বীরত্বগাথা। ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে বাঙালি জাতি অর্জন করে বিজয়। পৃথিবীর বুকে অভ্যুদয় ঘটে লাল-সবুজ পতাকার বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকীতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগী বীর পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ডিটেকটিভের অগণিত পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য রইলো আন্তরিক শুভেচ্ছা।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x