ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মো. শওকত আলী সরকার

বাড়ির সকলেই তাকে ইলা বলে ডাকলেও কলেজের বান্ধবীরা তাকে আদর করে ‘নেত্রী’ বলেই বেশি ডাকে! আর ছোটরা ইলাদি।

মনেশ্বর রোডের মিত্তির পরিবারে অনেক আগে থেকেই পড়াশোনাকে জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ভাবা হয়। অর্থনৈতিকভাবে মিত্তির পরিবার বেশ সচ্ছল। ইলার বাবা ভবানী মিত্র ইংল্যান্ড থেকে ব্যবসায় প্রশাসনের ওপর পড়াশোনা করে বর্তমানে দেশেই ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, মা মাস্টার্স পাশ গৃহিণী। ইলার কোনো ভাই-বোন না থাকায় অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ইলা চলনে-বলনে শহুরে এবং আধুনিক মানসিকতায় বেড়ে উঠছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সংগীত ও চিত্রকলায়ও তার বেশ আগ্রহ। দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে সে স্কুল ও কলেজ জীবন অতিক্রম করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করছে। এইচএসসি পরীক্ষায়ও সে জিপিএ ৫ পাওয়ার আশা করছে, যেমনটি পেয়েছিল পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে। দেখতে সুশ্রী, পড়াশোনায় সে আগাগোড়া ভালো তা পরীক্ষার রেজাল্ট এবং শিক্ষকদের রিকমেন্ডেশন থেকে সকলে বুঝতে পারেন, তাই বাবা-মা মেয়ের শিক্ষার ভবিষ্যতের ব্যাপারে একটু বেশিই আশাবাদী। মেয়ে দেশের পাঠ চুকিয়ে বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বাবার মতোই নিজ পেশায় ব্যক্তিত্বের ছাপ রাখবে দেশের কল্যাণে, এটাই মিত্তির পরিবারের প্রত্যাশা এবং সব কিছু সেভাবেই এগোচ্ছে। আত্মীয়-স্বজনদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তৃতীয় প্রজন্ম অতিক্রম করছে। ভবানী মিত্র চান না তার একমাত্র মেয়ে তাদেরকে ছেড়ে বিদেশে স্থায়ী হোক। আবার তার সাথে ইলার ভবিষ্যৎ প্ল্যানের মিল থাকবেই, এমন কট্টর ধারণা তিনি কখনো পোষণ করেন না। তবে বয়স হওয়ায় মেয়ের প্রতি তার নির্ভরতা বেড়েছে, তা তিনি টের পান।

ঢাকার একটি নামকরা মহিলা কলেজ থেকে গতবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ইলা। পুরো নাম ইলা মিত্র। হাজারীবাগের জিগাতলা এলাকায় মনেশ্বর রোডে তাদের পৈতৃক ভিটা। এলাকার লোকজনের কাছে মনেশ্বর রোডের ওই বাড়িটি মিত্তিরবাড়ি নামেই বেশ পরিচিত। এই পরিবারের পরিচিতির একটা বিশেষ কারণ আছে বৈকি! যান্ত্রিক ঢাকা শহরে অধিকাংশ লোকই স্কয়ারফিটের হিসাবে ফ্ল্যাট-বাড়ির কল্পনা করে নিজেদের অর্থনৈতিক সংগতির সাথে তাল রেখে। আর পাঁচ কাঠা পরিমাণ জায়গার ওপর দাঁড়ানো দশ তলা একটি বিল্ডিংয়ে জমির মালিক, ফ্ল্যাট মালিক আর ভাড়াটিয়ার মিথস্ক্রিয়ায় কেউ কাউকে আলাদাভাবে মনে রাখতে পারে না! তাই মনেশ্বর রোডের অন্যান্য বাসা-বাড়ির তুলনায় মিত্তিরবাড়িটি ব্যতিক্রমী। ইয়া বড় আয়তন, পুরাতন গাছগাছালি! সকাল-সন্ধ্যায় হরেক পাখির কলকাকলি, ঠিক শহরের ভেতরে যেন এক গ্রামীণ অনুভূতি! ইলাদের বাড়ির পুরাতন সাদা বিল্ডিংয়ের নকশা এখনো তার পূর্বপুরুষদের বনেদিপনার ছাপ ধরে রেখেছে। জমিদার-উজির-নাজির না হলেও তাদের বৈঠকখানায় এখনো তৎকালীন পূর্ববঙ্গের চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের সাঁওতাল কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের একটি সাদাকালো ছবি অন্যান্য অনেক ছবির পাশে শোভা পাচ্ছে। জিজ্ঞাসা করতেই ভবানী মিত্র জানালেন তার ঠাকুরদা শ্রী রমেশ মিত্র ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির একজন সক্রিয় কর্মী এবং নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের খুব প্রিয় একজন সংগঠক। ইতিহাস খ্যাত নাচোলের সাঁওতাল কৃষক বিদ্রোহে ইলা মিত্রের সাথে তার একই মঞ্চে বক্তৃতা এবং ইলা মিত্রের ওপর তৎকালীন পুলিশি নির্যাতনের গল্প তিনি মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত নাতি-নাতনিদের শুনিয়েছেন। সেই থেকে ঠাকুরদা এবং কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রকে অভিন্ন জ্ঞান করেন ভবানী মিত্র। বৈঠকখানায় শোভিত ইলা মিত্রের সেই ছবিখানা তার ঠাকুরদারই সংগৃহীত। ঠাকুরদার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা থেকেই ভবানী মিত্র একমাত্র মেয়ের নাম রেখেছেন ইলা মিত্র।

অর্থী ও ইলা প্রায় সমবয়সি হলেও ইলা কয়েক মাসের ছোট, তারা দুজনই স্কুলজীবনে একই স্কুলের স্টুডেন্ট ছিল। কিন্তু স্কুলের গন্ডি শেষ হতে না হতেই অর্থী তার বাবা-মায়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায়, বছরে বড় জোড় একবার দেশে আসে, কোনো বছর একবারও আসা হয় না। গত মে মাসের ২৫ তারিখ অর্থী তার মা-মাবা ও বড়দা রাজনসহ বাংলাদেশে এসেছে এবং উঠেছে অর্থীর নানুবাড়ি সেগুনবাগিচা। লম্বা ছুটি, ফেরত যাবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। ইলার তখনো এক সবজেক্ট পরীক্ষা বাকি রয়েছে। পরীক্ষা শেষ হলেই মুক্তি! ভার্সিটিতে ভর্তি হবে! স্কুল-কলেজের চিরাচরিত শাসন নিয়মের বেড়াজাল থেকে মুক্তির মৃদু বাতাস সে কিছুটা টের পাচ্ছে, তার ওপর সুদূর আমেরিকা থেকে দীর্ঘ দুই বছর পর ছোটবেলার বড়দি-কাম বান্ধবী দেশে এসেছে। পরীক্ষাটা যেন শেষই হচ্ছে না। অবশ্য এর মধ্যে তাদের দুজনের দেখা হয়েছে। অর্থী তার মা-বাবা-ভাইয়ের সাথে ইলাদের বাড়িতে এসে ঘুরে গেছে ঢাকায় আসার এক দিন পরই। অবশ্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় নিয়মিত।

মোবাইল ফোনে এখন নানারকম সুবিধা, ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে তো কথাই নেই! ঘরে বসেই বিশ্ব জয় করা যায় নিমিষেই! কী নেই এতে, মনে শুধু প্রশ্ন উদয় হওয়া মাত্রই নেটে গুগল দাদুকে প্রশ্ন করলেই উত্তর হাজির! এ যেন ডিজিটাল চেরাগ! গল্পের আলাদীনের সেই দৈত্যের বাস্তব রূপ দিয়েছে বিজ্ঞান! মন চাইলেই ছবি তোলা, লোকেশন ফাইন্ড করা, প্রিয় মানুষের সাথে অডিও-ভিডিওতে কথা বলা! ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব! শান্তি শান্তি! ঘরের কোণে বসে স্পেস ভ্রমণের আনন্দ দেয় আধুনিক বিজ্ঞান। এসব কথা মনে হলেই ইলার মন খুব খারাপ হয়ে যায় নিমেষেই, বন্ধু বান্ধবীদের অনেকের ফেসবুক-টুইটার-ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট আছে, তারা চাইলেই হলিউড, বলিউডের সেলিব্রেটিদের খবর নিতে পারে যখন-তখন, কিন্তু ইলাকে নির্ভর করতে হয় বান্ধবীদের ওপর। মাঝে মাঝে ইলা ইন্টারনেট ডাটা কিনে দেয় বান্ধবী শামসিয়ার মোবাইলে, যাতে সেও তার তথ্য সুবিধা নিতে পারে, কিন্তু এতে মাঝে মাঝে ইলা হীনম্মন্যতায় ভোগে। কী নেই ইলাদের! নিজেদের গাড়িতে কলেজে যায়, ঢাকা শহরে বিশাল বাড়ি! বাবা যে কেন বোঝেন না! মা ইলার বিষয়টা বোঝেন নিরাপত্তার কথা ভেবে। মেয়ে বড় হচ্ছে, টিভি-পত্রিকায় নানা ধরনের ঘটনা-দুর্ঘটনার খবর তাকে ভাবায়। ইলার বাবা আধুনিক মানুষ হলেও ভার্সিটিতে ভর্তির আগে মেয়েকে মোবাইল ফোন কিনে দেবেন না বলেই গত বছর পর্যন্ত কোনো মোবাইল ফোন কিনে দেননি, যদিও ইলা কলেজে ভর্তির প্রথম দিন থেকেই মোবাইল ফোনের বায়না ধরে এসেছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। প্রয়োজনে বাবা-মার মোবাইল ফোন অথবা বাসার ল্যান্ড ফোন ব্যবহার করতে পারে ইলা। এই নিয়ে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারটা খুব অতিষ্ঠ করেছে ইলা তার মা-বাবাকে, অবশেষে মিসেস মিত্রের যৌক্তিক আখ্যানকে উপেক্ষা করতে পারেননি সিনিয়র মিত্র! মেয়ের হাতে মোবাইল তুলে দিলেন, কিন্তু যেনতেন মোবাইল হলে চলবে না, লেটেস্ট মডেল হতে হবে! বান্ধবীদের অনেকেই অনেক আগে থেকে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে, তাদের সমসাময়িক তো হতে হবে! অবশেষে ইলা পেলো Samsung J5 মডেলের এনন্ড্রয়েড সেল ফোন! বাবার সাথে নিজেই মোতালেব প্লাজায় গিয়ে মডেল পছন্দ করে তার পর ক্ষান্ত! কোনো মোবাইল কেনা যায় সে বিষয়ে অবশ্য পূর্বেই সিনিয়র মোবাইল ইউজার বন্ধু-বান্ধবীর সাথেও ইলা কথা বলেছে এবং তাদের মোবাইল থেকে ক্লাসের ফাঁকে, টিফিন টাইমে, কোচিংয়ের ফাঁকে ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি করেই ওই মোবাইলের প্রতি সে উষ্ণতা অনুভব করেছে। যাক, শেষ পর্যন্ত মোবাইল হলো! নিজের মোবাইল!

বাবন্ধী তৃষার বাবা টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার। সেই সুবাদে ইন্টারনেটে হাতেখড়ি বাবার হাতেই। বান্ধবীদের মোবাইলের প্রবলেম সলভ করার নির্ভরযোগ্য সার্ভিসটা সেই দিয়ে আসছে অনেক দিন ধরে। এতে সে মনে মনে কিছুটা গর্ব বোধ করে, কিন্তু প্রকাশ না করলেও বান্ধবীরা তকে তুষ্ট করতে কার্পণ্য করে না কখনো। যেমন- ক্লাস রুটিন চেঞ্জ হলে বা কলেজে নতুন কোনো আইন জারি হলে তাকে নিজে থেকেই জানানো কিংবা ক্লাসে ভালো বসার জায়গাটা তৃষার জন্য বরাদ্দ রাখা বান্ধবীরা নিজ গরজেই করে! কেননা তাতে অন্তত মোবাইলের সার্ভিসটা ভালো পাওয়া যাবে! তৃষাই ইলাকে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দেয় একটি জি-মেইল দিয়ে এবং ফেসবুক ব্যবহারের ছোটখাটো বিষয়, যেমন- ছবি/ভিডিও আপলোড, ডাউনলোড, এডিট, ট্রলিং, ফেসবুক লাইভে কথা বলা, গ্রুপ চ্যাটে অংশ নেওয়া, চ্যাটিং, ট্যাগ করাসহ এর পাসওয়ার্ড কীভাবে চেঞ্জ করতে হয় তাও শিখিয়ে দেয়। শুরু হলো ইলা মিত্রের ডিজিটাল অধ্যায়! তার ফেসবুক নাম- “ELA MITRA”!

এইচএসসি পরীক্ষা শেষ! ভার্সিটি ভর্তি যুদ্ধ শুরুর আগে হাতে কিছুদিন সময় পাওয়া যাবে টো টো কম্পানির ম্যনেজারি করার! যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কাকাতো বোন অর্থীর সাথে ঘোরাঘুরির বিষয়টা স্পেশাল, কারণ সে অনেক দিন দেশে না থাকায় ঢাকা শহরের যে পরিবর্তনগুলো হয়েছে সেগুলো তাকে দেখানো, কাছাকাছি নতুন নতুন জায়গায় বেড়ানো- খাওয়া-দাওয়া, আর স্বপ্নের দেশ আমেরিকার গল্পে গল্পে নিজেকে সমৃদ্ধ করার বাসনা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে! অবশ্য এর মধ্যে তারা দুজন রবীন্দ্রসরোবর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ এবং এর আন্ডারগ্রাউন্ডে স্বাধীনতা জাদুঘর, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মডেল দেখে এসেছে। যে সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস মননে গেঁথে চিত্তে লালন করার কথা, অর্থী ঠিক সেই সময়টাতেই দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে বাবা-মার সাথে, তাই বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য অর্থীকে আরো আবেগী করে তোলে এবং এবারের বিজয় দিবসে সে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের আত্মার প্রতি সম্মান জানাবে বলে প্রস্তাব দেয় ইলাকে। ইলা সেই সুবাদে ব্রিটিশ ভারতে স্বদেশি আন্দোলনের সাথে তার বাবার ঠাকুরদার সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে তার নাম ইলা মিত্র রাখার কাহিনি অর্থীকে শোনায়। পরিবেশ ভারী হয়ে গেলে অর্থীকে স্বাভাবিক করার জন্য ইলা বলে যে, দিদি চলো স্টার কাবাবে যাই, আজ বিকেলটা অন্য রকম করে কাটাই। তোমার সাথে আমার একটা ফেভারিট মেন্যু শেয়ার করব। অর্থী চিন্তার গভীর থেকে যেন সংবিৎ ফিরে পেয়ে মুচকি হেসে ইলাকে সমর্থন করল।

বিকেল অনুমান সাড়ে ৪টার দিকে তারা দুজন বের হলো, উদ্দেশ্য ধানমন্ডি স্টার কাবাব। রাস্তাঘাটের ঝামেলা এড়াতে মা গাড়ি নিয়ে যেতে বললে অর্থী আপত্তি করে বলল, কাকিমা, সব সময় তো গাড়ি নিয়েই যাই, আজ একটু রিকশায় ঘুরব!

কাকিমা আপত্তি করল না। অর্থী ও ইলা বেরিয়ে পড়ল ধানমন্ডি স্টার কাবাবের উদ্দেশ্যে। বাড়ি থেকে বের হয়ে মনেশ্বর রোডে পা দিলেই রিকশা! এই না হলো ঢাকা শহর, রিকশার নগরী ঢাকা!

আপা যাবেন?

উঠতি বয়সের দুজন পরিপাটি মেয়েকে দেখে যুবক রিকশাচালকের যাত্রী ডাকার ভঙ্গি ওদের পছন্দ হলো না। তারা চুপচাপ ধীরে হাঁটা শুরু করলে একটু পরে এক বয়স্ক রিকশাচালককে দেখে তার রিকশা ঠিক করে স্টার কাবাবের দিকে রওনা দিল। রিকশায় উঠে তারা নিজেদের মধ্যে নিচু গলায় কথা বলতে বলতে এবং রাস্তার দুই ধারে ফুটপাথে হরেক রকম দোকানির পসরা সাজিয়ে বসা, রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার দৃশ্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে গন্তব্যে পৌঁছল। ভাড়া মিটিয়ে তারা স্টার কাবাবের দোতলায় রাস্তার ধারে জানালার পাশে বসল, যাতে বাইরের দৃশ্যও দেখা যায়। মেন্যু অর্ডার করতে গিয়ে ইলা অনুভব করল তার মোবাইলটি নেই। সে দ্রুত তার হাতব্যাগে তালাশ করে হতাশ হলো। ইলার অস্থিরতা দেখে অর্থী জিজ্ঞেস করতেই অর্থীও তার হাতব্যাগ চেক করল। না, সেখানেও নেই। উৎকণ্ঠা আরো বেড়ে গেল। ইলা মনে করতে পারছে না, মোবাইলটি সে সর্বশেষ কোথায় ব্যবহার করেছে, বাসায় না রিকশায়! সে দু’চোখ বন্ধ করে স্মৃতিচারণা করতে লগল। অন্যদিকে অর্থী বাসায় ফোন দিয়ে কাকিকে ইলার রুমে মোবাইলটি খুঁজতে বলল। কিন্তু কোথাও পাওয়া গেল না। ইলা এটুকু মনে করতে পেরেছে যে, সে মোবাইলটি বাসায় ছেড়ে আসেনি, তার হাতেই ছিল। তারপর রিকশায় উঠে… হাতব্যাগে… এরপর আর মনে নেই। হাতব্যাগ বলতে যা বোঝায় সেটি তত বড়ও না, মেয়েদের হ্যান্ড পার্টস, কিন্তু এটির সাথে সৌন্দর্যের ফিতা লাগানো, যা ইলা গলায় ঝুলিয়ে বাম পাশে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত এবং আজও তাই করেছিল। ইলা লক্ষ্য করল তার হ্যান্ড পার্সের টিপ বোতাম খোলা, তার মানে সে মোবাইলটি ব্যগেই রেখেছিল কিন্তু বোতাম লাগায়নি। তাহলে কি মোবাইলটি অসাবধানতাবশত রিকশা দিয়ে আসার সময় পড়ে গেছে! ঘটনার শুরু এখানেই, দিনটি ছিল জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ- বৃহস্পতিবার!

ইলা নিয়মিত ভার্সিটি ভর্তি কোচিং করছে। নভেম্বরে ভর্তি পরীক্ষা। তার ইচ্ছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ নিয়ে পড়াশোনা করার। এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট ভালোই হবে আশা করছে। পড়াশোনার ফাঁকে অর্থী, কলেজের বান্ধবী এবং কোচিংয়ের নতুন বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে তার আড্ডা, ঘোরাঘুরি সবই চলছিল ঠিকমতো, কিন্তু কোথায় যেন ইলার গভীর এক অস্বস্তি হৃদয় কোণে বেদনার নীল ছড়াচ্ছে! সব কিছুর মাঝে এক অজানা শঙ্কা তাকে ভেতরে ভেতরে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। কিন্তু কাউকে সে বুঝতে দিচ্ছে না। কোনো কিছুতে তার মন বসছে না। কোচিং, বাসা, বন্ধুদের আড্ডা-  কোথাও না। কিন্তু কী এমন ঘটেছে যে চঞ্চল প্রাণবন্ত সজীব প্রস্ফুটোন্মুখ একটা জীবনকে নির্জীব, হতাশ করে ফেলছে!

ঘটনা শোনার পর অর্থীরও মন খারাপ, শঙ্কায়, উৎকণ্ঠায়! যদি কেউ ইলার হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি নিয়ে ঘেটে দেখে আর ওই সব ব্যক্তিগত ছবি দেখতে পায় বা তা দিয়ে জঘন্য কিছু করে ফেলে! ইলা একমাত্র তার সমবয়সি অর্থীকেই নিরাপদ মনে করছে ঘটনা বলার জন্য। মা-বাবা জানে মোবাইল হারিয়ে গেছে, তা যেতেই পারে। এই ভেবে বাবা আবার নতুন মোবাইল কিনে দিয়েছেন, হারানো সিম কার্ড উঠিয়ে রিপ্লেস করে দিয়েছেন। কিন্তু ওই মোবাইলের মেমোরিতে থাকা অরক্ষিত তথ্যভান্ডারের গোপন ইতিহাস তো সবার অজানা। অবশেষে আশঙ্কাই সত্যি হলো।

একদিন রাতের খাওয়া শেষে ইলা সোফায় বসে মোবাইলে নিজের ফেসবুক ব্রাউজ করছিল। হঠাৎ Rajib Hassan নামের এক ফেসবুক ইউজার ইলাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাল। শতাধিক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট জমে আছে, দেখার সময় নেই, মনও নেই ইলার। একদিকে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, অন্যদিকে হারানো মোবাইলের অরক্ষিত তথ্য! কিন্তু Rajib Hassan নামক ফেসবুক ইউজার তাকে মেসেঞ্জারেও নক করছে, সে নোটিফিকেশন পাচ্ছে। কিন্তু রাজিব হাসান নামের কাউকে সে মনে করতে পারছে না। তখন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যালাউ করলে Rajib Hassan নামক ফেসবুক ইউজারের সাথে ইলার মেসেঞ্জার চ্যাটিং শুরু হয়-

Rajib Hassan: হ্যালো, কেমন আছেন?

Ela Mitra: আপনাকে চিনতে পারছি না, কে বলবেন প্লিজ?

Rajib Hassan : আপনি আমাকে চিনবেন না, আর আমিও আপনাকে চিনি না, তবে আপনার এমন কিছু ছবি আমার হাতে এসেছে যাতে আপনাকে আমার মতো আর কেউ চিনতে পারেনি!

ইলা কিংকর্তব্যবিমূঢ়! তার সুন্দর পৃথিবী এখন বিভীষিকার নীল বিষে আচ্ছন্ন হওয়ার উপক্রম! কী হবে এখন! সে টিভি রুম থেকে আড় চোখে বাবা-মার অবস্থান দেখে নিয়ে নিজের রুমে এলো। মনের অস্থিরতাকে সামলিয়ে ইলা স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করল এবং মেসেঞ্জারে স্বাভাবিক অথচ কৌশলী আচরণে নিজের সম্ভ্রম রক্ষার চেষ্টায় মার্জিত আচরণ দিয়ে ওই পাশের অজানা ব্যক্তিকে সামলে চলতে থাকল। এভাবে অজানা Rajib Hassan ফেসবুক ইউজারকারীর নিত্যদিনের যখন-তখন মেসেজে ইলার এখন ত্রাহী দশা! অবশেষে Rajib Hassan-কে ব্লক করতে বাধ্য হলো।

কিন্তু Rajib Hassan আবির্ভূত হয় নতুন রূপে, তার নতুন ফেসবুক আইডি Farabi Hosain। এবার Farabi Hosain ফেসবুক আইডি থেকেও মেসেজ আসতে থাকে, তবে কিঞ্চিৎ অশ্লীল আঙ্গিকে। ইলা এই আগন্তুকের কাছ থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু মুক্তি কি এত সহজ! আগন্তুকের চাওয়া একটাই, তার সাথে বন্ধু হিসেবে চ্যাট করতে হবে, অন্যথায় ইলার শরীরের গোপন নকশা ইন্টারনেটে ভাইরাল হবে! অনিচ্ছাসত্ত্বেও ইলা কী খেয়েছ? কী করছ? কী পরেছ? ঘুমাও কখন? জাগো কখন? কেমনে তুললা ওই সব ছবি? তোমার কি বয়ফ্রেন্ড আছে? এটা কয় নম্বর বয়ফ্রেন্ড? ইত্যাকার বীভৎস প্রশ্নব্যাংকের আবশ্যিক উত্তরদাতা হিসেবে নিজেই এখন নিজের ত্রাতার ভূমিকায়।

আর কত! যা হওয়ার হবে, তবু আর না! অবিরাম মনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে চোখের নিচে কালি জমে যাচ্ছে। মা-বাবা ভাবেন ভর্তি পরীক্ষার জন্য মেয়ে রাত জেগে পড়ছে, তাই শরীরের ওপর একটু চাপ, ভর্তি শেষে পুষিয়ে নেবে! কিন্তু ইলা ভাবে, মুক্তি কত দূর!

অবশেষে সব শঙ্কাকে তুচ্ছ করে আবারও ব্লক করে দেয় আগন্তুক Farabi Hosain-কে। কিন্তু সে তো নাছোড়বান্দা! ইলার হারানো মোবাইলের মেমোরিতে থাকা ইলার কলেজের ড্রেস পরা ছবি, কলেজের ফলকের ছবি দেখে যে কেউ চিনবে সে কোনো কলেজের ছাত্রী!

সার্বিক তথ্য-উপাত্ত গবেষণা শেষে আগন্তুক আবারও একটি ফেইক ফেসবুক আইডি খুলল। নাম Kabbo Kobita এবং যথারীতি ইলাকে নক করল এবং ইলা তাকে যুক্ত করতে বাধ্যও হলো। Kabbo Kobita রূপী সেই পুরনো শকুন এবার তার আসল রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটাল! ইলার হারানো মোবাইলের মেমোরিতে তার নিজের সেলফি মুডে তোলা ব্যক্তিগত অথচ জামাকাপড় বিহীন অশ্লীল (ন্যুড) ছবি ছিল, যা সে নিজের ঘরে বসে-শুয়ে-দাঁড়িয়ে তুলেছিল, আগন্তুক সেই ছবিগুলোকে পুঁজি করে ইলাকে সেই ছবি ইনবক্স করে হুমকি দিয়ে বলল, এবার যদি তাকে ব্লক করা হয় তবে এই ছবিগুলো তার কলেজের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার আকারে সাঁটিয়ে দেয়া হবে!

ভর্তি পরীক্ষা বাদ দিয়ে ইলার কাজ এখন একটাই, অদৃশ্য প্রাণসংহারী দেবতাকে তুষ্ট করা! কিন্তু ইলা এটাও ভাবে কী দোষ করেছিল সে! নিজের ছবি নিজেই তুলেছিল, এই তো! ইলা কখনো বন্ধু, কখনো বড় ভাই, কখনো সম্বোধনবিহীন কাল্পনিক প্রেমের অভিনয় করে নিজেকে সরা জ্ঞান করে আগন্তুকের কাছে থাকা তার ওই সব ছবি ডিলেট করার বিষয়ে নিশ্চিত হতে চায়। আগন্তুক এই বলে যে ডিলেট করেছে, আর কোনো প্রবলেম নাই আবার দুই দিন পরেই বলে ডিলেট করেনি!

হঠাৎ আগন্তুককে নীরব দেখে ইলা ভাবে ভগবান তার সুমতি দিয়েছেন! প্রায় পক্ষকাল নীরব দেখে ইলার মনে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করল। মনে মনে ভাবল এবার বুঝি মুক্তি! কিন্তু গুনে গুনে ১৮ দিন পর শুরু হলো চূড়ান্ত তা-ব এবং একই সাথে প্রতারণাপূর্বক অর্থনৈতিক শোষণ! বিষয়বস্তু একই, সেই সেলফি মুডে তোলা নিজের কিছু ব্যক্তিগত ছবি, যা মোবাইল হারানোর সাথে সাথেই তার জীবনকে নরকের জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে তাকে নিক্ষিপ্ত করেছে!

নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে Kabbo Kobita নামক ফেইক ফেসবুক আইডি আবারও সজাগ হলো! ইলা মিত্রকে এবার রাখঢাক ছাড়াই টেক্সট করল-

Kabbo Kobita : ১০ হাজার টাকা পাঠাও! দরকার আছে।

Ela Mitra : কেন, কীসের টাকা?

Kabbo Kobita : বেশি কথা বলার সময় নেই, টাকা দিলে দাও, নইলে…

Ela Mitra : নইলে কী?

Kabbo Kobita : নইলে… তোমার ওই ছবিগুলো শুধু আমিই দেখব না, তোমার বাবা-মা, আত্মীয় সবাইকে ইনবক্স করব এবং ইন্টারনেটে ভাইরাল করব! সময় এখন থেকে দুই ঘণ্টা!

Ela Mitra : তুমি না আমায় বন্ধু ভাবো! আর ওই ছবিগুলো না তুমি ডিলেট করেছ বলেছিলে!

Kabbo Kobita : ও… তোমাকে তো বলাই হয়নি! আমি তোমার আগের সেই বয়ফ্রেন্ড নই! আমার এত প্রেম করার সময় নেই! আমার দরকার টাকা। তাই আইডিটা আমি হ্যাক করে নিজের কন্ট্রোলে নিয়েছি। আমার এখন ১০ হাজার টাকা দরকার। টাকা পাঠাও, নয়তো ভাইরাল হও!

নিরুপায় ইলা! নিজের টিফিন থেকে বাঁচানো, মায়ের দেয়া হাত খরচ থেকে বাঁচানো, পুরাতন বইয়ের ভাঁজে রাখা শখের জমানো কিছু নতুন টাকা একত্রে সাকুল্যে পাঁচ হাজার মাত্র! অবশিষ্ট পাঁচ হাজার কে দেবে তাকে! ইলা Kabbo Kobita-কে টেক্সট করে জানালো তার এই অবস্থার কথা! আগন্তুক অনেক দয়ার পরিচয় দিলো বটে! বলল ঠিক আছে আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যেই অবশিষ্ট পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। অন্যথায়… ভাইরাল হওয়ার জন্য প্রস্তুত থেকো! ইলা একটা বিকাশ নম্বর পেল নতুন এই হ্যাকারের কাছ থেকে এবং পাঁচ হাজার টাকা বিকাশ করল। আপাত মুক্তির স্বাদ যেন তার চোখে পরম তৃপ্তি দিল! ক্লান্ত ইলার মনে হলো সে অনেক দিন ঘুমায়নি, ঘুমিয়ে পড়ল অসময়ে। মা ভাবেন মেয়েটা পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে, একটু ঘুমাক!

ক্রমাগত মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপে ইলা দিশেহারা। মার কাছে মিথ্যা বলে, বাবার কাছে মিথ্যা আবদার করে, বান্ধবীদের কাছে ধার করে আর এক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উপক্রম! ইলার এই অবস্থা দেখে অর্থী বিষয়টি কাকিমার সাথে শেয়ার করল। তত দিনে ইলার দিকে তাকানোর জো নেই! ঘটনা শোনার পর মা-মেয়েতে নীরব অশ্রু বিসর্জন শেষে বাবাকে জানানো হলো। তিনি অনেক বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে আর একমুহূর্ত দেরি না করে স্থানীয় থানায় রিপোর্ট করলে ওসি সাহেব দ্রুত তাদেরকে পাঠিয়ে দেন সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনে।

বাংলাদেশে সাইবার সংক্রান্ত অপরাধ ঘটলেও লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে মুখ খোলেন না বা অনেকে জানেন না কোথায় গেলে এর সম্মানজনক ও দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে। ফলে অনেকেই মুখ বুজে শোষিত হয় দিনের পর দিন, কেউ বা পরিবারের মানসম্মানের কথা ভেবে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। তবে এখন দিন পাল্টাচ্ছে, শিক্ষা মানুষের সাহস বাড়ায়, তাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী করে। অন্যায় সহ্য করে মুখ বুজে নিজের ক্ষয়ে যাওয়া নয় বরং সময়মতো আইনের আশ্রয় নেওয়াই নিরাপদ, বাবা ইলাকে সেই পরামর্শ দেন।

সাইবার হেল্পডেস্কে কর্মরত পুলিশ অফিসার ভিকটিম ইলার নিকট থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন এবং থানায় এন্ট্রিকৃত জিডির কপিসহ একটি সাইবার অভিযোগ গ্রহণ করেন। একজন অফিসারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে স্বল্পতম সময়ে সাইবার পুলিশ ফেসবুক আইডি Rajib Hassan, Farabi Hosain, Kabbo Kobita-র ব্যবহারকারীদের প্রকৃত পরিচয় উদ্ঘাটন করে দুজন অপরাধীকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের নিকট থেকে ভিকটিম ইলার হারিয়ে যাওয়া মোবাইল, মেমোরি কার্ড ও সিম কার্ড উদ্ধার করেন। পরে বরিশাল থেকে হ্যাকারকে গ্রেপ্তার করে তার কাছে থাকা ভিকটিমের সব অশ্লীল ছবিসহ ডিজিটাল আলামত মোবাইল ও ল্যাপটপ জব্দ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনেন। সামাজিকভাবে অপদস্থ হওয়া থেকে বেঁচে যায় তারুণ্যে পদার্পণকারী কিশোরী, হয়তো বা মৃত্যুর হাত থেকেও।

মুক্তি মিলল বটে! কেউ অসতর্কতা বা কাঁচা বুদ্ধি হেতু অপমান থেকে, দুর্বিষহ অবস্থা থেকে, আবার কেউ কৃত অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে কারাগারে আটক থেকে। 

লেখক : পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)

হারাগাছ থানা, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, রংপুর।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *