ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম

বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায় ‘মুক্তিযুদ্ধ’, যার মাধ্যমে আমরা পেয়েছি একটি লাল-সবুজ পতাকা, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম মানচিত্র। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্ব ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে, এই জনপদের জনগোষ্ঠি নিজস্ব জাতীয়তাবাদ ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিগামী জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করে বাংলার অকুতোভয়, বীর পুলিশ সদস্যগণ। ২৫ মার্চ ১৯৭১, কালরাতে, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ প্রথম গর্জে উঠে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। মুক্তিগামী মানুষের প্রতিরোধ যুদ্ধের অগ্রভাগে ছিলো পুলিশ। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালে সর্বমোট ৩৩ হাজার ৯৯৫ জন সদস্য পূর্ব পাকিস্তান পুলিশে কর্মরত ছিল যার মধ্যে ১৩ হাজার পুলিশ সদস্য পাকিস্তান সরকারের আনুগত্য অস্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।  দেশ মাতৃকার এই মুক্তিসংগ্রামে পুলিশের সহস্রাধিক সদস্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেন এবং যুদ্ধাহত হন কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ তথা মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রাজশাহী পুলিশের প্রতিরোধ যুদ্ধ। দুঃসাহসিক এই অভিযাত্রায় সম্মুখভাগে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন ডিআইজি মামুন মাহমুদ এবং পুলিশ সুপার, রাজশাহী জনাব শাহ আব্দুল মজিদ। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে এই দুই বীর পুলিশ কর্মকর্তা দেশ মাতৃকার  জন্য আত্মত্যাগ করেন।

প্রতিরোধ যুদ্ধে রাজশাহী জেলা

২৫ মার্চ, ১৯৭১ রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন জনাব মামুন মাহমুদ, রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন শাহ আব্দুল মজিদ এবং জেলা পুলিশের আরআই ছিলেন মাজহার আলী (অবাঙালি কর্মকর্তা)। অসহযোগ আন্দোলনের সময় থেকেই কর্মরত বাঙালি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিদ্রোহের আভাস পরিলক্ষিত হতে থাকে। রাজশাহী পুলিশ লাইনস্রে সদস্যরা সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ লাইনস্রে চারদিক ঘিরে গভীর পরিখা খনন করে। পুলিশ লাইনস্রে অভ্যন্তরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাংকার তৈরি করা হয়  এবং পরিখার মধ্যেও পালাক্রমে সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা করা হয়।

২৩ মার্চ রাজশাহী রোহনপুর সীমান্ত ফাঁড়িতে অবস্থানরত বাঙালি ও অবাঙালি ইপিআর সৈন্যদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয় এবং রাতে অবাঙালি ক্যাপ্টেন কিছু সৈন্যসহ রোহনপুর ইপিআর ক্যাম্পের দিকে অগ্রসর হতে চেষ্টা করলে বাঙালি ইপিআর সদস্যরা পুনরায় গুলি ছুড়ে তাদের গতিরোধ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। রাজশাহী ইপিআর সেক্টর হেডকোয়ার্টার ও উপশহরে অবস্থানরত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মধ্যেও এর প্রভাব লক্ষ করা যায়। এই বিষয় নিয়ে রাজশাহী পুলিশ লাইনে অবস্থানরত বাঙালি পুলিশ সদস্যের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ২৫ মার্চ রাত ১০-১১টার দিকে পুলিশ ওয়ারলেস থেকে পাক সৈন্যদের অশুভ গতিবিধি সংবাদ রাজশাহী পুলিশ লাইনে জানানো হয় এবং পাকিস্তানি সৈন্যরা বাঙালিদের উপর আক্রমণ করতে পারে- এমন আভাসও দেওয়া হয়। প্রাপ্ত এই সংবাদে রাজশাহী পুলিশ লাইনে সব কর্মকর্তা ও সদস্য আরও সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং রাত ১২টা থেকে পালাক্রমে বাংকার-এর পজিশনে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় এসআই (সশস্ত্র) সোহরাব হোসেন ভারপ্রাপ্ত আরআই হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২৬ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দায়িত্ব প্রাপ্ত মেজর, ডিআইজি মামুন মাহমুদকে তার অধীনস্ত পুলিশ সদস্যদের আত্মসমর্পণ এবং অস্ত্রাগারের চাবি তাদের কাছে হস্তান্তর করার জন্য বলেন। ডিআইজি মামুন মাহমুদ বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে জানালে সেনা অফিসার আলোচনা অসমাপ্ত রেখে ফিরে যান এবং একই দিনে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে সেনানিবাসে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে ডিআইজি জনাব মামুন মাহমুদ এবং তার ড্রাইভারের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তৎকালীন রংপুরের জেলা প্রশাসক শামীম আহসানের দেওয়া তথ্যমতে, জনাব মামুন মাহমুদকে রংপুর ব্রিগেড সদর দপ্তরে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়।

২৬ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পুলিশ লাইনে হামলা করে অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে। পুলিশ সদস্যদের চ্যালেঞ্জের মুখে উভয় পক্ষের মধ্য গুলি বিনিময় হয়। পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে সেনাবাহিনী পুলিশ লাইনে ঢুকতে ব্যর্থ হয়। এ সময় সেনা বাহিনী ডিআইজি অফিসের পেছনে নদীর পারে, লক্ষ্মীপুর মোড়, ইপিআর লাইনের পাশে রেডিও সেন্টারের ভেতরে অবস্থান গ্রহণ করে। ২৭ মার্চ সকাল পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় অব্যহত থাকে। সকাল ১০ টায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অফিসার মাইকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন ‘‘আমরা সকলে মুসলমান একে অপরের ভাই, এই আত্মঘাতি যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত। আলোচনার মাধ্যমে আপোশ মিমাংসা করা সম্ভব।’’ জেলা পুলিশ সুপার আলোচনার জন্য পুলিশ লাইনে আগমনের পর পুলিশ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে আলোচনার প্রতিবাদ জানায়। সমস্বরে বক্তব্য ছিল, ‘আমরা মরলে এক সঙ্গে মরবো কিন্তু পাকিস্তানিদের গোলামী করবো না।’ পুলিশ সুপার অশ্রুসজল চোখে পুলিশ লাইনস্ ত্যাগ করেন। ফিরে যাবার মুহুর্তে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা পারলে কিছু করো, আমি যথা সম্ভব তোমাদের সাহায্য করবো।’ এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যরা পুলিশ লাইনের পাহারা আরও জোরদার করে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ লাইনের প্যারেড গ্রাউন্ডের কাছে কয়েকজন অবাঙালির পুলিশ সদস্য বাঙালি এবং বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ করে খারাপ মন্তব্য করলে অবাঙালি পুলিশ সদস্য এবং বাঙালি পুলিশ সদস্যের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। জেলা পুলিশ সুপার পুলিশ লাইনস্ এ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার সময় সেনাবাহিনী ২৫ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের সৈনিকরা পূর্ণ যুদ্ধ সাজে রাজশাহী উপশহর থেকে পুলিশ লাইনের দিকে যাত্রা করার সংবাদে পুলিশ লাইনের আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার অনন্যোপায় হয়ে টেলিফোনে ইপিআর বাহিনীর সাহায্য কামনা করে। জেলা পুলিশ সুপারের টেলিফোনের সংবাদে ইপিআর ক্যাপ্টেন গিয়াছ আহমেদ চৌধুরী তার ফোর্স নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও রাস্তায় মুক্তি সংগ্রামীদের সৃষ্ট বেরিকেট পার হয়ে সময় মতো পৌঁছানো তার পক্ষে কষ্টকর হয়ে পরে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ২৫ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের কনভয়গুলো পুলিশ লাইনের সন্নিকটে গির্জার কাছাকাছি পৌঁছানো মাত্র পুলিশের রাইফেল একসঙ্গে গর্জে উঠে। উভয় পক্ষের মধ্য গোলাগুলি শুরু হয়, পুরো রাত ধরে গুলি বিনিময় চলে। রাতের যুদ্ধে কয়েকজন পাকিস্তানি সৈন নিহত হয়। স্বাধীনতার চেতনার উজ্জীবিত পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পাকবাহিনী রাজশাহী পুলিশ লাইনস্ দখল করতে ব্যর্থ হয়। ২৮ মার্চ সকাল ১০টার দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী একজন মেজর রাজশাহী জেলার এডিসিসহ সাদা পতাকা উড়িয়ে গুলি বন্ধের জন্য মাইকে প্রচার করতে থাকে। ‘আমরা পবিত্র কোরআন শপথ করে বলছি, আমরা আর গুলি করবো না’। এই সময় উভয় পক্ষ থেকে গুলি চালানো বন্ধ থাকে। ২৫ পাঞ্জাবের মেজর অন্যদের সঙ্গে নিয়ে নিরস্ত্র অবস্থায় পুলিশ লাইনে পৌঁছে বলেন, ‘আমরা সকলে মুসলমান। ঢাকায় বাঙালি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে, একটা সুষ্ঠ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’। এরপর মেজর তার অন্য সাঙ্গীদের নিয়ে সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে পুলিশ লাইনস্ ত্যাগ করেন। পুলিশ সদস্যরা অনেকটা বিভ্রান্ত হয়ে বারাকে ফিরে আসেন। অল্পকিছুসংখ্যক সদস্য বাংকারের প্রহরায় ছিলেন।

২৮ মার্চ দুপুরে প্রায় সব পুলিশ সদস্য আহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এমন সময় পাকবাহিনী পুলিশ লাইনের উপর মর্টার শেলিং ও মেশিনগানের গুলিবর্ষণ শুরু করে। রকেট লাঞ্চারের শেলের আঘাতে প্রথমে পুলিশের ওয়ার্লেস টাওয়ারটি ভেঙে পড়ে। কয়েকটি বারাকে আগুন ধরে যায়, পুলিশ সদস্যরা পাকবাহিনীর এই আকস্মিক আক্রমণে হকচকিয়ে দৌড়া-দৌড়ি শুরু করে। যে সব সদস্য বাংকারের পজিশনে ছিলেন তারা সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। অনেকেই দ্রুত রাইফেল নিয়ে বাংকারে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পাকবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের বিপরীতে পুলিশের সাধারণ থ্রি নট থ্রি রাইফেলের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়লে পুলিশ সদস্যরা পেছনের পথে ভেড়াপাড়ার মধ্য দিয়ে পুলিশ লাইনস্ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ঐতিহাসিক এই প্রতিরোধ যুদ্ধে ১৮ জন বাঙালি পুলিশ সদস্য শাহাদাতবরণ করেন। এই যুদ্ধে নেতৃত্বে ছিলেন আরআই সোহরাব আলী এবং পিআরএফএর আরআই রইস উদ্দিন। শেষ মুহূর্তে পুলিশ লাইনস্ ত্যাগ করেন। ২৯ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দৌলত খানের কাছে ১৮ জন পুলিশ সদস্য’র লাশ হস্তান্তর করেন। পুলিশ লাইনস্রে অভ্যন্তরের বাবলা বাগানের ভেতর তাদের সমাহিত করা হয়। ৩১ মার্চ পাকবাহিনী জেলা প্রশাসকের বাসভবন থেকে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার শাহ আব্দুল মজিদকে বন্দি করে এবং একই দিনে অফিস প্রাঙ্গণে গুলি করে হত্যা করে।

উপসংহারঃ

মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহী জেলা পুলিশের ভূমিকা ইতিহাসের একটি গৌরবময় অংশ। মুক্তিযুদ্ধে দুঃসাহসী ভূমিকার জন্য রাজশাহী জেলার পুলিশ কনস্টেবল/৭৯৬ তৌহিদ আলীকে বীরবিক্রম উপাধীতে ভূষিত করা হয়। শহীদ ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ জনাব মামুন মাহমুদকে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকার জন্য স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর) ২০১৫ দেওয়া করা হয়। সর্বোপরি বাংলাদেশ পুলিশ সামগ্রিকভাবে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দান এবং স্থানীয় সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের গৌরবগাঁথাকে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে স্বাধীনতা পদক-২০১১ তে ভূষিত করেন। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যা নতুন প্রজন্মের জন্য যুগ যুগ ধরে প্রেরণার উৎস হয়ে কাজ করবে।

তথ্য সূত্র

মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা (প্রথম খ- ) (২০১৭) এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (সম্পাদক), হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার) পিপিএম (সম্পাদক), বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, ঢাকা।

লেখক : কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার), ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহী

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *