ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম পিপিএম

বর্তমান সময়ে মোবাইল নম্বর আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের মোবাইল ফোন নম্বর লিংক করা থাকে। তাই মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোন হয়ে গেলে সবকিছু বিপদের মুখে পড়ে যেতে পারে। কাজেই প্রথমেই জেনে নেওয়া দরকার মোবাইল নম্বর ক্লোনিং মানে কি?

সিম ক্লোনিং কি?

সিম নম্বর ক্লোনিং-এর সোজা অর্থ হলো একটি নাম্বারের অনুরূপ আরেকটি নম্বর তৈরি করা। এর মানে হলো একই নম্বরের দুটি সিম নম্বর হবে। সাধারণত একটি সিম-এর নম্বর কপি করে যদি অন্য কেউ নতুন সিম বানিয়ে ব্যবহার করে থাকে, তাকে সিম ক্লোনিং বলে। অর্থাৎ একই নম্বর দুজন ব্যবহার করে থাকে। এক্ষেত্রে সিমের আসল মালিক এবং ক্লোনকারী উভয়ের হাতে একই ফোন নম্বর সম্বলিত সিম থাকে। কাজেই যে সিমটি আপনি ব্যবহার করছেন, সেই সিমটি যদি অন্য কেউ ব্যবহার করে কিংবা এক নম্বর যদি দেখেন একসঙ্গে দুজন ব্যবহার করে কিংবা হঠাৎ যদি দেখেন আপনার সেল ফোনের কানেকশান নম্বর থেকে ব্যালেন্স কোনো কারণ ছাড়া কমে যাচ্ছে, তবে বুঝবেন যে আপনি সিম ক্লোনের শিকার।

মোবাইল নম্বর ক্লোনিং দু’রকমের হয়। প্রথম প্রকারে ক্লোনিং-এর সাহায্যে আপনার নাম্বারটি পোর্ট করে নেওয়া হয়। প্রত্যেক সিমে একটি করে পোর্ট আইডি থাকে। এই পোর্ট আইডিকে জেনারেট করে আপনার সিমটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আপনি যখন দেখবেন যে, আপনার সিমটি বন্ধ হয়ে গেছে তখন আপনি যদি অন্য কোনো নম্বর থেকে আপনার নম্বরে ফোন করেন আর যদি দেখেন রিং হয়, তাহলে বুঝবেন আপনার নম্বর ক্লোনিং-এর শিকার হয়েছে।

দ্বিতীয় ধরনের ক্লোনিং বলতে বোঝায় সফটওয়্যারের সাহায্যে কোনো অসৎ ব্যক্তি আপনার নম্বরটি হুবহু কপি করে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।

কিভাবে সিম ক্লোনের শিকার হয়?

* আপনি যদি অপরিচিত কোনো নম্বর থেকে মিসড কল পান এবং সেটাতে যদি কল ব্যাক করেন তবে আপনি সিম ক্লোনিং এর শিকারে পরিণত হতে পারেন।

* দুষ্কৃতকারীরা বিশেষ একটি সফট্ওয়্যার-এর মাধ্যমে আপনার নম্বরটি ক্লোনিং করে। অর্থাৎ আপনি যখন মিসড কল নম্বরে কল ব্যাক করবেন তখন একটি সফটওয়্যার-এর মাধ্যমে আপনার নম্বরটি ক্লোন হতে পারে।

মনে রাখবেন যে, সিম ক্লোনিং হলে আপনার সিমে রাখা ডাটা ক্লোন নম্বরে চলে যাবে এবং আপনার প্রাইভেসি ক্ষুণ্ন হবে।

মোবাইল নম্বর ক্লোনিং হলে বুঝবেন কীভাবে?

* আপনার নম্বরটি ক্লোন হলে আপনার ফোনে অচেনা নম্বর থেকে কল আসতে থাকবে।

* আপনার নম্বরে ফোন এলে ফোনটি রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গেই কলটি কেটে যাবে।

* আপনি কোনো নম্বরে ফোন করলে অনেক রকম সমস্যা তৈরি হবে।

* ইনকামিং কলে ব্যস্ত সিগন্যাল আসবে।

* আপনার ফোনের বিল সাধারণের থেকে বেশি আসবে।

* ভয়েস কল করার সময় নানারকম সমস্যা দেখা দেবে।

* কারণ ছাড়াই আপনার ফোন মাঝে মধ্যে গরম হয়ে যাবে।

* ফোনের চার্জ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে।

সিম ক্লোনিং কে বা কারা করে?

সাধারণত জঙ্গি কিংবা দুষ্কৃতকারীরা আপনার নাম্বারটি ব্যবহার করে জীবন বিপন্ন করতে পারে। অর্থাৎ ওই নম্বর দিয়ে কেউ কাউকে মৃত্যুর হুমকি, চাঁদাবাজি কিংবা জঙ্গি কানেকশন করলে আপাত দায়ভার আপনার উপর বর্তাবে। কাজেই আপনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধৃত হবেন। পরবর্তীতে আরও নানাবিধ সমস্যায় পড়তে পারেন।

মোবাইল নম্বর ক্লোনিং-এর ফলে কি হয়?

আপনার ফোনের নম্বরটি ক্লোনিং হলে তার মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ, প্রতারণা, হুমকি, ব্ল্যাকমেইল এসব অসৎ কাজকর্ম ঘটতে পারে। যখন কোন হ্যাকার আপনার ফোনটিকে ক্লোন করে তখন ওই হ্যাকার আপনার ফোনের ভয়েসকল, পার্সোনাল তথ্য, ছবি, গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ইত্যাদি সংগ্রহ করতে পারে। আপনার ফোনটি ক্লোন করা হলে আপনার নম্বরটি পরিবর্তন না করে অপারেটর পরিবর্তন করে কাউকে কল করা যায়, যার কাছে আপনার নম্বর থেকে ফোন যাবে সে কোনোভাবেই বুঝতে পারবে না ফোনটা আপনি করেননি অন্য কেউ ক্লোন করে করেছে। তাই আপনার নাম্বারটি ক্লোন হলে বিভিন্ন রকমের অপরাধমূলক কাজকর্ম ঘটতে পারে।

মোবাইল নাম্বার ক্লোনিং হলে কি করবেন?

আপনার মোবাইল নম্বর ক্লোন হলে যা যা করণীয় তা হলো-

i)    অপরিচিত নাম্বার থেকে মিসড কল এলে আপনি কল ব্যাক করার আগে ভালো করে চিহ্নিত করার চেষ্টা করুন যে, এটি কার নম্বর। অথবা কল ব্যাক করা বন্ধ করুন।

ii)   মনে রাখবেন সিম ক্লোনিং হতে হলে মিসড কল আসবে। ডাইরেক্ট রিং হলে সেটি রিসিভ করলে আপনি সিম ক্লোনিং এর শিকার হবেন না। মিসড কল এলেই সতর্ক হন।

iii)  +92 (Pakistan) বা এরকম ইন্টারন্যাশনাল মিসড কল এলে রিপ্লাই দেবেন না।

iv)  আপনার সেল ফোনটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে অন্য একটি নম্বর থেকে আপনার নম্বরে ফোন দিন। দেখুন রিং হয় কি-না? রিং হলে বুঝবেন আপনি সিম ক্লোনিং-এর শিকার।

v)   আপনার ফোনের ব্যালেন্স মধ্যে মধ্যে চেক করতে হবে।

vi)  ব্যালেন্স যদি সময়ের আগে শেষ হয়ে যায় তাহলে আপনাকে কাস্টমার কেয়ারে খোঁজ নিতে হবে। আপনি যদি কাউকে ফোন বা এসএমএস না করে থাকেন আর কাস্টমার কেয়ার থেকে যদি বলা হয় আপনি ফোন বা এসএমএস করেছেন তাহলে বুঝবেন আপনার নম্বরটি ক্লোনের শিকার হয়েছে।

vii) আপনার নম্বরটি ক্লোন হলে আপনি আপনার স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করুন বা প্রয়োজনে সাধারণ ডায়েরি করে রাখতে পারেন।

পরিশেষে বলা যায় যে, আপনার সচেতনতাই পারে আপনাকে সিম ক্লোনিং এর হাত থেকে রক্ষা করতে।

লেখক : উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম-পশ্চিম)

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *