ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

শাওন শায়লা পিপিএম

‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার’ এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতি থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের পৃথকভাবে সহায়তার জন্য চালু হয়েছে সার্ভিস ডেস্ক। ৬৫৯টি থানায় স্থাপিত নারী ও শিশু সহায়তা এই হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে মিলছে নানা পুলিশি সেবা। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মামলা শূন্যের কোঠায় আনতে এবং আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে সারা দেশের ৬৫৯টি

থানায় নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক চালু হয়েছে। আর পুলিশি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে থানায় থানায় কাজ করছে তরুণ স্বেচ্ছাসেবক দল।

এই সার্ভিস ডেস্ক থেকে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা সহজে আইনি সহায়তা পাবে। প্রতিটি ডেস্কে কমপক্ষে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। মেট্রো এবং সদর

থানার ক্ষেত্রে নারী, বয়স্ক, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের সেবা দেওয়ার হেল্প ডেস্কে একজন নারী এসআই, একজন নারী এএসআই ও তিনজন নারী কনস্টেবল দায়িত্বপালন করছেন। অন্যান্য থানার ক্ষেত্রে নারী, বয়স্ক, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের সেবা দেওয়ার জন্য হেল্প ডেস্কে একজন নারী এসআই, একজন নারী এএসআই ও দুজন নারী কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের অনেক নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন। তাঁরা পারিবারিক, সামাজিক ও এমনকি নিজ কর্মক্ষেত্রেও নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন। অনেক সময় নারীরা তাঁদের ব্যক্তিগত অনেক বিষয় নিয়ে অভিযোগ করতে থানায় আসেন। সেখানে পুরুষ পুলিশ সদস্যরা অভিযোগ নেওয়ার দায়িত্বে থাকায় নারীরা তাঁর নির্যাতনের বিষয়টি খুলে বলতে অনেক ক্ষেত্রেই লজ্জা পান। ফলে মামলা লেখার ক্ষেত্রেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ে যায়। পুরুষ পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে গিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। যেহেতু তাদের সেবা দিতে আলাদাভাবে কথা বলার প্রয়োজন হয়, ডেস্কটি এমনভাবে সাজানো যাতে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা সহজেই তাদের অভিযোগের বিষয়ে মন খুলে কথা বলতে পারে। ফলে নতুন যে ডেস্ক চালু হয়েছে, তাতে নারীদের বিশেষ সুবিধা হচ্ছে।

যেহেতু আলাদা কক্ষে এই ডেস্ক করা হয়েছে এবং নারী পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগকারী নারীরা তাঁদের সব কথা বিস্তারিত জানাতে পারছেন। এর মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয়াদি নিয়ে করা অভিযোগগুলো কাউন্সেলিং করে উভয় পক্ষের সমঝোতায় নিষ্পত্তি হচ্ছে। অন্যদিকে, সমঝোতা হলেও অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন অভিযোগ সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হচ্ছে। আর নারী ও শিশু ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির মতো আপস বা নিষ্পত্তির অযোগ্য অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে মামলা করা হচ্ছে। নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক স্থাপিত হওয়ায় থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে হয়রানি কমেছে। গুরুতর অভিযোগ ছাড়া বেশির ভাগ পারিবারিক বিরোধ মামলা ছাড়াই সন্তোষজনক নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে।

হেল্প ডেস্কে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুসহ তাদের স্বজনেরা পুলিশি সেবা বা প্রতিকারের জন্য অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগগুলো শোনার পর তা ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নারী সহিংসতার শিকার হয়ে হতাশাগ্রস্ত নারীদের ব্যক্তিগত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে করে তাঁরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। এছাড়া, সহিংসতার শিকার নারীরা অভিযোগ করার পর ওই নারী যদি মামলা করতে চান, তাহলে তা মামলা হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। এরপর মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, শতভাগ গোপনীয়তা রক্ষা করে নির্যাতিত নারী ও শিশুকে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে আইনি সেবা গ্রহণ করার প্রচারাভিযান চালাতে পুলিশের পক্ষ থেকে কমিউনিটিভিত্তিক সচেতনতামূলক সমাবেশ করা হচ্ছে। এছাড়া নারী ও শিশুদের প্রতি যে কোনো ধরনের সহিংসতার ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে জনগণ যে কোনো সময় (২৪/৭) পুলিশের সহায়তা পেতে ৯৯৯ নম্বরে কল করছেন। আগত সেবা প্রার্থী অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানি/সাইবার ক্রাইমের শিকার হলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখা থেকে দেওয়া সেবা Police Cyber Support For women সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে এবং হেল্পলাইন নাম্বার : ০১৩২০০০০৮৮, ফেসবুক লিংক m.facebook.com/PCSW/PHQ এবং Email:cybersupport.woman@police.gov.bd প্রদানপূর্বক অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ধর্ষণ, যৌন হয়রানির শিকার নারীদের মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কর্মজীবী নারীদের কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে ২০০৯ সালে মাননীয় হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত Complain Committee’র বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে।

সার্ভিস ডেস্ক কর্মকর্তা সেবা প্রার্থীর সমস্যা যথাযথভাবে অনুধাবন করে নিজস্ব অধিক্ষেত্রের বাইরে সেবা গ্রহণের (যেমন : চিকিৎসা সেবা, মানসিক সেবা, সরকারি ও বেসরকারী শেল্টার/সেফ হোম, আইনি সেবা ইত্যাদি) প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সহযোগিতা করছেন। ডেস্ক অফিসার রুজুকৃত মামলা অথবা জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে সমন্বয়করণ, যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো নিশ্চিত করে মামলা তদন্ত পর্যায়ে ভিক্টিম/বাদির সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন এবং বিবাদী কর্তৃক ভয়-ভীতি, মানসিক চাপ প্রয়োগ অথবা কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়/সমস্যা পরিলক্ষিত হলে তা তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করছেন। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ন্যায় বিচারের পথ সুগম করছেন।

নারী শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক থেকে জরুরি সেবা পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে বাংলাদেশ পুলিশ একযোগে কাজ করছে, তারই ধারাবাহিকতায় দেশের ৬৫৯টি থানা এই সেবা অব্যাহত রাখবে, যাতে কেউ পুলিশ-এর সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। জনগণ যাতে সঠিক সেবা পায়, বাংলাদেশ পুলিশ সেই লক্ষ্যে অবিরত কাজ করে চলেছে।

লেখক : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শেষে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *